মানবপাচার
প্রযুক্তিনির্ভর মানবপাচার মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও আইওএমের নতুন প্রকল্পে সই
ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত মানবপাচার প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা জোরদার করতে ২৪ মাসের একটি প্রকল্প চুক্তি সই করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।
চুক্তিতে সই করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং আইওএম বাংলাদেশের চীফ অব মিশন ড. লরা টম বন্দ।
এ সময় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও ইউএন উইং প্রধান এ কে এম সোহেলসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইওএম এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, ‘সাইবার প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত মানবপাচার মোকাবিলা’ শীর্ষক প্রকল্পটি আইওএম ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে। আইওএম বাংলাদেশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অংশীদারত্বে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
বাংলাদেশে সাইবার প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত মানবপাচার প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগকে সহায়তা করাই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য। প্রকল্পের গবেষণালব্ধ তথ্য ও প্রশিক্ষণ উপকরণ ভবিষ্যতে নীতি ও কর্মসূচি প্রণয়নে অবদান রাখার পাশাপাশি মানবপাচার প্রতিরোধে বিদ্যমান জাতীয় ও আন্তঃসংস্থার উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, চাকরির পোর্টালসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাচারকারীরা মানুষকে শনাক্ত, প্রলুব্ধ, নিয়ন্ত্রণ ও শোষণ করছে। এ ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ মোকাবিলায় প্রকল্পটি তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে কাজ করবে—তথ্য-প্রমাণ ও জ্ঞানভিত্তি শক্তিশালী করা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কমিউনিটিতে ডিজিটাল সচেতনতা ও দক্ষতা উন্নয়ন।
আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বন্দ বলেন, ‘প্রযুক্তি মানুষের যোগাযোগ, কর্মসংস্থান ও সুযোগের সন্ধানের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে। তবে এটি মানবপাচারকারীদের দ্বারাও শোষণের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। প্রযুক্তি যাতে শোষণের হাতিয়ার না হয়ে সমাধানের অংশ হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ, দক্ষতা ও সচেতনতা বাড়াতে এই প্রকল্প সহায়তা করবে।’
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মানবপাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি মানবপাচার মোকাবিলায় প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের চলমান প্রচেষ্টাকে এই প্রকল্প আরও সহায়তা করবে। এর সামগ্রিক লক্ষ্য হলো সাইবার প্রযুক্তিনির্ভর মানবপাচারের ঝুঁকি প্রতিরোধ, মোকাবিলা ও প্রশমনে সরকার সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং জনগোষ্ঠীকে তথ্যভিত্তিক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সক্ষম করে তোলা।’
৩ দিন আগে
মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে আইন যুগোপযোগী করার কাজ চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মানবপাচার এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের হাত থেকে দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ লক্ষ্যে ‘মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন বিধিমালা, ২০১৭’ যুগোপযোগী করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে ‘বিশ্ব মানবপাচার বিরোধী দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘ট্র্যপড বিহাইন্ড দ্য স্ক্যাম: এন্ডিং হিউম্যান ট্র্যফিকিং ফর ফোর্সড ক্রিমিনালিটি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও স্ক্যাম চক্রের বিরুদ্ধেও সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তার কথায়, মানবপাচারের ধরন পরিবর্তনশীল এবং জটিল। অপরাধী চক্রগুলো এখন কেবল প্রচলিত উপায়ে নয়, বরং ডিজিটাল মাধ্যম, ভুয়া অনলাইন নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তরুণ সমাজ ও চাকরিপ্রার্থীদের ফাঁদে ফেলছে।
তিনি বলেন, আকর্ষণীয় কর্মসংস্থান ও উন্নত ভবিষ্যতের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ভুক্তভোগীদের বিদেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং পরবর্তীতে তারা সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে বন্দি হয়ে চরম নির্যাতন, ভয়ভীতি ও জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে বাধ্য হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, মানবপাচার চক্র এখন বিভিন্ন ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধে যুক্ত হচ্ছে। এই হুমকি মোকাবিলায় কেবল প্রথাগত আইনশৃঙ্খলাকেন্দ্রিক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়, বরং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, অর্থলগ্নি সংস্থা, বেসরকারি খাত ও সচেতন সমাজকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
