কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা: পুলিশ সুপার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এ তথ্য জানান।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও মো. কামরুল হাসান। তাদের মধ্যে ফাহাদ অপ্রাপ্তবয়স্ক।
এছাড়া সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে তুহিন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলে যান।
পরবর্তীতে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তুহিনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন অপ্রতিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ নামের একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ তার বন্ধু কামরুলের সম্পৃক্ততার কথা জানায়। পরে কামরুলকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ।
তুহিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এছাড়া পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার নির্জন বনে অপ্রতিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে অপ্রতিম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। এতে অপ্রতিমের মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়েছে।
অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন তার মোবাইল ফোন নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলের কথা জানিয়েছেন তিনি।
৪ দিন আগে
গ্রেপ্তাররা ‘অপরাধ স্বীকার করেছে’, দ্রুত বিচারের আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা অপরাধ স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজন চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগে তিনজন এবং আজকে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, ‘তারা অপরাধ স্বীকার করেছে। এখন বাকি আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান।’
গ্রেপ্তারদের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের কম হতে পারে। এনআইডি যাচাইয়ের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি বলেন, ‘তারা অনেকটা কিশোর অপরাধ চক্রের মতো। তাদের সঙ্গে এই ছেলের সম্পর্ক ছিল, ওঠাবসা ছিল, বন্ধুত্ব ছিল। প্রায় সময় আড্ডা দিত। খোঁজখবর এবং অন্যান্য তথ্য নিয়ে যা দেখা গিয়েছে, তারা এই ছেলের বয়সের ৫ থেকে ১০ বছর বড়।’
অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘সমস্ত আলামত পাওয়া গিয়েছে। তারা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রম, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া যায় কি না—এসব নিয়ে কাজ করছে।’
পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘তারা ১২ ঘণ্টার মধ্যে সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং আলামতসহ অন্যান্য বিষয় জব্দ করতে পেরেছে।’
পুলিশ ফরেনসিক বিশ্লেষণ করছে এবং নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপ্রতিমের দাফনও আজ রবিবার সম্পন্ন হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডটির বিচার দ্রুত শেষ করার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আশা করি, রামিসা হত্যার বিচারের মতো এই হত্যাকাণ্ডের বিচারটাও আমরা সংক্ষিপ্ত সময়ে সমাপ্ত করাতে পারব। বিচার করবে আদালত। আমরা আমাদের সমস্ত আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিলের মাধ্যমে সহযোগিতা করব।’
রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার যেভাবে দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হয়েছে, একইভাবে এ মামলার বিচারেও বিচার বিভাগ গুরুত্ব দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
৪ দিন আগে
কুমিল্লায় অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষিকার ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইয়াশাত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কোটবাড়ির গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে, আজ (রবিবার) সকাল ১০টার দিকে কুবি ক্যাম্পাসে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দোয়ার আগে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
তিনি বলেন, ‘অপ্রতীম আপনাদের স্নেহ ও ভালোবাসায় বড় হয়েছে। সে যদি কখনও কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকে, তবে দয়া করে তাকে ক্ষমা করে দেবেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ক্যাম্পাসে সমবেত হয়ে অপ্রতিমের মরদেহ শেষবার দেখেন এবং তার মৃত্যুতে শোক জানান।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র ছেলে অপ্রতিমের মরদেহ গতকাল (শনিবার) বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়।
কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য তার মায়ের আইফোন নিয়ে গেল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হয়। তবে সে ঘরে ফিরে না আসায় পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয় এবং তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এদিকে, এই মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামে তিনজনকে আটক করেছে।
৪ দিন আগে
কুবি শিক্ষিকার নিখোঁজ ছেলের মরদেহ উদ্ধার
মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বেরিয়ে নিখোঁজ অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিখোঁজের পরদিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অপ্রতিম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (শুক্রবার) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে ওই দিন সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ পাওয়া গেছে। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
এদিকে, অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এবং কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
৫ দিন আগে
সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে কুবিতে মানববন্ধন
সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তাদের দাবি, ভাইভার নম্বর বাড়ানো হলে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মানববন্ধনে এই সিদ্ধান্ত বালিত না করলে কঠিন আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে মানববন্ধনের আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘কোটা গেছে যেই পথে, ভাইভা যাবে সেই পথে’, ‘ভাইভার নামে দলীয়করণ—বন্ধ কর, করতে হবে’, ‘ভাইভা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘দোয়েল, কোয়েল, ময়না, টিয়া—ভাইভায় এসো ঘুষ নিয়া’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে উদ্দেশ্য করে ‘ছি ছি ধিক্কার—জাহেদ তুই চাটুকার’ বলেও স্লোগান দিতে দেখা যায়।
মানববন্ধনে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বায়েজিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনের কথা না ভুললেও আমাদের সরকার হয়তো ভুলে গেছে। মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়, কিন্তু আমরা দেখতে পারছি, বর্তমান সরকার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। যে জুলাই অভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল কোটা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, আবার তা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে সরকারি চাকরিতে বৈষম্য, সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ এবং ভাইবার নামে আবার কোটাকে ফেরানোর চেষ্টা করছে সরকার।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির ১৯৯০–১৯৯৬-এর ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, সরাসরি প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ ও সরকারি চাকরিতে হস্তক্ষেপ করার প্রথম প্রচেষ্টা চালায় তারা। আমি সরকারের উদ্দেশ্যে বলছি এসব বন্ধ করুন, তা না হলে পালানোর জায়গা পাবেন না।’
জাতীয় ছাত্রশক্তি কুবি শাখার সদস্যসচিব সৈয়দা নাজিফা নাফিল বলেন, ‘আমরা সব সময় বলে থাকি যে কোটা না মেধা—মেধা মেধা। কিন্তু এখন আমরা দেখছি যে কোটা আবার নতুনভাবে ফিরে আসছে। আজকে আমরা কারো নিজের সুবিধার জন্য এখানে আসিনি। সরকারের এই সিদ্ধান্ত এভাবে বাড়তে দিলে এক পর্যায়ে এই সরকার ফ্যাসিবাদের দিকে এগিয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যারা চব্বিশের আন্দোলন দেখেছি। এরপরও যদি আমরা না শুধরাই, আমাদের জন্য যা অপেক্ষা করছে, তা হবে আরও ভয়ংকর। তাই এই ব্যবস্থা প্রতিহত করা আমাদের দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্ব থেকেই আজকে আমি এখানে দাঁড়িয়েছি। আমাদের একটি ইচ্ছা থাকে যে পড়াশোনা করে দেশের জন্য কাজ করব কিন্তু এখন দেশের জন্য কাজ করার সেই পথটাই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই এখন আমাদের এই ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলা দরকার, প্রতিবাদ করা দরকার এবং যার যার জায়গা থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন।’
