র্যাব
চট্টগ্রামে র্যাব কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর মামলা, গ্রেপ্তার তিন
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহতের ঘটনার দুই দিন পর মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে র্যাবের এক কর্মকতা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলাটি করেন। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সীতাকুণ্ড সার্কেল) শাকিলা ইয়াসমিন সূচনা।
মামলায় ২৯ জনের মধ্যে জঙ্গল সলিমপুরের বাসিন্দা ইয়াসিনকে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও মামলায় ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন— জাহিদ, ইউনুস ও আরিফ। এর মধ্যে দুইজন এজাহারভুক্ত এবং একজন তদন্তে প্রাপ্ত আসামি বলে জানান শাকিলা ইয়াসমিন সূচনা।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
৫ দিন আগে
বনশ্রীতে শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় হোটেল কর্মচারীর হাতে এসএসসি পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে বাগেরহাটে র্যাবের এক যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. মিলন মল্লিক। তিনি বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলার মান্দা বাসখালী এলাকার বাসিন্দা।
আজ (সোমবার) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়েজুল আরেফিন এ তথ্য জানান।
র্যাব জানায়, বাবার হোটেলের ওই কর্মচারীর অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়া ও এর প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যা করা হয়। নিহত ফাতেমা আক্তার নিলি (১৮) দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়েজুল আরেফিন বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে র্যাব তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘটনার দিন অর্থাৎ ১০ জানুয়ারি দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে মিলন ভুক্তভোগীর বাসায় প্রবেশ করেন এবং ১টা ৪১ মিনিটে তার বড় বোন শোভা আক্তারের সঙ্গে বের হন। পরে বড় বোন জিমে গেলে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে মিলন একা আবার বাসায় প্রবেশ করেন এবং প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান শেষে ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে বের হয়ে যান।
প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, ঘটনার পর মিলন বাগেরহাটে পালিয়ে যান। পরে র্যাব-৩ ও র্যাব-৬ এর যৌথ দল বাগেরহাট সদর থানার সিংগা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভুক্তভোগীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার আগের রাতে খাবার পরিবেশনের সময় আবারও এমন প্রস্তাব দিলে ভুক্তভোগী তাকে বকাঝকা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি পরদিন প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি আরও বলেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মিলন একটি নাইলনের রশি নিয়ে ভুক্তভোগীর বাসায় যান। ভুক্তভোগী পুনরায় অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হলে তিনি রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে ধরেন। চিৎকার শুরু করলে লোকজন জড়ো হওয়ার আশঙ্কায় তিনি রান্নাঘরের ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন তাকে। এরপর বাসা তল্লাশি করে কিছু টাকা নিয়ে পালিয়ে যান।
গ্রেপ্তারের সময় মিলনের পরণে থাকা কালো প্যান্ট ও নীল গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও নাইলনের রশি উদ্ধার করে করে বলে জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।
র্যাব-৩-এর অধিনায়ক জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা সহযোগী রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হচ্ছে।
১৫ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে গান পাউডার ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম জব্দ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২ কেজি ১৫০ গ্রাম গান পাউডার ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের জিলানী মোড় এলাকায় একটি আম বাগান থেকে এসব বিস্ফোরক দ্রব্য জব্দ করা হয়।
আজ (সোমবার) সকালে র্যাব-৫ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলার জিলানী মোড় এলাকায় একটি আমবাগান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পলিথিন ব্যাগে থাকা ২ কেজি ১৫০ গ্রাম গান পাউডার উদ্ধার করেছে। এছাড়া অপর একটি পলিথিন ব্যাগে থাকা ককটেল তৈরির সরঞ্জাম—কাঁচের গুড়া, ভাঙ্গা ব্লেড, লোহার তারকাঁটা, লাল রংয়ের ৩টি স্কচটেপ ও ৩টি জর্দার কৌটা উদ্ধার করে। তবে এ ঘটনায় কেউ আটক হয়নি।
উদ্ধারকৃত গান পাউডার ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম শিবগঞ্জ থানায় জমা দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
২৯ দিন আগে
অপহরণের পর বিবস্ত্র করে মুক্তিপণ আদায়, সিলেটে গ্রেপ্তার ২
