সাবেক রাষ্ট্রপতি
সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ
সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি—মো. আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেছে বাংলাদেশ আজাদ পার্টি। অভিযোগে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালনকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম, খুন ও গণহত্যার ঘটনায় তারা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং নীরব থেকে এসব অপরাধের প্রতি পরোক্ষ সমর্থন দিয়েছেন।
রবিবার (২৬ জুলাই) অভিযোগ দাখিলের পর বাংলাদেশ আজাদ পার্টির নেতারা সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দেশের জনগণের করের অর্থে বেতন-ভাতা গ্রহণ করলেও সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি।
তাদের দাবি, দেশের বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত গুম, খুন, কথিত আয়নাঘর, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং ৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনায় তারা কোনো প্রতিবাদ বা কার্যকর ভূমিকা পালন করেননি।
তারা আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকেন এবং সংবিধানপ্রদত্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী। কিন্তু জনগণের জানমাল রক্ষা কিংবা সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধে এসব ক্ষমতা প্রয়োগে তারা কোনো উদ্যোগ নেননি। অভিযোগকারীদের মতে, দায়িত্ব পালন সম্ভব না হলে তাদের পদত্যাগ করা উচিত ছিল।
বাংলাদেশ আজাদ পার্টির নেতারা বলেন, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপ্রধানরা যাতে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে আরও জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন, সে লক্ষ্যেই এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে দলটির এক প্রতিনিধি বলেন, সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন এবং কথিত আয়নাঘরসহ বিভিন্ন গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সময় তারা রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ বা ‘উচ্চতর দায়’ নামে একটি স্বীকৃত নীতি রয়েছে। এ নীতি অনুযায়ী, রাষ্ট্র বা বাহিনীর সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ব্যক্তি তার অধীনস্থদের দ্বারা সংঘটিত গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধ বা প্রতিকার করতে ব্যর্থ হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তারও দায়বদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি তৎকালীন সরকারকে সমর্থন দিয়েছেন, সাংবিধানিক ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সংঘটিত ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে এসব ঘটনার দায় থেকে তারা সম্পূর্ণভাবে অব্যাহতি পেতে পারেন না।
১৯ দিন আগে
ট্রাইব্যুনালে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চেয়ে আবেদন
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞসহ আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)।
রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ আবেদন জমা দেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস।
আবেদনে তিনি দাবি করেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জেরে ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মুখোশধারী ব্যক্তিরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এছাড়া আন্দোলন স্থগিতের আহ্বান জানিয়ে ভিডিও বার্তা দিতে বাধ্য করা হয়। পরদিন তাকে কারওয়ান বাজার-বাংলামোটর এলাকায় ফেলে রেখে যান তারা। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আয়াস বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ, অমানবিক নির্যাতন, খুন-গুমের হুকুমদাতা হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্ত করে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব ও ভূমিকার প্রেক্ষাপটে যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এছাড়া ২০২৪ সালের নির্বাচন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তার কোনো আইনগত দায় বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করার জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
১৯ দিন আগে
সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের দাবি আমলে নেওয়ার মতো নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে বর্তমানে সরকার আমলে নেওয়ার মতো কোনো অভিযোগ দেখছে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের মতো কিছু দেখছি না। আইন অনুযায়ী তিনি যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী, সবই পাবেন। নিরাপত্তাও পাবেন।’
রবিবার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা আছে, প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা আছে। কিন্তু আমরা আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য সেখানে দেখি নাই।’