ফার্মেসি বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের বারবার যে কোনো বিষয় নিয়ে রাজপথে নামা লাগে, অথচ এই সরকার হওয়ার কথা ছিল জনগণের। কিন্তু সরকার হয়ে যায় তার নিজের দলের। এর থেকে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটা সরকার কীভাবে সবকিছুতে দলীয়করণ করে তা আশপাশে তাকালেই দেখতে পাবেন। এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নাই যেখানে দলীয়করণ করা হয়নি। আমরা তারেক সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই, ১৪০০ শহীদের রক্তের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশের যদি আবার ফ্যাসিবাদী কায়দা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, সেটা আর কখনো হবে না। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা তা কখনোই মেনে নেবে না।’
কুবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে ভাইভা পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে মেধার অবমূল্যায়ন এবং দলীয় লোকদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার প্রতিবাদেই আজকের এই মানববন্ধন। আপনারা লক্ষ করেছেন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আমাদের প্রায় ১ হাজার ৪০০ ভাই শহীদ হয়েছেন। বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, যাদের অনেকে এখনও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অথচ তাদের সুস্থ হওয়ার আগেই তাদের রক্তের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় এসে সরকার আবারও বৈষম্যের পথ বেছে নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরা সরকারকে স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে আমাদের এই প্রতিবাদ সারা বাংলাদেশে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়বে। আমরা আরও লক্ষ করছি, সরকার দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক কাঠামোকে দুর্বল করার মতো নানা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ভাইভা পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের চাকরি পাওয়ার জন্য রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারস্থ হতে হবে। আমরা মনে করছি, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে দলীয় ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের যে অপচেষ্টা চলছে, সরকারকে সেখান থেকেও ফিরে আসতে হবে। ভাইভা নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাহার করে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।’
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এক্ষেত্রে একাদশ ও দ্বাদশ গ্রেডের সরকারি চাকরিতে বর্তমানে ভাইভার নম্বর ১০, নতুন প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ৫০ নম্বর করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ত্রয়োদশ থেকে ষোড়শ গ্রেডের সরকারি চাকরিতেও বর্তমানে ভাইভার নম্বর ১০, প্রস্তাবিত বিধিমালায় তা বাড়িয়ে ৪০ নম্বর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সপ্তদশ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে বর্তমানে ভাইভার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ২৫ নম্বর করার কথা বলা হয়েছে।
১৫ দিন আগে
এক বছরেও শেষ হয়নি কুবি শিক্ষার্থী সুমাইয়া হত্যার বিচার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন রিনথী ও তার মা তাহমিনা বেগম হত্যার এক বছর পূর্ণ হলেও এখনও শেষ হয়নি বিচারিক কার্যক্রম। আসামি গ্রেপ্তার ও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পরও মামলাটি এগোচ্ছে ধীরগতিতে। এ পর্যন্ত পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। আরও চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি রয়েছে।
গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরের কালিয়াজুড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় সুমাইয়া ও তার মা তাহমিনা বেগমকে হত্যা করা হয়। পরদিন বিষয়টি জানাজানি হলে ওই দিনই অভিযুক্ত মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ঝাড়ফুঁকের সূত্রে সুমাইয়ার পরিবারের সঙ্গে মোবারকের পরিচয় হয়। ঘটনার আগে এক মাস ধরে তিনি ওই বাসায় যাতায়াত করেন।
স্বীকারোক্তিতে মোবারক আরও জানান, সুমাইয়াকে ঝাড়ফুঁক করার সময় ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। বিষয়টি মা তাহমিনা বেগম দেখে ফেলায় প্রথমে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে সুমাইয়াকেও হত্যা করা হয়।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছেন সুমাইয়ার পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এক বছরেও বিচার শেষ না হওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