সিলেটে এক ব্যক্তিকে অপহরণ পরবর্তীতে বিবস্ত্র করে শারীরিক নির্যাতন এবং ভিডিও ধারণের পর মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র্যাব-৯।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে র্যাবের একটি দল সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমা থানাধীন ভার্থখলা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন— ওই এলাকার বাসিন্দা আহমদ হোসেন মাহিন (৩০) এবং শরীয়তপুর জেলার নাড়িয়া থানার হালইসার এলাকার বাসিন্দা সুহেল আহমদ (২৪)। আর ভুক্তভোগী সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সোনারখেওড় এলাকার বাসিন্দা।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, গত ৩০ নভেম্বর দুপুরে ভুক্তভোগী সিলেট আদালতে একটি মামলায় হাজিরা শেষে বাসে চড়ে নিজের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। অপহরণকারীরা দক্ষিণ সুরমা থানার কদমতলী ওভার ব্রিজের পূর্ব পাশে রাস্তার ওপর চলন্ত বাসের গতিরোধ করে একটি মাইক্রোবাসে করে ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। মাইক্রোবাসে তুলে তারা তার দুই চোখ কাপড় দিয়ে এবং দুই হাত পেছনের দিকে বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তারা ভুক্তভোগীকে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারপিট করেন। পরে নির্যাতনের ভিডিও তার পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।
পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগীর স্বজনরা তাকে বাঁচানোর জন্য ৮ লাখ টাকার মধ্যে পৃথকভাবে ৫ লাখ টাকা ও ৩ লাখ টাকা অপহরণকারী চক্রকে পাঠান। এরপর গত ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সিলেটের তালতলা এলাকায় ভুক্তভোগীকে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
৪০ দিন আগে
ওসমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক আটক
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করা হয়েছে। এই হত্যাচেষ্টায় জড়িত সন্দেহে মোটরসাইকেলের মালিক আব্দুল হান্নানকেও আটক করেছে র্যাব-২।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে র্যাব সদর দপ্তরের উপপরিচালক (মিডিয়া) মেজর মোহাম্মদ লুৎফুল হাদি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটক আবদুল হান্নানকে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য পল্টন থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এ গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হয়। শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে র্যাব-২-এর একটি বিশেষ দল মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবদুল হান্নানকে গ্রেপ্তার করে।
মেজর লুৎফুল হাদি জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আবদুল হান্নানের মালিকানাধীন মোটরসাইকেলটি ওসমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহার করা হয়েছিল। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িতদের শনাক্ত এবং হামলার রহস্য উদ্ঘাটনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলেও তিনি জানান।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় মোটরসাইকেলে এসে দুই দুর্বৃত্ত শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই চলছে তার চিকিৎসা।
হাদিকে গুলি করা ব্যক্তিদের ধরতে এরই মধ্যে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে ঢাকা মহানগর (ডিএমপি) পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, র্যাপিড অ্যানকশন ব্যাটালিয়নসহ (র্যাব) যৌথবাহিনী।
৪৪ দিন আগে
বড় ভাইয়ের ওপর প্রতিশোধ নিতে মুরাদনগরের সেই ঘটনার ভিডিও ছড়ানো হয়: র্যাব
কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নির্যাতনের পর ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্যে ছিল দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব। ওই নারীকে নিয়েই পূর্বশত্রুতার জেরে বড় ভাই ফজর আলীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পিতভাবে ওই ঘটনা ঘটান ছোট ভাই শাহ পরান (২৮)।
শুক্রবার (৪ জুলাই) রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন।
এর আগে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) কুমিল্লার বুড়িচং থানার কাবিলা বাজার এলাকা থেকে শাহ পরানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১১ এর একটি দল। সে সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহ পরান গত ২৬ জুন সংঘটিত এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন। বড় ভাই ফজর আলীর হাতে আগে প্রকাশ্যে অপমানিত হওয়ায় প্রতিশোধ নিতে একটি মব গঠন করে এই নারকীয় ঘটনা ঘটান তিনি। পরে সেই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় বসতঘরের দরজা ভেঙে নারীকে ধর্ষণ, প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৫