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্বৈরাচারের শেষ সময়, অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান সরকারের সময়েও তিনি সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছেন। আমরা তার সহযোগিতা পেয়েছি।
দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সেই সময় সংবিধান অনুযায়ী তার দায়মুক্তি (ইমিউনিটি) ছিল। দায়িত্বের বাইরে কোনো সময়ের বিষয়ে যদি কারও কোনো অভিযোগ থাকে, সেটা আইন অনুযায়ী চলবে।
রাষ্ট্রপতির কথিত ফোনালাপের অডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা পত্রিকায় দেখেছি। আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই। আর আজকের ইন্টারনেটের যুগে কারও সঙ্গে কথা বলতে লন্ডনে যেতে হয়, এটা আমার কাছে অলীক মনে হয়।
সাবেক রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি আইন অনুযায়ী যা যা সুযোগ পাবেন, সবই পাবেন। এসএসএফ, পিজিআরের নিরাপত্তা ছয় মাস পর্যন্ত পাবেন। পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থাও আইন অনুযায়ী তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে।
এলডিপির এক নেতার ‘তিন রাজনৈতিক দল এক হলে সরকার এক সপ্তাহও টিকবে না’ মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এক সপ্তাহ পরে কী হয়, সেটার জন্য অপেক্ষা করি। সব বিষয়ে মন্তব্য করার মতো যোগ্য আমি নই।
সিলেট সীমান্তে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় চোরাচালানের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ নেই। অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই খতিয়ে দেখব।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টো রথ যাত্রার দিন মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে আইইডি সদৃশ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় ধর্মীয় কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকার বিষয়টিকে সে দৃষ্টিতে দেখছে না।
তিনি বলেন, রথযাত্রা ও উল্টো রথ যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। ঘটনাক্রমে ওই দিন ডিভাইসটি পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের কোনো সম্পর্ক আছে বলে আমি মনে করি না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আনসার সদস্যদের সতর্কতায় ডিভাইসটি শনাক্ত হয়। পরে পুলিশ এলাকা ঘিরে রাখে এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সেটি নিষ্ক্রিয় করে। এ ঘটনায় দায়িত্বশীল আনসার সদস্যদেরও পুরস্কৃত করা হবে।
অনুষ্ঠানে দুই ট্রাফিক সার্জেন্ট ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার করে মালামাল উদ্ধার এবং এক প্রবাসীর হারিয়ে যাওয়া ব্যাগ উদ্ধার করে সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের আর্থিক পুরস্কার ও সনদ দেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটা তাদের সারা জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে থাকবে। তারা উপলব্ধি করবে, জনসেবামূলক কাজ করলে রাষ্ট্র তাদের সম্মান দিচ্ছে। এতে পরিবারের সম্মান বাড়বে, সমাজে মর্যাদা বাড়বে। ফলে তারা আরও উৎসাহিত হবে।
এ বছরের পুলিশ সপ্তাহে কেন পুলিশ পদক দেওয়া হয়নি, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ পদক প্রদানের যে তালিকাটা খুব তাড়াহুড়োর সঙ্গে করা হয়েছিল, সেটা যাচাই করতে গিয়ে কিছু ত্রুটি ধরা পড়েছে। দুয়েকটি ক্ষেত্রে কিছু অনিয়মও পাওয়া গেছে। যাচাই-বাছাই করে বিশুদ্ধ করার পর পদক দেওয়া হবে।
১৯ দিন আগে
সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের বিদেশ যাওয়া তদন্তে কমিটি গঠন
সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে তদন্তে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার (১১ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরারকে সভাপতি করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
কমিটির বাকি অন্য সদস্যরা হলেন- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
যে বিষয়গুলো তদন্ত করবে কমিটি
সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর দিয়ে কীভাবে বিদেশ গেছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর দায়িত্বের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ব্যত্যয় ও গাফিলতির ঘটনা ঘটেছে কিনা, কারা কোন দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন—তা নির্ধারণ করা এবং সেক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়— সে সম্পর্কে সুপারিশ করবে তদন্ত কমিটি।
আরও পড়ুন: বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ
তদন্তকাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কমিটি প্রয়োজনীয় সব দলিলপত্র, যন্ত্রপাতি, সাক্ষ্য-প্রমাণ চাইতে পারবে ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নিতে পারবে। সেক্ষেত্রে সব সংস্থা কমিটি দেওয়া নির্দেশানাগুলো মেনে চলবে ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বাধ্য থাকবে।
কমিটি চাইলে সদস্য বাড়াতে পারবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।
