ওমান
আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় ‘ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু’ বাদ দিয়েছে ইরান
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পরবর্তী ধাপ শিগগিরই শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সেইসঙ্গে ‘ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আপস, এমনকি আলোচনাও করতে তেহরান রাজি নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ওমানের মাসকটে আলোচনায় বসে তেহরান। প্রথম ধাপের এই আলোচনার পর আগামী সপ্তাহে আরও এক দফা আলোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।
এরপর স্থানীয় সময় শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) আরাগচি আলজাজিরাকে বলেন, শুক্রবারের আলোচনায় ইরানের ‘ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি’ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’ এ সময় যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন যদি ইরানের কোনো অঞ্চলে হামলা চালায়, তাহলে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক ঘাটিগুলোতে হামলা চালাবে।
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে মাসকটে দুপক্ষ আলোচনায় বসলেও সেটি প্রত্যক্ষ আলোচনা ছিল না। ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা শেষ করে ওয়াশিংটন ও তেহরান।
এ বিষয়ে আরাগচি বলেন, মাসকট আলোচনা পরোক্ষ হওয়া সত্ত্বেও আমেরিকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ হয়েছে। এটি একটি ভালো সূচনা হতে পারে, তবে পাস্পরিক আস্থা তৈরি হতে এখনও অনেক পথ বাকি।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এই বৈঠক নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও রাজধানী তেহরানে ইরানিদের মাঝে তেমন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে আল জাজিরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, আমার মতে, আগেরবারের মতো আলোচনা কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হবে। কারণ উভয় পক্ষই তাদের নিজেদের অবস্থানে অটল এবং পিছু হটতে রাজি নয়।
কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ আবদুল্লাহ আল-শায়জি বলেন, আমি দুই দেশের মধ্যে একটি নতুন চুক্তির প্রত্যাশা করছি। তবে এ ব্যাপারে খুব বেশি আশাবাদী নই।
কাতারের রাজধানী দোহায় আল জাজিরা ফোরাম থেকে আল-শায়জি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে এবং তারা ইরানিদের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য ইসরায়েলের দ্বারা প্ররোচিত হচ্ছে। তারা মনে করছে, গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ফলে দেশটির সরকার এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। এজন্য ইরানের কাছ থেকে দাবি আদায় এখন সহজ হবে।
পারমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ইরানের অধিকার
ট্রাম্প যদিও বলছেন যে শুক্রবারের আলোচনা ‘খুব ভালো’ হয়েছে, কিন্তু তিনি শনিবার থেকে কার্যকর এমন একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন যাতে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
ইরানের তেল রপ্তানি রোধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র অসংখ্য জাহাজ সংস্থা এবং জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে ইরানের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি বাণিজ্য হয়েছে চীনের সঙ্গে। এর মধ্যে আমদানি হয়েছে ১৮ বিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি হয়েছে ১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, পারমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ইরানের অপরিহার্য অধিকার এবং এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই সমৃদ্ধকরণ নিয়ে নিশ্চয়তা দেয়, আমরা এমন সমঝোতা করতে প্রস্তুত। কেবল আলোচনার মাধ্যমেই ইরানের পারমাণবিক বিষয়গুলোর সমাধান হবে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চললেও আমাদের ‘ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি’ আলোচনার বিষয় নয়। কারণ এটি একটি প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত বিষয়।
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন মোকাবিলার চেষ্টা করছে, যা আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চাপ দিচ্ছে ইসরায়েল। তেহরান অবশ্য বারবার পারমাণবিক ইস্যুর বাইরে আলোচনার পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
আল-শায়জি বলেন, ইরানিরা কোনো ধরনের ছাড়ের ব্যাপারে কঠোর। যুক্তরাষ্ট্রও একই অবস্থান নিয়েছে যা মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর জন্য তাদের চুক্তিতে আনা খুবই কঠিন করে তুলবে।
গত বছর ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের বোমা হামলার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা ভেঙে পড়ে। ওই ঘটনার পর শুক্রবারে প্রথমবারের মতো আলোচনায় বসে উভয় দেশ।
