নরসিংদী
নরসিংদীতে স্কুল শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
নরসিংদীর শিবপুরে ভাড়া বাসা থেকে সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. বিল্লাল হোসাইনের (৫০) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কলেজগেট স্কুল-সংলগ্ন ভাড়াবাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে শিবপুর থানা পুলিশ।
নিহত বিল্লাল হোসাইন গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার গোসিংগা গ্রামের মৃত হাসান আলীর ছেলে। তিনি ২০১৬ সালে শিবপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেছিলেন।
নিহতের স্ত্রী রুমা বেগম জানান, তিনি মেয়ে মরিয়মকে বাসার কাছে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি দেখেন, তাদের ঘরের দরজা বন্ধ। ডাকাডাকির পরেও দরজা না খোলায় তিনি চিৎকার করতে থাকেন। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, রুমা বেগমের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মো. বিল্লাল হোসাইনকে দেখতে পান।
শিবপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় কক্ষের টেবিল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আত্মহত্যার আগে মো. বিল্লাল হোসাইন কী লিখেছিলেন, সেটি প্রকাশ করেনি পুলিশ কর্তৃপক্ষ।
শিবপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর উদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া কষ্টকর। কেন তিনি আত্মহত্যা করলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন।’
শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
১ দিন আগে
নরসিংদী সংঘর্ষ: নদী থেকে ২ জনের মরদেহ উদ্ধার
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষ্যা ইউনিয়নে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় নদী থেকে ২ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের গোপীনাথপুর এলাকায় মেঘনা নদী থেকে পুলিশের ভেস্ট পরিহিত অবস্থায় আব্দুল লতিফ (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের বীরগাঁও কান্দাপাড়া এলাকার শহিদ মিয়ার ছেলে।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, গোপীনাথপুরে রফিক মেম্বারের বাড়ির সামনে মেঘনা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত পুলিশ ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আরও কেউ নিখোঁজ থাকার অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
এর আগে বুধবার বিকেলে মাধবদী থানার চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিৎরামপুর গ্রামসংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় কাউছার মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও শাহ আলম মিয়ার ছেলে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে টেঁটাবিদ্ধ করে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। পরে মরদেহটি স্রোতের টানে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ভেসে আসে।
এ ছাড়াও সংঘর্ষের দিন মঙ্গলবার (১৭ জুন) নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের সোনাকান্দি এলাকার বুলবুল মিয়া (৩৫) এবং পূর্বপাড়া এলাকার অনিক মিয়া (২২) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
স্থানীয়রা ও পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁও এলাকায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর এব বিরোধের জেরে সংঘর্ষে কুয়েতপ্রবাসী মামুন মিয়া নিহত হন। এরপর হত্যা মামলার আসামি সাবেক ইউপি সদস্য জবা মিয়া, আলাল মুন্সি ও তাদের অনুসারীরা দীর্ঘদিন এলাকা ছাড়া ছিলেন।
গত মঙ্গলবার ভোরে সাবেক ইউপি সদস্য জবা মিয়া ও আলাল মুন্সির অনুসারীরা স্পিডবোটে করে ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করে। এ সময় তারা নাজিম উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সেখানে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এরপর সংঘর্ষ দ্রুত হরিপুর ও দড়িগাঁও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলতে থাকে।
এ ঘটনায় রাজু (২৮) ও মোস্তফা (৬০) গুলিবিদ্ধসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
১ দিন আগে
নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ১
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অনিক (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় স্থানীয় নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত অনিক দড়িগাঁও এলাকার নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সদস্য ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নিলক্ষা ইউনিয়নের দড়িগাঁও এলাকায় নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে আজ (মঙ্গলবার) ভোরে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ । এ সময় কয়েকজন যুবক ও কিশোরকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে অংশ নিতে দেখা গেছে|
এ সময় দুই পক্ষের সমর্থকদের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে অনিক, রাজু, সুমন, কাশেম ও মোবারকসহ অন্তত দশজন গুরুত্বর আহত হন। আহতদের মধ্যে অনিক, রাজু ও মোবারককে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসাপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়র। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের তিনজনকেই ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে অনিক মারা যান।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের লোকজনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ ছিল। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ভোরে তারা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ, র্যাব ও উপজেলা প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ সংঘর্ষে অনিক নামে একজন নিহত হয়েছেন।
৩ দিন আগে
নরসিংদীতে সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন
নরসিংদী জেলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
রবিবার (১৪ জুন) স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নরসিংদীতে সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর নরসিংদীতে নতুন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাবো) আসনের সংসদ সদস্য সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি নিজ জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।
বর্তমানে দেশে ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজেরও অনুমোদন রয়েছে। সর্বশেষ নরসিংদী মেডিকেল কলেজ সরকারি অনুমোদন পেল।
৫ দিন আগে
নরসিংদীতে দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে রফিকুল ইসলাম মুন্সি (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (২৩ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের হাঁটুভাঙ্গা রেলগেট-সংলগ্ন ভাই ভাই স্টোরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দোকান থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত রফিকুল ইসলাম মুন্সি হাঁটুভাঙ্গা গ্রামের সাহারাজ খলিফার ছেলে। তিনি দোকানে স্যানিটারি মালামাল, টাইলস ও হার্ডওয়্যার পণ্যের ব্যবসা করতেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিন তিনি রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরতেন। গতকাল (শনিবার) রাত ১০টার পরও তিনি বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের লোকজন তাকে মোবাইলে কয়েকবার ফোন করলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। পরে তারা দোকানে গিয়ে দেখেন, শাটার নামানো কিন্তু তাতে তালা লাগানো নেই। এরপর শাটার খুলে ভেতরে ঢুকতেই তারা রফিকুলের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। প্রাথমিক সুরতহালের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, তার গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়। আজ (রবিবার) সকালে সিআইডির বিশেষ ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আলামত সংগ্রহ করে। পাশাপাশি মর্গেও গিয়ে আলামত সংগ্রহ করা হবে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, রাতে টহল টিমের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখি ব্যবসায়ী রফিকুলের রক্তাক্ত মরদেহ তার দোকানের গোডাউনে পড়ে আছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। আজ সকালে সিআইডির বিশেষ ক্রাইম সিন ইউনিট টিম এসে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। এরপর মর্গেও গিয়ে আলামত সংগ্রহ করবে। ঘটনাস্থলে ও আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। দ্রুতই জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
২৬ দিন আগে
নরসিংদীতে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে যুবক খুন, হত্যাকারীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ
নরসিংদীর পলাশে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রকাশ্যে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও দুই যুবক। হত্যার ঘটনায় নিহতের স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকাবাসীদের নিয়ে হত্যাকারীর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেন।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে পলাশ উপজেলার মাঝেরচর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত আশিক ভূঁইয়া (২০) উপজেলার মাঝেরচর গ্রামের মনির হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে ছিলেন। এ সময় একই এলাকার বকুল ভূঁইয়ার ছেলে রুহুল আমিন (২০) ও মান্নান ফকিরের ছেলে ইলিয়াস আহত হন। তাদের মধ্যে রুহুল আমিনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শনিবার (২৩ মে) সকালে হত্যার ঘটনায় নিহতের স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকাবাসীদের নিয়ে হত্যাকারীর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেন।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পারুলিয়া গ্রামের সাগরের (২২) ছোট ভাই সোহাগের (২০) সঙ্গে প্রতিবেশী রুহুল আমিনের গত বৃহস্পতিবার কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার মীমাংসা করার জন্য গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে পারুলিয়া ভূইয়া বাড়ির পাশে স্থান ও সময় নির্ধারণ করে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। গতকাল বিকেলে উভয়পক্ষের লোকজন নির্ধারিত স্থানে বিচারকদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এমন সময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সাগর ও সোহাগসহ প্রায় ১০/১৫ জন লোক আশিকের ওপর হামলায় চালায়। এ সময় তাদের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে আশিককে। তাকে বাঁচাতে রুহুল আমিন ও ইলিয়াস এগিয়ে গেলে তারাও ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশিককে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রুহুল আমিন ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে এবং ইলিয়াস প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন।
অভিযুক্ত সাগর ও সোহাগ ওই উপজেলার পারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
আজ (শনিবার) সকালে আশিকের মৃত্যুর খবরে স্বজন ও প্রতিবেশীরা সাগর-সোহাগদের বাড়িতে হামলা চালান এবং একপর্যায়ে আগুন লাগিয়ে দেন। আগুনের খবর পেয়ে পলাশ উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শী রোমান ভূইয়া জানান, সালিশের নির্ধারিত স্থানে স্থানীয় লোকজন উপস্থিত হতে থাকে। এ সময় সকলেই যারা সালিশ করবেন তাদের জন্য অপেক্ষা করতে ছিল। কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই সাগর ও তার ভাই সোহাগ আশিকের ওপর হামলা চালিয়ে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। তাকে বাঁচাতে গেলে রুহুল আমিন ও ইলিয়াসও গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। আশিকের মৃত্যুর খবরে সকালে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও তাদের স্বজনরা সাগর-সোহাগদের বাড়িঘর আগুন দেন।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, আশিকের মৃত্যুর খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা চালান এবং আগুন দেন। তবে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।
২৭ দিন আগে
নরসিংদীতে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন, আটক ২
নরসিংদীতে আল আমিন (৩০) নামে এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছে তারই ছোট ভাই হাসান (২৬)।
শনিবার (২ মে) সকালে শহরের সাটিরপাড়া এলাকার পেট্রোল পাম্পের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বড় ভাই আল আমিন ও ঘাতক হাসান নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের আতশআলি বাজারের বাসিন্দা নুর ইসলামের ছেলে। তারা শহরের চৌয়ালা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, হাসান ও আল আমিনরা ৫ ভাই ও ২ বোন। তারা নরসিংদী শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
দীর্ঘদিন যাবৎ চৌয়ালার বাসিন্দা হাবিবের ছেলে নাইম তাদের বোন দুই সন্তানের মা তাসলিমা বেগমকে প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছিল। কিন্তু নাইমের প্রেমের প্রস্তাবে তাসলিমা রাজি হচ্ছিলেন না। এই নিয়ে দীর্ঘদিন নাইমের সঙ্গে বিরোধ চলছিল তার ভাইদের। এই বিরোধে নাইমের ভয়ে সম্প্রতি তারা গ্রামের বাড়ি চলে গিয়েছিল। তারপর ৩ দিন আগে আল-আমিন স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় নাইমের সঙ্গে এ ঘটনা মীমাংসা করে চৌয়ালার একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন, কিন্তু তার ছোট ভাই হাসান এটা মেনে নিতে পারেননি।
আজ সকালে আল আমিন বাজার করতে বের হলে সাটিরপাড়া এলাকায় আজাদ ফিলিং স্টেশনের সামনে ছোট ভাই হাসান তাকে কেঁচি দিয়ে পেটে একাধিক আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, ছোট দেবরের সঙ্গে নাইমের অনেক দিন ধরে দ্বন্দ্ব ছিল। পরে আমরা সবাই মিলে বিষয়টি মীমাংসা করি। কিন্তু নাইম আমার ননদ তাসলিমার ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাকে বারবার ফোন দিয়ে বিরক্ত করতে শুরু করে। একপর্যায়ে বিয়ে না করলে আমার দেবরকে হত্যা করার হুমকি দেন। এ ঘটনার পর আমাদের নরসিংদী থেকে গ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তিন দিন আগে মীমাংসা করে আবার নরসিংদীতে আসি। কিন্তু আমার দেবর মীমাংসার পক্ষে ছিল না। এতে আমার স্বামী একাই মীমাংসা করে শহরে চলে আসেন। আর মীমাংসার পক্ষে না থাকায় হাসান শহরে আসতে পারবে না—এমন চিন্তা করে ক্ষোভে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে সে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার আগের রাতে হাসান আমার স্বামীকে ফোন করে হুমকি দিয়ে বলেছিল, ‘তোর রক্ত দিয়ে আমি গোসল করব। তুই যখন প্যাঁচ ভেঙে গেছিস, আমাদের চিন্তা করিস না। তোর মতো ভাইয়ের দরকার নাই। আমি যদি নুরুর সন্তান হয়ে থাকি, তাহলে তোর রক্ত দিয়ে গোসল করব।’ পরদিন সকালে আল আমিন বাজারে গেলে হাসান তাকে হত্যা করে।
শিল্পী বেগম বলেন, আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।
নিহতের বোন তাসলিমা বেগম বলেন, নাইম আমাকে প্রতিনিয়ত ফোন দিয়ে বিরক্ত করত। আমি কথা না বললে আমার ভাইদের মেরে ফেলার হুমকি দিত। কিছুদিন আগে লোকজন নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলাও করে সে। এরপর ভয়ে আমরা গ্রামের বাড়িতে চলে যাই। পরে নাইমের সঙ্গে মীমাংসা করে আমরা আবার শহরে আসি। আর এই শহরে আসাই আমার ভাইয়ের জন্য কাল হলো। এক ভাই অন্য ভাইকে খুন করল।
নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফরিদা গুলশানারা কবির বলেন, সকালে আল আমিন নামে একজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় আনা হলে আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পাই। তার পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঘাতক ছোট ভাই হাসান ও নাইমকে আটক করা হয়েছে। মামলা পর তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে। নাইমের নামে বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে বলে জানান তিনি।
৪৮ দিন আগে
নরসিংদীতে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা, অনিশ্চয়তায় ২০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ
নরসিংদীতে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় একটি কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে ২০ জন পরীক্ষার্থীকে। যে স্বপ্ন নিয়ে তারা এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিল, সে প্রস্তুতির হোঁচট খেয়েছে প্রথম দিনের পরীক্ষাতেই।
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার কারারচর মৌলভী তোফাজ্জল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে ওই শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা নরসিংদী প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে তাদের অভিযোগ উপস্থাপন করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ওই কেন্দ্রে বিভিন্ন কক্ষে তিন শতাধিক পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে একটি কক্ষে ২০ জন পরীক্ষার্থীর হাতে দেওয়া হয় ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র, যে প্রশ্নপত্র নিয়মিত, অর্থাৎ ২০২৬ সালের পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য নয়। এমন সিলেবাস-বহির্ভূত প্রশ্নপত্রে প্রথম দিনের বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা দিয়েছে পরীক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষার দিনই তারা আপত্তি তুললে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা তাদের ধমক দিয়ে ওই প্রশ্নেই পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু প্রশ্নপত্র সঠিক না হওয়ায় ২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সবাই এখন পরীক্ষায় নিশ্চিত ফেল করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে।
পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরা জানান, কারারচর মৌলভী তোফাজ্জল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ওই কক্ষে চারটি স্কুলের মোট ২০ জন পরীক্ষার্থী প্রথম দিনের বাংলা প্রথম পত্র বিষয়ে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ছে। স্কুল চারটি হলো: পুটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, ফেমাস ইনস্টিটিউট, হাজী শমসের আলী উচ্চ বিদ্যালয় এবং ঘাগটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়।
শমসের আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী মাহিমা আক্তার মিম জানায়, ক্লাসে তার রোল নম্বর ছিল ১ এবং সে এসএসসির আগে স্কুলের টেস্ট পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে পাস করে। তবে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ায় সে বাংলায় এখন ২০ নম্বরও পাবে না বলে ধারণা করছে। তার মতো এমন বাকি পরীক্ষার্থীরাও বাংলায় ফেল করবে বলে আশঙ্কা করছে।