উল্লেখ্য, গত ৭ মে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশ ত্যাগ করেন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুই মেয়াদের সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ।
৪৫৯ দিন আগে
সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের দেশত্যাগ: তদন্ত কমিটি গঠন
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের দেশত্যাগের ঘটনায় পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শককে (প্রশাসন) প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) এই কমিটি গঠন করা হয় বলে জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সাল হোসেন।
হামিদের দেশত্যাগের ঘটনায় ইতোমধ্যে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এছাড়া এই ঘটনায় ইমিগ্রেশন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) তাহসিনা আরিফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একইসঙ্গে মো. আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জের সদর থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আজহারুল ইসলাম ও এসবির এটিএসআই মো. সোলায়মাকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: গোয়াইনঘাট সীমান্তে উত্তেজনা, স্থানীয়দের বাধায় পিছু হটল বিএসএফ
এর আগে সকালেই খবর ছড়িয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুইবার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা আবদুল হামিদ বুধবার শেষ রাতে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দেশ ছেড়েছেন। তিনি চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে গেছেন বলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানে হতাহতের ঘটনায় আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ সদর থানার একটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আব্দুল হামিদকেও আসামি করা হয়েছে।
৪৬২ দিন আগে
সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী আর নেই
বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ. কিউ. এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী আর নেই।
শুক্রবার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টা ১৫ মিনিটে নিজের প্রতিষ্ঠিত উত্তরা ওমেন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। (ইন্নলিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।)
তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে ২ মেয়ে এবং নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
ফুসফুসে সংক্রমণ হওয়ায় গত ২ অক্টোবর সকালে বি. চৌধুরীকে উত্তরা ওমেন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেদিন বি. চৌধুরীর মেয়ে ডা. শায়লা চৌধুরী জানিয়েছিলেন, তার বাবা আগে থেকেই স্কিমিক হার্ট ডিজিজেস ভুগছিলেন।
বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী দেশের খ্যাতিমান চিকিৎসক ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ বি. চৌধুরী ১৯৩০ সালের ১১ অক্টোবর কুমিল্লা শহরে (প্রখ্যাত ‘মুন্সেফ বাড়ি) নানাবাড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ. কিউ. এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাবা অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরী কৃষক প্রজা পার্টির সহ-সভাপতি, যুক্তফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার মজিদপুর দয়হাটা গ্রামে।
বি. চৌধুরী একজন কৃতি ছাত্র। ১৯৪৭ সালে ঢাকার বিখ্যাত স্কুল সেন্ট গ্রেগরি থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৪৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে আইএসসি পাস করেন। তিনি ১৯৫৪-৫৫ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন। সব পরীক্ষাতেই তিনি মেধা তালিকায় ছিলেন।
বি. চৌধুরী যুক্তরাজ্যের তিনটি রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ানস লন্ডন, এডিনবার্গ ও গ্লাসগো থেকে নির্বাচিত ফেলো-এফ.আর.সি.পি এবং বাংলাদেশের (সম্মানিত) এফ.সি.পি.এস।
তিনি রোগ বিজ্ঞানে দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় অধ্যাপক, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং রোগ বিজ্ঞান বিষয়ে টিভি অনুষ্ঠানের রেকর্ড অর্জনকারী উপস্থাপক। সফল পার্লামেন্টেরিয়ান বি. চৌধুরী জাতিসংঘে তিন বার বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত এবং বহু গ্রন্থের প্রণেতা।
বি. চৌধুরী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের অনুরোধে ১৯৭৮ সালে রাজনীতি শুরু করেন। তিনি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থেকে ১৯৭৯ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং কেবিনেট মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে তিনি দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং প্রথমে শিক্ষামন্ত্রী ও পরে সংসদ উপনেতা হন। ১৯৯৬ সালে তিনি সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতার দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০০১ সালে তিনি পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং একই বছরের অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন।