২০ দিন আগে
লিবিয়া থেকে ফিরেছেন ১৭৫ বাংলাদেশি
লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৭৫ জন অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) ভোর ৬টা ২৫ মিনিটে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তাদের ঢাকায় আনা হয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ফিরে আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে ত্রিপলির তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে ১১৩ জন এবং বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার থেকে ৬২ জন ছিলেন।
প্রত্যাবাসিতদের বেশিরভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। তাদের অনেকেই সেখানে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে, লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা তাদের অভ্যর্থনা জানান।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রত্যাবাসিতদের তাদের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করার আহ্বান জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা প্রত্যেক প্রত্যাবাসিতকে পথখরচা, খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছে।
লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
১৪০ দিন আগে
মানবপাচার বন্ধ ও অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং এই অমানবিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
রবিবার (২৯ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক মানবপাচারচক্র জড়িত। এ চক্রের সদস্যরা বাংলাদেশ ও লিবিয়া উভয় দেশেই সক্রিয়। তারা উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিপজ্জনক পথে পাঠিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।
দ্রুত এ চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আইন ও বাংলাদেশের আইন উভয় ব্যবস্থায় বিচার নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। তারা লিবিয়া হয়ে গ্রিসে পৌঁছানোর জন্য একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ নৌপথ ব্যবহার করছিলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, আমাদের মিশনগুলো সেখানকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। যারা উদ্ধার হয়েছেন, তাদের যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করছি।
টাকা উপার্জনের নেশায় মানুষ এমন অমানবিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে—বিষয়টিকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, যাদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে তাদের হাসপাতালে অথবা ক্যাম্পে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভুল তথ্য থাকলে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা, গ্রিস সরকারের নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং শারীরিক ও আইনি অবস্থা বিবেচনা করার পরই তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
১৪৩ দিন আগে
বেকারত্বের চাপ: বিদেশমুখী হতে গিয়ে দালালচক্রের ফাঁদে ঝিনাইদহের যুবসমাজ
ঝিনাইদহ জেলায় বাড়ি বাড়ি ছড়িয়ে পড়েছে বেকারত্বের কালো ছায়া। উচ্চশিক্ষা শেষ করেও কাঙ্ক্ষিত চাকরি না পেয়ে হতাশায় ভুগছেন অসংখ্য তরুণ। জীবিকা ও স্বপ্নের সন্ধানে তারা দলে দলে পাড়ি জমাচ্ছেন বিদেশে, কিন্তু বিদেশযাত্রার সেই স্বপ্ন অনেক ক্ষেত্রেই পরিণত হচ্ছে দুঃস্বপ্নে। দালালচক্রের প্রতারণায় লাখ লাখ টাকা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে পরিবারগুলো। কেউ নিখোঁজ, কেউ নির্যাতনের শিকার, আবার কেউ প্রাণ হারিয়েও ফিরতে পারছে না দেশে।
অভিযোগ রয়েছে, ঝিনাইদহজুড়ে সক্রিয় দালালচক্র ও কিছু অসাধু ট্রাভেল এজেন্সির প্রতিনিধি শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত যুবকদের টার্গেট করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের কোনো বৈধ নথি না থাকায় প্রতারিত পরিবারগুলো আইনি প্রতিকার পেতে হিমশিম খাচ্ছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বংকিরা গ্রামের শাহ আলম সিদ্দিক ইমন দালালের মাধ্যমে মিসরে যান। সেখানে কিছুদিন কাজ করলেও গত তিন মাস ধরে তিনি নিখোঁজ। পরিবারের দাবি, দালালরা তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারছেন না।
একইভাবে শৈলকুপা উপজেলার ক্ষুদ্র রয়েড়া গ্রামের সোহাগ মোল্লা দালালের মাধ্যমে কম্বোডিয়ায় গিয়ে নির্যাতনের শিকার হন। পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। আর্থিক সংকটে তার মরদেহ এখনও দেশে আনা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ওই গ্রামের আরও অন্তত ছয় যুবক কম্বোডিয়ায় গিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন।
মধুহাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন বলেন, এলাকার অধিকাংশ পরিবার দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছে। এই সুযোগে একটি চক্র বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদ পেতে বসেছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে মোটা অংকের টাকা নেওয়া হচ্ছে।
