রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর ও বাড্ডায় পৃথক বাসা থেকে দুই যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতরা হলেন: অটোরিকশাচালক মো. নয়ন (৩০) এবং প্রাইভেটকারচালক মো. রবিউস সানি (৩১)।
নয়ন শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার বয়াতি কান্দি গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে কামরাঙ্গীরচরে থাকতেন।
কামরাঙ্গীরচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াদ মাহমুদ নাহিদ জানান, আমরা খবর পেয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল পৌনে ৯টার দিকে কামরাঙ্গীরচর এলাকার হাসান নগর সিকদার স্কুল গলির একটি নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনের সিঁড়ি-সংলগ্ন বাঁ পাশের একটি কক্ষ থেকে নয়নের মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা ময়নাতদন্তের ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারি, নিহত নয়ন পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন। তার পাঁচ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। মার্চ মাসে তার স্ত্রী তাদের একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান। নয়ন বেশ কিছুদিন ধরে আর্থিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। এসব বিষয় নিয়ে নানা চিন্তাভাবনায় রাতে কোনো এক সময় তিনি নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে কালো ফিতা দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
অপরদিকে, উত্তর বাড্ডার স্বাধীনতা সরণির একটি ভবন থেকে রবিউস সানি (৩১) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত রবিউস সানি কুমিল্লা সদরের আদর্শ নগর এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। বর্তমানে তিনি উত্তর বাড্ডার জামতলা এলাকায় থাকতেন।
বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জয়ন্ত দত্ত জানান, খবর পেয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উত্তর বাড্ডার স্বাধীনতা সরণির জামতলা স্বাধীন সরণির স্বর্ণা ড্রিমস প্রাইভেটের সাততলার ৬-ডি ইউটার্নের পূর্ব পাশের কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তে জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, নিহত রবিউস সানি পেশায় একজন প্রাইভেট কারচালক ছিলেন। পারিবারিক ও অফিশিয়াল বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। এসব নানা বিষয় নিয়ে ভোরে কোনো এক সময় জানালার লোহার গ্রিলের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেন তিনি। পরে আমরা খবর পেয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠাই। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।