ভোলা
ভোলায় প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ‘মারা যাওয়ার ভান করে’ বাঁচল ছেলে
ভোলার সদর উপজেলায় ঘরে ঢুকে ছেলের সামনে দুবাই প্রবাসীর স্ত্রী নাসিমা বেগমকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার ৮ বছর বয়সী ছেলে আবির গুরুতর আহত হয়েছে। বর্তমানে সে ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ মো. জিহাদ নামে এক যুবককে আটক করেছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগর রাতে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সরদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আজ (শনিবার) সকালে নিহত নাসিমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সরদার বাড়ির দক্ষিণ পাশে বসবাস করতেন দুবাই প্রবাসী আল-আমিনের দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা বেগম। গতকাল (শুক্রবার) রাতে খাওয়া শেষে ছেলে আবিরকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ঘরের বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর নাসিমা ও তার ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। একপর্যায়ে নাসিমার মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তারা। পরে নাসিমার ছেলে আবিরের চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশকে খবর দেন।
আবিরের দাবি, রাতের আঁধারে জিহাদ নামের এক যুবক ঘরে প্রবেশ করে তার মাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন। এ সময় তাকেও আঘাত করেন তিনি। পরে সে মারা যাওয়ার ভান করলে জিহাদ চলে যায়। এরপর সে ঘরের বাইরে এসে চিৎকার দিলে আশপাশের মানুষ ছুটে আসে।
নিহত নাসিমার চাচাশ্বশুর নাজিম উদ্দীন বলেন, ছেলেটি গুরুতর আহত অবস্থায় ছুটে এসে তার মাকে হত্যার বিষয়টি আমাদের জানায়। পরে আমরা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ দেখতে পাই। এরপর ছেলেটিকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি।
ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইব্রাহীম জানান, আহত শিশুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে মো. জিহাদকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তদন্ত শেষে নিশ্চিত করা যাবে।
১ দিন আগে
রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কোনো মানুষ যেন হেনস্তার শিকার না হয়: স্পিকার
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘দেশে দলমত নির্বিশেষে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কোনো মানুষ যেন হেনস্তার শিকার না হয়; আমরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোলা সার্কিট হাউজে প্রশাসন, রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ভোলায় তিন দিনের সফরের শেষ দিনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্পিকার বলেন, ভোলায় স্পিকার হিসেবে পদার্পণ করার মধ্য দিয়ে মনে হচ্ছে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। গত ২০ বছর বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের দেখা পায়নি। বর্তমান বিশ্বে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছাড়া উন্নয়নের আর কোনো মাধ্যম আবিষ্কৃত হয়নি। আমরা অন্তত ভাগ্যবান যে, বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রমনা ও রাজনীতি সচেতন। তারা কোনো স্বৈরশাসনকে মেনে নেয় না।
তিনি আরও বলেন, অত্যাচার-নিপীড়ন, গুম ও খুনসহ নানাবিধ নির্যাতন উপেক্ষা করে বাংলাদেশের মানুষ রাজপথে নেমে এসে আবার গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। ২০২৪-এর গণআন্দোলন আজ সারা বিশ্বের দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছে।
উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরাশক্তিগুলো বাংলাদেশকে সাধারণত হেয় করে দেখতে চায় উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য যে সংগ্রাম করেছে, এটি নিয়ে দেশবাসী গৌরব করতে পারে। মানবাধিকার লঙ্ঘন বিশ্বের নিত্যদিনের ঘটনা হলেও বাংলাদেশের মানুষ আজ মানবাধিকারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। যেই গুম ও খুনের মধ্য দিয়ে দেশবাসী ১৬-১৭ বছর কাটিয়েছে, তা থেকে আমরা এখন মুক্ত।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান নির্বাচিত সরকার এদেশের মানুষের জন্য সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে নিয়ে আসবে বলে আমরা আশা করি। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান কাজ হচ্ছে অর্থনীতির উন্নয়ন সাধন করা এবং সেই লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আমরা আশা করি, দেশে দলমত নির্বিশেষে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কোনো মানুষ যেন হেনস্তার শিকার না হয়; আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
স্পিকার বলেন, বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক বিদ্যমান এবং সাধারণ মানুষ অনেকদিন পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সরকার মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষকেই সমানভাবে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য কাজ করা হচ্ছে।
এ সময় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিনের বিষয়ে তিনি বলেন, সাবেক স্পিকারকে বিচার বিভাগ জামিন দিয়েছে এবং এটি একটি ভালো কাজ হয়েছে। কারণ তিনি একজন নারী এবং দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তি। নিশ্চয়ই বিচার বিভাগ যথাযথ বিবেচনা করেই তাকে জামিন দিয়েছে।
এর আগে, স্পিকার সার্কিট হাউজে পৌঁছালে তাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। মতবিনিময় সভা শেষে তিনি বরিশাল হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওসার, জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
জুলাই সনদ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বড় কোনো পার্থক্য দেখি না: স্পিকার
