জামালপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত জনি (৩৫) জামালপুর সদর উপজেলার লাহিড়ীকান্দা গ্রামের বাসিন্দা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ফজলুল হক জানান, ২০১৪ সালের শেষের দিকে একই উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের মেয়ে তমাকে বিয়ে করেন জনি। চার মাস পর জনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কেনার জন্য আড়াই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করলে তমার পরিবার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে।
এরপর ২০১৫ সালের ১৯ মার্চ বেলা ১১টার দিকে জনি তার স্ত্রীকে মারধর করেন। একপর্যায়ে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যান জনি।
২০ মার্চ জামালপুর সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয় এবং তমার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
ময়নাতদন্তে হত্যার বিষয়টি প্রমাণিত হলে জনিসহ চারজনকে আসামি করে জামালপুর সদর থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের মা উম্মে কুলছুম। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে আসামিদের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
ফজলুল হক বলেন, এ মামলার আসামিদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ার খালাস দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জনির অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ সম্পন্ন হয়। ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক জনির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।