মোবাইল ফোন
বিমানবন্দরে কাপড়ের চালান থেকে ১,৬৫৫ মোবাইল ফোন জব্দ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকায় কাপড়ের রোল হিসেবে আনা একটি চালান থেকে এক হাজার ৬৫৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
এনবিআর জানায়, থিয়ানিস অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে আমদানি করা চালানটি হংকং থেকে আসে। কাপড়ের রোলের ভেতরে ও সেগুলোর সঙ্গে লুকানো অবস্থায় মোবাইল ফোনগুলো পাওয়া যায়। জব্দ করা মোবাইল ফোনের মধ্যে রয়েছে ৪৫০টি রেডমি ১৪সি, ১৫০টি রেডমি ১৫সি এবং এক হাজার ৫৫টি পুরোনো আইফোন ও বিভিন্ন চীনা ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন।
ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে চালানে থাকা প্রকৃত পণ্যের বড় ধরনের অসামঞ্জস্য দেখতে পান কাস্টমস কর্মকর্তারা। কার্গো রেকর্ডে পণ্যের ধরন ‘নিট ফেব্রিকস’ উল্লেখ থাকলেও অন্য একটি নোটে ‘পি কভার জি রোল সিআরটি’ লেখা ছিল। পরে পরিদর্শনের সময় ঘোষিত কাপড়ের চালানের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোন লুকানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
এয়ার কার্গো সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, চালানটির মাস্টার এয়ারওয়ে বিল নম্বর ৮২৮-৫৬৭৮-২৪১২ ও হাউস এয়ারওয়ে বিল নম্বর জেজিএল৫৭২০৩। পণ্যগ্রহীতা হিসেবে থিয়ানিস অ্যাপারেলস লিমিটেডের নাম ও পণ্যের ধরন হিসেবে ‘নিট ফেব্রিকস’ উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া চালানটির ওজন ছিল ৮৯৫ কেজি এবং এতে ছিল ২০টি প্যাকেজ। গত ৩১ আগস্ট আরএইচ-৬৬৫১ ফ্লাইটে করে চালানটি ঢাকায় আসে।
হাউস এয়ারওয়ে বিলে ঝেজিয়াং শাওজিং সিনহুয়া নিটিং কোম্পানিকে পণ্য প্রেরক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর মাস্টার এয়ারওয়ে বিলে জ্যাংকো গ্লোবাল লজিস্টিক লিমিটেডের নাম উল্লেখ রয়েছে। পণ্য পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল এফ এফ কার্গো সার্ভিস।
কাস্টমস কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, প্রযোজ্য শুল্ক ও কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে পণ্যের ভুল ঘোষণা ও গোপন করার ঘটনা ঘটতে পারে।
জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলোর সঠিক মডেল ও আইএমইআই নম্বর নির্ধারণের পাশাপাশি সেগুলো নতুন নাকি ব্যবহৃত, তা যাচাই করবে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া এগুলোর প্রকৃত বাজারমূল্য এবং প্রযোজ্য শুল্ক ও করের পরিমাণও নির্ধারণ করা হবে। বিস্তারিত তালিকা ও মূল্যায়ন শেষ হওয়ার পর এ জব্দের চূড়ান্ত আর্থিক প্রভাব স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
৭ দিন আগে
তিন শ্রেণির দায়িত্বপ্রাপ্ত ছাড়া ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রের চারপাশে ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে তিন শ্রেণির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে এ নিষেধাজ্ঞা বাইরে রাখা হয়েছে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলামের সই করা এক চিঠিতে এই আদেশ জারি করে ইসি।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে প্রিসাইডিং কির্মকর্তাসহ নির্দিষ্ট ৩ শ্রেণির কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। ওই ব্যক্তিরা হলেন— ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ এবং ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী আনসার বা ভিডিপির দুই সদস্য। এই নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইসির সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে জানা গেছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্র থেকে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য বা ছবি আদান-প্রদান বন্ধ করতেই এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের মাঠে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করবেন বলে তাদের জন্য এই নিয়ম শিথিল করা হয়েছে।
নির্দেশনার ফলে ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের পরিসীমার মধ্যে প্রার্থী বা সাংবাদিকদেরও মোবাইল ফোন বহন বা ব্যবহার করার অনুমতি থাকছে না।
চিঠিতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাসহ মোট ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা সিদ্ধান্তটির যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ হবে। এবার ৬৪ জেলায় মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজারের বেশি; মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ।
সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পাশাপাশি ওই দিন একযোগে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ নিয়েও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
২১৮ দিন আগে
মোবাইল ফোন আমদানিতে বিরাট শুল্ক ছাড়, দাম কমবে
মোবাইল ফোনের মূল্য সাধারণ ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার লক্ষ্যে এই প্রযুক্তি পণ্যটি আমদানিতে শুল্কহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এনবিআর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে এনবিআর। এর ফলে মোবাইল ফোন আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৬০ শতাংশ কমেছে।
এছাড়া কাস্টমস ডিউটি হ্রাসের কারণে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে বিরূপ প্রতিযোগিতার মুখে না পড়ে, সে লক্ষ্যে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান উপকরণ আমদানি করলে তার ওপর কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ ধার্য করে আরও একটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের উপকরণ আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৫০ শতাংশ কমেছে।
এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন দুটি জারির ফলে ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের আমদানি হওয়া প্রতিটি পূর্ণাঙ্গ মোবাইল ফোনের দাম অন্তত সাড়ে ৪ হাজার টাকা কমবে। এ ছাড়া ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের দেশে সংযোজিত প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম অন্তত দেড় হাজার টাকা হ্রাস পাবে।
সরকার আশা করছে, মোবাইল ফোন আমদানি এবং মোবাইল ফোন সংযোজন শিল্পের উপকরণ আমদানিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শুল্ক কমানোর ফলে সব ধরনের মোবাইল ফোনের দাম সর্বসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। সেইসঙ্গে দেশের নাগরিকগণের পক্ষে ডিজিটাল সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে।
মোবাইল ফোনের মূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও বিজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
২৪৫ দিন আগে
‘মোবাইল ফোন’ ইস্যুতে প্রবাসীদের স্পষ্ট বার্তা আইন উপদেষ্টার
বিদেশ থেকে মোবাইল ফোন আনা নিয়ে প্রবাসীদের বিভিন্ন ধোঁয়াশা স্পষ্ট করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি এ বার্তা দেন।
সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য তুলে ধরে আসিফ নজরুল বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার বা আমার সম্পর্কে মিথ্যাচার নতুন কিছু নয়। সোশ্যাল মিডিয়াতে কিছু মানুষ এখন প্রচার করছে যে মোবাইল ফোন সেট নিয়ে প্রবাসীদের প্রতি অন্যায় ও বৈষম্য করা হচ্ছে। এ সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য নিচে তুলে ধরছি।
‘মিথ্যা— সরকার নতুন নিয়ম করেছে, একটার বেশি মোবাইল সেট বিদেশ থেকে নিয়ে আসলে ট্যাক্স দিতে হবে।
‘সত্য— শেখ হাসিনার আমলে প্রবাসী কর্মীরা নিজের ব্যবহৃত ফোনসেটের সঙ্গে মাত্র একটা নতুন সেট আনতে পারত। প্রবাসীদের সুবিধা বাড়ানোর জন্য বর্তমান সরকার আরও বেশি (২টা নতুন) ফোনসেট আনার অনুমতি দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অর্থাৎ প্রবাসী কর্মীরা নিজের ব্যবহৃত সেটের সঙ্গে ২টা নতুন সেট আনতে পারছে। ২টার বেশি আনলে তার জন্য শুধু ট্যক্স দিতে হবে। এনবিআর ব্যগেজ রুল পরিবর্তন করে এই আইনটা করেছে প্রবাসীদের সুবিধা দেওয়ার জন্য। তবে এই সুবিধা বিএমইটি (প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়) থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশে যাওয়া প্রবাসী কর্মী ভাইদের জন্য। অন্যদের জন্য আগের নিয়মই প্রযোজ্য থাকছে।
