সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জে এমপির গাড়িতে হামলার মামলায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আইনুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি মো. গোলাম মুক্তাদীরকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রবিবার (১৬ আগস্ট) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এই মামলার এজাহারভুক্ত ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো।
মো. গোলাম মুক্তাদীর রায়গঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব।
সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) মো. সাইফুল ইসলাম খান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত ৮ নম্বর আসামি গোলাম মুক্তাদীর। গতকাল (রবিবার) বিকেলে উপজেলার ধানগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলমগীর হোসেন নামে আরও এক এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গেল শনিবার বিকেলে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজারের আটচালায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠান শেষে চান্দাইকোনা ফিরছিলেন এমপি আইনুল হক। এ সময় ধানগড়া বাজার এলাকায় সন্ত্রাসীরা এমপির গাড়িবহরে হামলা চালায় এবং গাড়িটি ঘিরে ধরে লাঠিসোঁটা নিয়ে আঘাত করে ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ওই গাড়িটির পেছনের কাঁচ সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। এ ঘটনায় গাড়িতে থাকা এমপি আইনুল হকসহ একাধিক নেতা আহত হন।
সে সময় ওই গাড়িতে থাকা ফয়সাল বিশ্বাস নামে এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে ওই হামলার ঘটনা সরাসরি প্রচার করেন।
এদিকে, এমন পরিস্থিতির মধ্যে এমপিকে উদ্ধার করে গ্রামের বাড়ি চান্দাইকোনায় নিয়ে আসা হয়। পরে এ ঘটনার প্রতিবাদে চান্দাইকোনা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা হয়। এ নিয়ে রায়গঞ্জের বিভিন্ন স্থানে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ধানগড়া ও চান্দাইকোনা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে। ওই দিন রাতেই পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান ও অনান্য পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ব্যাপারে শনিবার গভীর রাতে চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি শামিমুল হাসান খন্দকার বাদী হয়ে থানায় উল্লেখিত মামলা করেন।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার ওসি মো. আহসানুজ্জামান বলেন, চান্দাইকোনায় রায়গঞ্জ ট্রেকনিকাল ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণের জন্য আনুষ্ঠানিক চিঠি আসার বিষয়টা জানতে পেরে রায়গঞ্জ পৌর এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে পৌরসভা ও চান্দাইকোনাবাসী পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। বিষয়টি নিরসনের জন্য গত শনিবার পৌর বিএনপির সভাপতির নেতৃত্বে একটি সভার আয়োজন করা হয় এবং ওই সভায় এমপিও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আলোচনার একপর্যায়ে ছাত্র সমন্বয়ক ফয়সাল বিশ্বাস ও ছাত্র সমন্বয়ক তমালের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় কমিটি গঠন করার কথা বলে ফয়সাল বিশ্বাসকে এমপির গাড়িতে নিয়ে চলে যাওয়ার সময় ধানগড়ার উত্তেজিত জনগণ এমপির গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় উত্তেজিত জনগণ দুই-চারটি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে গাড়ির পেছনের কাঁচ ভেঙে গেছে বলে উল্লেখ করেন ওসি।
১ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার যমুনা নদীতে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে নৌযান মালিক-কর্মচারীসহ ৩ উপজেলার ২৭ গ্রামের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ এলাকার ত্রাস হিসেবে খ্যাত ‘সালাম বাহিনী’র বিরুদ্ধে বেলকুচি ক্ষিদ্রচাঁপিয়া এলাকায় মানববন্ধন করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি, টাঙ্গাইল সদর ও চৌহালী উপজেলার চরবেল, পুংলি, কাকুয়া, জাঙ্গালিয়া, কলাবাগান ও মহেষপুরের নৌযান মালিক-কর্মচারীরা এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এলাকার ত্রাস হিসেবে খ্যাত সালাম ও তার সহযোগী রুবেল, কাওছার আলম, মাসুদ ও হাবিব গং সন্ধ্যা নামার পর যমুনা নদীতে ইঞ্জিন চালিত নৌকা নিয়ে সশস্ত্র মহড়া দেয়।
সিরাজগঞ্জ-ঢাকা নৌরুটে তারা সব ধরনের বাল্কহেড, ছোটবড় নৌকাসহ বিভিন্ন নৌযান থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করে আসছে। তার দাবিকৃত চাঁদা না দিলে নৌযান শ্রমিক-কর্মচারীদের মারধর করে। এ সালাম বাহিনীর অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে আজ আমরা নৌযান মালিক ও কর্মচারীরা মানববন্ধন করছি। যমুনায় নৌপথ নিরাপদ করতে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করেন।
আবু সাঈদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে নৌযান মালিক-কর্মচারীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন ইউসুফ মোল্লা, কছির উদ্দিন, সুমন ও বক্কার মোল্লাসহ অনেকে। নৌযান মালিক-কর্মচারী ছাড়াও বেলকুচি, টাঙ্গাইল সদর ও চৌহালী উপজেলার ২৭ গ্রামের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ এ মানববন্ধনে অংশ নেন।
