সিরাজগঞ্জ
যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত, তীব্র ভাঙনের কবলে সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চল
পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের কারণে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন চরাঞ্চলে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গাছপালা ও বিস্তীর্ণ জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে। কয়েকদিন আগে পানি কিছুটা কমলেও শনিবার সকাল থেকে আবারও বাড়তে শুরু করে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে চৌহালী, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কয়েকটি এলাকায়। ইতোমধ্যে কাজিপুর উপজেলার খাসরাজবাড়ি ও চরগিরিশ, চৌহালীর চর সলিমাবাদ, সিরাজগঞ্জ সদরের পূর্ব বাহুকা ও কাওয়াকোলা চর এবং শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে ভাঙনে বহু ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গাছপালা ও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
ভাঙনের মুখে অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই এখন চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
যদিও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব বাহুকা এলাকায় ভাঙন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে চৌহালী ও কাজিপুরের চরাঞ্চলে ভাঙন এখনও অব্যাহত রয়েছে। ভাঙন রোধে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত মাসে দুই দফায় চৌহালী ও কাজিপুরে প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তাদের দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ড সময়মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করতে না পারায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এছাড়া ভাঙন শুরু হওয়ার পরই শুধু জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যা স্থায়ী সমাধান নয়। ফলে প্রতি বছরই একই ধরনের ভাঙনে বহু পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, পাহাড়ি ঢলের কারণে যমুনা নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। স্রোতের তীব্রতা এবং নদীর তলদেশে ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ভাঙন অব্যাহত থাকলেও আপাতত বন্যার আশঙ্কা নেই জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৩ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে গ্রীষ্মকালীন ঝিঙ্গা চাষে কৃষকের মুখে হাসি
সিরাজগঞ্জে এবার গ্রীষ্মকালীন ঝিঙ্গাসহ বিভিন্ন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে ঝিঙ্গার দাম ভালো থাকায় এ চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় জেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে ঝিঙ্গাসহ বিভিন্ন সবজি চাষের আগ্রহও বেড়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার চরাঞ্চলসহ নয়টি উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন ঝিঙ্গা ও অন্যান্য সবজি চাষের জন্য ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে সবজি চাষ করেছেন কৃষকেরা। সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, বেলকুচি, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায়।
এ মৌসুমে ঝিঙ্গার পাশাপাশি কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, পটোল, বেগুন, ঢেঁড়স, পেঁপে, লাউ, ডাঁটা ও সিমের চাষ হয়েছে। প্রায় তিন মাস আগে এসব মৌসুমি সবজির আবাদ শুরু করেন কৃষকেরা। অন্যদিকে, হাইব্রিড সবজির চাষ সারা বছরই হয়ে থাকে।
কৃষকেরা জানান, ঝিঙ্গার উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হলেও লাভ বেশি। বাজারে চাহিদাও ভালো থাকায় এ সবজির চাষে আগ্রহ বাড়ছে। বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে ফসলি জমিতেও ঝিঙ্গার আবাদ হচ্ছে। বিশেষ করে যমুনা নদী তীরবর্তী পাঁচ উপজেলার চরাঞ্চলে ঝিঙ্গাসহ বিভিন্ন সবজির চাষ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী নতুনপাড়া গ্রামের প্রান্তিক কৃষক সোরহাব আলী (৬৭) ২২ শতক জমি লিজ নিয়ে ঝিঙ্গা চাষ করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঝিঙ্গার পাশাপাশি বিভিন্ন সবজির চাষ করে আসছেন।
সোরহাব আলী জানান, এ মৌসুমে ঝিঙ্গা চাষে তার প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গত প্রায় দুই মাস ধরে জমি থেকে ঝিঙ্গা সংগ্রহ করছেন। মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি ঝিঙ্গা ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ইতোমধ্যে তিনি প্রায় ৭৫ হাজার টাকার ঝিঙ্গা বিক্রি করেছেন। আরও এক থেকে দুই মাস উৎপাদন অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন। তার মতে, খরচের তুলনায় এ জমি থেকে কয়েক গুণ লাভ হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক জেরিন আহম্মেদ বলেন, আগাম গ্রীষ্মকালীন ঝিঙ্গাসহ বিভিন্ন সবজির আবাদে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এবার অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের পরিচর্যার কারণে বাম্পার ফলন হয়েছে। কম খরচে লাভজনক হওয়ায় কৃষকেরা ঝিঙ্গা চাষে আরও আগ্রহী হচ্ছেন। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় তাদের সন্তুষ্টিও বেড়েছে।
৫ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে ১১ বছরের শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণ, গোপন না রাখলে প্রাণনাশের হুমকি
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার ঘুড়কা এলাকার এক স্কুলছাত্রীকে (১১) ধর্ষণের অভিযোগে আবু হানিফ শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে তাকে আটক করে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা। এরপর পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গ্রেপ্তার হানিফ শেখ ওই গ্রামেরই বাসিন্দা।
এ ঘটনায় গতকাল (রবিবার) রাতেই সলঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, হানিফ ওই স্কুলছাত্রীকে গতকাল (রবিবার) বিকেলে ডেকে গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এর আগেও তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার কথা কাউকে জানালে শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এ কারণে ভয়ে এত দিন সে বিষয়টি গোপন রেখেছিল।
তবে কিছুদিন ধরে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ও অসুস্থতা বুঝতে পেরে তার মা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপর শিশুটি ঘটনার কথা জানায়।
