শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আব্দুর রহমান রাসেল নামের এক মসজিদের ইমামের ওপর হামলা হয়েছে। জুমার নামাজ পড়াতে যাওয়ার পথে একদল সন্ত্রাসী লোহার রড ও শাবল দিয়ে পিটিয়ে তার দুই হাতের হাড় পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে গোসাইরহাট পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মিত্রশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত আব্দুর রহমান রাসেল ডামুড্যা উপজেলার উত্তর ডামুড্যা মাতুব্বর বাড়ি বাইতুল আমান জামে মসজিদের ইমাম। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুর্নবাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনার পর স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গোসাইরহাটের কুচাইপট্টি ইউনিয়নের সাইখ্যা এলাকার মৃত রফিকুল আকনের পরিবারের সঙ্গে একই এলাকার প্রভাবশালী মফিজুল আকন (৬২) ও জয়নাল আকনদের জায়গাজমি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে বিবাদীপক্ষ এর আগেও তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। গত রমজান মাসে রাসেলের ছোট ভাইকে কলেজ থেকে ফেরার পথে মারধর করেছিল বিবাদীপক্ষের লোকজন।
গতকাল (শুক্রবার) সকালে আব্দুর রহমান রাসেল তার বাড়ি থেকে কর্মস্থল ডামুড্যার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি মিত্রশন নদীর পাড়-সংলগ্ন বাচ্চু ঢালীর দোকানের সামনের রাস্তায় পৌঁছালে মফিজুল আকন ও জয়নাল আকনের নেতৃত্বে ৫-৬ জন অস্ত্রসহ তার পথরোধ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রধান অভিযুক্ত মফিজুলের হুকুমে জয়নাল ও সুমনসহ অন্যরা লোহার রড ও শাবল দিয়ে রাসেলকে মাথায় আঘাত করতে যান। আত্মরক্ষার্থে রাসেল হাত বাড়ালে তার বাঁ হাতের কনুইয়ের নিচের দুটি হাড় এবং ডান হাতের অনামিকার হাড় ভেঙে যায়। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
গোসাইরহাটে স্থানীয় হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. আনিকা বলেন, রোগীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক গুরুতর হাড় ভেঙে গেছে। উন্নত অস্ত্রোপচারের জন্য আমরা তাকে দ্রুত ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
গোসাইরহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেসবাহ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক থাকলেও তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, রমজানে রাসেলের ছোট ভাইকে মারধরের পরও সেসময় কোনো বিচার না হওয়ায় বেপরোয়া হয়ে এই হামলা ঘটিয়েছে প্রতিপক্ষ।