সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় বগুড়ার শাজাহানপুরের প্রবাসী বাংলাদেশি সাহেদ আহমেদ আশিক (৩৫) নিহত হওয়ায় দুই শিশুকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্ত্রী কাকলী বেগম।
রবিবার (১১ অক্টোবর) রাতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে সাহেদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তাইফুর রহমান।
নিহত সাহেদ আহমেদ বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম ওরফে মিঠুর ছেলে। তিনি স্ত্রী, ৯ ও ৪ বছর বয়সী দুই সন্তান ও মা-বাবাকে রেখে গেছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সাহেদ তিন বছর ধরে সৌদি আরবে কাজ করছিলেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর দুই মাসের ছুটিতে দেশে আসেন তিনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সংঘাতের কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় এক মাস ছুটি কাটিয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা দেন। রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় তার কর্মস্থলে যাওয়ার কথা ছিল।
সাহেদের ভাই মাসুম রানা জানান, স্থানীয় সময় শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে স্ত্রী কাকলী বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে সর্বশেষ কথা বলেন সাহেদ। সে সময় রিয়াদে পৌঁছানোর কথা জানিয়ে জেদ্দায় গিয়ে আবার ফোন করবেন বলে জানান তিনি। তার পর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ইউএনও তাইফুর রহমান জানান, গত শনিবার বিকেল আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় হুতির ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অন্যান্য যাত্রীর সঙ্গে বগুড়ার সাহেদ আহমেদও নিহত হন।
তিনি আরও জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহত প্রবাসীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সরকারি খরচে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সাহেদের মৃত্যুতে পরিবারে গভীর শোক নেমে এসেছে। তার বাবা রফিকুল ইসলামও সৌদি আরবে থাকেন। মা শাহেরা বেগমও ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীকে ছাড়া কাকলি এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সম্মুখীন।