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বড় কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে ভোলা সার্কিট হাউস থেকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই সনদ দেশবাসীর সম্পদ। প্রত্যেক রাজনৈতিক দল, যাদের সংসদে প্রতিনিধিত্ব আছে, তারা সকলে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। আমি মনে করি, বিএনপিও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বদ্বপরিকর। শুধু যেসব বিষয়ে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়েছে, সে বিষয়গুলো ছাড়া বাকিগুলো বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদের ব্যাপারে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বড় ধরনের তেমন কোনো পার্থক্য দেখি না। সরকার যাতে শান্তিতে থাকতে না পারে, এইজন্য সংসদের বাইরে কিছু কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি দেশের মানুষকে প্রভাতিত করার চেষ্টা করছে। তবে সকলে মিলেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নির্বাচনে নামে প্রহসন মঞ্চস্থ হয়েছে। অনেক দিন পর বাংলাদেশের জনগণ ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখেছে। আশা করব, আগামী দিনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোও যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, তাহলে ভালো লোকেরা নির্বাচিত হয়ে আসবেন। একজন ভালো লোক উপরে থাকলে সমাজ অটোমেটিক ঠিক হয়ে যায়।
এ সময় ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে বিকেলে তিনি লালমোহন উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।
৩ দিন আগে
ভোলায় ২ হাজার লিটার অবৈধ জ্বালানি তেলসহ আটক ২
ভোলায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ হাজার লিটার অবৈধ জ্বালানি তেলসহ দুইজনকে আটক করেছে কোস্টগার্ড।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) কোস্টগার্ডের গণমাধ্যম কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৫টার দিকে কোস্টগার্ড বেইস ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ফেরিঘাট-সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় একটি স্টিল বডির নৌকায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল পরিবহনের সময় প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের ২ হাজার লিটার তেলসহ দুইজনকে আটক করা হয়।
পরে জব্দ করা তেল ভোলা সদর উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে এ রহমান অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে বাজারমূল্যে বিক্রি করা হয়। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে বোটসহ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান কোস্টগার্ডের এ কর্মকর্তা।
বিক্রয় ও জরিমানার অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
১৬ দিন আগে
ভোলার বিসিক শিল্পনগরী থেকে ৫ হাজার ৯৭৬ লিটার ডিজেল জব্দ
ভোলার বিসিক শিল্পনগরীতে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করায় দুই প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৫ হাজার ৯৭৬ লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কারখানা দুটিতে অভিযান চালান ভ্রাম্যমান আদালত।
অভিযান চলাকালে দুই প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৫ হাজার ৯৭৬ লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ করা হয়। এর মধ্যে খান ফ্লাওয়ার মিল থেকে ৩ হাজার ৯৭৬ লিটার এবং তৃষ্ণা বেকারির কারখানা থেকে ২ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়াও খান ফ্লাওয়ার মিলের যে কক্ষে অবৈধভাবে তেল মজুদ করা হয়েছিল, সেটি সিলগালা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইয়েদ মাহামুদ বুলবুল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মূলত এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। লাইসেন্স ছাড়া তেল মজুদের দায়ে পেট্রোলিয়াম আইন ২০১৬–এর ৫৬(৩) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে খান ফ্লাওয়ার মিলের মালিক জামাল খানকে ১ লাখ টাকা এবং তৃষ্ণা বেকারির মালিক মো. জুয়েলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এদিকে, জরিমানা করার কারণে দুষ্কৃতিকারীরা সড়কে প্রশাসনের গাড়ির সামনে ইট ও বালুর বস্তা ফেলে পথ অবরোধ করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে খবর পেয়ে নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
১৮ দিন আগে
ভোলায় পরিত্যক্ত পুকুর থেকে দুই রাউন্ড গুলিসহ পিস্তল উদ্ধার
ভোলায় একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে দুই রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে ভোলা সদর উপজেলার আলিনগর ইউনিয়নের ডাকাতিয়া চৌমুহনী এলাকার বিশ্বরোডের পাশে পরিত্যক্ত পুকুর থেকে সেগুলো উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকালে আলী নগর চৌমুহনী এলাকার একটি মসজিদের পুকুরে মাছ ধরার জন্য সেচ দেওয়া হচ্ছিল। পানি কমে আসলে এলাকার জসিম নামের এক ব্যক্তি হাত দিয়ে মাছ ধরতে ওই পুকুরে নামেন। এ সময় মাছ খুঁজতে গিয়ে একটি শপিং ব্যাগ তার হাতে উঠে আসে। পরে ওই শপিং ব্যাগের ভেতরে হাত দিতেই তিনি বুঝতে পারেন এতে পিস্তল রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় পিস্তলটি উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা জানান, জসিম একজন দিনমজুর। খেতখামারে কাজ করে তার সংসার চলে। সেই সঙ্গে মাছ শিকারের কাজেও তিনি পারদর্শী।
ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. জিয়া উদ্দিন জানান, তারা খবর পেয়ে আলী নগর চৌমুহনী এলাকায় যান। এ সময় তাদের উপস্থিতিতে মাছ ধরার জন্য সেচ করা জসিম নামের এক ব্যক্তির পুকুর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়।
তিনি জানান, অস্ত্রটির গায়ে জাপানের তৈরি লেখা রয়েছে। তবে কে বা কারা অস্ত্রটি ফেলে গেছে, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত চলছে।
২৭ দিন আগে
লঞ্চে ‘নেশাদ্রব্য খাইয়ে’ ছিনতাই, ভোলায় যাত্রীর মৃত্যু
