গলা কেটে হত্যা
ঝিনাইদহে নেশার টাকার জন্য মাকে গলা কেটে ‘হত্যা’, ছেলে আটক
ঝিনাইদহের মহেশপুরে নেশার টাকা না পেয়ে ঘুমন্ত মাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলে ইখলাসের (৩২) বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভোরে উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শকের বানু (৬০) ওই এলাকার মৃত জেকের আলীর স্ত্রী।
স্থানীয়রা ও পুলিশ জানায়, ইখলাস দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মাদকের টাকার জন্য তিনি প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতেও নেশার টাকা নিয়ে মা শকের বানুর সঙ্গে তার প্রচণ্ড কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইখলাস মায়ের ওপর ক্ষিপ্ত হন। পরে ভোরে ঘরে ঢুকে তার ঘুমন্ত মাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন ইখলাস। এরপর তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
সকালে নিহতের ছোট ছেলের স্ত্রী শাশুড়ির ঘরে খাবার দিতে গিয়ে বিছানায় রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে মহেশপুর থানা-পুলিশে খবর দেন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। অন্যদিকে, ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ইখলাসকে ধাওয়া করে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, মাদকের টাকার জন্য মা ও ছেলের মধ্যে বিরোধের জের ধরেই এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত ইখলাসকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
১২ দিন আগে
সিলেটে স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
সিলেট মহানগরীর রায়নগর আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে এক দম্পতির ও তাদের গৃহকর্মীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রায়নগরের মিতালী ১১১ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতরা হলেন: রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার বাসিন্দা মৃত আবরু মিয়ার ছেলে এমএ সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) এবং একই বাসার গৃহকর্মী নগরীর জল্লারপাড় এলাকার তাহমিনা (২৫)।
পুলিশ জানায়, ৪ তলা ভবনের দুতলার ফ্লাটে মালিক আব্দুস সত্তার মিয়া, তার স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাই শুধু থাকতেন। বাকি ফ্লাটগুলোতে ভাড়াটেরা থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুস সত্তার মিয়া আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সদস্য ছিলেন। রায়নগরে নিজের বাসায়ই থাকতেন তিনি। আজ সকালে তার বাসা থেকে চিৎকার শোনা গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এই দম্পত্তির চার সন্তানের মধ্যে দুই সন্তান লন্ডনে ও দুই সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।
নিহত দম্পতির ভাগ্নে মুন্না মিয়া জানান, রায়নগরের এই বাসায় আমার মামা-মামি একাই থাকতেন। তাদের সঙ্গে থাকত এক গৃহকর্মী। তিনি বলেন, আজ সকাল ৯টার দিকেও তাদের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তার পরে কোনো সময় তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা মুন্না মিয়ার।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মনজুরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সকালে রায়নগর আবাসিক এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসার ভেতরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ গৃহকর্মীকে খুন করেছে।
তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকির বলেন, হাজী আব্দুস সত্তার মিয়া, তার স্ত্রী ও গৃহকর্মীকে দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকে খুন করেছে। আব্দুস সত্তার মিয়া ওই এলাকার প্রবীণ মুরব্বি হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এসএমপির কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম বলেন, আজ সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় একজন আমাকে ফোন করে বলেন, মিতালী ১১১ নম্বর বাসার দোতলার ফ্ল্যাটের বন্ধ দরজার ভেতর থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের একটি দল নিয়ে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। ওই বাসায় গিয়ে দরজা খুলে দেখতে পাই, বাসাটির মালিক এমএ সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ক্রাইম সিন ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করেছে। পিবিআই ও সিআইডির ক্রাইম সিন বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তদন্তের জন্য একটা স্পেশাল টিম গঠন করা হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘এই বাড়ির এক ভাড়াটিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, সকালে তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি শুনেছেন। সে হিসেবে ঘটনাটি সকালেই ঘটেছে বলে ধারণা করছি।’
তিনি বলেন, বাসাটির পরিবারের সদস্যদের ব্যবহৃত ওয়ারড্রোব ও আলমারিগুলো খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেখান থেকে স্বর্ণালংকার বা অন্য কোনো মূল্যবান জিনিস সরানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি ডাকাতি, নাকি এর পেছনে পারিবারিক কোনো শত্রুতা বা পূর্ববিরোধ রয়েছে, সেটি আমরা তদন্ত করে দেখছি। এখানে একটি দলিলও পাওয়া গেছে। সেটিও আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’ শিগগিরই হত্যাকাণ্ডের কারণ ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
খবর পেয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সকালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
১৪ দিন আগে