তার দাবি, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শতাধিক দালাল সক্রিয় রয়েছেন এবং তাদের নিয়ন্ত্রণে অন্তত ৩০টি মানবপাচার চক্র কাজ করছে।
শৈলকুপার বাসিন্দা বিল্লাল মোল্লা জানান, স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে আট মাস আগে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে তার ছেলে সোহাগকে কম্বোডিয়ায় পাঠান। মাসে দেড় লাখ টাকা বেতনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিদেশে গিয়ে ছেলে ফোনে জানাতেন, তাকে নিয়মিত নির্যাতন করা হচ্ছে। পরে জানতে পারেন, তার ছেলেকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এখনও মরদেহ দেশে আনতে পারেননি তারা।
বংকিরা গ্রামের শাহানা খাতুন বলেন, এক বছর আগে সাড়ে ৬ লাখ টাকা খরচ করে তার ছেলে ইমনকে মিসরে পাঠান। সেখানে একটি গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করতেন বলে পরিবার জানতে পারে। নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও তিন মাস ধরে তার কোনো সন্ধান নেই। দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করলে উল্টো আরও টাকা দাবি করা হচ্ছে, কিন্তু সন্তানের খোঁজ মিলছে না।
মানবাধিকারকর্মী বাবুল কুণ্ডু বলেন, দালাল ও অসাধু ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে সারা দেশ থেকে যে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তা দিয়ে বড় অবকাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব। এই চক্রের ফাঁদে পড়ে গ্রামের নিরীহ পরিবারগুলো সর্বস্বান্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। সম্প্রতি কম্বোডিয়া থেকে প্রতারিত এক যুবককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা না বাড়ালে এ ধরনের অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
তিনি আরও বলেন, সহজ আয়ের আশায় ও যথাযথ তথ্যের অভাবে অনেক যুবক প্রলোভনের ফাঁদে পড়ছে। প্রতারিত পরিবারগুলো লিখিত অভিযোগ দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৭৩ দিন আগে
মানবপাচার রোধে শক্তিশালী আইনি কাঠামো প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
মানবপাচার রোধে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠাসহ শক্তিশালী আইনি কাঠামো প্রস্তুত করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। মানবপাচারে বন্ধ করতে বাংলাদেশ তার প্রতিশ্রুতিতে অটল রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রবিবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের সুরমা হলে মানবপাচার সংক্রান্ত বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের (বিমসটেক) সাব-গ্রুপের তৃতীয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা জানান, মানবপাচার রোধে বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে। এ সংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহি করার জন্য শক্তিশালী আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে পাচারের বিপদ সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সচেতন করার করার জন্য বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে বলে তথ্য দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মানবপাচার মোকাবেলায় জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, মানব পাচারের শিকার ভুক্তভোগীদের দক্ষতার সাথে শনাক্তকরণ ও তাদের চাহিদা মূল্যায়ন করে যথাযথ সেবা দেওয়ার জন্য একটি জাতীয় রেফারেল ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। অনলাইনে তৈরি এই প্লাটফর্মে সেবাদাতাদের সঙ্গে ভুক্তভোগীদের সংযুক্ত করা হবে।
পাশাপাশি মানবপাচার সংশ্লিষ্ট বিচারকাজ দ্রুত শেষ করার জন্য একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে জানান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
আরও পড়ুন: মানব পাচারবিরোধী প্রচেষ্টার জন্য টিআইপি হিরো অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশি আল-আমিন নয়ন
বিমসটেক জোটের সদস্য দেশগুলোসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে মানবপাচার রোধে একসঙ্গে কাজ করার জন্য পারস্পরিক আইনি সহায়তা ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা।
এ সময় মানব পাচার বন্ধ করতে বিমসটেকের অন্যান্য দেশগুলো যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সে সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা অবগত হয়ে দেশের পাচারাবিরোধী কৌশল আরও শক্তিশালী করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ‘পাচার রোধে সরকারের পদক্ষেপগুলো এড়িয়ে চলতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশল গ্রহণ করে পাচারকারীরা। তারা সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সংকট ও দারিদ্র্যকে কাজে লাগায়। এ কাজে প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে তাদের গোপন কার্যকলাপ এগিয়ে নেয়ার জন্য অভিবাসন রুটগুলোকে কাজে লাগাতে থাকে।’
