শেরপুর শহরে গৃহবধু ও পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।
সজবরখিলা এলাকার ঘটনায় গৃহবধুকে ধর্ষণের অভিযোগে এনামুল হোসেন নামে এক যুবককে স্থানীয় আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা।
অপরদিকে, শহরের ঢাকলহাটি মহল্লায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় গর্ভপাতের অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। ওই ঘটনায় মুল অভিযুক্তকে আটক করতে না পারলেও মামলার অপর আসামি সুন্নত আলী সন্তু (৬০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (২৩ মে) শহরের সজবরখিলা ও ঢাকলহাটি এলাকায় এ ঘটনা দুটি ঘটে। ধর্ষণের এসব ঘটনায় শহরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল (শনিবার) রাত ১০টার দিকে শহরের সজবরখিলা এলাকার মোবারক মিয়ার ছেলে এনামুল হোসেনকে স্থানীয় জনতা এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক করে পিটুনি দেয়। সংবাদ পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে এনামুলকে হেফাজতে নেয়। পরে তার শাস্তির দাবিতে শহরে বিক্ষোভও করে এলাকাবাসী।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূ স্বামীর সঙ্গে এনামুলের বাসায় গত ৫ মাস ধরে ভাড়া রয়েছেন। বেশ কিছুদিন ধরে এনামুল ওই গৃহবধূকে মেসেঞ্জারে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি তিনি তার স্বামীকে জানালে পরিবার ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে এনামুলকে সতর্কও করা হয়। এরপর থেকেই এনামুল ওই গৃহবধুর প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। এর জেরেই গতকাল দুপুরে বাড়িতে ওই গৃহবধূর স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে এনামুল ঘরে প্রবেশ করে মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে বিষয়টি গৃহবধু তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের জানান। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এনামুলকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন আক্তার বলেছেন, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অভিযুক্তকে থানায় নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, জনতার কাছ থেকে এনামুলকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, শহরের ঢাকলহাটি মহল্লায় পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রীকে (১২) ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় গর্ভপাতের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল (শনিবার) নির্যাতনের শিকার ওই শিশুর পরিবার বাদী হয়ে স্থানীয় যুবক কাউছার ওরফে কায়েস (২৪), সুন্নত আলী সন্তুসহ (৬০) আরও কয়েকজনের নামে সদর থানায় মামলা করেছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও মামলার বিবরণে জানা গেছে, শিশুটিকে বিভিন্ন সময় স্থানীয় কাউছার মিয়া ফুসলিয়ে ধর্ষণ করেন। একাধিকবার এমন নিপীড়নে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে শিশুটি। পরে ভুক্তভোগীর শারীরিক গঠনে পরিবর্তন এলে কাউসার মিয়া অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় তার গর্ভপাত করান। এ সময় শিশুটির ব্যাপক রক্তক্ষরণ হলে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
এদিকে, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে একটি মহল চাপ প্রয়োগ করে। পরে গত শুক্রবার শিশুটির মা আশঙ্কাজনক অবস্থায় শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করান।
ভুক্তভোগী শিশুর মা বলেন, আমার মেয়েকে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করেছে, এরপর গর্ভপাত করানোর ফলে মেয়ের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। এখন আমার মেয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। অপরাধীর শাস্তি চাই।
শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তাহেরাতুল আশরাফী বলেন, ১২ বছরের একটি কন্যাশিশু স্ত্রীরোগ-সংক্রান্ত জটিলতায় গাইনি বিভাগে ভর্তি রয়েছে। শিশুটি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় আছে এবং চিকিৎসা চলছে। যেহেতু এটি পুলিশ কেস, সে কারণে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
শেরপুর সদর থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, শেরপুর পৌর শহরের একটি মহল্লায় শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে গতকাল বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতের বিচারক তাকে জেলা কারাগারে পাঠিয়েছেন। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে।