নরসিংদী
নরসিংদীতে মাদক সেবনকালে পুলিশ কনস্টেবলসহ আটক ৪
নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় মাদক কারবারিদের সঙ্গে মাদক সেবনের সময় এক পুলিশ কনস্টেবলসহ ৪ জনকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার মাটিয়ালপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বেলাব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
আটকরা হলেন: বেলাব থানার পুলিশ কনস্টেবল শামসুল ইসলাম, বেলাব মাটিয়ালপাড়া গ্রামের উজ্জল মিয়া (৩৭), ইব্রাহিমপুর গ্রামের রকি (২৮) ও মো. বাদল (৩৭)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল (সোমবার) রাতে মাটিয়ালপাড়া এলাকার একটি বাগানবাড়িতে মাদক কারবারিদের সঙ্গে বেলাব থানার পুলিশ কনস্টেবল শামসুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন মাদক সেবন করছিলেন। ঘটনাটি টের পেয়ে স্থানীয় জনতা বাগানবাড়িটি ঘেরাও করে। পরে তাদের হাতেনাতে আটক করেন স্থানীয়রা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আমান উল্লাহ জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বেলাব থানায় মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা হয়েছে।
১৭ ঘণ্টা আগে
নরসিংদীতে ট্রেনের ছাদ থেকে নামতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু
নরসিংদী রেলস্টেশনে তিতাস কমিউটার ট্রেনের ছাদ থেকে নামতে গিয়ে দুই বগির মাঝে পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম মো. আমীর হোসেন (২৮)। তিনি নরসিংদী সদর উপজেলার নগর বানিয়াদী গ্রামের মৃত সামসুল হকের ছেলে।
রেলওয়ে পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই বন্ধুর সঙ্গে আমীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কেল্লা শাহের মাজারে গিয়েছিলেন। তারা রাতভর সেখানে থেকে শুক্রবার সকালে তিতাস কমিউটারের ছাদে উঠে নরসিংদী ফিরছিলেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ট্রেনটি নরসিংদী রেলস্টেশনে পৌছায়।
এ সময় ভিড়ের মধ্যেই ছাদে উঠা লোকজন স্টেশনে নামছিল। ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে কোথাও টান লেগে আমীর নিয়ন্ত্রণ হারান এবং ট্রেনের দুই বগির মাঝখানে পড়ে যান। এ সময় ট্রেনটি তাকে অন্তত ৩০ গজ দূরে টেনে নিয়ে যায়।
রেলস্টেশনে উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতাল নেওয়া হয়। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, ট্রেনে কাটা পড়া ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার মরদেহ রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আমীরের ঠিক আগে ট্রেনের ছাদ থেকে নেমেছেন তার বন্ধু আক্রাম হোসেন। তিনি বলেন, ‘একসঙ্গেই আমরা তিন বন্ধু কেল্লা শাহর মাজারে গিয়েছিলাম। ভোরে ট্রেনে উঠার সময় ভিড়ের কারণে ভেতরে যেতে না পেয়ে ট্রেনের ছাদে উঠি। নরসিংদী আসার পর দুজন ছাদ থেকে নামতে পারলেও আমীর পারেনি। চলতে শুরু করা ট্রেনের দুই বগির মাঝে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।’
নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক দিলীপ চন্দ্র সরকার বলেন, আমীরের পরিবারের সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
৪ দিন আগে
নরসিংদীতে পানিতে ডুবে দুই শিশু নিহত
নরসিংদীর মনোহরদীতে সড়কের পাশের ডোবায় ডুবে তাওহীদ (৭) ও নাবিল (৬) নামের দুই শিশু নিহত হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের নোয়াদিয়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই শিশু সম্পর্কে ফুফাতো-মামাতো ভাই ছিল। নিহত নাবিল মনেহরদী উপজেলার একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের নোয়াদিয়া গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে আর তাওহীদ পার্শ্ববর্তী শিবপুর উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের বৈলাব গ্রামের মো. মাহবুবুর রহমানের ছেলে।
নিহতদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে নোয়াদিয়া এলাকায় সড়কে ঘুরতে বের হয়েছিল নাবিল ও তাওহীদ। একপর্যায়ে নির্জন সড়কটির একটি ডোবায় পড়ে যায় নাবিল। তাকে টেনে তুলতে গিয়ে তাওহীদও ডোবায় ডুবে যায়। কিছুক্ষণ পর একজনের মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করতে টেনে তোলার সময় দেখা যায় তার হাতে অপর আরেক শিশুর হাত ধরা। এ সময় স্থানীয়রা ওই শিশুটিকেও পানির নিচ থেকে উদ্ধার করে।
পরে দুজনকে অচেতন অবস্থায় শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, নিহত দুই শিশুর পরিবারের সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের মরদেহ বিনা ময়নাতদন্তে হস্তান্তর করা হয়েছে।
১০ দিন আগে
নরসিংদীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ নিহত ৩
নরসিংদীর শিবপুরে পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেলআরোহী দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। অপরদিকে, মনোহরদীর পুড়াদিয়া-বেলাবো সড়কের রাধাখালী সেতু এলাকায় নছিমন উল্টে চালক নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার ইটাখোলা-মনোহরদী আঞ্চলিক সড়কের বাজনাব এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। একই দিন সকালে নছিমনচালক একই শাওন (৩০) নিহত হন।
নিহত দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী হলেন— শিবপুরের আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী স্বাধীন (১৯) ও নাফিস (২২)। নাফিজের বাড়ি নরসিংদী সদর উপজেলার হাজিপুর গ্রামে এবং স্বাধীনের বাড়ি বাদুয়ারচর পুরানপাড়ায়।
নিহতের বন্ধুরা জানান, আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হলো শহিদ আসাদ কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে। আজ (শনিবার) তাদের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের মার্কেটিং বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষে তারা কেন্দ্র থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। বাজনাব এলাকায় পৌঁছালে শিবপুরগামী একটি মুরগিবাহী পিকআপ ভ্যান তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এ সময় দুই শিক্ষার্থী সড়কে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে খবর পেয়ে শিবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অপরদিকে, আজ সকালে মনোহরদীর পুড়াদিয়া-বেলাবো সড়কের রাধাখালী সেতু এলাকায় নছিমন উল্টে চালক শাওন (৩০) নিহত হয়েছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সকালে জীবিকার সন্ধানে নছিমন নিয়ে মনোহরদী উপজেলা থেকে বেলাবোর উদ্দেশে রওনা দেন শাওন। পথে রাধাখালী সেতুর কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ গাড়ির একটি চাকা খুলে যায়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
নিহত শাওন মনোহরদী উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের ব্রাহ্মণেরগাঁও গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে।
বেলাবো থানার ওসি এস এম আমান উল্লাহ বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং পরিবারের অনুরোধের ভিত্তিতে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়া পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
৩১ দিন আগে
নরসিংদীতে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
নরসিংদীর রায়পুরায় পানিতে ডুবে দুই শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভেলুয়ারচর গ্রামের নামারচর
বিলে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত শিশুরা হলো— ভেলুয়ারচর গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের মেয়ে নিপা (৭) ও একই গ্রামের নূরুজ্জামানের মেয়ে জান্নাতি (৮)। তারা উভয়েই ভেলুয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ১০টার দিকে এই দুই শিক্ষার্থীসহ ৪-৫ জন মিলে বাড়ির সামনে নামারচর বিলে গোসল করতে যায়। ওই সময় তারা দুইজনেই পানিতে ডুবে যায়। তখন তাদের সঙ্গে থাকা অন্যান্য শিশুরা আশপাশের লোকজনদের ডেকে আনে। তারা দুই শিশুকে পানির নিচ থেকে উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শীলা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভেলুয়ারচর থেকে দুই শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছিল।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৩২ দিন আগে
রায়পুরায় পানিতে ডুবে ৩ শিশু নিহত, নিখোঁজ এক
নরসিংদীর রায়পুরায় নদীতে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে তিন শিশু নিহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আরও একটি শিশু নিখোঁজ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চান্দেরকান্দী ইউনিয়নের বড়কান্দা এলাকার কাকন নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তিন শিশু হলো— বড়কান্দা গ্রামের শামীম মিয়ার মেয়ে তাবিয়া (১৩), একই এলাকার রুবেল মিয়ার মেয়ে জান্নাত ইসলাম (৯) ও রুবেল মিয়ার মেয়ে আয়েশা (৯)। তারা সকলেই স্থানীয় গাউছিয়া নূরে মদিনা মহিলা মাদরাসার শিক্ষার্থী।
পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে মাদরাসা থেকে ৬/৭ জন শিশু শিক্ষার্থী কানন নদীতে গোসলে যায়। এ সময় একজন তলিয়ে গেলে তাকে বাঁচানোর চেষ্টাকালে অন্যান্যরাও পানিতে তলিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উল্লেখিত তিনজনকে উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এ সময় আরও দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয় এবং একটি শিশুর খোঁজ পাওয়া যায়নি।