৪ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে বাবা-ছেলের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় প্রীতি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে ইলিয়াস হোসেন (২৭) নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তি ও তার ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৯ জুলাই) গভীর রাতে রায়গঞ্জ উপজেলার কালিঞ্জা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইলিয়াস ওই গ্রামের মৃত আ. সাত্তারের ছেলে। রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গতকাল (রবিবার) কালিঞ্জা গ্রামের খেলার মাঠে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা নিয়ে ইলিয়াসের সঙ্গে রাসেলের কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ওই দিন গভীর রাতে রাসেল ও তার ছেলে সিয়াম আহমেদ ইলিয়াসের ওপর হামলা করে। একপর্যায়ে তারা তাকে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ইলিয়াসকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ হত্যাকাণ্ডের পর ওই ব্যক্তি ও তার ছেলে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আজ (সোমবার) সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, এর আগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই গ্রামের রাসেল শেখ (৪২) ও সোহেল খানকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৭ জনকে আসামি করে রায়গঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। এ মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
২৯ দিন আগে
সরকারে থাকার অর্থ এই নয় যে কেউ বড় কিছু হয়ে গেছে: বিদ্যুৎমন্ত্রী
সরকারে থাকার অর্থ এই নয় যে কেউ বড় কিছু হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সেই সঙ্গে দেশের কল্যাণে সবাইকে কাজ করতে এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার মিরপুরে তাঁত প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও বেসিক সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারে থাকার অর্থ এই নয় কেউ বড় কিছু হয়ে গেছে। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ তাঁতশিল্পকে ধ্বংস করেছে। আওয়ামী লীগ জন্মলগ্ন থেকেই দেশের ক্ষতি করেছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে অনেকে নিহত ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ করে সমাজের নিকৃষ্ট মানুষ। কোনো ভদ্রলোক আওয়ামী লীগ করে না। আমাদের দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।’
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আওয়ামী লীগের পতনের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কাউকে ভয়ভীতি দেখানো হয়নি। ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়নি এবং দিনে ভোট রাতে গণনার ঘটনাও ঘটেনি। সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়েই সরকার গঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালে বলেছিলাম, হাসিনা থাকাকালীন দেশে ফিরব না। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি পালিয়ে গেছেন। আর আমি দেশে ফিরে এসেছি।’
তাঁতশিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, তাঁত প্রশিক্ষণ নিয়ে নারীরা স্বাবলম্বী হতে পারেন। এ খাতে ক্ষুদ্র উদ্যোগ থেকে শুরু করে বড় উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
এ সময় সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
৩১ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী খুন, ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ পৌর এলাকায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী আব্দুর রহমান (২০) নিহত হওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে নিহতের বাবা ফিরোজ বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান।
ওসি জানান, মঙ্গলবার রাতে রায়গঞ্জ পৌর এলাকার ফুলজোড় নদীর পশ্চিমপাড় মহল্লায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে একই এলাকার তারা সেখের ছেলে টিটোনের সঙ্গে আব্দুর রহমানের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে টিটোন ধারালো বার্মিজ ছুরি ও চাপাতি দিয়ে আব্দুর রহমান এবং তার বড় ভাই হাসানের ওপর হামলা চালায়।
এ ঘটনায় দুই ভাই গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে আব্দুর রহমানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেও তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আব্দুর রহমান রায়গঞ্জ বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। তার বড় ভাই হাসান বর্তমানে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ওসি আহসানুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩১ দিন আগে
যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত, তীব্র ভাঙনের কবলে সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চল
পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের কারণে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন চরাঞ্চলে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গাছপালা ও বিস্তীর্ণ জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে। কয়েকদিন আগে পানি কিছুটা কমলেও শনিবার সকাল থেকে আবারও বাড়তে শুরু করে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে চৌহালী, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কয়েকটি এলাকায়। ইতোমধ্যে কাজিপুর উপজেলার খাসরাজবাড়ি ও চরগিরিশ, চৌহালীর চর সলিমাবাদ, সিরাজগঞ্জ সদরের পূর্ব বাহুকা ও কাওয়াকোলা চর এবং শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে ভাঙনে বহু ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গাছপালা ও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
ভাঙনের মুখে অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই এখন চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
যদিও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব বাহুকা এলাকায় ভাঙন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে চৌহালী ও কাজিপুরের চরাঞ্চলে ভাঙন এখনও অব্যাহত রয়েছে। ভাঙন রোধে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত মাসে দুই দফায় চৌহালী ও কাজিপুরে প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তাদের দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ড সময়মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করতে না পারায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এছাড়া ভাঙন শুরু হওয়ার পরই শুধু জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যা স্থায়ী সমাধান নয়। ফলে প্রতি বছরই একই ধরনের ভাঙনে বহু পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, পাহাড়ি ঢলের কারণে যমুনা নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। স্রোতের তীব্রতা এবং নদীর তলদেশে ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ভাঙন অব্যাহত থাকলেও আপাতত বন্যার আশঙ্কা নেই জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৪৩ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে গ্রীষ্মকালীন ঝিঙ্গা চাষে কৃষকের মুখে হাসি
সিরাজগঞ্জে এবার গ্রীষ্মকালীন ঝিঙ্গাসহ বিভিন্ন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে ঝিঙ্গার দাম ভালো থাকায় এ চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় জেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে ঝিঙ্গাসহ বিভিন্ন সবজি চাষের আগ্রহও বেড়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার চরাঞ্চলসহ নয়টি উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন ঝিঙ্গা ও অন্যান্য সবজি চাষের জন্য ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে সবজি চাষ করেছেন কৃষকেরা। সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, বেলকুচি, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায়।
এ মৌসুমে ঝিঙ্গার পাশাপাশি কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, পটোল, বেগুন, ঢেঁড়স, পেঁপে, লাউ, ডাঁটা ও সিমের চাষ হয়েছে। প্রায় তিন মাস আগে এসব মৌসুমি সবজির আবাদ শুরু করেন কৃষকেরা। অন্যদিকে, হাইব্রিড সবজির চাষ সারা বছরই হয়ে থাকে।
কৃষকেরা জানান, ঝিঙ্গার উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হলেও লাভ বেশি। বাজারে চাহিদাও ভালো থাকায় এ সবজির চাষে আগ্রহ বাড়ছে। বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে ফসলি জমিতেও ঝিঙ্গার আবাদ হচ্ছে। বিশেষ করে যমুনা নদী তীরবর্তী পাঁচ উপজেলার চরাঞ্চলে ঝিঙ্গাসহ বিভিন্ন সবজির চাষ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী নতুনপাড়া গ্রামের প্রান্তিক কৃষক সোরহাব আলী (৬৭) ২২ শতক জমি লিজ নিয়ে ঝিঙ্গা চাষ করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঝিঙ্গার পাশাপাশি বিভিন্ন সবজির চাষ করে আসছেন।
সোরহাব আলী জানান, এ মৌসুমে ঝিঙ্গা চাষে তার প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গত প্রায় দুই মাস ধরে জমি থেকে ঝিঙ্গা সংগ্রহ করছেন। মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি ঝিঙ্গা ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ইতোমধ্যে তিনি প্রায় ৭৫ হাজার টাকার ঝিঙ্গা বিক্রি করেছেন। আরও এক থেকে দুই মাস উৎপাদন অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন। তার মতে, খরচের তুলনায় এ জমি থেকে কয়েক গুণ লাভ হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক জেরিন আহম্মেদ বলেন, আগাম গ্রীষ্মকালীন ঝিঙ্গাসহ বিভিন্ন সবজির আবাদে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এবার অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের পরিচর্যার কারণে বাম্পার ফলন হয়েছে। কম খরচে লাভজনক হওয়ায় কৃষকেরা ঝিঙ্গা চাষে আরও আগ্রহী হচ্ছেন। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় তাদের সন্তুষ্টিও বেড়েছে।