এই অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি সম্মিলিত ও কৌশলগত কর্মপদ্ধতি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য ও সেবাসমূহ বিনিময়ের মাধ্যমে একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিমসটেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সম্মিলিত প্রয়াস আমাদের পাচার বিরোধী কৌশলকে আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম করবে।’
আরও পড়ুন: দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের শঙ্কা নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
এ সময় আগামী দুই বছরের জন্য বাংলাদেশকে বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সভায় বিমসটেকভুক্ত সাত সদস্য দেশের (বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান) মানব পাচার সংক্রান্ত সাব-গ্রপের সংশ্লিষ্ট সদস্যগণ অংশগ্রহণ করেন।
৫০০ দিন আগে
মানবপাচার মামলায় মিল্টন ৪ দিনের রিমান্ডে
মানবপাচারের মামলায় চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ারের চেয়ারম্যান মিল্টন সমাদ্দারের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
অপর এক মামলায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর জোনাল টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ কামাল হোসেন আসামিকে আদালতে হাজির করলে ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম শান্তা আক্তার এ আদেশ দেন।
মানবপাচারের মামলায় মিল্টনের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মাইতুল আলম।
মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, ঢাকা মহানগর হাকিম মেহেরা মাহবুব আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
আরও পড়ুন: অবন্তিকার আত্মহত্যা: জামিন পাননি দ্বীন ইসলাম, রিমান্ড শেষে জেলে আম্মান
এর আগে গত ২ মে ডেথ সার্টিফিকেট জালিয়াতির মামলায় তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
বুধবার (১ মে) রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে মিল্টনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।
বিভিন্ন পুরস্কারের মাধ্যমে জনসেবার স্বীকৃতি পাওয়া সমাদ্দার বড় ধরনের অনিয়মে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রোফাইলে অসহায়দের জন্য বৃদ্ধাশ্রম তৈরি এবং গৃহহীনদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে কথা প্রচার করা হলেও, তার বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ সামনে এসেছে।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অবৈধ বাণিজ্য, বিশেষ করে কিডনি কাটা ও বিক্রি করা।
এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর অনেকেই এ নিয়ে মুখ খোলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় ওঠে। যার পরিণতিতে মিল্টন সমাদ্দারকে আটক করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে মিরপুর বিভাগের ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ কামাল পাশা বাদী হয়ে মিরপুর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়ুন: মিল্টন সমাদ্দার ৩ দিনের রিমান্ডে
মহাসড়কে গাড়ি থামিয়ে চাঁদাবাজি, ২ দিনের রিমান্ডে পুলিশ সদস্য
৮৩৫ দিন আগে
মানবপাচার মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার লঙ্ঘন: আন্তোনিও গুতেরেস
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, মানবপাচার হলো মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার লঙ্ঘন।
তিনি বলেন, সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার সময়ে দুর্বলতার সুযোগে মানুষ এর শিকারে পরিণত হয় এবং তখন এর মাত্রাও বৃদ্ধি পায়।
রবিবার (৩০ জুলাই) বিশ্ব মানবপাচার বিরোধী দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে জাতিসংঘ মহাসচিব এসব কথা বলেন। ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এক প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রতি বছর ৩০ জুলাই বিশ্ব মানবপাচার বিরোধী দিবস হিসেবে সারা বিশ্বে পালন করার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর থেকে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হয়।
গুতেরেস বলেন, অসমতা বাড়ছে, জলবায়ু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাস্তুচ্যূতির হার যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। আর এসকল কারণে অনেক বেশি মানুষ মানব পাচারকারীদের শিকারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
তিনি বলেন, ভুক্তভোগীদের সিংহভাগই নারী ও শিশু। যাদের অনেকেই নৃশংস সহিংসতা, জোরপূর্বক শ্রম এবং ভয়াবহ যৌন নিপীড়ন ও শোষণের শিকার হয়।
তিনি আরও বলেন, তা সত্ত্বেও মানব পাচারকারীরা এখনো মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে। তাদের অপরাধ দমনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে না। এই বিষয়ে অবশ্যই পরিবর্তন আনতে হবে।
আরও পড়ুন: আসুন গর্ব করে ঘোষণা করি, আমরা নারীবাদী: গুতেরেস
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, আমাদের অবশ্যই শনাক্তকরণ ও সুরক্ষায় আরও বিনিয়োগ করতে হবে। মানুষকে পণ্য বানানো অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ব্যবস্থাকে জোরদার করতে হবে এবং ভুক্তভোগীদের জীবন পুনর্গঠনে সহযোগিতা করতে আমাদের অবশ্যই আরও বেশি কিছু করতে হবে।
