নরসিংদী
হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়ে হতাশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নরসিংদীর পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
ডাক্তারদের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পলাশ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন মন্ত্রী।
এ সময় তিনি হাসপাতালে কর্তব্যরত ২১ জন ডাক্তারের মধ্যে ৫ জন ছুটিতে থাকায় বাকি ১৬ জনের মধ্যে ৮ জনের উপস্থিতি দেখতে পান। এর মধ্যে ২ জন ডাক্তার আবার নির্ধারিত সময়ের পরে আসেন। পরে তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, রোগীদের ওয়ার্ড, ডাক্তারদের চেম্বারগুলো পরিদর্শনসহ সার্বিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ৫ মার্চ সংবাদমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন দেখতে পাই, সেখানে উল্লেখ ছিল—হাসপাতালে ডাক্তাররা সময়মত উপস্থিত হন না। এর বিপরীতে ডাক্তারগণ বক্তব্য দিয়েছিলেন, ডাক্তাররা হাসপাতালের উপরতলায় ছিলেন, আর সংবাদকর্মীরা নিচতলায় ছিলেন। সংবাদটি প্রকাশের পর ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আজকের এই আকস্মিক পরিদর্শন।
তিনি বলেন, ‘আসলে পরিস্থিতিটি কী, সেটি দেখার জন্যই আসা। যা আমরা শুনি, তাই কি সত্য, না এর বাইরেও কিছু আছে; আসলেই মানুষ সেবা পাচ্ছে কি না। তবে এখানে এসে আমি নিজেই হতাশ। মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে গণমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়, তারপরও তারা সংশোধন না হয়ে নিজেদের মতোই চলছেন। আমি ভেবেছিলাম, এবার অন্তত সকল ডাক্তার যার যার কর্মস্থলে সঠিক সময়ে উপস্থিত হবেন, কিন্তু পরিদর্শনে এসে সেটা দেখতে পাইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ হাসপাতালে মোট ২৭টি পোস্ট রয়েছে। কর্মরত পোস্টে ডাক্তার আছেন ২১ জন। তার মধ্যে আমরা উপস্থিত পেয়েছি মাত্র ৮ জন ডাক্তার। কিন্তু এ ৮ জনের মধ্যেও ২ জন নির্ধারিত সময়ের পরে এসেছেন। এছাড়া ৫ জন ডাক্তার ছুটিতে রয়েছেন।
‘ডাক্তাররা মানবিক সেবায় নিয়োজিত। আমরা স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই এবং তা ডাক্তারদের মাধ্যমেই পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু তারাই সময়মতো উপস্থিত হন না। যারা উপস্থিত হননি তাদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ সময় রেবিক্স টিকার বিষয়ে এ প্রশ্নের জবাবে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ‘আমরা নগদ টাকা দিয়ে রেবিক্স টিকা কিনছি। প্রতি উপজেলায় টিকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দেশে রেবিক্স টিকার আর সমস্যা হবে না।’
হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশতিয়াক আহমেদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আব্দুল্লাহ আল-মামুন, পলাশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কুতুবুল আলম প্রমুখ।
২ দিন আগে
নরসিংদীতে কিশোরীকে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ-হত্যা: ৭ আসামি রিমান্ডে
নরসিংদীতে কিশোরীকে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ গ্রেপ্তার ৭ আসামির ৮দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রবিবার (১ মার্চ) জুডিশিয়াল দ্বিতীয় আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান এই আদেশ দেন।
এর আগে, গত শুক্র ও শনিবার দুদিনে ৭ আসামির ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওমর কাইয়ুম। এরপর আজ (রবিবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নরসিংদী জজ কোর্টের দ্বিতীয় জুডিশিয়াল আদালতে তোলা হয় ওই ৭ আসামিকে।
এদিন বাদীপক্ষ স্বপ্রণোদিত হয়ে আইনজীবী আদালতে দাঁড়ালেও আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী আদালতে দাঁড়াননি।
ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা থেকে শুক্রবার দিবাগত রাতে নূরা এবং একই সময়ে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করে নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এর মাধ্যমে নিয়ে কিশোরীর মা ফাহিমা বেগমের করা মামলায় ৯ জন আসামির মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
তার আগে, গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে কিশোরী আমিনার বাবার কাছ থেকে নূরার নেতৃত্বে একটি চক্র তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষাখেত থেকে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মামলার এজহারের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ষণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৪ জন এবং বিচারকাজে সহায়তাকারী সাবেক মেম্বারসহ ৩ জন নিয়ে মোট ৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। বাকী দুই পলাতক আসামিকেও দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
৮ দিন আগে
নরসিংদীতে ধর্ষণের পর হত্যা: আটক ৫
নরসিংদীর মাধবদীতে আমেনা আক্তারকে (১৫) জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মাধবদী থানায় সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিং করেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। তিনি জানান, এ ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে নিহতের মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলা করেছেন।
