রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে লাফ দিয়ে নিখোঁজের ৫ দিন পর ভেসে উঠেছে রেজাউল শিকদারের মরদেহ।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে পাশের ফরিদপুরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের সেলিমপুর চর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেছে স্থানীয় নৌপুলিশ। আজ (সোমবার) সকালে নৌপুলিশ ও নিহতের পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নিহতের ভাই মোস্তফা শিকদার বলেন, গতকাল (রবিবার) রাত ৮টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি আমাদের বড় ভাই হারুন শিকদারের কাছে মোবাইলে ফোন করে রেজাউলের খবর জানতে চান। তার নিখোঁজের বিষয়টি বললে ফরিদপুরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের নতুন হাট সেলিমপুর চরে একটি মরদেহ পাওয়ার খবর জানায় ওই ব্যক্তি। খবর পেয়ে রাতেই আমরা ফরিদপুরের সিঅ্যান্ডবি ঘাট নৌপুলিশ ফাঁড়িতে যাই। প্রথম দেখেই মরদেহটি চিনে ফেলি। এরপর মরদেহের পরণে নীল রঙের জিন্সের প্যান্ট ও শার্ট এবং পকেটে থাকা মানিব্যাগের কাগজপত্র দেখে আমারা রেজাউলের মরদেহ শনাক্ত করি।
তিনি বলেন, মরদেহ আনতে ফরিদপুরের উদ্দেশে আমরা রওনা হয়েছি।
সিঅ্যান্ডবি ঘাট নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নাসিম আহম্মেদ জানান, গতকাল সন্ধ্যায় পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা চৌকিদারের মাধ্যমে রাত ৮টার দিকে আমাদের জানান। খবর পেয়ে তাদের মরদেহটি আটকানোর কথা বলে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ৯টার দিকে ফাঁড়িতে চলে আসি। পরে নিহতের পরিবারের লোকজন কয়েকদিন আগে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে নিখোঁজ রেজাউল শিকদারের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন।
এই নৌপুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কয়েকদিন আগে মৃত্যু হওয়ায় পচে অর্ধগলিত হওয়ায় মরদেহটি গতকাল বিকেলের দিকে ভেসে ওঠে। ময়নাতদন্তের জন্য রাতেই সেটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, রেজাউল শিকদার (৩৫) গোয়ালন্দ উপজেলার বাহির দৌলতদিয়া শাহাদৎ মেম্বার পাড়ার মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে ছিলেন। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে যানবাহন লোডের জন্য অপেক্ষমান রো রো (বড়) ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান’ নামক ফেরির পন্টুনে জুয়াড়ি চক্রের কয়েকজনের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পদ্মা নদীতে লাফ দেন তিনি।
তবে স্বজনদের দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে নদীতে ফেলে দিয়েছে। খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস এবং মানিকগঞ্জের আরিচা থেকে আসা ডুবুরি দল সেদিন সন্ধ্যা থেকে পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ফেরি ঘাট এলাকায় অনুসন্ধান চালায়। কোনো সন্ধান না পাওয়ায় ওই দিন রাতেই তারা অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে চলে যান।
নিহতের বড় ভাই হারুন শিকদার ও রবিউল শিকদার সেদিন দাবি করেছিলেন, জমি নিয়ে স্থানীয় একটি পরিবারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন বিরোধ চলছে। এ নিয়ে মামলা হয়েছে এবং তারা জেলও খেটেছেন। তাদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে রেজাউলকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কারণ, অন্য যাত্রীকে টেনে উদ্ধার করলেও রেজাউলকে ইচ্ছাকৃতভাবে উদ্ধার করা হয়নি।
আজ দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ত্রিনাথ সাহা বলেন, নিখোঁজের ৫ দিন পর গতকাল (রবিবার) রাতে পদ্মায় মরদেহ ভেসে ওঠার খবর পেয়ে পরিবারকে জানানো হলে তারা গিয়ে সেটিকে রেজাউলের মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করেন। নিহতের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ৪টি মাদক মামলা, মানিকগঞ্জ ও গোয়ালন্দ ২টি ছিনতাই এবং গোয়ালন্দে ১টি জুয়া আইনে মামলা রয়েছে।