‘মিথ্যা— প্রবাসী ভাইদের ফোন রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। সত্য— শুধু প্রবাসীদের জন্য এ ধরনের কোনো আইন করা হয়নি।’
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রকৃত তথ্য হচ্ছে, আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে যে কেউ নতুন মোবাইল ফোনসেট ব্যবহার শুরু করলে ৬০ দিনের মধ্যে সেটির রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এটা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জন্য প্রযোজ্য। মানে হচ্ছে, এটি দেশে থাকা মানুষ বা দেশে আসা প্রবাসী—সবার জন্য প্রযোজ্য।
‘অবৈধ সেট ব্যবহার করে দেশে ও প্রবাসে অপহরণ, হুমকি, চাঁদাবাজি, জুয়া—এসব নিয়ন্ত্রণের জন্য এই আইন করা হয়েছে। কাউকে হয়রানিতে ফেলার জন্য না, বরং হয়রানি থেকে বাঁচার জন্য এই আইন করা হয়েছে।’
গুজব প্রতিরোধে প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রবাসী ভাইদের কাছে আবেদন, গুজবকারী ও গিবতকারীদের থেকে সতর্ক থাকুন। মিথ্যা গুজব ছড়ানো ও গিবত করা ইসলামের দৃষ্টিতে অনেক বড় পাপ।’
‘গুজব কোন জায়গায় গেছে দেখেন, কেউ কেউ এই অবিশ্বাস্য তথ্য প্রচার করছে যে প্রবাসীরা নাকি দেশে ৬০ দিন থাকতে পারবেন! এই সব জঘন্য মিথ্যাচারকে প্রতিরোধ করুন।’
আসিফ নজরুল পরিশেষে বলেন, ‘আমি জানি, আরও কিছু বিষয়ে আপনাদের প্রশ্ন আছে। সেগুলো আমি দ্রুত জানাব। সবাই ভালো থাকবেন। আল্লাহ্ হাফেজ।’
২৮১ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্কুলে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকির লুইসভিলের ডস হাই স্কুলে শেষ বর্ষের ক্লাস শুরু করেছেন জামেল বিশপ। তার ক্লাসে পাঠদানের সময় এখন মোবাইল ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। যে কারণে শ্রেণিকক্ষের পরিবেশে নাকি বড় পরিবর্তন চোখে পড়েছে তার।
জামেল বলেন, আগের বছরের ক্লাসগুলোতে শিক্ষার্থীরা তেমন মনোযোগ দিতেন না, একই প্রশ্ন বারবার করে সময় নষ্ট করতেন। তবে এখন যেসব শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রয়োজন তাদের এক এক করে আরও বেশি সময় দিতে পারছেন শিক্ষকরা।
নতুন শিক্ষাবর্ষে শ্রেণিকক্ষে মোবাইল নিষিদ্ধের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া মার্কিন ১৭টি অঙ্গরাজ্যে ও ডিসট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার একটি হলো কেন্টাকি। এতে স্কুলে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপকারী অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫টিতে। ২০২৩ সালে প্রথম এই নিয়ম চালু করেছিল ফ্লোরিডা।
মোবাইল ফোনের ব্যবহার শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এবং শিক্ষা থেকে তাদের মনোযোগ সরিয়ে দেয় বলে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রাট ও রিপাবলিকান উভয় দলই এই উদ্যোগের সমর্থন করেছে। যদিও প্রভাবগুলো অতটা স্পষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন অনেক গবেষক।
গত সপ্তাহে আটলান্টায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর আয়োজিত এক আলোচনায় জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি স্কট হিলটন বলেন, ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডায় যদি কোনো বিল পাস হয়, তাহলে বুঝতে হবে সেটি বেশ জনপ্রিয় উদ্যোগ।
নতুন নীতিমালার আওতায় ১৮টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিসট্রিক্ট অব কলম্বিয়ায় পুরো স্কুলেই সারা দিন মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। তবে জর্জিয়া ও ফ্লোরিডায় এই নিষেধাজ্ঞা কিন্ডারগার্টেন থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয় শুরু থেকে ছুটির ঘণ্টা পড়ার আগ পর্যন্ত প্রযোজ্য। আরও সাতটি অঙ্গরাজ্যে কেবল ক্লাস চলাকালে ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ, তবে ক্লাসের ফাঁকে বা দুপুরের খাবারের সময় তা ব্যবহার করা যাবে।
অন্যদিকে, স্থানীয়ভাবে স্কুল পরিচালনার ঐতিহ্য রয়েছে— এমন কিছু অঙ্গরাজ্যে কেবল একটি মোবাইল ফোন নীতিমালা বাধ্যতামূলক করেছে। অন্যরাও ইঙ্গিতটি বুঝে নিয়ে ফোন ব্যবহারে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করবে বলে তাদের বিশ্বাস।
অভিভাবকদের আপত্তি
এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরিচালিত জর্জিয়ার ১২৫টি স্কুলে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আপত্তিই সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
অড্রিয়ান্নার মা অড্রেনা জনসন বলেন, তার সন্তানরা স্কুলে সহিংসতা থেকে নিরাপদ আছে কি না এই নিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি চিন্তিত থাকেন।
তিনি জানান, বিভিন্ন হুমকির বিষয়ে স্কুল কতৃপক্ষ যেসব সতর্কবার্তা পাঠায় বেশিরভাগ সময়ই তা দেরিতে কিংবা অসম্পূর্ণভাবে আসে।
একটা উদাহরণ দিয়ে অড্রেনা বলেন, একবার ম্যাকনেয়ারের শিক্ষার্থী নন, এমন একজন স্কুল প্রাঙ্গণে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। ক্লাস চলাকালীন তার মেয়ের পাঠানো মেসেজের মাধ্যমেই তিনি সে বিষয়ে জানতে পেরেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমার সন্তানের কাছে ফোন থাকাটা আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাহলে কখন কী হচ্ছে, আমি সঙ্গে সঙ্গেই তা জানতে পারি।’
ন্যাশনাল পেরেন্টস ইউনিয়নের জাতীয় পার্টনারশিপস পরিচালক জেসন অ্যালেন বলেন, অনেক বাবা-মা অড্রেনার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন। তারা নীতিনির্ধারণে নিজেদের মত দিতে চান। সন্তানের নিরাপত্তার বিষয়ে তারা আরও কার্যকর যোগাযোগ চেয়েছেন।
অভিভাবকদের ভাষ্য, বাচ্চাদের সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন। তাছাড়া সন্তানরা কোনো সমস্যায় পড়লে তা দ্রুত জানতে পারাটাও তাদের জন্য জরুরি।
অ্যালেন বলেন, ‘আমরা কেবল মোবাইল ফোন নীতির পরিবর্তন করেছি। কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের যে চাহিদা, তা পূরণ করছি না। এমনকি শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও মানসিক উন্নয়নে কাজ করার জন্য শিক্ষকদের যথাযথভাবে প্রশিক্ষণও দিচ্ছি না।’
৩৯০ দিন আগে
রংপুরে বন্ধক রাখা মোবাইল ফোন থেকে ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট, যুবক গ্রেপ্তার
রংপুরের পীরগাছায় অন্যের বন্ধক রাখা মোবাইল ফোন থেকে ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট করার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার(২ আগস্ট) সন্ধ্যায় পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শুক্রবার রাতে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার মো. এমিল উদ্দিন (২৭) রংপুর সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের তাজহাট থানার আশরতপুর এলাকার মো. আফজাল হোসেনের ছেলে।
পুলিশ জানায়, পীরগাছা উপজেলার দেউতি এলাকার আনারুল ইসলাম রাব্বি নামের এক যুবক গত ১৯ জুলাই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি তিন দিনের জন্য বন্ধক রেখে এমিল উদ্দিনের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নিয়ে ঢাকায় যান। তিন দিন পেরিয়ে গেলেও টাকা জোগাড় করতে না পারায় রাব্বি তার মোবাইল ফোনটি ফেরত নিতে পারেননি। ফলে মোবাইল ফোনটি এমিল উদ্দিন ব্যবহার করতে থাকেন।
একপর্যায়ে রাব্বি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এমিল উদ্দিন একে একে ৩টি ধর্ম অবমানকর পোস্ট দেন। সেই পোষ্ট ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি থানা-পুলিশের নজরে আসে। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে এবং রাব্বির সঙ্গে মোবাইলে কথা বলে থানা-পুলিশ জানতে পারে, মোবাইলটি তার কাছে নেই। তিনি এমিল উদ্দিনের কাছে মোবাইল ফোন বন্ধক রেখেছেন। আর ফেসবুকে করা পোস্টগুলো তিনি দেননি। পরে তার দেওয়া তথ্য যাচাই করে পুলিশ এমিল উদ্দিনকে রংপুর শহরের সমবায় মার্কেটের একটি পুরোনো মোবাইল বেচা-বিক্রির দোকান থেকে গ্রেপ্তার করে।
ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, ফেসবুক ধর্ম নিয়ে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার যুবক ফেসবুকে করা পোস্টগুলো তিনি নিজে দিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে রংপুর জেলহাজতে পাঠানো হয়।
৪০৯ দিন আগে
মোবাইল ফোন বিস্ফোরণ: কারণ ও বাঁচার উপায়