ডিআইজি রেজাউল করিম বলেন, ইতোমধ্যে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। আটকরা হলেন— সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আহম্মদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান, নূরের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব, এবাদুল্লাহ ও গাফফার। তাদের মধ্যে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ২ জন এবং সালিশকারী ৩ জন।
তিনি আরও বলেন, বাকিদের আটকের জন্য অভিযান চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাদের আটক করব। কোনো অপরাধীরাই রেহাই পাবেন না।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেন, কিশোরীকে নৃশংস ও নিষ্ঠুরভাবে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানার পরপরই নরসিংদীর পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে হত্যায় জড়িতদের দ্রুত আটকের নির্দেশ দিয়েছি। যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে এ ধরনের ঘটনা সমাজে আর না ঘটে।
তিনি আরও বলেন, ধর্ষণকারীদের পক্ষে যাতে কেউ কোনো সহানুভূতি না দেখায় এবং নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যারা এ নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড এবং ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত তাদের যেন কোনো ধরনের আইনি সহায়তা না দেওয়া হয়; যাতে অপরাধীরা বুঝতে পারে, অপরাধ করলে আইনি সহায়তা পাওয়া যাবে না; তখন ভয়ে সমাজে অপরাধও কমে যাবে।
খায়রুল কবির আরও বলেন, আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। যারা সমাজে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হবেন অবশ্যই তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। কে কোন দল করে, কে কোন দলের, কোন মতের—সেটা দেখার বিষয় না। অপরাধীদের কোনো দল নেই, তারা অপরাধী; অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে, নিহত আমেনার ময়নাতদন্ত নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. ফরিদা গুলশানারা কবিরের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের মেডিকেল-বোর্ড ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছেন।
নিহতের মা ফাহিমা বেগম জানান, কোথায় মরদেহ দাফন করা হবে, তা অনিশ্চিত। নিহত আমেনার মা, সৎ পিতা আশরাফ মিয়া ও ভাই সিফাত এখনও মাধবদী থানা হেফাজতে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাধবদী থানার মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষাখেত থেকে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, নিহতের পিতা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সুবাদে স্ত্রী-কন্যাসহ মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জনের একটি দল এলাকা থেকে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসাও করা হয়।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে আশরাফ হোসেন তার কাজ শেষে মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছলে নূরার নেতৃত্বে আবারও ৫ জন মিলে তার বাবার কাছ থেকে আমেনাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। পরে মেয়েটির পরিরেরর লোকজন বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুজির পরও না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান। সকালে একই এলাকার একটি সরিষাখেত থেকে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় আমেনা আক্তারের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে নিহত মেয়ের বাবা মো. আশরাফ জানান, নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জন লোক আমার সামনে থেকে আমার মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে রাতে আর পাইনি। সকালে আমরা জানতে পারি আমেনার মরদেহ ঘটনাস্থলে পড়ে আছে। আমার সন্তানকে যারা হত্যা করেছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
১০ দিন আগে
বাবার কাছ থেকে তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ, পরে হত্যার অভিযোগ
নরসিংদীর মাধবদীতে আমেনা আক্তার (১৫) নামে এক তরুণীকে তার বাবার কাছ থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাধবদী থানার মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষাখেত থেকে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, নিহতের পিতা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সুবাদে স্ত্রী-কন্যাসহ মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জনের একটি দল এলাকা থেকে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসাও করা হয়।