নরসিংদী
নরসিংদীতে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন, আটক ২
নরসিংদীতে আল আমিন (৩০) নামে এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছে তারই ছোট ভাই হাসান (২৬)।
শনিবার (২ মে) সকালে শহরের সাটিরপাড়া এলাকার পেট্রোল পাম্পের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বড় ভাই আল আমিন ও ঘাতক হাসান নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের আতশআলি বাজারের বাসিন্দা নুর ইসলামের ছেলে। তারা শহরের চৌয়ালা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, হাসান ও আল আমিনরা ৫ ভাই ও ২ বোন। তারা নরসিংদী শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
দীর্ঘদিন যাবৎ চৌয়ালার বাসিন্দা হাবিবের ছেলে নাইম তাদের বোন দুই সন্তানের মা তাসলিমা বেগমকে প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছিল। কিন্তু নাইমের প্রেমের প্রস্তাবে তাসলিমা রাজি হচ্ছিলেন না। এই নিয়ে দীর্ঘদিন নাইমের সঙ্গে বিরোধ চলছিল তার ভাইদের। এই বিরোধে নাইমের ভয়ে সম্প্রতি তারা গ্রামের বাড়ি চলে গিয়েছিল। তারপর ৩ দিন আগে আল-আমিন স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় নাইমের সঙ্গে এ ঘটনা মীমাংসা করে চৌয়ালার একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন, কিন্তু তার ছোট ভাই হাসান এটা মেনে নিতে পারেননি।
আজ সকালে আল আমিন বাজার করতে বের হলে সাটিরপাড়া এলাকায় আজাদ ফিলিং স্টেশনের সামনে ছোট ভাই হাসান তাকে কেঁচি দিয়ে পেটে একাধিক আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, ছোট দেবরের সঙ্গে নাইমের অনেক দিন ধরে দ্বন্দ্ব ছিল। পরে আমরা সবাই মিলে বিষয়টি মীমাংসা করি। কিন্তু নাইম আমার ননদ তাসলিমার ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাকে বারবার ফোন দিয়ে বিরক্ত করতে শুরু করে। একপর্যায়ে বিয়ে না করলে আমার দেবরকে হত্যা করার হুমকি দেন। এ ঘটনার পর আমাদের নরসিংদী থেকে গ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তিন দিন আগে মীমাংসা করে আবার নরসিংদীতে আসি। কিন্তু আমার দেবর মীমাংসার পক্ষে ছিল না। এতে আমার স্বামী একাই মীমাংসা করে শহরে চলে আসেন। আর মীমাংসার পক্ষে না থাকায় হাসান শহরে আসতে পারবে না—এমন চিন্তা করে ক্ষোভে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে সে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার আগের রাতে হাসান আমার স্বামীকে ফোন করে হুমকি দিয়ে বলেছিল, ‘তোর রক্ত দিয়ে আমি গোসল করব। তুই যখন প্যাঁচ ভেঙে গেছিস, আমাদের চিন্তা করিস না। তোর মতো ভাইয়ের দরকার নাই। আমি যদি নুরুর সন্তান হয়ে থাকি, তাহলে তোর রক্ত দিয়ে গোসল করব।’ পরদিন সকালে আল আমিন বাজারে গেলে হাসান তাকে হত্যা করে।
শিল্পী বেগম বলেন, আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।
নিহতের বোন তাসলিমা বেগম বলেন, নাইম আমাকে প্রতিনিয়ত ফোন দিয়ে বিরক্ত করত। আমি কথা না বললে আমার ভাইদের মেরে ফেলার হুমকি দিত। কিছুদিন আগে লোকজন নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলাও করে সে। এরপর ভয়ে আমরা গ্রামের বাড়িতে চলে যাই। পরে নাইমের সঙ্গে মীমাংসা করে আমরা আবার শহরে আসি। আর এই শহরে আসাই আমার ভাইয়ের জন্য কাল হলো। এক ভাই অন্য ভাইকে খুন করল।
নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফরিদা গুলশানারা কবির বলেন, সকালে আল আমিন নামে একজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় আনা হলে আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পাই। তার পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঘাতক ছোট ভাই হাসান ও নাইমকে আটক করা হয়েছে। মামলা পর তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে। নাইমের নামে বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে বলে জানান তিনি।
৭ দিন আগে
নরসিংদীতে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা, অনিশ্চয়তায় ২০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ
নরসিংদীতে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় একটি কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে ২০ জন পরীক্ষার্থীকে। যে স্বপ্ন নিয়ে তারা এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিল, সে প্রস্তুতির হোঁচট খেয়েছে প্রথম দিনের পরীক্ষাতেই।
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার কারারচর মৌলভী তোফাজ্জল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে ওই শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা নরসিংদী প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে তাদের অভিযোগ উপস্থাপন করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ওই কেন্দ্রে বিভিন্ন কক্ষে তিন শতাধিক পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে একটি কক্ষে ২০ জন পরীক্ষার্থীর হাতে দেওয়া হয় ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র, যে প্রশ্নপত্র নিয়মিত, অর্থাৎ ২০২৬ সালের পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য নয়। এমন সিলেবাস-বহির্ভূত প্রশ্নপত্রে প্রথম দিনের বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা দিয়েছে পরীক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষার দিনই তারা আপত্তি তুললে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা তাদের ধমক দিয়ে ওই প্রশ্নেই পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু প্রশ্নপত্র সঠিক না হওয়ায় ২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সবাই এখন পরীক্ষায় নিশ্চিত ফেল করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে।
পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরা জানান, কারারচর মৌলভী তোফাজ্জল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ওই কক্ষে চারটি স্কুলের মোট ২০ জন পরীক্ষার্থী প্রথম দিনের বাংলা প্রথম পত্র বিষয়ে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ছে। স্কুল চারটি হলো: পুটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, ফেমাস ইনস্টিটিউট, হাজী শমসের আলী উচ্চ বিদ্যালয় এবং ঘাগটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়।
শমসের আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী মাহিমা আক্তার মিম জানায়, ক্লাসে তার রোল নম্বর ছিল ১ এবং সে এসএসসির আগে স্কুলের টেস্ট পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে পাস করে। তবে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ায় সে বাংলায় এখন ২০ নম্বরও পাবে না বলে ধারণা করছে। তার মতো এমন বাকি পরীক্ষার্থীরাও বাংলায় ফেল করবে বলে আশঙ্কা করছে।
ভুক্তভোগী নাদিরা সুলতানা, উম্মেহানি, নাজির আহমেদ, বিশাল দাস, সম্রাট ভূইয়া, সিয়াম হোসেন, আমিনুল, অভি, সাকিব, মো. শাহপরান জানায়, পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্র হাতে পেয়েই তারা কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রশ্নপত্র ভুলের বিষয়টি জানিয়েছে, কিন্তু কেন্দ্রের দায়িত্বরত শিক্ষকরা তাদের ধমকিয়ে ওই প্রশ্নেই পরীক্ষা দিতে বলেন এবং এ বিষয়টি বাইরের কাউকে না জানাতে অনুরোধ করেন।
এ বিষয়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. রাশেদুজ্জামান জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ আমরা সকলেই জেনেছি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রে দায়িত্বরতদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পরে ঊর্ধ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৬ দিন আগে
স্বাস্থ্যখাতের যেকোনো সমস্যা সমাধানের প্রস্তুতি রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, স্বাস্থ্যখাতের যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের পর নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার পীরপুর ঈদগাহ ময়দানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি, আরও করব। প্রতিটি মুহূর্তে আমরা জনসেবায় নিয়োজিত আছি। স্বাস্থ্যখাতের যেকোনো সমস্যা সমাধানের প্রস্তুতি এই সরকারের রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আপনাদের সবার সহযোগিতায় এবারের রমজানে কোনো দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি পায়নি। কোনো কষ্ট মানুষ অনুভব করেনি। আশা করি, দেশবাসীকে একটি শান্তিপূর্ণ ঈদ উপহার দিতে আমরা অনেকটা সফল হয়েছি। মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।’
এর আগে সকাল ১০টায় পীরপুর ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করেন মন্ত্রী। নামাজে ইমামতি করেন মুফতি আবু বক্কর সিদ্দিকী।
নরসিংদীর বিভিন্ন ঈদগাহ মাঠে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সী মানুষ ঈদের নামাজ আদায় ও আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঈদগাহ ময়দানে সমবেত হন।
জেলার সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় গাবতলী ঈদগাহ ময়দানে। এছাড়া নরসিংদী জেলা কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সদর উপজেলার চিনিশপুর ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন। পলাশে ঈদের নামাজ আদায় করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এবং শিবপুরে ঈদের নামাজ আদায় করেন নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী।
জেলার বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত ঈদের জামাতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
৪৯ দিন আগে
নরসিংদীতে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ মিলল প্রতিবেশীর ছাদে
নরসিংদীর রায়পুরায় নিখোঁজের এক দিন পর প্রতিবেশীর ছাদে মিলেছে ৬ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ।
রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের চরমরজাল এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আজ (রবিবার) সকালে চরমরজাল গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার একতলা বাড়ির ছাদে আব্দুর রহমান নামের এক শিশুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন ওই বাড়ির লোকজন। পরে বিষয়টি স্থানীয়রা পুলিশকে জানান। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত আব্দুর রহমান ওই এলাকার প্রবাসী শুকুর আলী ও সুমি আক্তারের ছেলে ছিল।
পরিবারের দাবি, গতকাল (শনিবার) কোনো একসময় বাড়ি থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয়ে যায়। এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় রায়পুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়। নিখোঁজের পর থেকে পরিবার ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন, কিন্তু শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে আজ সকালে ইদ্রিস মিয়ার বাড়ির ছাদে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ওসি মো. মজিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তিনি। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। তবে প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ বলা যাচ্ছে না। শিশুটির শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্নও নেই। আমরা ক্রাইম সিন টিমকে খবর দিয়েছি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
এ ঘটনার কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের মাধ্যমে আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
৫৫ দিন আগে
হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়ে হতাশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নরসিংদীর পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
ডাক্তারদের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পলাশ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন মন্ত্রী।
এ সময় তিনি হাসপাতালে কর্তব্যরত ২১ জন ডাক্তারের মধ্যে ৫ জন ছুটিতে থাকায় বাকি ১৬ জনের মধ্যে ৮ জনের উপস্থিতি দেখতে পান। এর মধ্যে ২ জন ডাক্তার আবার নির্ধারিত সময়ের পরে আসেন। পরে তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, রোগীদের ওয়ার্ড, ডাক্তারদের চেম্বারগুলো পরিদর্শনসহ সার্বিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ৫ মার্চ সংবাদমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন দেখতে পাই, সেখানে উল্লেখ ছিল—হাসপাতালে ডাক্তাররা সময়মত উপস্থিত হন না। এর বিপরীতে ডাক্তারগণ বক্তব্য দিয়েছিলেন, ডাক্তাররা হাসপাতালের উপরতলায় ছিলেন, আর সংবাদকর্মীরা নিচতলায় ছিলেন। সংবাদটি প্রকাশের পর ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আজকের এই আকস্মিক পরিদর্শন।
তিনি বলেন, ‘আসলে পরিস্থিতিটি কী, সেটি দেখার জন্যই আসা। যা আমরা শুনি, তাই কি সত্য, না এর বাইরেও কিছু আছে; আসলেই মানুষ সেবা পাচ্ছে কি না। তবে এখানে এসে আমি নিজেই হতাশ। মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে গণমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়, তারপরও তারা সংশোধন না হয়ে নিজেদের মতোই চলছেন। আমি ভেবেছিলাম, এবার অন্তত সকল ডাক্তার যার যার কর্মস্থলে সঠিক সময়ে উপস্থিত হবেন, কিন্তু পরিদর্শনে এসে সেটা দেখতে পাইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ হাসপাতালে মোট ২৭টি পোস্ট রয়েছে। কর্মরত পোস্টে ডাক্তার আছেন ২১ জন। তার মধ্যে আমরা উপস্থিত পেয়েছি মাত্র ৮ জন ডাক্তার। কিন্তু এ ৮ জনের মধ্যেও ২ জন নির্ধারিত সময়ের পরে এসেছেন। এছাড়া ৫ জন ডাক্তার ছুটিতে রয়েছেন।
‘ডাক্তাররা মানবিক সেবায় নিয়োজিত। আমরা স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই এবং তা ডাক্তারদের মাধ্যমেই পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু তারাই সময়মতো উপস্থিত হন না। যারা উপস্থিত হননি তাদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ সময় রেবিক্স টিকার বিষয়ে এ প্রশ্নের জবাবে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ‘আমরা নগদ টাকা দিয়ে রেবিক্স টিকা কিনছি। প্রতি উপজেলায় টিকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দেশে রেবিক্স টিকার আর সমস্যা হবে না।’
হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশতিয়াক আহমেদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আব্দুল্লাহ আল-মামুন, পলাশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কুতুবুল আলম প্রমুখ।
৬৩ দিন আগে
নরসিংদীতে কিশোরীকে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ-হত্যা: ৭ আসামি রিমান্ডে
নরসিংদীতে কিশোরীকে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ গ্রেপ্তার ৭ আসামির ৮দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রবিবার (১ মার্চ) জুডিশিয়াল দ্বিতীয় আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান এই আদেশ দেন।
এর আগে, গত শুক্র ও শনিবার দুদিনে ৭ আসামির ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওমর কাইয়ুম। এরপর আজ (রবিবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নরসিংদী জজ কোর্টের দ্বিতীয় জুডিশিয়াল আদালতে তোলা হয় ওই ৭ আসামিকে।
এদিন বাদীপক্ষ স্বপ্রণোদিত হয়ে আইনজীবী আদালতে দাঁড়ালেও আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী আদালতে দাঁড়াননি।
ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা থেকে শুক্রবার দিবাগত রাতে নূরা এবং একই সময়ে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করে নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এর মাধ্যমে নিয়ে কিশোরীর মা ফাহিমা বেগমের করা মামলায় ৯ জন আসামির মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
তার আগে, গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে কিশোরী আমিনার বাবার কাছ থেকে নূরার নেতৃত্বে একটি চক্র তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষাখেত থেকে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মামলার এজহারের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ষণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৪ জন এবং বিচারকাজে সহায়তাকারী সাবেক মেম্বারসহ ৩ জন নিয়ে মোট ৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। বাকী দুই পলাতক আসামিকেও দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
৬৯ দিন আগে
নরসিংদীতে ধর্ষণের পর হত্যা: আটক ৫
নরসিংদীর মাধবদীতে আমেনা আক্তারকে (১৫) জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মাধবদী থানায় সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিং করেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। তিনি জানান, এ ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে নিহতের মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলা করেছেন।
ডিআইজি রেজাউল করিম বলেন, ইতোমধ্যে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। আটকরা হলেন— সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আহম্মদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান, নূরের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব, এবাদুল্লাহ ও গাফফার। তাদের মধ্যে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ২ জন এবং সালিশকারী ৩ জন।
তিনি আরও বলেন, বাকিদের আটকের জন্য অভিযান চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাদের আটক করব। কোনো অপরাধীরাই রেহাই পাবেন না।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেন, কিশোরীকে নৃশংস ও নিষ্ঠুরভাবে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানার পরপরই নরসিংদীর পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে হত্যায় জড়িতদের দ্রুত আটকের নির্দেশ দিয়েছি। যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে এ ধরনের ঘটনা সমাজে আর না ঘটে।
তিনি আরও বলেন, ধর্ষণকারীদের পক্ষে যাতে কেউ কোনো সহানুভূতি না দেখায় এবং নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যারা এ নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড এবং ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত তাদের যেন কোনো ধরনের আইনি সহায়তা না দেওয়া হয়; যাতে অপরাধীরা বুঝতে পারে, অপরাধ করলে আইনি সহায়তা পাওয়া যাবে না; তখন ভয়ে সমাজে অপরাধও কমে যাবে।
খায়রুল কবির আরও বলেন, আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। যারা সমাজে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হবেন অবশ্যই তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। কে কোন দল করে, কে কোন দলের, কোন মতের—সেটা দেখার বিষয় না। অপরাধীদের কোনো দল নেই, তারা অপরাধী; অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে, নিহত আমেনার ময়নাতদন্ত নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. ফরিদা গুলশানারা কবিরের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের মেডিকেল-বোর্ড ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছেন।
নিহতের মা ফাহিমা বেগম জানান, কোথায় মরদেহ দাফন করা হবে, তা অনিশ্চিত। নিহত আমেনার মা, সৎ পিতা আশরাফ মিয়া ও ভাই সিফাত এখনও মাধবদী থানা হেফাজতে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাধবদী থানার মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষাখেত থেকে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, নিহতের পিতা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সুবাদে স্ত্রী-কন্যাসহ মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জনের একটি দল এলাকা থেকে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসাও করা হয়।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে আশরাফ হোসেন তার কাজ শেষে মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছলে নূরার নেতৃত্বে আবারও ৫ জন মিলে তার বাবার কাছ থেকে আমেনাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। পরে মেয়েটির পরিরেরর লোকজন বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুজির পরও না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান। সকালে একই এলাকার একটি সরিষাখেত থেকে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় আমেনা আক্তারের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে নিহত মেয়ের বাবা মো. আশরাফ জানান, নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জন লোক আমার সামনে থেকে আমার মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে রাতে আর পাইনি। সকালে আমরা জানতে পারি আমেনার মরদেহ ঘটনাস্থলে পড়ে আছে। আমার সন্তানকে যারা হত্যা করেছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