গতকাল তার পরিবারের সদস্যরা কৌশলে হানিফ শেখকে আটকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে সলঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে। পরে মামলা হয়ে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী বলেন, এ ঘটনায় গতকাল রাতে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
২৪ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে উত্তরবঙ্গমুখী মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও যানজট নেই
ঈদুল আজহা উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে উৎসব উদযাপন করতে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। এতে মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোর থেকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তবে যানজট না থাকায় স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন যাত্রীরা।
মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা পুলিশের প্রায় ৭০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। দিন-রাত পুলিশের তৎপরতায় চালক ও যাত্রীদের মধ্যেও সন্তোষ দেখা গেছে।
আজ সকাল থেকে যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড় থেকে উত্তরবঙ্গমুখী মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে ঘরমুখো মানুষ বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন। মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে তেমন কোনো যানজট দেখা যায়নি।
চালক ও যাত্রীরা জানান, যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, বিভিন্ন উড়াল সেতু এবং হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণের ফলে এবার ঈদযাত্রায় স্বস্তি ফিরেছে। যানজট না থাকায় নির্বিঘ্নে ও আনন্দের সঙ্গে বাড়ি ফেরা যাচ্ছে।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম এবং হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে জেলা ও হাইওয়ে পুলিশ সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।
তারা জানান, যমুনা সেতু গোলচত্বরসহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের বিভিন্ন রুটে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, মহাসড়কে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছে। হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় একটি নির্দেশনা মঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে, যেখান থেকে মাইকযোগে চালকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময়ে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন যমুনা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (সাইট অফিসার) সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন।
৪৪ দিন আগে
যমুনা সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় সোয়া ৩ কোটি টাকা টোল আদায়
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। সরকারি ছুটির ২ দিন আগে থেকেই যমুনা সেতুতে প্রায় দ্বিগুণ যানবাহনের চাপ বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এ সেতু দিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে প্রায় সোয়া ৩ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২২ মে) বিকেল থেকে সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপারের সংখ্যা বাড়তে থাকে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে ৩৪ হাজার ৯৬৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং সেতুতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ২৪ লাখ ৩৩ হাজার ৪০০ টাকা। ঈদযাত্রায় যানবাহনের চাপ সামলাতে ও দ্রুত টোল আদায়ে আজ শনিবার (২৩ মে) সকাল থেকে আরও ৪টি বুথ বাড়িয়ে ১৮টি টোল বুথ চালু করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও মহাসড়কে যানজট নিরসনে ৬ শতাধিক পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
৪৭ দিন আগে
সিরাজগঞ্জের এতিম শিশু রায়হান-রোহানের পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
সিরাজগঞ্জের দুই এতিম শিশু রায়হান ও রোহানের পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘বাবা মারা গেছেন ছোটবেলায়, চার মাস আগে হারিয়েছে মাকেও; নানীর অন্যের বাড়িতে কাজের টাকায় কোনো রকমে চলছে এতিম দুই শিশুর জীবন’–শীর্ষক একটি প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি বিএনপির চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’–এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়।
এরপরই প্রধানমন্ত্রী তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে শিশু দুটির খোঁজখবর নিতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আজ শুক্রবার (১৫ মে ২০২৬) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের একডালা গ্রামে শিশু দুটির বাড়িতে যায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর একটি প্রতিনিধিদল। সংগঠনটির সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে এবং উপদেষ্টা আবুল কাশেমের উপস্থিতিতে প্রতিনিধিদলটি রায়হান ও রোহানের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেয়।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদলটি শিশু দুটির নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে এককালীন ও মাসিক শিক্ষা বৃত্তির ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা, কাজিপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুস সালাম, বিএনপি নেতা হাসান, সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়েস, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ, ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান মহান, আব্দুল্লাহ আল মিসবাহসহ স্থানীয় নেতারা।
উল্লেখ্য, ৯ বছর বয়সী রায়হান ও ৭ বছর বয়সী রোহান শৈশবেই বাবাকে হারায়। গত চার মাস আগে তাদের মায়েরও মৃত্যু হয়। বর্তমানে তারা বৃদ্ধ নানা আজিজুর রহমান ও নানী মালেকা বেগমের সঙ্গে জরাজীর্ণ একটি ঘরে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছে। অর্থাভাবে শিশু দুটির পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
৫৫ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুকে ‘ধর্ষণ’