ভুক্তভোগী নাদিরা সুলতানা, উম্মেহানি, নাজির আহমেদ, বিশাল দাস, সম্রাট ভূইয়া, সিয়াম হোসেন, আমিনুল, অভি, সাকিব, মো. শাহপরান জানায়, পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্র হাতে পেয়েই তারা কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রশ্নপত্র ভুলের বিষয়টি জানিয়েছে, কিন্তু কেন্দ্রের দায়িত্বরত শিক্ষকরা তাদের ধমকিয়ে ওই প্রশ্নেই পরীক্ষা দিতে বলেন এবং এ বিষয়টি বাইরের কাউকে না জানাতে অনুরোধ করেন।
এ বিষয়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. রাশেদুজ্জামান জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ আমরা সকলেই জেনেছি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রে দায়িত্বরতদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পরে ঊর্ধ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫৭ দিন আগে
স্বাস্থ্যখাতের যেকোনো সমস্যা সমাধানের প্রস্তুতি রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, স্বাস্থ্যখাতের যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের পর নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার পীরপুর ঈদগাহ ময়দানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি, আরও করব। প্রতিটি মুহূর্তে আমরা জনসেবায় নিয়োজিত আছি। স্বাস্থ্যখাতের যেকোনো সমস্যা সমাধানের প্রস্তুতি এই সরকারের রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আপনাদের সবার সহযোগিতায় এবারের রমজানে কোনো দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি পায়নি। কোনো কষ্ট মানুষ অনুভব করেনি। আশা করি, দেশবাসীকে একটি শান্তিপূর্ণ ঈদ উপহার দিতে আমরা অনেকটা সফল হয়েছি। মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।’
এর আগে সকাল ১০টায় পীরপুর ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করেন মন্ত্রী। নামাজে ইমামতি করেন মুফতি আবু বক্কর সিদ্দিকী।
নরসিংদীর বিভিন্ন ঈদগাহ মাঠে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সী মানুষ ঈদের নামাজ আদায় ও আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঈদগাহ ময়দানে সমবেত হন।
জেলার সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় গাবতলী ঈদগাহ ময়দানে। এছাড়া নরসিংদী জেলা কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সদর উপজেলার চিনিশপুর ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন। পলাশে ঈদের নামাজ আদায় করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এবং শিবপুরে ঈদের নামাজ আদায় করেন নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী।
জেলার বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত ঈদের জামাতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
৯০ দিন আগে
নরসিংদীতে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ মিলল প্রতিবেশীর ছাদে
নরসিংদীর রায়পুরায় নিখোঁজের এক দিন পর প্রতিবেশীর ছাদে মিলেছে ৬ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ।
রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের চরমরজাল এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আজ (রবিবার) সকালে চরমরজাল গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার একতলা বাড়ির ছাদে আব্দুর রহমান নামের এক শিশুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন ওই বাড়ির লোকজন। পরে বিষয়টি স্থানীয়রা পুলিশকে জানান। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত আব্দুর রহমান ওই এলাকার প্রবাসী শুকুর আলী ও সুমি আক্তারের ছেলে ছিল।
পরিবারের দাবি, গতকাল (শনিবার) কোনো একসময় বাড়ি থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয়ে যায়। এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় রায়পুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়। নিখোঁজের পর থেকে পরিবার ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন, কিন্তু শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে আজ সকালে ইদ্রিস মিয়ার বাড়ির ছাদে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ওসি মো. মজিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তিনি। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। তবে প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ বলা যাচ্ছে না। শিশুটির শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্নও নেই। আমরা ক্রাইম সিন টিমকে খবর দিয়েছি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
এ ঘটনার কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের মাধ্যমে আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
৯৬ দিন আগে