সুমাইয়ার সহপাঠী মেহেদি হাসান শাহিন বলেন, ‘আমাদের বান্ধবী সুমাইয়া ধর্ষণ ও হত্যার এক বছর হলেও এখনও কোনো দৃশ্যমান ফলাফল দেখা যায়নি। আমরা আশা করি, ধর্ষক যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায়।’
আরেক সহপাঠী মুনিয়া আফরোজ বলেন, ‘পুরো একটা বছর শেষ হয়ে গেছে, সুমাইয়া ও তার মায়ের হত্যাকাণ্ডের। আদালতে তারিখের পর তারিখ পিছিয়েছে, কিন্তু এখনও কোনো রায় আমরা পাইনি। ভবিষ্যতে পাব কি না, তা নিয়েও সন্দিহান। তবুও আমরা বিচার বিভাগের ওপর ভরসা রাখতে চাই। দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানাই।’
সুমাইয়ার সহপাঠী হুমাইরা তাসনিম প্রমি বলেন, ‘আমরা প্রতিশোধ চাই না, কারও বিরুদ্ধে অন্যায় কিছু চাই না। আমরা শুধু চাই এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য সামনে আসুক এবং যারা দায়ী, তাদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’
সুমাইয়ার বড় ভাই মো. আল আমিনও দ্রুত বিচার পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘(আদালতের) পরবর্তী তারিখ আগামী মাসের ১৭ তারিখ। পরে আরও বিস্তারিত জানাতে পারব।’
নিহত পরিবারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহেল হোসাইন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পাঁচজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনটি শুনানি হয়েছে। আরও চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি রয়েছে। আগামী মাসের ১৭ তারিখ মামলার শুনানি রয়েছে। আশা করছি, এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম খুব দ্রুত শেষ হবে। ’
১৭ দিন আগে
অপহরণের ৪ ঘণ্টা পর কুবি শিক্ষার্থী উদ্ধার, আটক ১
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শাকিল আহমেদ সবুজ নামের এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়। পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, শিক্ষার্থী ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় চার ঘণ্টা পর কুমিল্লা শহরের তোয়া হাউজিং এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত আড়াইটার দিকে তিনি উদ্ধার হন।
এ ঘটনায় অপহরণকারীদের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। কুমিল্লার সাতরা এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে মো. নাহিদ (২০)।
ভুক্তভোগী শাকিলের ভাষ্যমতে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে টিউশন শেষ করে কুমিল্লা শহর থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার জন্য তিনি সিএনজি অটোরিকশায় ওঠেন। অপহরণকারীরাও ওই অটোরিকশায় ছিল। এরপর দৌলতপুর এলাকায় যাওয়ার পর তাকে ভুল রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি অটোরিকশা থেকে লাফ দেন। এরপর ক্যাম্পাসে ফেরার জন্য আরেকটি অটোরিকশায় চড়লে অপহরণকারীরা তার পিছু নেয়। একপর্যায়ে অস্ত্র (ছুরি) দেখিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তোয়া হাউজিং এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনে তাকে আটকে রাখে। শাকিল জিম্মি করে ফোন দিয়ে তার পরিবারের কাছে ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধ স্বীকার করে মো. নাহিদ বলেন, তারা পাঁচজন মিলে শাকিলকে অপহরণ করেন। বাকি চারজন হলেন— বিষ্ণপুর এলাকার হারুন মিয়ার ছেলে জিহাদ (১৯), ঝাউতলা এলাকার আক্তার মোল্লার ছেলে সাইফুল (২০), ফৌজদারি এলাকার শাহিন (২০) ও আকাশ (২০)।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লা জেলার আহ্বায়ক মুহাম্মদ সাকিব হুসাইন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে অপহরণের বিষয়টি জেনে শাকিলের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে আমরা পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠাই। পরবর্তীতে পুলিশ মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে তোয়া হাউজিং এলাকায় তার অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ও শহরের কিছু শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় এবং পুলিশের সঙ্গে গিয়ে শাকিলকে সুস্থভাবে উদ্ধার করা হয়।’
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছি। অপহরণকারীদের একজনকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’
৬০১ দিন আগে