তথ্য ও প্রযুক্তির বিরামহীন বিকাশের যুগান্তকারী ফলাফল হচ্ছে স্মার্টফোন। উদ্ভাবনের পর থেকে কেবল দুটো মানুষের মধ্যে যোগাযোগের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকেনি এই ছোট্ট ডিভাইসটি। চার দেয়ালের ভেতরে ও বাইরে স্থির বা চলমান প্রতিটি অবস্থায় এই মুঠোফোন মানুষের ২৪ ঘণ্টার সঙ্গী। প্রসঙ্গ যখন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে তখন স্বভাবতই সেখানে চলে আসে সঠিকভাবে তা ব্যবহারের বিষয়টি। কেননা অসাবধানতা বা অপব্যবহারে সময়ের এই আশীর্বাদটিই পরিণত হতে পারে মৃত্যুঝুঁকিতে। বিশেষ করে স্মার্টফোন বিস্ফোরণের মতো দুর্ঘটনাগুলো প্রায়ই ব্যবহারকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। চলুন, মোবাইল ফোন বিস্ফোরণের বিভিন্ন কারণ এবং এ থেকে বাচঁতে করণীয়গুলো সম্পর্ক জেনে নেওয়া যাক।
মোবাইল ফোন বিস্ফোরণের কারণসমূহ
দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের ফলে অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া। নথি, হিসাব রক্ষণ, ই-মেইল বা ফাইল ব্যবস্থাপনার মতো হাল্কা অ্যাপগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করলে নেতিবাচক প্রভাবটা বেশ হাল্কা থাকে। তবে ভিডিও স্ট্রিমিং এবং গেমের মতো ভারী অ্যাপগুলো অল্প সময় চালালেই ডিভাইস গরম হয়ে ওঠে। সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এই অ্যাপগুলোতে ডুবে থাকলে ফোনের প্রসেসরের ওপর যথেষ্ট চাপ পড়ে। এতে করে ফোনের অভ্যন্তরে তাপ বাড়তে থাকে।
এই উত্তাপের সবচেয়ে বড় শিকার হয় ফোনের ব্যাটারি। তাপের পরিমাণ ধারণ ক্ষমতার বেশি হয়ে গেলে ব্যাটারি ফুলে গিয়ে বিস্ফোরণের ঝুঁকিতে পড়ে।
উন্নত প্রযুক্তির ফোন মানেই তাতে হাই-এন্ড প্রসেসরের উপস্থিতি। আর অবিরাম ফোন ব্যবহারের ফলে এই প্রসেসরগুলো মুহুর্তে উত্তপ্ত হয়ে যায়। প্রসেসরের একদম সংস্পর্শে থাকায় স্বাভাবিকভাবেই সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে ব্যাটারির।
আরও পড়ুন: অ্যাপল আইফোন ১৬ সিরিজে নতুন কি থাকছে
ওভারচার্জিং
ফোনের চার্জ ১০০ শতাংশের কোঠায় পৌঁছানোর পরেও দীর্ঘক্ষণ প্লাগ-ইন থাকলে ব্যাটারিতে লোড বাড়তে থাকে। অবশ্য বর্তমান সময়ের বেশিরভাগ স্মার্টফোনগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়, যেন একবার পূর্ণচার্জ হয়ে গেলে চার্জ হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এরপরেও ক্রমাগত চার্জ গ্রহণেরও একটা লিমিট আছে। নিরবচ্ছিন্নভাবে প্লাগ-ইন অবস্থায় থাকলে সেই লিমিট অতিক্রান্ত হয়। আর তখনি ব্যাটারির কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে শুরু করে।
‘ব্যাটারি স্ট্রেস’ নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়াটিতে অভ্যন্তরীণ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশগুলো একটু একটু করে তাপ জমা হতে শুরু করে। চক্রাকারে এই ঘটনা ঘটতে থাকলে এক সময় সেগুলো অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে বিস্ফোরণ ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়।
অনেকেরই মধ্যে রাতে ফোন চার্জে রেখে ঘুমাতে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এছাড়া ব্যাগের মধ্যে পোর্টেবল চার্জারে ফোন সংযুক্ত রেখে দীর্ঘক্ষণ ফেলে রাখলেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
উত্তপ্ত বা উচ্চ আর্দ্রতার পরিবেশে রাখা
সরাসরি সূর্যের আলোতে, বদ্ধ স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ অথবা প্রচন্ড আঁটসাঁট চাপযুক্ত জায়গা ফোনের ব্যাটারির উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিবেশের উচ্চ তাপ ফোনের কেসিং হয়ে ব্যাটারিতে প্রবেশ করে। এই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি হতে থাকলে ব্যাটারি তাপ ধারণ করার জন্য প্রসারিত হওয়ার চেষ্টা করে। এভাবে এটি ক্রমশ নিরাপদ সীমার বাইরে পরিচালিত হয়ে বিস্ফোরণের দিকে ধাবিত হয়।
আরও পড়ুন: ডিএসএলআর ক্যামেরা খুঁজছেন? কেনার আগে জেনে নিন ফিচার ও দাম
উচ্চ আর্দ্রতা যুক্ত পরিবেশ ব্যাটারির জন্য যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। নিত্যনৈমিত্তিক জীবনে ফোন বহনের ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে এমন পরিবেশের সৃষ্টি হয়ে থাকে। যেমন-
- গরমের দিনে পার্ক করা গাড়ির ভেতরে ফোন রাখা
- বালিশ বা কম্বলের নিচে ফোন রেখে ঘুমানো
