ভোরের আলো ফুটতেই ঘুম ভাঙে স্ত্রীর। ঘুম ভেঙে বিছানায় স্বামী আব্দুল জলিল শেখকে দেখতে পাননি তিনি। প্রথমে ভেবেছিলেন, হয়তো কোনো কাজে বাইরে গেছেন। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই অপেক্ষা পরিণত হয় এক মর্মান্তিক খবরে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাঠে যাওয়ার পথে কয়েকজন কৃষক তার বাড়ির অদূরে একটি সজনে গাছের ডালে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় জলিল শেখকে ঝুলতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ছুটে যান। স্থানীয়দের সহায়তায় গাছের ডাল থেকে তাকে নামানো হয়। তবে ততক্ষণে তিনি আর বেঁচে নেই।
নিহত আব্দুল জলিল শেখ (৫৮) রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের খলিশা সোনাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুস শেখের ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন।
পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছিলেন না জলিল। ঋণের বোঝা দিন দিন বাড়তে থাকায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে মানসিক কষ্ট থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার দিবাগত রাতে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নিজ ঘরেই ঘুমিয়েছিলেন জলিল। আজ ভোরে স্ত্রীর ঘুম ভাঙলে দেখেন, তিনি বিছানায় নেই। বাড়ির আশপাশে খোঁজ করেও প্রথমে তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে সকালে মাঠে যাওয়ার সময় কৃষকরা গাছের ডালে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
জলিলের একটি মাত্র মেয়ে ছিল। কয়েক বছর আগে সেও আত্মহত্যা করে। এরপর স্ত্রীকে নিয়েই তার সংসার চলছিল।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য দুপুরে মরদেহটি রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘পরিবার ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, জলিল অনেক টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। এ কারণে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’
তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান ওসি।