ভূমিকম্পে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ হলের দেয়ালে ফাটল
ভূমিকম্পের ফলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) তিনটি আবাসিক হলের বিভিন্ন দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।
শনিবার (২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় এ ঘটনা ঘটে।
রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল কুমিল্লার দক্ষিণে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জে বলে জানা গেছে।
তীব্র কম্পনে হলগুলো কাঁপতে শুরু করলে শিক্ষার্থীরা বাইরে বেরিয়ে আসে। পরে হলের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখতে পান শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও কাজী নজরুল ইসলাম হলের বিভিন্ন কক্ষ ও সংযোগস্থলে চিড় দেখা দিয়েছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার এসএম শহিদুল হাসান ইউএনবিকে বলেন, যেসব ফাটল দেখা দিয়েছে সেসব একভবনের সঙ্গে আরেক ভবনের সংযোগস্থলে। কিন্তু কোনো বিম বা রড ঢালাই যেখানে দেওয়া হয়েছে সেখানে কোনো ফাটল তৈরি হয়নি। তাই এখানে ভয়ের কিছুই নেই। ভবনেরও কোনো ক্ষতি হয়নি।
আরও পড়ুন: ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্প
দেশে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প
ঢাকায় ৪.২ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত
১০২৭ দিন আগে
কুবির হলের ডাইনিংয়ে নেই ভর্তুকি, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
দীর্ঘ ১৫ বছরেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আবাসিক হলে খাবারের ভর্তুকির ব্যবস্থা করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে আবাসিক হলগুলোতে তৈরি হওয়া পুষ্টিহীন খাবার কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দোকানগুলোতে উচ্চমূল্যে খাবার খেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
হল সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল, কাজী নজরুল ইসলাম হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে মাসিক দায়িত্ব দিয়ে ডাইনিংগুলো পরিচালিত হয়। অনেক সময় মাসের মাঝামাঝিতে এসে বন্ধ হয়ে যায় এসব ডাইনিং। এছাড়া গত ২৭ অক্টোবর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো খোলা হলেও কাজী নজরুল ইসলাম হলে চালু হয়নি ডাইনিং।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কাজী নজরুল ইসলাম হলে প্রভোস্ট না থাকায় ডাইনিংয়ের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারছে না হলটি। ফলে আরও বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে এ হলের শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ডাইনিংগুলোতে নামমাত্র খাবার দেয়া হয়। একই ধরনের খাবার প্রায় প্রতিদিন নিয়ম মাফিক চলতে থাকে। এসব খাবারে থাকে না তেমন পুষ্টিগুণ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন হোটেলগুলোতে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ার সাথে সাথে বাড়িয়ে দেয়া হয় খাবারের দাম। বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিলেও কেন্দ্রীয় ক্যাফেটারিয়ায় আনসারদের অস্থায়ী ক্যাম্প থাকায় বন্ধ পড়ে আছে কাফেটেরিয়াটি। ফলে শিক্ষার্থীদেরকে খাবারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিভিন্ন হোটেলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: নির্যাতিত নারীদের সহায়তায় পুলিশের কিউআরটি
কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আজমির হোসেন বলেন, হলগুলো খোলার পরও আমাদের হলে ডাইনিং চলছে না যা ভোগান্তিকর। আবার অনেক হলে ডাইনিং চললেও খাবার তেমন সুবিধার না। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সুনজর কামনা করছি।
নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নাঈমা নুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হলের ডাইনিংয়ে ভর্তুকি প্রয়োজন । ভর্তুকি থাকলে আমরা আরও কম টাকায় আরও ভালো খাবার পেতে পারতাম।
এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ইউজিসিতে আমরা এ বিষয়ে বলেছি অনেকবার। কিন্তু ইউজিসি হলের ভর্তুকি বাবদ কোনও টাকা আমাদের প্রদান করে না। কিন্তু যেসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তুকি দিচ্ছে সেগুলো নিজস্ব আয় থেকে দেয়। কিন্তু আমাদের সেরকম আয় নেই।