নরসিংদীতে দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে রফিকুল ইসলাম মুন্সি (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (২৩ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের হাঁটুভাঙ্গা রেলগেট-সংলগ্ন ভাই ভাই স্টোরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দোকান থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত রফিকুল ইসলাম মুন্সি হাঁটুভাঙ্গা গ্রামের সাহারাজ খলিফার ছেলে। তিনি দোকানে স্যানিটারি মালামাল, টাইলস ও হার্ডওয়্যার পণ্যের ব্যবসা করতেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিন তিনি রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরতেন। গতকাল (শনিবার) রাত ১০টার পরও তিনি বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের লোকজন তাকে মোবাইলে কয়েকবার ফোন করলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। পরে তারা দোকানে গিয়ে দেখেন, শাটার নামানো কিন্তু তাতে তালা লাগানো নেই। এরপর শাটার খুলে ভেতরে ঢুকতেই তারা রফিকুলের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। প্রাথমিক সুরতহালের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, তার গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়। আজ (রবিবার) সকালে সিআইডির বিশেষ ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আলামত সংগ্রহ করে। পাশাপাশি মর্গেও গিয়ে আলামত সংগ্রহ করা হবে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, রাতে টহল টিমের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখি ব্যবসায়ী রফিকুলের রক্তাক্ত মরদেহ তার দোকানের গোডাউনে পড়ে আছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। আজ সকালে সিআইডির বিশেষ ক্রাইম সিন ইউনিট টিম এসে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। এরপর মর্গেও গিয়ে আলামত সংগ্রহ করবে। ঘটনাস্থলে ও আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। দ্রুতই জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
৯৪ দিন আগে
বগুড়ায় গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় গভীর রাতে ঘরে ঢুকে রীতা রানী মজুমদার (৪৫) নামে এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (২০ মে) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার মমিনহাটা দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রীতা রানী মজুমদার স্থানীয় বাসিন্দা বিধান চন্দ্র রায়ের স্ত্রী। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে ঢাকায় পড়াশোনা করেন। স্বামী-স্ত্রী নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন।
নিহতের স্বামী বিধান চন্দ্র রায় জানান, গতকাল (বুধবার) রাত ১০টার দিকে তারা রাতের খাবার শেষ করে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। রাত আনুমানিক সোয়া ১২টার দিকে হঠাৎ তার ঘরের দরজায় জোরে ধাক্কার শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় পাশের ঘর থেকে স্ত্রীর গোঙানির শব্দ শুনে দ্রুত সেখানে ছুটে যান তিনি।
ঘরে ঢুকেই তিনি দেখতে পান, রীতা রানী মজুমদার রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন এবং তার গলা কাটা। পরে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। এ সময় বাড়ির মূল দরজা খোলা দেখতে পান তিনি। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার বিষয়ে বগুড়া জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (গাবতলী সার্কেল) হুমায়ুন কবীর জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করেছে।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
৯৭ দিন আগে
গাজীপুরে ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা: মরদেহের ওপর মিলল চাঞ্চল্যকর ‘অভিযোগপত্র’
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী ও তিন কন্যাসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর মরদেহের ওপর টাইপ করা অভিযোগপত্র রেখে পালিয়েছেন অভিযুক্ত গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্ত্রীর পরকীয়া ও অর্থ আত্মসাতের ক্ষোভ থেকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন—ফোরকানের স্ত্রী শারমিন খানম (৪০), তাদের তিন মেয়ে মিম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং ফোরকানের শ্যালক রসুল (২২)। শারমিন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকান্দি গ্রামের শাহাদাত মোল্যার মেয়ে ছিলেন। তার স্বামী ফোরকান মিয়া প্রাইভেট কারের চালক।
আজ সকালে ফোরকানের ফোন কল থেকেই তাদের মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বজনরা এসে ঘরের ভেতরে মরদেহগুলো দেখতে পান। গোপালগঞ্জের বাসিন্দা মো. ফোরকান তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের ওই বাড়িতে গত পাঁচ মাস ধরে ভাড়ায় বসবাস করছিলেন।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখনও জানানো হয়নি।
মরদেহের ওপর ৫টি অভিন্ন অভিযোগপত্র
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে মদের বোতল, চাপাতি ও কম্পিউটারে টাইপ করা একটি অভিযোগপত্রের পাঁচটি অভিন্ন কপি উদ্ধার করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লেখা ওই অভিযোগপত্রে ফোরকান তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও স্ত্রীর পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে, স্ত্রী শারমিন তার খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। বিষয়টি জানার পর ফোরকান এসব নিয়ে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এর জেরে গত ৫ মে শারমিন ও তার লোকজন মিলে ফোরকানকে বেঁধে রেখে মারধর করেন।
এছাড়া শারমিন ও তার বাবাসহ কয়েকজন মিলে ফোরকানের উপার্জিত ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে তাদের নামে জমি কিনেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রটি উল্লিখিত থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা যাচাই করছে পুলিশ।
পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের আলামত
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ফোরকান তার পরিবার নিয়ে আগে টঙ্গীতে থাকতেন। মাস পাঁচেক আগে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তিনি কাপাসিয়ার ওই নিরিবিলি এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। সেখানে এতদিন ধরে বসবাস করলেও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে তাদের তেমন সখ্যতা ছিল না।
ঘটনাস্থল থেকে মদের খালি বোতল ও চাপাতিসহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, হত্যার আগে সবাইকে চেতনাশক কিছু খাইয়ে অচেতন করা হয়েছিল। শুক্রবার রাতে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর ফোরকান নিজেই স্বজনদের ফোনে বিষয়টি জানান এবং এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। নিজের ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি নিয়ে তিনি পালিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআইসহ বিভিন্ন টিম আলাদাভাবে তদন্ত করছে। শিগগিরই ফোরকানকে গ্রেপ্তার এবং খুনের রহস্য উদঘাটন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
১০৯ দিন আগে
