অপরাধ
কুমিল্লায় এপ্রিল মাসে ১০টি খুন ও ২০টি ধর্ষণের মামলা
কুমিল্লায় ক্রমাগত অপরাধে বাড়ছে উদ্বেগ। গত এপ্রিল মাসে জেলায় বিভিন্ন অপরাধে মোট ৫৮৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মার্চ মাসে এই মামলার সংখ্যা ছিল ৫১৭টি।
এ মাসে জেলায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির তথ্য থেকে পাওয়া পরিসংখ্যানে দেখা গেছে মার্চ মাস থেকে এপ্রিল মাসে ৬৭টি মামলা বেশি হয়েছে। তবে এর মধ্যে বেশিরভাগই মাদকদ্রব্য সম্পর্কিত আইনে মামলা।
রবিবার (১০ মে) কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। এ সময় জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
বিগত সময়ে প্রতিমাসে জেলায় যে পরিমাণ মামলা হয়েছে তার মধ্যে এপ্রিল মাসে মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ বিষয়ে সচেতন নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা কমিটি কর্তৃপক্ষ বলছেন, এর দুটো কারণ হতে পারে। প্রথমত, বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অপরাধ দমনে বেশি পরিমাণে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লা জেলার সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন উপজেলায় চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণের মতো অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা।
জেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির কার্যপত্র বিবরণী থেকে জানা গেছে, এপ্রিল মাসে জেলায় খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে ১০টি, ধর্ষণের ঘটনায় ২০টি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ২৮টি, চুরির ঘটনায় ৪১টি, অপমৃত্যুর মামলা ৬০টি, মাদকদ্রব্য আইনে ২০৫টিসহ দস্যুতা, ডাকাতি ও আহত হওয়ার ঘটনায়ও মামলা দায়ের হয়েছে।
জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির কার্যপত্র বিবরণীতে তুলনামূলক গুরুতর অপরাধের ৭টি ক্ষেত্রে মামলা সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, এছাড়া পাঁচটি ক্ষেত্রে মামলার সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।
কুমিল্লা নারী ও শিশু আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) বদিউল আলম সুজন বলেন, মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে মানে অপরাধও বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি একটি নেতিবাচক দিক। অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি আমরা স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছি। এই পরিস্থিতিতে নাগরিক জীবনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়াচ্ছে।
জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, মামলা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে ভুক্তভোগীরা বেশি বেশি আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন । অপরাধ দমনে সভা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলা হয়েছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে মহাসড়কে পশু পরিবহন, জাল টাকা রোধ, চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধ করাসহ শপিং মল ও পশুর হাটে নিরাপত্তা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৫ দিন আগে
সীমান্তে মাদকের বিষাক্ত নিশ্বাস: ফুলবাড়ীতে বাড়ছে অপরাধ ও আত্মহত্যার প্রবণতা
উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে মাদকাসক্তি। মরণনেশার এই করাল গ্রাসে বিপথগামী হচ্ছে তরুণ ও যুবসমাজ, বাদ যাচ্ছে না স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও। মাদকাসক্তির জেরে চুরি, ছিনতাইসহ পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সামাজিক অপরাধ। ফলে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটছে অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাদক সহজলভ্য হয়ে পড়ায় তরুণদের নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হচ্ছে না। এই অবস্থায় মাদকবিরোধী কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
নেশার বলি চন্দন: একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ
সম্প্রতি ফুলবাড়ীর কুরুষাফেরুষা গ্রামের বাসিন্দা চন্দন কুমার রবিদাসের (৩৫) আত্মহত্যার ঘটনা পুরো উপজেলাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। পেশায় স্বর্ণকার চন্দন এক ছেলে ও দুই মেয়ের জনক ছিলেন। বালারহাট বাজারে তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন নিজের জুয়েলারি দোকান। কিন্তু মাদকাসক্তি তার সাজানো সংসার তছনছ করে দিয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপার্জনের সিংহভাগই তিনি ব্যয় করতেন নেশার পেছনে। পরিবারের শত চেষ্টাতেও তাকে ফেরানো সম্ভব হয়নি। নেশার ঘোরে প্রায়ই স্ত্রী-সন্তান ও বাবা-মায়ের সঙ্গে অশান্তি লেগে থাকত। গত ৮ মে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
চন্দনের বাবা দ্বীনেশ কুমার রবিদাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মাদক আমার ছেলেকে শেষ করে দিল। কয়েকবার চিকিৎসা করিয়েও তাকে ফেরাতে পারিনি। এখন তার ছোট ছোট সন্তানদের আহাজারি সইতে পারছি না। আর কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়!’