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, বেশ কিছুদিন ধরে ওই নারীকে উত্যক্ত করে আসছিলেন ফজর আলী ও শাহ পরান। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের জেরে কয়েক মাস আগে গ্রাম্য সালিশে জনসম্মুখে শাহ পরানকে চড়-থাপ্পড় মারেন ফজর আলী। সেই অপমানের প্রতিশোধ নিতে সুযোগ খুঁজতে থাকেন শাহ পরান।
ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফজর আলী ৫০ হাজার টাকা সুদের লেনদেনের অজুহাতে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করেন। টের পেয়ে ইমো অ্যাপে মেসেজ দিয়ে অন্যদের ডেকে আনেন শাহ পরান। এর প্রায় ২০ মিনিট পর পূর্বপরিকল্পিতভাবে শাহ পরান ও তার সঙ্গে থাকা আবুল কালাম, অনিক, আরিফ, সুমন, রমজান এবং আরও আট থেকে দশজন অজ্ঞাত সহযোগী ওই ঘরে হানা দেন। তারা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ফজর আলীকে মারধর করেন এবং ভুক্তভোগী নারীকে নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে ফজর আলীকেও তারা এই কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বাধ্য করেন। এরপর নৃশংস ওইসব দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে পুলিশ ও র্যাব মিলে এ পর্যন্ত অভিযুক্ত ফজর আলীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় ধর্ষণ শিকার নারীর ভিডিও সামাজিকমাধ্যম থেকে সরাতে নির্দেশ
এরপর গত ২৯ জুন মুরাদনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে ভুক্তভোগীর পরিবার।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন অভিযুক্তরা। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহ পরানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, শাহ পরান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দায় স্বীকার করেছে। তাকে মুরাদনগর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
২০৭ দিন আগে
প্রয়োজনে র্যাব নতুন করে গঠন করা হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
প্রয়োজনে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) নতুন করে গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সপ্তম সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, র্যাবের নাম ও পোশাক পরিবর্তনের ব্যাপারে একটা প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির পরবর্তী সভায় সিদ্ধান্ত হবে। প্রয়োজনে র্যাব নতুন করে গঠন করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই আগের থেকে অনেক কমেছে। কিন্তু তাও এখনো সহনীয় পর্যায়ে আসেনি।
তিনি বলেন, সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায় দম্পতিকে রামদা দিয়ে প্রকাশ্যে কোপানোর ঘটনায় জড়িতদের সঙ্গে-সঙ্গেই আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: উত্তরার ঘটনায় সঙ্গে-সঙ্গেই অ্যারেস্ট করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া শুনতে শুনতে তাদের মূল যে কাজ সেটা না করে অন্য কাজে সম্পৃক্ত হতে হচ্ছে। এর ফলে তাদের শক্তি কমে যাচ্ছে। তিনি দাবি-দাওয়ার বিষয়ে আন্দোলনকারীদের নির্দিষ্ট জায়গায় অথবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ব্যবহারের পরামর্শ প্রদান করেন। তিনি আরো বলেন, রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে জনগণের ভোগান্তি কেউ চায় না।
সভায় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
৩৪৩ দিন আগে
মাস্টারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েই হত্যাকাণ্ড ঘটান দীর্ঘদিন বেতন-বঞ্চিত ইরফান
চাঁদপুরের হাইমচরে মেঘনা নদীতে সার বহনকারী এমভি আল বাখেরা জাহাজে ৭ খুনের ঘটনায় হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এর মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে যে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছিল, তা আলোর মুখ দেখেছে।
র্যাবের দেওয়া তথ্য অনুসারে, আকাশ মণ্ডল ইরফান নামের ওই যুবক জাহাজের কর্মকর্তাদের সহকারী হিসেবে কাজ করলেও দীর্ঘ ৮ মাস ধরে তাকে বেতন-ভাতা দিতেন না মাস্টার গোলাম কিবরিয়া। এমনকি, প্রায়ই তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। এসব থেকে থেকে একটু একটু করে ক্ষোভের পাহাড় জমা হয় ইরফানের মনে। আর তা থেকেই মাস্টারকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন তিনি।
তবে প্রাথমিকভাবে মাস্টার কিবরিয়া ছাড়া আর কাউকে হত্যা করার পরিকল্পনা ছিল না ইরফানের। কিন্তু মাস্টারকে হত্যা করার ঘটনা দেখে ফেলায় বিপদে পড়েন বাকিরাও। একে একে ইরফানের শিকার হন তারাও।
র্যাবের ভাষ্যমতে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইরফান জানিয়েছেন, জাহাজের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বাজার করতে পাবনার একটি বাজারে নামেন তিনি। সেখান থেকে বাজারের কেনাকাটার পাশাপাশি ৩ পাতা ঘুমের ওষুধও কিনে নেন। এরপর খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সবাইকে অচেতন করেন। পরে হাতে গ্লাভস পরে জাহাজের নিরাপত্তার জন্য রাখা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে সবাইকে কুপিয়ে হত্যা করেন তিনি। সবার মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে মনে হওয়ায় জাহাজ চালিয়ে হাইম চর এলাকায় পৌঁছে অন্য একটি ট্রলারে করে তিনি পালিয়ে যান।