গাজীপুরে স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় এক ব্যক্তির স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামী ফোরকান পলাতক রয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ফোরকানের স্ত্রী, তাদের তিন কন্যাসন্তান এবং স্ত্রীর ভাই। তারা গোপালগঞ্জের বাসিন্দা এবং কাপাসিয়ার রাহাতখানা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
ফেকরান গাড়িচালক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বামী ফোরকান স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যা করে পালিয়ে গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। তদন্ত ছাড়া বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।’
১০৯ দিন আগে
নওগাঁয় একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা
নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৮টার দিকে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা নিয়ামতপুর থানা পুলিশকে খবর দেন।
নিহতরা হলেন— বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), হাবিবুরের স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), তাদের ছেলে পারভেজ (৯) এবং ৩ বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের মতো গতকালও রাতের খাবার খেয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন হাবিবুর রহমান। সকালে স্থানীয় এক বৃদ্ধা তাদের ঘরের দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনি ঘরের ভেতর উঁকি দিয়ে হাবিব, তার স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়ের গলা কাটা মরদেহ দেখে চিৎকার দেন। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে থানায় খবর দেন। পরে সকাল ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। একই পরিবারের শিশুসহ চারজনকে হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।
১২৭ দিন আগে
রংপুরে যুবককে গলা কেটে হত্যা
রংপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে রাকিব (২০) নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মো. মমিন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের তাতিপাড়া মাছুয়াপাড়া মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাকিব নগরীর বৈরাগী পাড়ার বাসিন্দা আব্দুস সামাদের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, রাকিব মাদক ব্যবসায়ী মো. মমিনের (৪২) সঙ্গে মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। তবে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জেরে রাকিবের বাবা আব্দুস সামাদ গত বছরের ১৪ নভেম্বর মমিনসহ কয়েকজনের নামে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছিলেন।মামলা ও পূর্ব শত্রুতার জেরে গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে নগরীর তাতিপাড়া মাছুয়াপাড়া মোড়ে রাকিবকে একা পেয়ে মমিন ও তার সহযোগীরা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করেন। এরপর তারা সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ‘ক্রাইম সিন’ হিসেবে চিহ্নিত করে ঘিরে রাখে।
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১৩৮ দিন আগে
বোনকে কুপ্রস্তাবে প্রতিবাদ করায় বড় বোনকে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানায় ছোট বোনকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার প্রতিবাদ করায় বড় বোনকে গলা কেটে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. আবুল কালামকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত পৌনে ১০টার দিকে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার স্টেশন রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কালাম কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চর হরিকেশ এলাকার মৃত হোসেন আলীর ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, কালাম ও তার সহযোগীরা শাহিদা খাতুনের ছোট বোনকে পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে অনৈতিক সম্পর্কের কুপ্রস্তাব দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে শাহিদা ও তার ছোট ভাই প্রতিবাদ করেন এবং এ বিষয়ে গ্রাম্য সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে আসামি সালিশে উপস্থিত না হওয়ায় বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে যায়।
গত ১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শাহিদা বাড়ির উঠানে রান্নার চাল ধোয়ার জন্য যান। সে সময় তাকে একা পেয়ে কালাম ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন।
এ ঘটনায় শাহিদার বাবা মো. সাইফুর রহমান বাদী হয়ে কচাকাটা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
র্যাব-১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ হত্যাকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-১৩।
১৭৩ দিন আগে
রংপুরের পীরগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা
রংপুরের পীরগঞ্জে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রী আছমা বেগমকে। শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকালে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) গভীর রাতে বাড়ির বসতঘরের ভেতরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। তার ফোনে কোনো সাড়া না পেয়ে স্বামী মালয়েশিয়া থেকে পাশের বাড়ির একজনকে ফোন করে খোঁজ নিতে বলেন।
রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে গেটের তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে রক্তাক্ত অবস্থায় আছমার লাশ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে পীরগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হয়। অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে নিজ ঘরে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
নিহত আছমা বেগম(৪২) উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের সাজু মিয়ার স্ত্রী। তার পিতা আলেফ উদ্দিন এবং মাতা আয়েশা বেগম।
পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় দিনেদুপুরে বাড়িতে ঢুকে গলাকেটে হত্যা
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আছমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে একাই বসবাস করছিলেন। তার একমাত্র কন্যা বিবাহিত ও স্বামী বিদেশে অবস্থান করছেন।
খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে পীরগঞ্জ থানা ও ভেন্ডাবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, আমরা তদন্ত শুরু করেছি। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে।
৩৯০ দিন আগে