৪৫ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে ১১ বছরের শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণ, গোপন না রাখলে প্রাণনাশের হুমকি
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার ঘুড়কা এলাকার এক স্কুলছাত্রীকে (১১) ধর্ষণের অভিযোগে আবু হানিফ শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে তাকে আটক করে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা। এরপর পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গ্রেপ্তার হানিফ শেখ ওই গ্রামেরই বাসিন্দা।
এ ঘটনায় গতকাল (রবিবার) রাতেই সলঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, হানিফ ওই স্কুলছাত্রীকে গতকাল (রবিবার) বিকেলে ডেকে গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এর আগেও তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার কথা কাউকে জানালে শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এ কারণে ভয়ে এত দিন সে বিষয়টি গোপন রেখেছিল।
তবে কিছুদিন ধরে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ও অসুস্থতা বুঝতে পেরে তার মা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপর শিশুটি ঘটনার কথা জানায়।
গতকাল তার পরিবারের সদস্যরা কৌশলে হানিফ শেখকে আটকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে সলঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে। পরে মামলা হয়ে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী বলেন, এ ঘটনায় গতকাল রাতে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
৬৪ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে উত্তরবঙ্গমুখী মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও যানজট নেই
ঈদুল আজহা উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে উৎসব উদযাপন করতে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। এতে মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোর থেকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তবে যানজট না থাকায় স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন যাত্রীরা।
মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা পুলিশের প্রায় ৭০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। দিন-রাত পুলিশের তৎপরতায় চালক ও যাত্রীদের মধ্যেও সন্তোষ দেখা গেছে।
আজ সকাল থেকে যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড় থেকে উত্তরবঙ্গমুখী মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে ঘরমুখো মানুষ বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন। মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে তেমন কোনো যানজট দেখা যায়নি।
চালক ও যাত্রীরা জানান, যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, বিভিন্ন উড়াল সেতু এবং হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণের ফলে এবার ঈদযাত্রায় স্বস্তি ফিরেছে। যানজট না থাকায় নির্বিঘ্নে ও আনন্দের সঙ্গে বাড়ি ফেরা যাচ্ছে।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম এবং হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে জেলা ও হাইওয়ে পুলিশ সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।
তারা জানান, যমুনা সেতু গোলচত্বরসহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের বিভিন্ন রুটে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, মহাসড়কে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছে। হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় একটি নির্দেশনা মঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে, যেখান থেকে মাইকযোগে চালকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময়ে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন যমুনা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (সাইট অফিসার) সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন।
৮৪ দিন আগে
যমুনা সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় সোয়া ৩ কোটি টাকা টোল আদায়
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। সরকারি ছুটির ২ দিন আগে থেকেই যমুনা সেতুতে প্রায় দ্বিগুণ যানবাহনের চাপ বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এ সেতু দিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে প্রায় সোয়া ৩ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২২ মে) বিকেল থেকে সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপারের সংখ্যা বাড়তে থাকে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে ৩৪ হাজার ৯৬৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং সেতুতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ২৪ লাখ ৩৩ হাজার ৪০০ টাকা। ঈদযাত্রায় যানবাহনের চাপ সামলাতে ও দ্রুত টোল আদায়ে আজ শনিবার (২৩ মে) সকাল থেকে আরও ৪টি বুথ বাড়িয়ে ১৮টি টোল বুথ চালু করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও মহাসড়কে যানজট নিরসনে ৬ শতাধিক পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
৮৭ দিন আগে