নরসিংদী
নরসিংদীতে এসআরবির অভিযান, অস্ত্র-মাদকসহ টাকা উদ্ধার
নরসিংদীর ঘোড়াদিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, মাদক ও নগদ ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান এসআরবি-১১-এর নরসিংদী ক্যাম্পের কমান্ডার মো. আল মাসুদ খান।
এর আগে রাত ১২টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়।
এসআরবি কমান্ডার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার ঘোড়াদিয়া এলাকায় মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত শরীফ ভূইয়ার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
এ সময় বাড়ির গোডাউন থেকে একটি বিদেশি রিভলভার, একটি দেশি পাইপগান, বিভিন্ন ধরনের ৮২ রাউন্ড গুলি, দেশি ৯টি অস্ত্র, ৭৫ বোতল স্কাফ সিরাপ ও নগদ ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা গুলির মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় থানা থেকে খোয়া যাওয়া শর্টগানের গুলি থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন এই কর্মকর্তা।
তবে অভিযানে বাড়ির মালিক শরীফ ভূইয়াকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তাকে আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
৯ দিন আগে
নরসিংদীতে ১৪০ রাউন্ড কার্তুজসহ নারী বাসযাত্রী আটক
নরসিংদীর রায়পুরায় যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ১৪০ রাউন্ড কার্তুজসহ এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোর সোয়া ৪টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাহমুদাবাদ এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
আটক স্বপ্না আক্তার (৪২) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাদুঘর এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রায়পুরা থানা পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় ঢাকাগামী এনা পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে যাত্রী স্বপ্নার কাছ থেকে ১৪০ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, আটক যাত্রীর কাছ থেকে উদ্ধার করা কার্তুজগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কোথায় নেওয়া হচ্ছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় মামলা দায়ের করে আটক স্বপ্নাকে নরসিংদীর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
১২ দিন আগে
নরসিংদীতে পৃথক সড়ক দুঘর্টনায় শিশুসহ নিহত ৩
নরসিংদী, ১৫ অক্টোবর (ইউএনবি)— নরসিংদীতে পৃথক সড়ক দুঘর্টনায় শিশুসহ তিনজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জেলার রায়পুরা, শিবপুর ও বেলাব উপজেলায় দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
এদিন দুপুরে রায়পুরা আঞ্চলিক সড়কের মাহমুদনগর এলকায় দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংর্ঘষে একজন নিহত হন। এ সময় চালকসহ আরও ১১ জন আহত হন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, দুপুর ২টার দিকে নরসিংদীর আরশিনগর স্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা রায়পুরায় যাচ্ছিল। অটোরিকশাটি মাহমুদনগর ১০ নম্বর সেতুর কাছে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে সংর্ঘষ হয়ে। এতে একটি অটোরিকশা সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায় এবং অপরটি রাস্তার পাশে উল্টে যায়। এতে দুটি অটোরিকশাই দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
পরে আশপাশের লোকজন আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাদের মধ্যে উজ্জ্বল শীল (৩৫) নামের এক যাত্রীকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত উজ্জ্বল রায়পুরা উপজেলার মেথীকিন্দা গ্রামের নারায়ন চন্দ্র শীলের ছেলে।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. ফরিদা গুলশান আরা কবির জানান, দুপুরে সড়ক দুর্ঘটনার ১২ জন রোগী আমাদের কাছে আসে। এর মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় পাই। অহতদের মধ্যে একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকিরা এখানেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এর আগে সকালে শিবপুর উপজেলার শিবপুর কলেজ গেট এলাকায় চলন্ত ইটবাহী ট্রলি থেকে ছিটকে পড়ে চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে মো. ছাব্বির মিয়া (১৯) নামের এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
নিহত ছাব্বির মিয়া উপজেলার মাছিমপুর ইউনিয়নের ধানুয়া গ্রামের মো. মাসুদ মিয়ার ছেলে।
এছাড়া সকালে বেলাব উপজেলার পাটুলি নদীপাড় এলাকায় আলিশা আক্তার নোহা (৩) নামের এক শিশু ইটবাহী ট্রলির চাপায় মারা যায়। সে পাটুলি গ্রামের কাশেম মিয়ার মেয়ে।
মৃত্যুর ঘটনাগুলো নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান, শিবপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া ও বেলাব থানার ওসি এস এম আমানউল্লাহ।
২৩ দিন আগে
বেড়াতে যাওয়ার পথে সড়কে ঝরল দুই বন্ধুর প্রাণ
শ্রীমঙ্গলে বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলআরোহী নরসিংদীর দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে সরাইল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বৈশামুড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন নরসিংদী শহরের বৌয়াকুড় মহল্লার প্রয়াত ক্ষিতীশ দাসের ছেলে অনুপ কুমার দাস (৫৭) এবং একই শহরের শিববাগ মহল্লার বাসিন্দা ও গাজীপুরের পূবাইল আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ইসলামি ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম (৫৮)। তারা সম্পর্কে বন্ধু ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ (বুধবার) সকালে দুই বন্ধু মোটরসাইকেলে করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বৈশামুড়া এলাকায় পৌঁছালে একটি মালবাহী ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে তারা সড়কের পাশে ছিটকে পড়েন।
দুর্ঘটনাস্থলেই অনুপের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত আনোয়ারুলকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান। পরে খবর পেয়ে নিহতদের স্বজনরা দেহ নরসিংদীতে নিয়ে আসেন।
অনুপের ছোট ভাই তরুণ কুমার দাস বলেন, তার ভাই একসময় প্রবাসে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন।
দুই বন্ধুর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দুজনের মধ্যে গভীর ঘনিষ্ঠতা ছিল, চলেও গেলেন একই সঙ্গে।’
অনুপের দেহ নরসিংদীর শ্মশানে দাহ করা হয়েছে। অন্যদিকে আনোয়ারুলের দেহ তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
সরাইল খাঁটিহাতা (কুট্টাপাড়া) হাইওয়ে থানার পুলিশ পরিদর্শক আবদুল হালিম জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাক ও মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন আনোয়ারুল। এ সময় দুই আরোহীর মাথায় হেলমেট ছিল বলেও জানান তিনি।
২৪ দিন আগে
নরসিংদীতে মাদক সেবনকালে পুলিশ কনস্টেবলসহ আটক ৪
নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় মাদক কারবারিদের সঙ্গে মাদক সেবনের সময় এক পুলিশ কনস্টেবলসহ ৪ জনকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার মাটিয়ালপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বেলাব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
আটকরা হলেন: বেলাব থানার পুলিশ কনস্টেবল শামসুল ইসলাম, বেলাব মাটিয়ালপাড়া গ্রামের উজ্জল মিয়া (৩৭), ইব্রাহিমপুর গ্রামের রকি (২৮) ও মো. বাদল (৩৭)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল (সোমবার) রাতে মাটিয়ালপাড়া এলাকার একটি বাগানবাড়িতে মাদক কারবারিদের সঙ্গে বেলাব থানার পুলিশ কনস্টেবল শামসুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন মাদক সেবন করছিলেন। ঘটনাটি টের পেয়ে স্থানীয় জনতা বাগানবাড়িটি ঘেরাও করে। পরে তাদের হাতেনাতে আটক করেন স্থানীয়রা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আমান উল্লাহ জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বেলাব থানায় মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা হয়েছে।
৮১ দিন আগে
নরসিংদীতে ট্রেনের ছাদ থেকে নামতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু
নরসিংদী রেলস্টেশনে তিতাস কমিউটার ট্রেনের ছাদ থেকে নামতে গিয়ে দুই বগির মাঝে পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম মো. আমীর হোসেন (২৮)। তিনি নরসিংদী সদর উপজেলার নগর বানিয়াদী গ্রামের মৃত সামসুল হকের ছেলে।
রেলওয়ে পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই বন্ধুর সঙ্গে আমীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কেল্লা শাহের মাজারে গিয়েছিলেন। তারা রাতভর সেখানে থেকে শুক্রবার সকালে তিতাস কমিউটারের ছাদে উঠে নরসিংদী ফিরছিলেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ট্রেনটি নরসিংদী রেলস্টেশনে পৌছায়।
এ সময় ভিড়ের মধ্যেই ছাদে উঠা লোকজন স্টেশনে নামছিল। ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে কোথাও টান লেগে আমীর নিয়ন্ত্রণ হারান এবং ট্রেনের দুই বগির মাঝখানে পড়ে যান। এ সময় ট্রেনটি তাকে অন্তত ৩০ গজ দূরে টেনে নিয়ে যায়।
রেলস্টেশনে উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতাল নেওয়া হয়। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, ট্রেনে কাটা পড়া ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার মরদেহ রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আমীরের ঠিক আগে ট্রেনের ছাদ থেকে নেমেছেন তার বন্ধু আক্রাম হোসেন। তিনি বলেন, ‘একসঙ্গেই আমরা তিন বন্ধু কেল্লা শাহর মাজারে গিয়েছিলাম। ভোরে ট্রেনে উঠার সময় ভিড়ের কারণে ভেতরে যেতে না পেয়ে ট্রেনের ছাদে উঠি। নরসিংদী আসার পর দুজন ছাদ থেকে নামতে পারলেও আমীর পারেনি। চলতে শুরু করা ট্রেনের দুই বগির মাঝে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।’
নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক দিলীপ চন্দ্র সরকার বলেন, আমীরের পরিবারের সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
৮৫ দিন আগে
নরসিংদীতে পানিতে ডুবে দুই শিশু নিহত
নরসিংদীর মনোহরদীতে সড়কের পাশের ডোবায় ডুবে তাওহীদ (৭) ও নাবিল (৬) নামের দুই শিশু নিহত হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের নোয়াদিয়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই শিশু সম্পর্কে ফুফাতো-মামাতো ভাই ছিল। নিহত নাবিল মনেহরদী উপজেলার একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের নোয়াদিয়া গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে আর তাওহীদ পার্শ্ববর্তী শিবপুর উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের বৈলাব গ্রামের মো. মাহবুবুর রহমানের ছেলে।
নিহতদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে নোয়াদিয়া এলাকায় সড়কে ঘুরতে বের হয়েছিল নাবিল ও তাওহীদ। একপর্যায়ে নির্জন সড়কটির একটি ডোবায় পড়ে যায় নাবিল। তাকে টেনে তুলতে গিয়ে তাওহীদও ডোবায় ডুবে যায়। কিছুক্ষণ পর একজনের মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করতে টেনে তোলার সময় দেখা যায় তার হাতে অপর আরেক শিশুর হাত ধরা। এ সময় স্থানীয়রা ওই শিশুটিকেও পানির নিচ থেকে উদ্ধার করে।
পরে দুজনকে অচেতন অবস্থায় শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, নিহত দুই শিশুর পরিবারের সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের মরদেহ বিনা ময়নাতদন্তে হস্তান্তর করা হয়েছে।
৯১ দিন আগে
নরসিংদীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ নিহত ৩
নরসিংদীর শিবপুরে পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেলআরোহী দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। অপরদিকে, মনোহরদীর পুড়াদিয়া-বেলাবো সড়কের রাধাখালী সেতু এলাকায় নছিমন উল্টে চালক নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার ইটাখোলা-মনোহরদী আঞ্চলিক সড়কের বাজনাব এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। একই দিন সকালে নছিমনচালক একই শাওন (৩০) নিহত হন।
নিহত দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী হলেন— শিবপুরের আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী স্বাধীন (১৯) ও নাফিস (২২)। নাফিজের বাড়ি নরসিংদী সদর উপজেলার হাজিপুর গ্রামে এবং স্বাধীনের বাড়ি বাদুয়ারচর পুরানপাড়ায়।