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে আশরাফ হোসেন তার কাজ শেষে মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছলে নূরার নেতৃত্বে আবারও ৫ জন মিলে তার বাবার কাছ থেকে আমেনাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। পরে মেয়েটির পরিরেরর লোকজন বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুজির পরও না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান। সকালে একই এলাকার একটি সরিষাখেত থেকে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় আমেনা আক্তারের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে নিহত মেয়ের বাবা মো. আশরাফ জানান, নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জন লোক আমার সামনে থেকে আমার মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে রাতে আর পাইনি। সকালে আমরা জানতে পারি আমেনার মরদেহ ঘটনাস্থলে পড়ে আছে। আমার সন্তানকে যারা হত্যা করেছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, মেয়েটির সঙ্গে নূরার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এটি মেয়েটির পরিবার মেনে নেয়নি। গতকাল (বুধবার) তাকে বাবার কাছ থেকে নূরা তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল বলে জেনেছি। পরে সকালে মেয়েটির মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অপরাধীদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে পুলিশ। ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে আটক করা হয়েছে। ধর্ষণের বিষয়টি তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।
১১ দিন আগে
নরসিংদীতে নিখোঁজের ২০ ঘণ্টা পর ডোবা থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার
নরসিংদীতে নিখোঁজের ২০ ঘণ্টা পর জোনায়েদ মিয়া (৮) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার শীলমান্দী ইউনিয়নের বাগহাটা গ্রামের একটি বাড়ির পাশের ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত জোনায়েদ পশ্চিম বাগহাটা গ্রামের জজ মিয়ার ছেলে। সে পার্শ্ববর্তী আব্দুল আজীজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুর ১২টার দিকে জোনায়েদ বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। পরে স্বজন ও প্রতিবেশিরা বাড়ির আশপাশসহ বিভিন্ন জায়গায় খুঁজে এবং মাইকিং করেও জোনায়েদের কোনো সন্ধান পায়নি। এ ঘটনায় নরসিংদী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করে তার পরিবার। বুধবার সকালে বাড়ির পাশে ডোবায় কচুরিপানার ভেতর জোনায়েদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের চাচা স্বপন মিয়া বলেন, জোনায়েদ পানিতে ডুবে মারা যায়নি। তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে ডোবায় ফেলে গেছে। আমাদের কোনো শত্রু নেই। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, আমরা খবর পেয়ে ডোবা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতাল রিপোর্ট তৈরি করে মর্গে পাঠিয়েছি। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আলামত সংগ্রহ ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১২ দিন আগে
নরসিংদীর ৫টি আসনের ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছে নির্বাচনি সরঞ্জাম
নরসিংদীর ৫টি আসনের ৬৬৩ ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সরঞ্জাম ও ব্যালট পেপার।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে ৬টি উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এসব সরঞ্জাম বুঝে নেন ভোট গ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের উদ্দেশ্যে জেলার ৫টি আসনের ৬৬৩ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৩৯৩ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, সিলেটের ৫টি নির্বাচনি এলাকার ৫টি পৌরসভা ও ৭১ টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১৯ লাখ ৭১ হাজার ২৩৭ জন। এর মধ্যে পুরষ ভোটার সংখ্যা ১০ লাখ ৩০৪ জন, নারী ভোটার ৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৮৭ জন, আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩৬ জন।
২৬ দিন আগে
নরসিংদীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে ইউপি সদস্যের স্বামী নিহত
নরসিংদীর রায়পুরার রফিক ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যক্তি দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে চরমধুয়া ইউনিয়নের গাজীপুরা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আহসান শিকদার।
নিহত রফিকুল ইসলাম চরমধুয়া ইউনিয়নের গাজীপুরা গ্রামের মঙ্গল মিয়ার ছেলে ছিলেন। তিনি পেশায় গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। তার স্ত্রী লাভলী বেগম চরমধুয়া ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নারী সদস্য।
আহসান শিকদার ও পুলিশ জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে রফিকুল বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের গুলির শিকার হন। এ সময় কে বা কারা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক ঘটনার জেরে ঘটেনি, প্রতিবেশীর সঙ্গে তার আগের পারিবারিক কলহের জের ছিল। তবে তদন্ত সাপেক্ষে কীভাবে, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে।
২৮ দিন আগে
নরসিংদীতে বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ মোল্লার মৃত্যু
নরসিংদী জেলা বিএনপির উপদেষ্টা, সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ মোল্লা ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ইন্তেকাল করেন।
তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৪ ছেলে, ১ মেয়ে, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গে
আজ (শনিবার) আসরের নামাজের পর নরসিংদী কালেক্টরেট মসজিদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা এবং এশার নামাজের পর গ্রামের বাড়ি শিবপুর উপজেলার জয়নগর গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
আব্দুর রশিদের মৃত্যুতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহী, নরসিংদী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাখন দাস, সাধারণ সম্পাদক আসাদুল হক পলাশ, নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান ভূঁইয়া গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকাহত পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন তারা।
৩০ দিন আগে
নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ হয়ে স্কুলছাত্র নিহত
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় গোষ্ঠীগত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মুস্তাকিম মিয়া (১৪) নামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মুস্তাকিম ওই এলাকার সৌদি প্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সায়দাবাদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব চলছিল। এসব বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষ হয়। এর জেরে উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত ৮ জন গুলিবিদ্ধ হন এবং এলাকায় বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠে।
স্থানীয়রা জানান, এলাকার এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন হানিফ মাস্টার এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে আছেন এরশাদ মিয়া। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় আজ (বুধবার) সকালে এরশাদ মিয়ার পক্ষের লোকজন দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হানিফ মাস্টারের অনুসারীদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে এরশাদ গ্রুপের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়না গুলি ছোড়েন। এতে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থী মুস্তাকিম গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সায়দাবাদ এলাকার রফিকুল ইসলাম (৩৭), সোহান (২৬) ও রোজিনা বেগম (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
নিহতের মা শাহানা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সকালে আমার ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে ছিল। তখন হঠাৎ গুলি এসে লাগে। আমরা কোনো দলের সঙ্গে জড়িত নেই। যারা আমার বুক খালি করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুস্তাকিম নামে এক কিশোরকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা করে দেখা যায় তার শরীরের বাম পাশে গুলির চিহ্ন রয়েছে এবং গুলিটি শরীর ভেদ করে বের হয়ে গেছে। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
৩৩ দিন আগে
বিএসসি ডিগ্রিধারীদের নিয়োগের সুপারিশ বাতিলের দাবিতে নরসিংদীতে মহাসড়ক অবরোধ
উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের নিয়োগের সুপারিশ বাতিলের দাবিতে নরসিংদীর ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছে কারিগরি শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে নরসিংদী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীসহ বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পুলিশ লাইন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এই অবরোধ করেন।
এ সময় মহাসড়কের দুপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দূর্ভোগে পড়ে মহাসড়কে চলাচলরত সাধারণ যাত্রীসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। দুপুর দেড়টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখার সময়ও অবরোধ চলছিল।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, দশম গ্রেডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পাশাপাশি বিএসসি প্রকৌশলীদের নিয়োগের বিধান করার সুপারিশ করেছে সরকার। সরকারকে এই সুপারিশ বাতিল করতে হবে।
তারা আরও জানান, সহকারী প্রকৌশলী পদে বরাবর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীরা আবেদন করার সুযোগ পান। তবে গতবছর এ পদে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের নিয়োগের সুযোগ চেয়ে আন্দোলন করেন বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবির প্রতিবাদে এই আন্দোলন শুরু করেন কারিগরি শিক্ষার্থীরা। আমরা এমন সুপারিশের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। কারণ উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদটি বরাবরই ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীদের জন্য ছিল।
আন্দোলনে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষার্থী রবিন মিয়া, ফাহিম আহমেদ, রিয়াদ হোসেন, মো. সাজ্জাদ, মো. তামজিদ ও সিয়াম মিয়া।
৩৪ দিন আগে