তিনি বলেন, এবারের এই বিশ্ব মানবপাচার বিরোধী দিবসে আসুন আমরা মানবপাচারের শিকার ভুক্তভোগীদের শনাক্ত, সুরক্ষা ও সহযোগিতা দিতে এবং পাচারের শিকার কোনো ভুক্তভোগী যেন পেছনে পড়ে না থাকে, তা নিশ্চিতে আমাদের প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করি।
তিনি আরও বলেন, আসুন একসঙ্গে আমরা এমন বিশ্ব গড়ে তুলি, যেখানে কাউকে কখনো বেচা-কেনা কিংবা শোষণ করা হয় না।
আরও পড়ুন: সাংবাদিক নির্যাতনের বিচারের আহ্বান গুতেরেসের
অভিবাসনের বৈশ্বিক চুক্তি ‘পথ দেখাচ্ছে’: গুতেরেস
১১১৬ দিন আগে
সিদ্ধিরগঞ্জে মানবপাচার চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার: র্যাব
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে শুক্রবার দুপুরে মানবপাচার চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এসময় ভুক্তভোগী তিনজনকে উদ্ধার করা হয়।
এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব ১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের হিল্লাপাড়ার তোফাজ্জল হোসেন ইরানের স্ত্রী ঝুমা আক্তার (২৮), রিপন শেখের স্ত্রী শারমিন আক্তার (২৯), নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে রহমানের মেয়ে মিনারা রিনা (৩৫), সিদ্ধিরগঞ্জের মৃত রাজ্জাক মিস্ত্রির ছেলে শাহজামাল (৪০), চাঁদপুরেএ ফরিদগঞ্জের চরচন্নার শাহজামালের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার (২৭) ও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজির মৃত শহিদুলের স্ত্রী কমলি খাতুন (৩২)।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব ১১ এর অধিনায়ক জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকালে এক নারী ভুক্তভোগী র্যাব -১১ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে হাজির হয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন যে, মানব পাচারকারীরা তাকে বিউটি পার্লারে কাজ দেয়ার কথা বলে যশোর বেনাপোল বর্ডারে নিয়ে যান। এক পর্যায়ে তারা তাকে ভারত সীমান্তের কাঁটাতার পার হয়ে যাওয়ার কথা বললে তিনি পাচারের বিষয়টি বুঝতে পারেন। এরপর তিনি যেতে রাজি না হওয়ায় পাচারকারীরা তাকে ব্যাপক মারধর করেন। এক পর্যায়ে তিনি কৌশলে পালিয়ে বাসে করে যশোর থেকে নারায়ণগঞ্জ চলে আসেন।
অভিযোগ পেয়ে র্যাব ১১ ভুক্তভোগীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়া (মসজিদ রোড) এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পাঁচজন নারী ও একজন পুরুষ পাচারকারীকে আটক করে।
তিনি জানান, অভিযান পরিচালনাকালে আরও দুই নারী ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয় যাদের মধ্যে একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক। ভুক্তভোগীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাদেরকেও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচারের জন্য পাচারকারীরা ওই স্থানে নিয়ে আসেন।
এ ঘটনায় আটকদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে এবং আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: ১১ বছরে ধরে পলাতক মাদক মামলার আসামি গ্রেপ্তার: র্যাব
উত্তরা থেকে সিরিয়াল রেপিস্টকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব
১৪৭৪ দিন আগে
ভারতীয় পপ গায়ক দালের মেহেন্দির ২ বছরের কারাদণ্ড
মানবপাচার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর প্রখ্যাত পপ গায়ক দালের মেহেন্দিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য পাঞ্জাবের একটি আদালত।
যুক্তরাষ্ট্রে মানবপাচারের অভিযোগে বৃহস্পতিবার পুরনো মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে তার আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
২০১৮ সালে এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর থেকে দালের জামিনে ছিলেন।
আইনজীবী টিএস ভার্গব স্থানীয় মিডিয়াকে বলেছেন, ‘আদালত সাজার বিরুদ্ধে আপিল খারিজ করার পর এবং জামিন বাতিল করার পর গায়ককে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছিল। তাকে এখন কারাগারে যেতে হবে।’
২০০৩ সালে পাঞ্জাব পুলিশ এই মামলাটি দায়ের করে। পরে তদন্তে জানা যায়, মেহেন্দি নিজের দলের সদস্য হিসেবে ১০ জন ভারতীয়কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান এবং বেআইনিভাবে তাদের ছেড়ে দিয়ে আসেন।
৫৪ বছর বয়সী এই গায়ক ১৯৯০ এর দশকের শেষের দিকে এবং ২০০০ সালের প্রথম দিকে পাঞ্জাবের লোকনৃত্য ভাংড়া সংগীতকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করতে সহায়তা করেন। তিনি বেশ কয়েকটি বলিউড ফ্লিকেও গান গেয়েছেন। দালের একজন ভারতীয় পপ ব্যক্তিত্ব যিনি অবিরাম নেচে নেচে গান গাওয়া, স্বাতন্ত্র্যসূচক কন্ঠস্বর,পাগড়ি এবং দীর্ঘ আলখাল্লার জন্য পরিচিত।
পড়ুন: শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টকে পালাতে সাহায্য করার কথা অস্বীকার ভারতের
সিঙ্গাপুর পৌঁছেছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট
১৪৯৬ দিন আগে