নিহতের বন্ধুরা জানান, আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হলো শহিদ আসাদ কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে। আজ (শনিবার) তাদের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের মার্কেটিং বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষে তারা কেন্দ্র থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। বাজনাব এলাকায় পৌঁছালে শিবপুরগামী একটি মুরগিবাহী পিকআপ ভ্যান তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এ সময় দুই শিক্ষার্থী সড়কে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে খবর পেয়ে শিবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অপরদিকে, আজ সকালে মনোহরদীর পুড়াদিয়া-বেলাবো সড়কের রাধাখালী সেতু এলাকায় নছিমন উল্টে চালক শাওন (৩০) নিহত হয়েছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সকালে জীবিকার সন্ধানে নছিমন নিয়ে মনোহরদী উপজেলা থেকে বেলাবোর উদ্দেশে রওনা দেন শাওন। পথে রাধাখালী সেতুর কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ গাড়ির একটি চাকা খুলে যায়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
নিহত শাওন মনোহরদী উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের ব্রাহ্মণেরগাঁও গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে।
বেলাবো থানার ওসি এস এম আমান উল্লাহ বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং পরিবারের অনুরোধের ভিত্তিতে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়া পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
১১২ দিন আগে
নরসিংদীতে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
নরসিংদীর রায়পুরায় পানিতে ডুবে দুই শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভেলুয়ারচর গ্রামের নামারচর
বিলে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত শিশুরা হলো— ভেলুয়ারচর গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের মেয়ে নিপা (৭) ও একই গ্রামের নূরুজ্জামানের মেয়ে জান্নাতি (৮)। তারা উভয়েই ভেলুয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ১০টার দিকে এই দুই শিক্ষার্থীসহ ৪-৫ জন মিলে বাড়ির সামনে নামারচর বিলে গোসল করতে যায়। ওই সময় তারা দুইজনেই পানিতে ডুবে যায়। তখন তাদের সঙ্গে থাকা অন্যান্য শিশুরা আশপাশের লোকজনদের ডেকে আনে। তারা দুই শিশুকে পানির নিচ থেকে উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শীলা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভেলুয়ারচর থেকে দুই শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছিল।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১১৩ দিন আগে
রায়পুরায় পানিতে ডুবে ৩ শিশু নিহত, নিখোঁজ এক
নরসিংদীর রায়পুরায় নদীতে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে তিন শিশু নিহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আরও একটি শিশু নিখোঁজ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চান্দেরকান্দী ইউনিয়নের বড়কান্দা এলাকার কাকন নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তিন শিশু হলো— বড়কান্দা গ্রামের শামীম মিয়ার মেয়ে তাবিয়া (১৩), একই এলাকার রুবেল মিয়ার মেয়ে জান্নাত ইসলাম (৯) ও রুবেল মিয়ার মেয়ে আয়েশা (৯)। তারা সকলেই স্থানীয় গাউছিয়া নূরে মদিনা মহিলা মাদরাসার শিক্ষার্থী।
পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে মাদরাসা থেকে ৬/৭ জন শিশু শিক্ষার্থী কানন নদীতে গোসলে যায়। এ সময় একজন তলিয়ে গেলে তাকে বাঁচানোর চেষ্টাকালে অন্যান্যরাও পানিতে তলিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উল্লেখিত তিনজনকে উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এ সময় আরও দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয় এবং একটি শিশুর খোঁজ পাওয়া যায়নি।
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আশরাফুর রহমান বলেন, আমাদের এখানে তিন শিশুকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল।
এ ব্যাপারে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় তিন শিশুর মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। আরও দুই শিশুকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং এক শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলে শুনেছি। নিহত শিশুদের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১১৪ দিন আগে