বালারহাট বাজারের ব্যবসায়ী কিশোর কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘চন্দন অত্যন্ত ভদ্র ও হাসিখুশি মানুষ ছিল। তার আত্মহত্যা আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। মাদক তাকে ধীরে ধীরে শেষ করে দিয়েছে।’
আড়ালে থাকা অন্য ট্র্যাজেডি
চন্দনের মৃত্যুর দিনই উপজেলার নাওডাঙ্গা এলাকায় এক বিধবা নারী আত্মহত্যা করেন। স্থানীয়দের দাবি, একমাত্র ছেলের মাদকাসক্তি ও তাকে সুপথে ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে চরম হতাশায় তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাওডাঙ্গা ইউনিয়নসহ পুরো উপজেলার বহু তরুণ বর্তমানে বিভিন্ন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। দরিদ্র কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো ভিটেমাটি বিক্রি করেও সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
গোরকমন্ডল এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘মাদক এখন পরিবার ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার ছোট ভাইও মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। তাকে রংপুরের একটি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা দিতে প্রতি মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। একজন কৃষকের পক্ষে এটা বহন করা খুব কঠিন।’
নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল মজিদ মানিক বলেন, ‘আমার নিজের ছেলেও একসময় মাদকে জড়িয়ে পড়েছিল। তাকে বাঁচাতে দুই দফায় নিরাময় কেন্দ্রে রাখতে হয়েছে। এমনকি, একপর্যায়ে পুলিশের হাতেও তুলে দিতে বাধ্য হয়েছি।’ সমাজের সবাই একসঙ্গে কাজ না করলে মাদক ঠেকানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন এই পিতা।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও সামাজিক উদ্বেগ
নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিস্তার এখন ভয়াবহ। অনেক শিক্ষার্থীও এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। আমরা সচেতনতামূলক কাজ করছি, তবে সামাজিক প্রতিরোধ ছাড়া এটি নির্মূল করা কঠিন।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাদকাসক্তির কারণে অনেক তরুণ চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এটি শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো সমাজের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
নাওডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাছেন আলী মনে করেন, পরিবারের উদাসীনতাও এর জন্য দায়ী। তিনি বলেন, ‘বাড়ির ছেলে হঠাৎ দামী খাবার বা জিনিস নিয়ে এলে পরিবার আনন্দিত হয়, কিন্তু সেই টাকা কোথা থেকে আসছে তা খোঁজ নেয় না। এই অসচেতনতাই বিপদ ডেকে আনছে।’
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, মাদক নির্মূলে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা আক্তার বলেন, ‘সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের প্রভাব বেশি। বিশেষ করে বালারহাট এলাকায় একটি স্থায়ী পুলিশ চেকপোস্ট স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। পরিবারকে আরও সচেতন হতে হবে। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নজরদারি বাড়াতে হবে।’
স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ফুলবাড়ীর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
১৭ দিন আগে
বড় ধরনের সহিংস অপরাধের সংখ্যা বাড়েনি: অন্তর্বর্তী সরকার
চলতি বছর দেশে অপরাধ ব্যাপক হারে বেড়েছে—এমন দাবি পরিসংখ্যান দিয়ে পুরোপুরি সমর্থিত নয় বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
প্রধান উপদেষ্টার উপপ্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ পুলিশের সদর দপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে বলেন, “আসলে গত ১০ মাসে বড় ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে।”
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক গণমাধ্যম প্রতিবেদনে চলতি বছরে অপরাধের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে বলে তুলে ধরা হয়েছে, যা নাগরিকদের মধ্যে ভয় ও অনিরাপত্তা বাড়িয়েছে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক অপরাধ পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বলা যায়, দেশে অপরাধের তীব্র বৃদ্ধি ঘটেছে—এই দাবি পুরোপুরি তথ্যনির্ভর নয়, বলেন আজাদ।
আরও পড়ুন: গ্লানি মুছে গড়তে হবে সুন্দর পৃথিবী: অধ্যাপক ইউনূস
তিনি বলেন, “এগুলো কোনো অপরাধ–জোয়ারের লক্ষণ নয়; বরং সবচেয়ে গুরুতর কিছু অপরাধ হয় কমেছে বা স্থিতিশীল রয়েছে।”
উপ-প্রেস সচিব আরও বলেন, “শুধু কিছু নির্দিষ্ট অপরাধের হার বেড়েছে।”
“নাগরিকদের সতর্ক থাকা উচিত, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে—পরিসংখ্যানে এরই প্রতিফলন দেখা যায়,” বলেন আজাদ।
তিনি বিগত পাঁচ বছর এবং গত ১০ মাসের অপরাধ পরিসংখ্যানের দুটি ছকও উপস্থাপন করেন।
সব পরিসংখ্যান পুলিশের সদর দপ্তরের সরবরাহকৃত।
৩১৭ দিন আগে
ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনকে ‘অপরাধ’ স্বীকৃতি দিচ্ছে আলজেরিয়া
ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনকে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আইন প্রণয়ন করতে চলেছে ফ্রান্সের এক সময়ের উপনিবেশ আলজেরিয়া।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৩ মার্চ) একটি খসড়া আইন প্রণয়নের লক্ষে দেশটির পার্লামেন্টে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। খসড়াটি চূড়ান্ত হলে সেটি সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
এই পদক্ষেপ ফ্রান্স ও আলজেরিয়ার মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর আগে, ঐতিহাসিক অপরাধের জন্য ফ্রান্সকে ক্ষমা চাইতে আলজিয়ার্স অনেকবার চাপ দিলেও তা গ্রাহ্য করেনি প্যারিস। ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এবার ফরাসি শাসকদের নানা অপকর্মকে আনুষ্ঠানিকভাবে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চলেছে আলজিয়ার্স।
১৮৩০ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত ১৩২ বছর ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল আলজেরিয়া। সে সময় ফরাসিরা আলজেরিয়ার মানুষের ওপর নানা অত্যাচার-নিপীড়ন চালিয়েছে বলে অভিযোগ ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত এই দেশটির।
এ বিষয়ে গত সপ্তাহে আলজেরিয়ার পার্লামেন্টের এক বৈঠকে আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় ‘ফরাসিদের অত্যাচার আলজেরিয়ানদের স্মৃতিতে এখন অম্লান’ বলে অভিহিত করেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ব্রাহিম বুঘালি।
১৩২ বছরের ফরাসি শাসনামলে আলজিরিয়ানরা যা কিছু সহ্য করেছে, সেই সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের স্মৃতির বিষয়। কেউ কেউ হয়তো এটিকে চাপ প্রয়োগের একটি হাতিয়ার হিসেবে দেখাতে চেষ্টা করতে পাারেন, কিন্তু বিষয়টি তা নয়।’
আরও পড়ুন: তুরস্কে ধরপাকড় উপেক্ষা করে এরদোগানবিরোধী বিক্ষোভ চলছে
এই আইন প্রণয়নকে দেশটির নাগরিকদের অসামান্য ত্যাগের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
আলজেরিয়ায় ফ্রান্সের (ঔপনিবেশিক) শাসকরা যেসব অত্যাচার-নিপীড়ন চালিয়েছিলেন, সেসব সত্য প্রকাশ্যে নিয়ে আসাটা দেশটির ঐতিহাসিক ও নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেন ব্রাহিম।
আলজেরিয়ার আইনপ্রণেতাসহ ইহিতাস ও আইন বিশেষজ্ঞরা এই (আইন প্রণয়নের) উদ্যোগকে সমর্থন দিয়েছেন। এর আগে, ফ্রান্সকে ঔপনিবেশিক অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে বলেও দাবি তুলেছিলেন তারা।
