সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর গোপন তৎপরতায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কোনো শিক্ষক জড়িত আছেন কিনা, তা অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বিষয়টি জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কার্যালয়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পরিবেশ তৈরির জন্য গোপন তৎপরতায় দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক লিপ্ত রয়েছেন। উক্ত গোপন তৎপরতায় বেরোবির কোনো শিক্ষক জড়িত রয়েছেন কিনা, সে সম্পর্কিত তথ্যানুসন্ধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তানজিউল ইসলাম জীবনকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হারন আল-রশিদ, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান এবং সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন লিগ্যাল সেলের সহকারী রেজিস্ট্রার রেহেনা আক্তার মনি।
গঠিত কমিটি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর তৎপরতা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ জন শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতার সংবাদ পেয়েছি। ৭ জন শিক্ষকের মধ্যে ২ জন পলাতক ও বাকিরা ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। বর্তমান প্রযুক্তির সাহায্যে ছদ্মনাম ব্যবহারকারীদের আসল নাম খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। আপাতত আমরা একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছি। অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে, তদন্ত কমিটি গঠন করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি তালিকায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতজন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর লক্ষ্যে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে গোপন তৎপরতায় যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়। ওই সাতজনের মধ্যে গণিত বিভাগের মশিউর রহমান ও লোকপ্রশাসন বিভাগের আসাদুজ্জামান আসাদ মণ্ডল পলাতক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি পাঁচজন ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।