- ফোন টেবিলের কোণে বইয়ের স্তুপ বা জঞ্জালের মাঝে রাখা
- ফোন একসঙ্গে কয়েকটি হাই-ভোল্টেজের যন্ত্রপাতির সঙ্গে রাখা
- গাড়ির ইঞ্জিন বা গিয়ারের কাছাকাছি প্রচন্ড ভিড়ের মাঝে আঁটসাঁট কোনও ব্যাগে ফোন বহন করা
নকল বা নিম্নমানের চার্জার বা কেবল ব্যবহার করা
সস্তা ও অনিবন্ধিত অধিকাংশ ফোনেই চার্জার বা কেবলগুলোতে কোনও নিরাপত্তার মান থাকে না। এক্ষেত্রে চার্জার বা তার ক্যাবল ফোনের রেটিংকৃত বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য উপযুক্ত থাকে না। ফলে ব্যাটারির ধারণ ক্ষমতার সঙ্গে ক্যাবল বা চার্জারটি থাকে একদমি অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে করে প্রয়োজনের তুলনায় কম অথবা বেশি পরিমাণে ফোনে বিদ্যুৎ ঢুকতে পারে।
আরও পড়ুন: হ্যাকিং প্রতিরোধ: অনলাইন কেনাকাটায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে সাবধানতা
কম হলে ফোনের আভ্যন্তরীণ সরঞ্জামাদি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া এতে আর তেমন কোনো ভয় থাকে না। কিন্তু বিদ্যুৎ পরিবহন বেশি হলে তাপ বৃদ্ধির মাধ্যমে আগুন ধরে যাওয়ার ভয় রয়েছে।
বাহ্যিক আঘাত থেকে ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া
ব্যাটারি যদি নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি হয় তাহলে শর্ট সার্কিটের মতো বিপজ্জনক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। বড় রকমের দুর্ঘটনার জন্য একটি শর্ট সার্কিট-ই যথেষ্ট।
একটি দুর্বল মানের ফোন হাত থেকে পড়ে যাওয়া কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয় এর ব্যাটারি। খুব ভালো বিল্ট কোয়ালিটির ফোনও দুই-তিনবার ধাক্কা লাগার ফলে এর আভ্যন্তরীণ কাঠামো নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
প্রতিবার আঘাতে একটি-দুটি করে চিড় বা কাঠামো-বিকৃতি দীর্ঘ মেয়াদে ফোনের স্থায়িত্বের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রচন্ড সংঘর্ষ বা আঘাতে অভ্যন্তরীণ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উপকরণগুলো নষ্ট হতে থাকলে সার্কিট পূরণ সংক্রান্ত সংকট তৈরি হয়। এরপরেও এমন ক্ষতিগ্রস্ত ফোন নিয়ে চলাফেরা করা মানেই যে কোনো সময় আকস্মিক বিপদের সম্মুখীন হওয়া।
আরও পড়ুন: স্মার্টফোনে ভূমিকম্প সতর্কতা চালু করবেন যেভাবে
৭১৬ দিন আগে
টেলিকম ও ইন্টারনেট সেবা সংস্কারের দাবি মোবাইল ফোন গ্রাহকদের
সেবার মান উন্নয়ন ও গ্রাহক উদ্বেগ নিরসনে টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা খাতের সংস্কারে একটি রোডম্যাপ প্রকাশের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিসিএ)।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএমপিসিএ'র দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত গণপরামর্শ সভায় এ দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সাবেক সদস্য মুকুল-ই-ইলাহী চৌধুরী জরুরি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ভোক্তাদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করে টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা খাতের সংস্কারে বর্তমান সরকারের একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘোষণা ১৫ দিন থেকে দুই মাসের মধ্যে দিতে হবে।
আরও পড়ুন: টেলিকম ও আইসিটি খাতে ১৮ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি: পলক
বিএমপিসিএর উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সাবেক পরিচালক খালিদ আবু নাসের টেলিযোগাযোগ ইকোসিস্টেমের অদক্ষতার কথা তুলে ধরে বলেন, প্রতিটি ধাপে বর্জ্য কমানো গেলে ১০ থেকে ১২ শতাংশ খরচ কমানো সম্ভব। তিনি এই খাতে প্রতিযোগিতার অভাবের সমালোচনা করে বলেন, ‘প্রতিযোগিতার কথা বলা হলেও বাস্তবে এর অস্তিত্ব নেই। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।’
ইন্টারনেট ডাটা ও ভয়েস কলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে জবাব চেয়েছেন বিএমপিসিএ সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ। গত দেড় মাসে হঠাৎ করে ইন্টারনেট ডাটা ও ভয়েস কলের চার্জ কেন বেড়ে গেল কেন? আর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মেসেজ চার্জ ৫ টাকা থেকে ১০ টাকায় লাফিয়ে উঠল কেন?