ঔপনিবেশিক শাসনামলে ফরাসিরা যেসব অপরাধ সংগঠিত করেছিল, সেসব নিয়ে একটি তালিকাও প্রণয়ন করেছেন তারা। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ১৮৪৫ সালে সংঘঠিত দাহারা গণহত্যা ও সাহারা মরুভূমিতে পরিচালিত পরমাণু পরীক্ষা।
আলজেরিয়ার ঐতিহাসিক তথ্যমতে, ১৮৪৫ সালে একটি গুহার মধ্যে অবস্থানরত কয়েক শ’ মানুষকে ধোঁয়া দিয়ে বের করে এনে হত্যা করেছিল ফরাসি সেনারা, যার মধ্যে অনেক নারী ও শিশু ছিল।
ফরাসিদের আরেক ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে, আলজেরিয়ার সাহারা মরুভূমিতে অবস্থিত অংশে ১৯৬০ থেকে ১৯৬৬ সালের মধ্যে ১৭টি পারমাণবিক পরীক্ষা। এতে স্থানীয় জলবায়ুতে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে এখনও অঞ্চলটির বাসিন্দারা ক্যান্সারসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এমন আরও অনেক অপরাধের বর্ণনা রয়েছে তালিকায়।
সম্প্রতি যে আইনটি প্রণয়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এমন একটি আইনের দাবি ১৯৮৪ সালের দিকেও করা হয়,কিন্তু বারবার পদক্ষেপ পেছানোর ফলে সেটি আর বাস্তব রূপ পায়নি।
এরপর ২০০১ সালেও এই রকম আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছিল, তবে তাও বাস্তবায়িত হয়নি। ২০০৫ সালে ফরাসিদের প্রণীত একটি আইনকে কেন্দ্র করে নতুন করে এই দাবি জোরালো হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনের সমর্থনে বিক্ষোভ, শিক্ষার্থীকে আত্মসমর্পণে মার্কিন পুলিশের চিঠি
ওই বছর নিজেদের শিক্ষাক্ষেত্রে ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনামলকে ইতিবাচক হিসেবে পড়ানোর জন্য একটি আইন প্রণয়ন করে ফ্রান্স। এতে ক্ষুব্ধ হয় আলজেরিয়ার মানুষ। পাল্টা হিসেবে তারা আইনের মাধ্যমে ফরাসি শাসনকে অপরাধ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার দাবি তোলেন।
এরপর ২০২১ সালে আলজেরিয়ার শতাধিক আইনপ্রণেতা দাবি তোলেন, ঔপনিবেশিক শাসনামলে সংগঠিত অপরাধের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত প্যারিসের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে যেতে পারবে না আলজিয়ার্স। এ লক্ষ্যে একটি খসড়া আইন প্রণয়ন করতে সরকাররের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
এদিকে, বিগত কয়েকমাস ধরে ঐতিহাসিক অভিযোগ, অভিবাসন নীতিতে মতবিরোধ, পশ্চিম সাহারা নিয়ে মরক্কোর সঙ্গে আলজেরিয়ার বিরোধে রাবাতকে ফ্রান্সের সমর্থন দেওয়ার মতো বিষয় নিয়ে আলজিয়ার্স-প্যারিস কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছে।
দীর্ঘস্থায়ী এই কূটনৈতিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে শনিবার (২২ মার্চ) এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আব্দেলমাজিদ তেববুনে বলেন, দ্বিপাক্ষিক বিষয় সমাধানে ‘একমাত্র রেফারেন্স পয়েন্ট’ হিসেবে থাকবেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বা তার মনোনীত প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেই সমস্যাগুলোর সমাধান করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এছাড়া ফরাসি সরকারকে ঔপনিবেশিক অপরাধ স্বীকার করে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার জন্য অব্যাহতভাবে চাপ দিয়ে আসছে আলজেরিয়া। অতীতের তিক্ততা মিটিয়ে স্থিতিশীল ও গঠনমূলক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য এ উদ্যোগ উভয় দেশের জন্যই অপরিহার্য বলে মনে করে দেশটির সরকার।
৪২৭ দিন আগে
আল্লাহ কি হাসিনাকে নূন্যতম অপরাধবোধ দেননি: প্রশ্ন আসিফ নজরুলের
আগের মতো আত্মবিশ্বাস নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ সুরে কথা বলায় অবাক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আল্লাহ কি এই মানুষটার মাঝে নূন্যতম অপরাধবোধ দেননি?’