নিজেদের আয় কিভাবে বাড়ানো যায় এমন চিন্তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আছে কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভেতর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনেক মার্কেট থাকে, যেখান থেকে আয় হয়। আমাদের এরকম কোন মার্কেটও নেই। আমরা আশা করছি নতুন ক্যাম্পাস যেহেতু ২০০ একরের সেহেতু সেখানে এসব করা যায় কিনা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় বড় হলে শিক্ষার্থীদের দেয়া বেতন থেকেও একটি অংশ তখন থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম হলে প্রভোস্ট না থাকা বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা এ বিষয় নিয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্তে উপনীত হবো এবং শিক্ষার্থীরাও হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে খাওয়া- দাওয়া করতে পারবে।
পড়ুন: মাটি সরে দেবে গেছে সেতু, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল
যমুনার চরে ভেড়া পালনে শত শত নারীর স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন
১৭৬২ দিন আগে
রুমমেটের ফেসবুক পোস্টে মানসিক চাপে কুবি ছাত্রীর আত্মহত্যাচেষ্টা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রুমমেটের দেয়া পোস্টের জেরে মানসিক চাপে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক শিক্ষার্থী। শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ মোড় এলাকায় ‘বাচ্চু মিয়ার মেস’ নামে একটি ছাত্রী নিবাসে ঘুমের ওষুধ খেয়ে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
পরে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
আত্মহত্যার চেষ্টাকারী শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের রাবিনা ঐশী৷
বাড়িওয়ালা ও মেসে অবস্থান করা অন্যান্য ছাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাবিনা ঐশী ও একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জুবায়দা ফৌজিয়া নদী ওই মেসে একই কক্ষে থাকেন। কিন্তু ১৩তম ব্যাচের ঐশীর বান্ধবী লাবিবা ইসলাম নিয়মিত গ্রুপ স্টাডির নামে রাবিনা ঐশীর কাছে এসে থাকে এবং নিয়মিত আড্ডা দেন। এতে প্রায় দুই মাস ধরে সমস্যায় ভুগছিলেন নদী।
আরও পড়ুন: কুবির ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
শনিবার নদী মেস মালিক সোহাগ আলীকে এই সমস্যার কথা জানালে তিনি ঐশীকে গেস্ট সংখ্যা ‘লিমিটে’ আনতে বলেন। এটিকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় তাদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয় এবং ঐশী এই ঘটনা তার বিভাগের মো. এরশাদ হোসাইনকে জানালে তিনি একই ব্যাচের প্রণব চক্রবর্তীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম হলের আরও কিছু আবাসিক শিক্ষার্থীকে নিয়ে বাড়িওয়ালাকে খুঁজতে খুঁজতে মেয়েদের মেসের ভেতরে প্রবেশ করেন।
জুবায়দা ফৌজিয়া নদী অভিযোগ করে বলেন, মেসে ঢুকে এরশাদ, প্রণবসহ আরও কয়েকজন তাকে শাসান। তিনি বলেন, ‘উনারা মেসে ঢুকে আমাকে বলে তোরে মাইরা ফালাইয়া রাইখা যামু; কেউ টেরও পাইব না, তোর বাপ-মা শিক্ষা দেয় নাই? ক্যাম্পাসে কেমনে ফ্রিলি চলিস দেইখা নিমু নে।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় নদী সাহায্যের জন্য তার বন্ধু রিয়াজসহ অন্যান্যদের ডেকে আনেন। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বাড়িওয়ালা দুই গ্রুপকে নিয়ে নিচে নেমে যান। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ সে সময় উপস্থিত থাকায় বাড়িওয়ালা ও শিক্ষার্থীদের সাথে বসে শিক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যে রুম পরিবর্তনের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেন।
পরবর্তীতে রুমে ফিরে জুবায়দা ফৌজিয়া নদী ‘জীবন ও সম্ভ্রম নিয়ে শঙ্কায়’ আছেন উল্লেখ করে একটি স্ট্যাটাস দেন। তার ওই স্ট্যাটাস ছড়িয়ে পড়লে মানসিক চাপে পড়ে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ঐশী।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শাহজালাল বলেন, আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। এখন তাকে আইসিইউতে রাখা দরকার। তাই আমরা ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যেতে বলেছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল বলেন, আমার কাছে একজন লিখিত অভিযোগ দিয়ে গিয়েছে। আমরা এটা নিয়ে আলোচনা করব। আরেকজন শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি। তাই তাড়াহুড়ো করছি না। দু’পক্ষের কথা শুনেই সমাধান দেয়া হবে।
আরও পড়ুন: কুবির প্রথম প্রো-ভিসি ড. হুমায়ুন
৫৯৪ দিন পর ক্লাসে ফিরলো কুবির শিক্ষার্থীরা
১৭৬৭ দিন আগে