আহমেদ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরকার, বিটিআরসি ও মোবাইল অপারেটররা যদি সাশ্রয়ী ও আনলিমিটেড ইন্টারনেট ডাটার চাহিদা মেটাতে পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে বিএমপিসিএ ইন্টারনেট সেবা বয়কটসহ কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করবে। তিনি মোবাইল কল ও ইন্টারনেট ডেটার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের জন্য গণশুনানির আহ্বান জানান।
টেলিকম খাতের অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন বিএমপিসিএ'র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিক। তিনি বলেন, ‘টেলিকম মন্ত্রণালয় আগের সরকারের আমলে যেভাবে কাজ করত, সেভাবেই কাজ করছে। আমরা পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ দেখছি না।’
আরও পড়ুন: গ্রামীণ টেলিকমের টাকা আত্মসাৎ: অভিযোগ গঠনের আদেশ বাতিল চেয়ে ড. ইউনূসের আবেদন
জলাধার রক্ষা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাঈদ ইবনে রানা ইন্টারনেট ব্যবহারের অপরিহার্য প্রকৃতির উপর জোর দিয়ে এটিকে পানির সাথে তুলনা করেন। তিনি বলেন, পানি ছাড়া যেমন জীবন চলতে পারে না, তেমনি ইন্টারনেট ছাড়া চলতে পারে না। ইন্টারনেট ও মোবাইল কল সেবার মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে।
সভায় কলড্রপ, নিঃশব্দ কল, ইন্টারনেটের ধীরগতি, অর্থ আটকে যাওয়া, হঠাৎ ব্যালেন্স কেটে নেওয়া, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় নেটওয়ার্ক না থাকা এবং মোবাইল ব্যাংকিং সেবার উচ্চ চার্জসহ বিভিন্ন সেবার বিষয়ে অভিযোগ তুলে ধরেন বিভিন্ন পেশার প্রায় ১৫ জন গ্রাহক। মোবাইল কোম্পানি ও ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের বেতন-ভাতার বিষয়ে স্বচ্ছতা আনার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান শাশ্বত মনির ও বিএমপিসিএ'র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা.আমিনুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: বাড়তি সম্পূরক শুল্ক আরোপে টেলিকম শিল্পের ওপর চাপ বাড়ছে: অ্যামটব
৭১৭ দিন আগে
আপনার মোবাইলটি অবৈধ নয়তো? অফিসিয়াল ফোন যাচাই করার উপায়
দেশে ব্যবহৃত আনঅফিসিয়াল ফোনগুলো নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে। ২১ জানুয়ারি রবিবার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। শুধুমাত্র অফিসিয়াল ফোনগুলোকে দেশের বাজারে রাখার এই পদক্ষেপটি বিটিআরসি প্রণীত এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার) ব্যবস্থার একটি উদ্যোগ। মূলত বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করতে এবং অবৈধভাবে তৈরি বা আমদানিকৃত ফোনের ব্যবহার বন্ধ করতেই এই কার্যক্রমের অবতারণা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আগামী জুলাই থেকে দেশজুড়ে অনিবন্ধিত ফোন নিষিদ্ধ করার কথা ঘোষণা করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এমতাবস্থায় ফোন ব্যবহারকারীদের সর্বপ্রথম যে কাজটি অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে তা হচ্ছে- তাদের ফোনটি অফিসিয়াল কি না তা জেনে নেওয়া। এবারের আয়োজনে চলুন অফিসিয়াল ফোন যাচাই করার উপায়গুলো জেনে নেওয়া যাক।
অফিসিয়াল ও আনঅফিসিয়াল ফোন কী
যে ফোনগুলো দেশে প্রবেশকালে যথাযথ ভ্যাট-ট্যাক্স প্রদানের মাধ্যমে সরকারের অনুমোদন নিয়ে থাকে, সেগুলোই অফিসিয়াল ফোন হিসেবে স্বীকৃতি পায়। প্রতিটি ফোনের বডিতে তাদের স্ব স্ব নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ অঙ্কের একটি অনন্য সংখ্যা লিপিবদ্ধ করে দেওয়া হয়, যাকে আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) বলা হয়।