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আশরাফুর রহমান বলেন, আমাদের এখানে তিন শিশুকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল।
এ ব্যাপারে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় তিন শিশুর মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। আরও দুই শিশুকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং এক শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলে শুনেছি। নিহত শিশুদের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৩৩ দিন আগে
যেখানেই অবহেলা-দুর্নীতি, সেখানেই চাকরিচ্যুতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, যেখানে অবহেলা ও দুর্নীতি পাওয়া যাবে, সেখানেই চাকরিচ্যুত করা হবে। তিনি বলেছেন, ‘ট্রান্সফার বা বদলিতে আমি বিশ্বাস করি না। কাজ করতে হবে সততার সঙ্গে। দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। এটাকে আমরা কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেব না।’
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে নরসিংদীর শিশু অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির ৩১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার করা হবে। ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে সংস্কারের মাধ্যমে নতুনভাবে সাজিয়ে আরও ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে। ফ্যামিলি প্লানিং সেন্টারগুলোকে উন্নত করা হবে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে এই বছরেই একটা বিপ্লবের সূচনা করতে চাচ্ছি আমরা। প্রতিটা ক্ষেত্রে আমরা নতুন নতুন কর্মসূচি হাতে নিচ্ছি যাতে জনগণের উন্নয়ন করা যায়, বাংলাদেশকে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড় করানো যায়। আমাদের এবারের বাজেট কোনো টাকার বাজেট না, এটা আদর্শের বাজেট। প্রতিটি আদর্শকে দুর্নীতি মুক্তভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ বছর ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে নরসিংদী মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। নরসিংদী নার্সিং ইন্সটিটিউটে হবে শিক্ষার্থীদের ক্লাস। আর নরসিংদী নার্সিং ইন্সটিটিউটের ক্লাস হবে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের নতুন ভবনে। মেডিকেল কলেজের জন্য জায়গা দেখা হচ্ছে, খুব শিগগিরই জায়গা নির্ধারণ করে সেখানে নতুন ভবনের কাজ শুরু করা হবে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চায়নার সহযোগিতায় যে অত্যাধুনিক ১৮টি হাসপাতাল বাংলাদেশে হবে, এর একটি হবে নরসিংদীতে। তবে চেষ্টা করব শহরের আশপাশে করতে।
নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ইসরাত জাহান কেয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন নরসিংদী সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৩ শিবপুর আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুর এলাহী, নরসিংদী-৫ রায়পুরা আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বকুল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ।
আমন্ত্রিত অতিথিরাসহ নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির সদস্যরাও এতে অংশ নেন।
৪৫ দিন আগে
নরসিংদীতে স্কুল শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
নরসিংদীর শিবপুরে ভাড়া বাসা থেকে সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. বিল্লাল হোসাইনের (৫০) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কলেজগেট স্কুল-সংলগ্ন ভাড়াবাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে শিবপুর থানা পুলিশ।
নিহত বিল্লাল হোসাইন গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার গোসিংগা গ্রামের মৃত হাসান আলীর ছেলে। তিনি ২০১৬ সালে শিবপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেছিলেন।
নিহতের স্ত্রী রুমা বেগম জানান, তিনি মেয়ে মরিয়মকে বাসার কাছে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি দেখেন, তাদের ঘরের দরজা বন্ধ। ডাকাডাকির পরেও দরজা না খোলায় তিনি চিৎকার করতে থাকেন। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, রুমা বেগমের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মো. বিল্লাল হোসাইনকে দেখতে পান।
শিবপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় কক্ষের টেবিল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আত্মহত্যার আগে মো. বিল্লাল হোসাইন কী লিখেছিলেন, সেটি প্রকাশ করেনি পুলিশ কর্তৃপক্ষ।
শিবপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর উদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া কষ্টকর। কেন তিনি আত্মহত্যা করলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন।’
শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
৬১ দিন আগে
নরসিংদী সংঘর্ষ: নদী থেকে ২ জনের মরদেহ উদ্ধার
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষ্যা ইউনিয়নে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় নদী থেকে ২ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের গোপীনাথপুর এলাকায় মেঘনা নদী থেকে পুলিশের ভেস্ট পরিহিত অবস্থায় আব্দুল লতিফ (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের বীরগাঁও কান্দাপাড়া এলাকার শহিদ মিয়ার ছেলে।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, গোপীনাথপুরে রফিক মেম্বারের বাড়ির সামনে মেঘনা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত পুলিশ ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আরও কেউ নিখোঁজ থাকার অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
এর আগে বুধবার বিকেলে মাধবদী থানার চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিৎরামপুর গ্রামসংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় কাউছার মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও শাহ আলম মিয়ার ছেলে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে টেঁটাবিদ্ধ করে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। পরে মরদেহটি স্রোতের টানে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ভেসে আসে।
এ ছাড়াও সংঘর্ষের দিন মঙ্গলবার (১৭ জুন) নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের সোনাকান্দি এলাকার বুলবুল মিয়া (৩৫) এবং পূর্বপাড়া এলাকার অনিক মিয়া (২২) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
স্থানীয়রা ও পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁও এলাকায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর এব বিরোধের জেরে সংঘর্ষে কুয়েতপ্রবাসী মামুন মিয়া নিহত হন। এরপর হত্যা মামলার আসামি সাবেক ইউপি সদস্য জবা মিয়া, আলাল মুন্সি ও তাদের অনুসারীরা দীর্ঘদিন এলাকা ছাড়া ছিলেন।
গত মঙ্গলবার ভোরে সাবেক ইউপি সদস্য জবা মিয়া ও আলাল মুন্সির অনুসারীরা স্পিডবোটে করে ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করে। এ সময় তারা নাজিম উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সেখানে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এরপর সংঘর্ষ দ্রুত হরিপুর ও দড়িগাঁও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলতে থাকে।
এ ঘটনায় রাজু (২৮) ও মোস্তফা (৬০) গুলিবিদ্ধসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
৬১ দিন আগে
নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ১
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অনিক (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় স্থানীয় নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত অনিক দড়িগাঁও এলাকার নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সদস্য ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নিলক্ষা ইউনিয়নের দড়িগাঁও এলাকায় নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে আজ (মঙ্গলবার) ভোরে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ । এ সময় কয়েকজন যুবক ও কিশোরকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে অংশ নিতে দেখা গেছে|
এ সময় দুই পক্ষের সমর্থকদের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে অনিক, রাজু, সুমন, কাশেম ও মোবারকসহ অন্তত দশজন গুরুত্বর আহত হন। আহতদের মধ্যে অনিক, রাজু ও মোবারককে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসাপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়র। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের তিনজনকেই ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে অনিক মারা যান।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের লোকজনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ ছিল। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ভোরে তারা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ, র্যাব ও উপজেলা প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ সংঘর্ষে অনিক নামে একজন নিহত হয়েছেন।
৬৩ দিন আগে