এই ঘটনার খবর প্রকাশ্যে এলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরে গলায় কুড়ালের কোপে আহত হয়েও বেঁচে যাওয়া জুয়েল নামের একমাত্র ব্যক্তি জানান, তিনিসহ মোট ৯ জন জাহাজে ছিলেন। নবম ওই ব্যক্তির নাম ইরফান। তবে তার সম্পর্কে এর বেশি কিছু জানেন বলে লিখে জানান তিনি।
আহত জুয়েল বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে নৌ পুলিশ।
আরও পড়ুন: জাহাজে ডাকাতিকালে ৭ খুন: স্বজনদের দাবি ‘পরিকল্পিত হত্যা’
এছাড়া গতকাল রাতেই এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করেন জাহাজের মালিক মাহাবুব মোর্শেদ।
এরপর অভিযান চালিয়ে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা থেকে ইরফানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
গ্রেপ্তারকালে তার কাছ থেকে হ্যান্ড গ্লাভস, লোট ব্যাগ, ঘুমের ওষুধের খালি পাতা, রক্তমাখা জিন্স প্যান্ট ও খুন হওয়া ব্যক্তিদের পাঁচটি মোবাইল ফোনসহ মোট ৭টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছেন র্যাব ১১ কুমিল্লার উপ-অধিনায়ক মেজর সাকিব হোসেন।
২৬ বছর বয়সী আকাশ মণ্ডল ইরফান বাগেরহাটের ফকিরহাট এলাকার জগদীশ মণ্ডলের ছেলে।
এর আগে, সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকালে হাইমচরের মেঘনা নদীর ইশানবালা খালের মুখে নোঙর করে রাখা সারবাহী জাহাজ থেকে ৫ জনের লাশ উদ্ধার করে কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ। একইসঙ্গে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাদের দুজনের মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: জাহাজে ডাকাতিকালে ৭ খুন: তদন্ত কমিটি গঠন
ঘটনাটি শুরুতে ডাকাতি বলে ধারণা করা হলেও মঙ্গলবার চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গ থেকে নিহতদের স্বজনরা লাশ গ্রহণের সময় এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তারা।
পরে গতকালই চাঁদপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) একরামুল সিদ্দিককে প্রধান করে কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।
৩৯৮ দিন আগে
মৌলভীবাজারে কুখ্যাত মানব পাচারকারীর মূলহোতা গ্রেপ্তার
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় কুখ্যাত মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতা ওয়াসকুরনীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯।
রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকালে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাবের শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল।
গ্রেপ্তার ওয়াসকুরনী (৩৮) ওই ইউনিয়নের লালারচক গ্রামের বাসিন্দা।
আরও পড়ুন: তাহেরিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ
র্যাব জানায়, ওয়াসকুরনী মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় মানবপাচার, পাসপোর্ট ও মাদকদ্রব্য আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর রবিবার বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শরীফপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-৯ সিলেটের সহকারী পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. মশিহুর রহমান সোহেল বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর ওয়াসকুরনীকে কুলাউড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বুড়িমারী স্থলবন্দরে ভারতীয় মালামাল জব্দ, ট্রাকচালক গ্রেপ্তার
৪০৭ দিন আগে
কলকাতায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার র্যাবের
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল কলকাতায় একটি পার্কে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এমন ভিডিও বেসরকারি একটি টেলিভিশনে ছড়িয়ে পড়ার পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে র্যাবের কাছে চাওয়া হলে র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস বলেন, র্যাব এ কাজে কোনো অবহেলা করেনি। তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব তারা যথাযথ পালন করে যাচ্ছে।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পলায়নে র্যাবের কোনো ধরনের গাফিলাতি ছিল না বলে জানান মুনীম ফেরদৌস।
আরও পড়ুন: ছাত্র-জনতার ওপর র্যাব কোনো গুলি চালায়নি: কর্নেল মুনীম ফেরদৌস
তিনি বলেন, ‘এখানে র্যাবের উদাসীনতা বা গাফিলাতি ছিল তা বলতে চাই না। আমাদের ওপর যে দায়িত্ব, আমাদের যতটুকু সামর্থ্য তা দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি। এছাড়াও আমাদের কর্মপরিধির মধ্যে যতেটুকু করা দরকার আমরা তা করেছি।’
গত ৫ আগস্টের পর আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সমাজে অপরাধ থাকবে বলেই কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা র্যাব আছে। যদি অপরাধ নির্মূল হয়ে যেত, তাহলে কিন্তু সমাজে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকতে না।
৪৮২ দিন আগে