স্ত্রীর সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ঢাকা থেকে ভোলায় শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পথে লঞ্চে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৪৫) নামে এক যাত্রীর টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। অচেতন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২১ মার্চ) সকালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত মোস্তাফিজুর কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা। তিনি ভোলা সদর উপজেলার ঘুইংগার হাট এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে ঈদ করতে যাচ্ছিলেন।
নিহতের স্ত্রী জেসমিন বেগম জানান, শুক্রবার দুপুরে ঢাকা থেকে ভোলার উদ্দেশে রওনা হন মোস্তাফিজুর। লঞ্চে যাত্রাপথে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি তার সঙ্গে পরিচিত হয়ে কথা বলেন এবং একপর্যায়ে তাকে পানি পান করতে দেন। সেই পানি পান করার পরপরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এ সময় তার কাছে থাকা টাকাপয়সা নিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার রাতে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. শামসুল আলম জানান, শুক্রবার রাতে অজ্ঞাত বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ অবস্থায় মোস্তাফিজুরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং ভর্তি হওয়ার পর থেকেই সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। তবে শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং কী ধরনের বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।
এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক সমীরণ মণ্ডল বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী-আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
২৯ দিন আগে
ভোলায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ব্যালট ছিনতাই, আটক ১
ভোলা-১ (সদর) আসনের আলীনগর স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের মাঠে ককটেল বিস্ফোরণ করে ব্যালট পেপার ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘনটাস্থল থেকে জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীকে আটক করা হয়েছে।
কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক জানান, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে একদল গুন্ডা লোক বোমা ফাটিয়ে কেন্দ্রের মধ্যে প্রবেশ করে কেন্দ্রের দায়িত্বরত অনেককে হেনস্তা করেছে। এ সময় তারা ৫৬টি ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয় এবং ৭৬টি উল্টাপাল্টা সিল মেরে রেখে যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সে সময় থেকে কিছু সময়ের জন্য ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়।
এ খবর পেয়ে কেন্দ্রে ছুটে যান সংসদ সদস্য প্রার্থী বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর দুপুর ২টার পর পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়।
৬৬ দিন আগে
ভোলায় নির্বাচনি প্রচারণায় বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৮
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে বিএনপি সমর্থক হিসেবে রয়েছেন মো. গণি মাঝি, রাসেল হাওলাদার ও গণি মাঝির মা। অপরদিকে জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে আহত হয়েছেন মো. ইদ্রিস, মো. রুবেল, তারেক, মাওলানা শরীফ ও মো. সাদ্দাম।
জামায়াতের উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন সেক্রেটারি আব্দুর রহিম অভিযোগ করেন, নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে ভোট চাইতে গেলে বিএনপির লোকজন বাধা দেয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়ায় উভয় পক্ষ। এতে জামায়াতের প্রায় ৫ জন আহত হন।
অন্যদিকে, একই ইউনিয়নের বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি কামাল উদ্দিন বলেন, ভোট চাওয়ার নামে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে বিএনপির তিন থেকে চারজন নেতা-কর্মী আহত হন।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ফরাজি বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা একটি বাড়িতে ভোট চাইতে গেলে পরবর্তীতে জামায়াতের নেতারাও সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং এতে বিএনপির ৩ জন আহত হন।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ ফরিদ উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৭২ দিন আগে
ভোলায় অটোচালক আবু বকর সিদ্দিক হত্যা মামলায় ৩ জন গ্রেপ্তার
ভোলায় অটোরিকশা ছিনতাই করে চালক আবু বকর সিদ্দিককে (৫১) কুপিয়ে হত্যার ঘটনার ৬ দিন পর প্রধান আসামিসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে ভোলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত ৩০ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি চরফ্যাশন পৌরসভা বাস স্ট্যান্ড থেকে লালমোহন উপজেলার গজারিয়া বাজারে আসা-যাওয়ার কথা বলে আবু বকরের অটোরিকশা ভাড়া করেন। চালক আবু বকর তাদের নিয়ে গাড়ি চালিয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে লালমোহনের পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের কচুয়াখালী এলাকায় পৌঁছালে আসামিরা আবু বকরের বুকের ডান পাশে ধারালো চাকু দিয়ে আঘাত করেন। এরপর তাকে ফেলে তার গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যান তারা। এ সময় আবু বকর ঘটনাস্থলইে নিহত হন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সুলতান বাদী হয়ে লালমোহন থানায় গত ১ জানুয়ারি মামলা করেন। এরপর পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে গতকাল (মঙ্গলবার) মামলার প্রধান আসামি মো. ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ আরও জানায়, ইব্রাহিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. রাজা (৩২) ও কাজী তারেককে (৩৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু ও ৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামীরা সবাই আন্তঃজেলা ডাকাতদলের সদস্য। রাজার বিরুদ্ধে ঢাকার সাভার ও মোহাম্মদপুর থানায় খুন, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
১০২ দিন আগে