অধ্যাপক এ. কিউ. এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক কারণে ২০০২ সালের ২১ জুন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন।
বি. চৌধুরী ২০০৪ সালের ৮ মে বিকল্পধারা বাংলাদেশ নামে একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি দলটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
তার সহধর্মিনী হাসিনা ওয়ার্দা চৌধুরী। অধ্যাপক চৌধুরী দুই মেয়ে এবং এক ছেলের জনক। তার বড় মেয়ে মুনা চৌধুরী পেশায় একজন ব্যারিস্টার। ছোট মেয়ে শায়লা চৌধুরী পেশায় চিকিৎসক এবং ঢাকার উত্তরা ওমেন মেডিক্যাল কলেজে অধ্যাপনা করেন। একমাত্র ছেলে মাহী. বি. চৌধুরী রাজনীতিবিদ এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।
৬৭৮ দিন আগে
সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী হাসপাতালে ভর্তি
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
তার মেয়ে শায়লা চৌধুরী জানান, বুধবার (২ অক্টোবর) সকালে তাকে উত্তরা মেডিকেল কলেজ ফর উইমেন অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি বলেন, 'আমার বাবার ইসকেমিক হৃদরোগ রয়েছে এবং ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অপর্ণা রহমান, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ মারুফ বিন হাবিব ও তার মেয়ে শায়লা চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে বদরুদ্দোজা চিকিৎসাধীন বলে তার প্রেস সচিব জাহাঙ্গীর আলম জানান।
৯৪ বছর বয়সি সাবেক এই রাষ্ট্রপতি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।
২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর থেকে ২০০২ সালের ২১ জুন পদত্যাগ করার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৪তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ১৯৭৯, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে ধানের শীষ প্রতীক (বিএনপি) নিয়ে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। খালেদা জিয়ার সরকারের সময় তিনি শিক্ষামন্ত্রী এবং পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৯৬ সালে বিএনপি বিরোধী দলে থাকাকালে অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা ছিলেন।
১৯৭৮ সালে বদরুদ্দোজা চৌধুরী জিয়াউর রহমানের আমন্ত্রণে চিকিৎসা পেশা থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন। তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে জিয়াউর রহমানের সরকারের সময় উপপ্রধানমন্ত্রী হন।
২০০৪ সালের ৮ মে তিনি 'বিকল্পধারা বাংলাদেশ' নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। তিনি বর্তমানে দলটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯৩০ সালের ১১ অক্টোবর জন্ম নেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী।
৬৮০ দিন আগে
সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের মৃত্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শোক
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
শনিবার এক শোকবার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত সাহাবুদ্দীন আহমদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে সাহাবুদ্দীন আহমেদ মৃত্যুবরণ করেন।
আরও পড়ুন: সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ আর নেই
১৬০৮ দিন আগে
সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক
সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
শনিবার এক শোক বার্তায় সাহাবুদ্দীন আহমদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান রাষ্ট্রপতি।
আরও পড়ুন: সাবেক রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ আর নেই
১৬০৯ দিন আগে
সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ আর নেই
সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে ফেব্রুয়ারি থেকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন।
১৯৩০ সালে নেত্রকোণায় জন্মগ্রহণ করা সাহাবুদ্দীন আহমদ ১৯৯০ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অরাজনৈতিক লোকদের নিয়ে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করেন এবং দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করেন।
আরও পড়ুন: সিলেটের সাবেক এমপি সৈয়দ মকবুল হোসেন আর নেই
১৯৯৬ সালের ২৩ জুলাই তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনয়ন নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ২০০১ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আরও পড়ুন: ‘ছুটির ঘণ্টা’ সিনেমার পরিচালক আজিজুর রহমান আর নেই
শনিবার এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এছাড়া তার মৃত্যুতে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীও গভীর শোক প্রকাশ করছেন। তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
১৬০৯ দিন আগে