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
আসিফ নজরুল বলেন, ‘শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় যেভাবে আত্নবিশ্বাস নিয়ে মানুষের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ সুরে কথা বলেছেন, তার শেষ সংবাদ সম্মেলনেও তিনি একদম একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি তার বক্তব্যে আমাদের যে যন্ত্রণার স্মৃতি সেটা নিতে পরিহাস করেছেন। তিনি বলেছেন আবু সাঈদের হত্যার দৃশ্য (আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স) এআই দিয়ে বানানো হয়েছে। মুগ্ধকে নাকি ছাত্ররাই গুলি করে মেরেছে। বলুন এগুলো কি সহ্য করা যায়?’
আরও পড়ুন: অক্টোবরের মধ্যে জুলাই হত্যাকাণ্ডের ৩-৪টি মামলার রায় পাওয়া যাবে: আসিফ নজরুল
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘মিথ্যাচারের পাশাপাশি তিনি সবাইকে উসকে দিয়েছেন; কার বাড়িতে আগুন দিতে হবে এবং কাকে তিনি ছাড়বেন না এসব নিয়ে। আশ্বর্য! আমার কাছে অবাক লাগে! আল্লাহ কি এই মানুষটার মাঝে নূন্যতম অপরাধবোধ দেননি?’
‘যার মধ্যে নূন্যতম অপরাধবোধ থাকে না তিনি তো সবই করতে পারেন। তার বাহিনীর এক অংশ শেখ হাসিনার প্রতি অন্ধ বিশ্বাস থেকেই তার মতো মিথ্যাচার করেছে। তারাও একই টোনে কথা বলেছে। তারা বিভিন্ন উসকানিমূলক, আক্রমণাত্বক এবং ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জানতে পেরেছে তারা (আওয়ামী লীগের কর্মীরা) আরও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। এ কারণেই অপারেশন (অপারেশন ডেভিল হান্ট) চালানো হচ্ছে।’
৪৭০ দিন আগে
অপরাধ-সন্ত্রাস দমনে অভিযান জোরদারের আহ্বান আইজিপির
সন্ত্রাস, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক সংক্রান্ত অপরাধ, কিশোর গ্যাং ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ইস্যুতে চলমান বিশেষ অভিযানে জোরদারে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো.ময়নুল ইসলাম।
সোমবার(২৮ অক্টোবর) এক নির্দেশনায় জননিরাপত্তা রক্ষায় এসব অভিযানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন আইজিপি।
তিনি উল্লেখ করেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সহিংস ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য হত্যা মামলার সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সাবেক এমপি শেখ আফিলসহ ২০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা, আটক ৫
আইজিপি বলেন, স্থায়ী ও অস্থায়ী উভয় ধরনের চেকপোস্টের সহায়তায় বেশি অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে চিরুনি তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ১৫০টি চেকপোস্টের পাশাপাশি ৩০০টি মোটরসাইকেল টিম এবং ২৫০টি টহল টিম পরিচালনা করছে। গোয়েন্দা নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ টহলদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
চলমান অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে কর্তৃপক্ষ ২০০ ডাকাত ও চাঁদাবাজ, ১৬ জন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী এবং বৈষম্যবিরোধী বিক্ষোভকারীদের উপর হামলার সঙ্গে জড়িত ১ হাজার ১৪০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।
এছাড়া, অবৈধ অস্ত্রসহ ৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদক সম্পর্কিত অপরাধের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের ফলে যথেষ্ট পরিমাণে মাদকদ্রব্য পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
আইজিপি দলমত নির্বিশেষে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই জোরদার প্রচেষ্টার মাধ্যমে সকল নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষে কাজ করছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: ক্রসফায়ারের ৮ বছর পর র্যাবের সাবেক ডিজির বিরুদ্ধে মামলা
৫৭৬ দিন আগে
প্রার্থী নয়, অপরাধ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ইসি
প্রার্থী দেখে নয়, বরং অপরাধ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা।
তিনি বলেন, যে প্রার্থীই অপরাধ করুক না কেন, দলমত নির্বিশেষে সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: বিয়ে না দেওয়ায় মাকে খুনের ঘটনায় ছেলে গ্রেপ্তার