৭১ দিন আগে
বাবার কাছ থেকে তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ, পরে হত্যার অভিযোগ
নরসিংদীর মাধবদীতে আমেনা আক্তার (১৫) নামে এক তরুণীকে তার বাবার কাছ থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাধবদী থানার মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষাখেত থেকে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, নিহতের পিতা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সুবাদে স্ত্রী-কন্যাসহ মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জনের একটি দল এলাকা থেকে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসাও করা হয়।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে আশরাফ হোসেন তার কাজ শেষে মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছলে নূরার নেতৃত্বে আবারও ৫ জন মিলে তার বাবার কাছ থেকে আমেনাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। পরে মেয়েটির পরিরেরর লোকজন বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুজির পরও না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান। সকালে একই এলাকার একটি সরিষাখেত থেকে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় আমেনা আক্তারের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে নিহত মেয়ের বাবা মো. আশরাফ জানান, নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জন লোক আমার সামনে থেকে আমার মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে রাতে আর পাইনি। সকালে আমরা জানতে পারি আমেনার মরদেহ ঘটনাস্থলে পড়ে আছে। আমার সন্তানকে যারা হত্যা করেছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, মেয়েটির সঙ্গে নূরার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এটি মেয়েটির পরিবার মেনে নেয়নি। গতকাল (বুধবার) তাকে বাবার কাছ থেকে নূরা তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল বলে জেনেছি। পরে সকালে মেয়েটির মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অপরাধীদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে পুলিশ। ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে আটক করা হয়েছে। ধর্ষণের বিষয়টি তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।
৭২ দিন আগে
নরসিংদীতে নিখোঁজের ২০ ঘণ্টা পর ডোবা থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার
নরসিংদীতে নিখোঁজের ২০ ঘণ্টা পর জোনায়েদ মিয়া (৮) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার শীলমান্দী ইউনিয়নের বাগহাটা গ্রামের একটি বাড়ির পাশের ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত জোনায়েদ পশ্চিম বাগহাটা গ্রামের জজ মিয়ার ছেলে। সে পার্শ্ববর্তী আব্দুল আজীজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুর ১২টার দিকে জোনায়েদ বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। পরে স্বজন ও প্রতিবেশিরা বাড়ির আশপাশসহ বিভিন্ন জায়গায় খুঁজে এবং মাইকিং করেও জোনায়েদের কোনো সন্ধান পায়নি। এ ঘটনায় নরসিংদী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করে তার পরিবার। বুধবার সকালে বাড়ির পাশে ডোবায় কচুরিপানার ভেতর জোনায়েদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের চাচা স্বপন মিয়া বলেন, জোনায়েদ পানিতে ডুবে মারা যায়নি। তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে ডোবায় ফেলে গেছে। আমাদের কোনো শত্রু নেই। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, আমরা খবর পেয়ে ডোবা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতাল রিপোর্ট তৈরি করে মর্গে পাঠিয়েছি। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আলামত সংগ্রহ ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৭৩ দিন আগে
নরসিংদীর ৫টি আসনের ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছে নির্বাচনি সরঞ্জাম
নরসিংদীর ৫টি আসনের ৬৬৩ ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সরঞ্জাম ও ব্যালট পেপার।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে ৬টি উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এসব সরঞ্জাম বুঝে নেন ভোট গ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের উদ্দেশ্যে জেলার ৫টি আসনের ৬৬৩ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৩৯৩ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, সিলেটের ৫টি নির্বাচনি এলাকার ৫টি পৌরসভা ও ৭১ টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১৯ লাখ ৭১ হাজার ২৩৭ জন। এর মধ্যে পুরষ ভোটার সংখ্যা ১০ লাখ ৩০৪ জন, নারী ভোটার ৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৮৭ জন, আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩৬ জন।
৮৭ দিন আগে