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পূর্ব লক্ষীকোলা গ্রামে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এক মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, ভুক্তভোগীর বাবা-মা ঢাকায় গার্মেন্টেসে চাকরি করেন। তাদের মেয়ে ওই গ্রামে নানা বাড়িতে থাকে। সে স্থানীয় একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। গত ২৬ এপ্রিল সকালে ওই শিশু স্কুলে যাওয়ার পথে একই এলাকার শান্ত (২৫) তাকে ২৫ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। শান্তর বাড়িতে কেউ ছিল না। এ সময় শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন তিনি। এ ঘটনার পর ওই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারে। শনিবার (২ এপ্রিল) শিশুটিকে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রবিবার (৩ এপ্রিল) রাতে মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করেছেন।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
৬৫ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে রাস্তার ইট তুলে নিলেন সাবেক ইউপি সদস্য
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মাণের ৪ দিনের মাথায় হেরিংবন রাস্তার ইট তুলে নিয়েছেন সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আফসার আলী। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২ মে) বিকেলে সাবেক ওই ইউপি সদস্যর নেতৃত্বে তার সহযোগীরা রাস্তার সব ইট তুলে নিয়ে যান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় করতোয়া ডিগ্রি কলেজের মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে ওই গ্রামের ইউসুফ আলী ও রফিক প্রামাণিকসহ কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াত করতেন। সম্প্রতি তাদের প্রতিবেশী মিনা খাতুন ওই জমির ওপর বাঁশের বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দেন। প্রায় ৩ সপ্তাহ অবরুদ্ধ থাকার পর সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাশফিকা হোসেন সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং তাদের চলাচলের জন্য ১০ ফুট প্রস্থ ও ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যর একটি ইট বিছানো রাস্তা নির্মাণ করা হয়।
তবে, ইউএনও বদলি হওয়ার পর গতকাল (শনিবার) বিকেলে সাবেক ওই ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা রাস্তার সব ইট তুলে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে ইউএনও সাবরিনা শারমিন বলেন, ওই গ্রামে সদ্য নির্মিত রাস্তার ইট তুলে নেওয়ার বিষয়টি জেনেছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৬৭ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জে চাঁদাবাজির মামলায় ছাত্রদল নেতা সোহেলকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার দত্তবাড়ি মহল্লার বাসিন্দা এবং পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
রবিবার (৩ মে) সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কার মাতুব্বর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, উক্ত পৌর এলাকার কোবদাসপাড়া আক্কার মোড় মহল্লায় মনোহারী ব্যবসায়ী শাহজাহান আলী দোকান পরিচালনা করতেন। গত ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় তার ব্যবসায়িক সহযোগী নাজমুল ইসলাম ব্যাবসা-সংক্রান্ত আলোচনার জন্য শাহজাহন আলীর বাড়িতে যান। কিন্তু তিনি বাড়িতে না থাকায় তার মায়ের সঙ্গে নাজমুল কথাবার্তা বলছিলেন। এ সময় যুবলীগ নেতা সাবেক কাউন্সিলর হোসেন ও ছাত্রদল নেতা সোহেলসহ কয়েকজন বাড়িতে ঢুকে নাজমুল ও শাহজাহানের স্ত্রী নূপুরকে জড়িয়ে মিথ্যা অপবাদ রটান এবং হুমকি-ধমকি দিয়ে নাজমুলকে তুলে নিয়ে ৭০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।
এ চাঁদার টাকা ৫ দিনের মধ্যে দেওয়ার কথা স্বীকার করে নাজমুলকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় তারা নাজমুলকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে জানান ওসি।
তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে আজ (রবিবার) সকালে ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রী নুপুর বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করেছেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে ওই ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
৬৭ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীকে আপাদমস্তক নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য করায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ইসলামি বক্তা আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সিরাজগঞ্জের চৌহালী আমলি আদালতের বিচারক সুমন ভুঁইয়া এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার বাদী জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত এবং সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) তার সংসদীয় আসনে অসংখ্য মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি যথারীতি নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত পালন করে আসছেন। কিন্তু গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার খুতবার আগে আলোচনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীর দেওয়া এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মুফতি আমির হামজা এমপি বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন আপাদমস্তক নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী।’ পরবর্তীতে তার এ বক্তব্যের একটি ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে। এতে জননেতা বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীর সম্মানহানি হয়েছে।
অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর বলেন, এ ঘটনায় আমি নিজে বাদী হয়ে গত ২ এপ্রিল শত কোটি টাকার মানহানি মামলা করি। এরপর আদালতের বিচারক সুমন ভুঁইয়া মামলাটি আমলে নিয়ে সমন জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি হাজির হননি। এতে বিজ্ঞ বিচারক তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
এ ছাড়াও একই ঘটনায় গত ৩০ মার্চ সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে অ্যাডভোকেট এসএম নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে আমির হামজার বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছেন।
৭৯ দিন আগে