শনিবার জেলার প্রশাসকের সন্মেলনকক্ষে নির্বাচনি আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক এক মত বিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালীভাবে তাদের কাজ করে তবে কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা হওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, বিগত নির্বাচনে যারা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ভোটারদের নির্বিঘ্নে, নিরাপদে ও নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট দিতে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ তৈরিতে যা যা করতে হয় স্থানীয় প্রশাসন তাই করবে।
কোনোভাবেই ভোটররা যেন অসন্তুষ্ট না হয় এবং তাদের মধ্যে যেন ভীতির সৃষ্টি না হয় সেই ব্যাপারে সর্বদা সজাগ থাকতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেন তিনি।
আরও পড়ুন: জাল ভোট হলে তাৎক্ষণিক সেই কেন্দ্রের ভোট বন্ধ: ইসি হাবিব
গাজায় মৃত মায়ের গর্ভ থেকে উদ্ধারের ৫ দিন পর মারা গেছে শিশুটি
৭৬০ দিন আগে
পুলিশ ও সাংবাদিক ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে অপরাধ-অন্যায় নির্মূল সম্ভব: ডিএমপি কমিশনার
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেছেন, একটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে পুলিশ ও সাংবাদিক যদি ঐক্যবদ্ধভাবে একসঙ্গে কাজ করে তাহলে দেশ থেকে অপরাধ, অন্যায়-অবিচার নির্মূল করা সম্ভব হবে।
বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব) কার্যালয়ে মিজান মালিকের কবিতার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে একটি সুন্দর দেশ ও সমাজ গড়তে সক্ষম হবো আমরা, যা কবি মিজান মালিক তার বইয়ে বলেছেন।’
আরও পড়ুন: তদন্তে জানা যাবে কারওয়ান বাজার বস্তির অগ্নিকাণ্ড নাশকতা কি না: ডিএমপি কমিশনার
তিনি আরও বলেন, অনেকে অভিযোগ করেন, সাংবাদিকরা পুলিশের বিরুদ্ধে লেখেন। ‘তবে পুলিশের বিরুদ্ধে যাওয়া অনেক রিপোর্টকে আমি স্বাগত জানাই, কারণ আমি তাদের লেখার মাধ্যমে অনেক তথ্য পেয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ব্যস্ত সময়সূচির কারণে আমরা অনেক কিছুই ভুলে যাই। তবে সেই তথ্য আমরা সাংবাদিকদের কাছ থেকে মনে রাখতে পারি। আমাদের গোয়েন্দা দলও তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে। অনেক সময় পত্রিকার মাধ্যমে সংবাদ পর্যালোচনা করে আমরা অনেক গোয়েন্দা তথ্য পাই। সেগুলোও আমাদের কাজে লাগে।’
ডিএমপি কমিশনার বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা যেমন কাজ করেন, সাংবাদিকরা তেমনি সরকারি যন্ত্রের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারেন। আর তা সঠিকভাবে করতে পারলে দেশ ও সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে বলে মনে করেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আনজীর লিটন, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্র্যাব) সভাপতি মো. কামারুজ্জামান খান, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বকুল আহমেদ প্রমুখ।
আরও পড়ুন: নির্বাচনে যানবাহন চলাচলে ডিএমপি'র নিষেধাজ্ঞা
ইজতেমা উপলক্ষে সড়ক ও পার্কিং নির্ধারণ করল ডিএমপি-জিএমপি
৮৩৩ দিন আগে
এমন অপরাধে সাজা দেওয়া হয়েছে, যা আমি করিনি: ড. ইউনূস
শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, তিনি যে অপরাধ করেননি তার জন্য তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ইউনূস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এমন একটি অপরাধের জন্য শাস্তি পেয়েছি, যা আমি করিনি। ‘আপনি যদি এটিকে ন্যায়বিচার বলতে চান, আপনি বলতে পারেন।’
সোমবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকার শ্রম আদালত-৩ এই সাজার প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ইউনূসের পাশাপাশি গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসান এবং দুই পরিচালক নুরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহানকে শ্রম আইনের ৩০৩ এর ৩ ধারায় ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে আরও ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
একই আইনের ৩০৭ ধারায় তাদের সবাইকে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের বিচারক শেখ মেরিনা সুলতানা।
গ্রামীণ টেলিকমের ১০১ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করা, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল এ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে।
৮৪ পৃষ্ঠার রায়ে বিচারক বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