আইনগতভাবে দেশে প্রবেশের সময় এই সংখ্যাটি সরকারি ডাটাবেসে নিবন্ধিত হয়ে যায়। তাই এগুলোকে একইসঙ্গে অরিজিনাল এবং নিবন্ধিত ফোন বলা হয়ে থাকে। দেশের ভেতরে সরকারি নিয়ম মেনে প্রস্তুতকৃত ফোনগুলোর ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। নির্ধারিত ভ্যাট-ট্যাক্স এবং অভিবাসনের নানাবিধ খরচের কারণে স্বভাবতই এই ফোনগুলোর দাম বেশি হয়ে থাকে।
আরও পড়ুন: ঢাকার বাসরুট খুঁজে পেতে দরকারি কিছু মোবাইল অ্যাপ
অন্যদিকে, আনঅফিসিয়াল ফোনগুলো দেশের বাইরে থেকে আমদানি বা দেশের ভেতরেই উৎপাদন করার সময় ভ্যাট বা ট্যাক্সের বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়। অবিকল অরিজিনাল ফোনের মতো দেখতে হলেও নকল এই ফোনগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে বেশ কম থাকে। সরকারি ডাটাবেসে কোনো তথ্য না থাকায় অনিবন্ধিত এই ফোনগুলো অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
আনঅফিসিয়াল ফোন বন্ধে ব্যবহারকারী কি কি বিড়ম্বনায় পড়বেন
অনিবন্ধিত বা আনঅফিসিয়াল ফোনগুলোকে নেটওয়ার্ক বহির্ভূত করা হলে ইতোমধ্যে সেই ফোন ব্যবহারকারীদের বেশ কিছু বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হবে। যেমন-
- এই ফোনে কোনো সিম ভরে তার মাধ্যমে কোনো অপারেটর থেকে কল গ্রহণ বা কল প্রদান করা যাবে না
- কোনো ধরনের ম্যাসেজ লেনদেন করা যাবে না
- ডাটা ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাবে না
- সরকারি বা সরকার অনুমোদিত বেসরকারি কোনো ডিজিটাল সেবা পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ ফুড ডেলিভারি, রাইড শেয়ারিং, ও টাকা লেনদেনসহ কোনো ধরনের অ্যাপই ব্যবহার করা যাবে না।
এগুলো বাদে নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত নয়, যেমন ছবি তোলা, অডিও বা ভিডিও রেকর্ড করা, গান বা মুভি দেখাতে কোনো রূপ সমস্যা হবে না।
আরও পড়ুন: অ্যাপেল আইফোন ১৫ রিভিউ: নতুন কী থাকছে?
৯৫৮ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে মোবাইল ফোনে লুডু খেলা নিয়ে সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহতের অভিযোগ
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কুড়িপাড়া গ্রামে মোবাইল ফোনে লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল কুদ্দুস প্রামানিক (৬৯) ওই গ্রামের মৃত বয়েজ প্রামানিকের ছেলে।
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভটভটির ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে ওই গ্রামের বুদ্দু মিয়ার বসতবাড়ির আঙ্গিনায় মোবাইল ফোনে লুডু খেলছিল নিহত কুদ্দুসের নাতি সাদ্দাম ও তার বন্ধুরা।
এ খেলায় বিজয়ী দল আনন্দ-উল্লাস শুরু করলে প্রতিবেশীরা খেলোয়াড়দের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ সময় সাদ্দাম ও তার বন্ধুরা প্রতিবাদ করলে মোতালেব ও তার মামাতো ভাই আব্দুল্লাহ তাদেরকে বেদম মারপিট করে।
এক পর্যায়ে তাদের চিৎকারে সাদ্দামের দাদা কুদ্দুস প্রামাণিক ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও লাঠি দিয়ে বেদম মারপিট করা হয়।
তাকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠান এবং মোতালেব ও তার মামাতো ভাই আব্দুল্লাহকে আটক করা হয়।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ওসমানীনগরে গাড়ির ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত
নারায়ণগঞ্জে র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৬৫ বছরের বৃদ্ধ নিহত
১১৮২ দিন আগে