তবে রায়ে সাজা হলেও আপাতত জেলে যেতে হচ্ছে না গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউনূসসহ চারজনকে। পরে আপিলের শর্তে ড. ইউনূসসহ চারজনকে এক মাসের জামিন দিয়েছেন আদালত।
রায় শুনতে আদালতে অনেক বিশিষ্ট নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় ড. ইউনূসকে আদালত থেকে বাইরে নেওয়া হয়।
সে সময় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ড. ইউনূস বলেন, ‘আজ রায় ঘোষণা শুনতে আমার অনেক বিদেশি বন্ধু-বান্ধব এসেছেন, যাদের সঙ্গে বহুদিন দেখা হয়নি। আজ তাদের দেখে খুব আনন্দ লাগছিল।’আরও পড়ুন: রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা বোর্ডের সভাপতি হলেন ড. ইউনূস
আজ দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে ড. ইউনূস ঢাকার প্রথম শ্রম আদালতে হাজির হন। আদালতে প্রবেশ করে এজলাসের পেছনের চেয়ারে বসে ছিলেন তিনি।
এ ছাড়া রায় শোনার জন্য অনেক বিশিষ্ট নাগরিক আদালতের এজলাসে হাজির হন। এরমধ্যে অন্যতম ছিলেন মানবাধিকারকর্মী আইরিন খান, সারা হোসেন, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল।
আইরিন খান সাংবাদিকদের বলেন, ড. ইউনূসের সাজার রায়ে তিনি বিস্মিত। ‘তাঁকে (ড. ইউনূস) হয়রানি করার জন্যই এই সাজা দেওয়া হয়েছে।’
বিচারক দুপুর ২টার পরে আদালতের এজলাস গ্রহণ করেন। পরে বিচারক রায় পড়া শুরু করেন। বিচারক বলেন,৮৪ পৃষ্ঠার রায়ের মধ্যে সব পড়া সম্ভব নয়।
এরপরে তিনি বলেন, আজকে নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের বিচার হচ্ছে না। এখানে বিচার করা হচ্ছে গ্রামীন টেলিকমের চেয়ারম্যান হিসেবে। আমি শুধু জিস্টটা পড়ে শোনাচ্ছি।আরও পড়ুন: শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ড. ইউনূসের ৬ মাসের কারাদণ্ড
বিচারক রায় পড়ার সময় ড. ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার মামুন অনেকবার বিচারককে বলেন, তাদের বক্তব্য রায়ে আনা হয়নি। এতে আদালতের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
বিচারক তার পর্যবেক্ষণে বলেন, ড. ইউনূসের মামলায় চারজন সাক্ষী দিয়েছেন। মামলার বাদী কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান কর্তৃক মামলা দায়েরে কোনো ত্রুটি হয়নি। এ ছাড়া মামলা দায়েরে কোনো বিলম্ব হয়নি। তিনি যথাসময়ে এই মামলা দায়ের করেছেন।
বিচারক রায়ে আরও বলেন, ‘এ মামলায় আরও অন্য পরিচালক রয়েছে, যাদের আসামি করা হয়নি এমন বক্তব্য আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেছেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী আরও বলেছেন শুধু ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠজনদের এ মামলায় আসামি করা হয়েছে, যা সত্য নয়। কারণ, বার্ডেন অব প্রুফ অর্থাৎ প্রমাণের দায়িত্ব আসামির ওপরে বর্তায়। এসব কারণে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে, শ্রম আইন লঙ্ঘন হয়েছে।’
মামলায় অভিযোগে বলা হয়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ড. ইউনূসের গ্রামীণ টেলিকম পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে তারা শ্রম আইনের লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে পারেন। এর মধ্যে ১০১ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে স্থায়ী করার কথা থাকলেও তাদের স্থায়ী করা হয়নি। শ্রমিকদের অংশগ্রহণের তহবিল ও কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়নি। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশের পাঁচ শতাংশ শ্রমিকদের দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি।আরও পড়ুন: শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ড. ইউনূসের ৬ মাসের কারাদণ্ড
এর আগে গত ২২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত ৮ নভেম্বর আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দেন আসামিরা।
গত ৮ মে মামলা বাতিলের আবেদন খারিজের বিরুদ্ধে ড. ইউনূসের লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।
এরপর ৬ জুন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।
এ মামলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজন বিবাদীর আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত বক্তব্য জমা দেওয়া হয় আদালতে। সেখানে বলা হয় গ্রামীণ টেলিকম যেসব ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে সেগুলো চুক্তিভিত্তিক। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে তা নবায়নের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়।
গ্রামীণ টেলিকমের প্রকল্প নোকিয়া কেয়ার ও পল্লীফোনের কার্যক্রম তিন বছরের চুক্তি অনুযায়ী পরিচালিত হয়। মেয়াদ শেষে তা নবায়ন হয়। যেহেতু গ্রামীণ টেলিকমের কার্যক্রম চুক্তির ভিত্তিতে পরিচালিত তাই সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন ড. ইউনূস
৮৭৭ দিন আগে
চট্টগ্রামে আচরণবিধিসহ নানা অপরাধে বিচারিক দায়িত্বে ২৩ ম্যাজিস্ট্রেট
আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অপরাধের বিচার এবং তদারকির জন্য চট্টগ্রামের ১৬টি নির্বাচনী আসনের জন্য ২৩ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ভোটের দু্ইদিন আগে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট পাঁচদিন দায়িত্ব পালন করবেন এসব ম্যাজিস্ট্রেট।
বুধবার (২০ ডিসেম্বর) ইসি সচিবালয়ের আইন-১ শাখার সহকারী সচিব মো. আল-আমিনের সই করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে কিশোরের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার
এতে বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে ৬৫৩ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আগামী ৭ জানুয়ারি ভোট গ্রহণের দিন এবং তার আগের দু’দিন ও পরের দু’দিনসহ মোট পাঁচদিন দায়িত্ব পালন করবেন।
চট্টগ্রামে নিয়োগপ্রাপ্ত জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের মধ্যে চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনে সহকারী জজ ফারজানা তাবাসসুম মেরী, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন নাহার, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মোহাম্মদ জোনাইদ, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারদিন মুস্তাকিম তাসিন, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেলাল হোছাইন, সহকারী জজ তৈয়ব উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে সহকারী জজ মুজিবুর রহমান, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল দেব, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে ম্যাজিস্ট্রেট আইরিন পারভিন, অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম সরোয়ার, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান পুনম, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোহিনুর আক্তার নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে আগুনে দগ্ধ হয়ে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু
এছাড়া চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্রীজ্ঞান তঞ্চঙ্গ্যা, সিনিয়র সহকারী জজ মো. হাসান জামান, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী) আসনে সিনিয়র সহকারী জজ মো. হেলাল উদ্দিন, সহকারী জজ মোহাম্মদ মোস্তাফা, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালাউদ্দিন, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অলি উল্লাহ, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং) আসনে সিনিয়র সহকারী জজ শামসুল আলম, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হারুন, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হক, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রুমানা আক্তার, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাররাহুম আহমেদ, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিপলু কুমার দে, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ার) আসনে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল হক, সহকারী জজ আবদুল মান্নান, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাইসুমা সুলতানা, সহকারী জজ কামাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া) আসনে সহকারী জুডিসিয়াল সুব্রত দাশ, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শরীফুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল হামিদ, সহকারী জজ কাওসার মাহমুদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্বাচনী অপরাধ আমলে নিয়ে ব্যালট পেপার ছিনতাই, ব্যালট পেপার ধ্বংস করা, ব্যালট বক্স ছিনতাই, ভোটদানে বাধা দেওয়া, ভোটকেন্দ্রের পরিবেশকে ভোটের উপযোগী না রাখা প্রভৃতি অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিচার করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বন্য হাতির হামলায় কৃষকের মৃত্যু
৮৮৯ দিন আগে