গত মাসে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর ট্রাম্প দেশটির বিরুদ্ধে হুমকি বাড়িয়েছেন এবং মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করেছেন। এমনকি মাসকটে যখন বৈঠক চলছিল, তখন সেখানে যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সামরিক নেতা ব্র্যাড কুপার।
শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার কৌশল
বৈঠেকের পর গতকাল (শনিবার) ওমান থেকে আরব সাগরে অবস্থানরত যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ পরিদর্শন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা জারেড কুশনার।
পরিদর্শন শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে উইটকফ বলেন, ওই জাহাজ এবং তার স্ট্রাইক গ্রুপ আমাদের নিরাপদ রাখছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার’ বার্তা রক্ষা করছে।
তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার একটি ইরানি ড্রোনকে ভূপাতিত করা এক পাইলটের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তবে তিনি জানান, ড্রোনটি কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে ছোড়া হয়নি।
ডেনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের চেষ্টা করছেন। তবে আল-শায়জি বলেছেন, এটি দীর্ঘমেয়াদী কোনো কৌশল হতে পারে না। তার মতে, ট্রাম্প তার বাহিনীকে দীর্ঘ সময় সতর্ক অবস্থায় রাখতে পারবেন না। এটা সত্যিই ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ইরানের প্রতি কঠোর ও কঠিন অবস্থানের ভাবমূর্তিকে অবমূল্যায়ন করবে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরান নিয়ে আলোচনা করতে আগামী বুধবার মর্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু বিশ্বাস করেন, যেকোনো আলোচনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সীমাবদ্ধতা এবং ইরানকে মিত্র দেশগুলোর সমর্থন বন্ধ করা অবশ্যই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
তবে আরাগচি আশা প্রকাশ করেছেন, ওয়াশিংটন হুমকি ও চাপ প্রয়োগ থেকে বিরত থাকবে যাতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।
৯ দিন আগে
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা শর্ত শিথিল করবে ওমান
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সম্মেলনে ওমানের শ্রমমন্ত্রী ড. মাহাদ বিন সাঈদ বিন আলী বাওয়াইন সালিম আল-বুসাইদি অনিয়মিত, অদক্ষ ও আধা-দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মী ভিসার (ওয়ার্ক ভিসা) শর্তাবলি শিথিল করার ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সম্মেলনে মূল অনুষ্ঠানের পার্শ্ববৈঠকে ওমানের শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। এ সময় অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের জরিমানা ছাড়াই বৈধ করায় ওমান সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।
বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী, যেমন: প্রকৌশলী, চিকিৎসক, নার্সরাও যাতে করে ওমানের শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে পারেন, এ ব্যাপারেও ওমানের মন্ত্রীর সহযোগিতা চান উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। পাশাপাশি অদক্ষ, আধা-দক্ষ কর্মীদের ভিসার ওপর স্থগিতাদেশ পর্যালোচনার অনুরোধ জানান।
ওমানের শ্রমমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান অনিয়মিত ও কাগজপত্রবিহীন প্রবাসী কর্মীদের নিয়মিতকরণের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে ২০২৩ সাল থেকে সাময়িকভাবে অদক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মীদের জন্য নতুন কর্মী ভিসা স্থগিত রাখা হয়। তবে আগামী দুমাসের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য ওয়ার্ক ভিসা পুনরায় চালু করার আশ্বাস দেন তিনি।
বৈঠকে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা, আইনি সংস্কার, কর্মী পাঠানোর আগে দক্ষতা যাচাই, বিদেশে যাওয়ার আগে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাগতিক দেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও আইনকানুন সম্পর্কে জানানোসহ অন্তবর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে ওমানের শ্রমমন্ত্রীকে বিস্তারিত জানান।
এ ছাড়াও চলতি বছরের প্রথমার্ধে ওমানের শ্রমমন্ত্রীকে মাস্কাটে যৌথ কারিগরি কমিটির (জেটিসি) পরবর্তী অধিবেশন আহ্বানের প্রস্তাব করেন প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা। পাশাপাশি ওমানের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং শ্রম সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হওয়া সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরের জন্য ড. মাহাদ বিন সাঈদকে আহ্বান জানান তিনি।
২১ দিন আগে
ওমান ফেরত মানসিক ভারসাম্যহীন সুমনের পরিবারের সন্ধান মিলেছে
ওমান থেকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে দেশে ফেরা সুমনের পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিকাল থেকে সামাজিক মাধ্যমে তাঁর ছবি প্রচার করে তার পরিবারের খোঁজ করছিল ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।
গতকাল মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ওমান থেকে ফেরত আসেন সুমন। তার কাছে পাসপোর্ট ছিলো না। বিমানবন্দরের এভিয়েশন সিকিউরিটি কন্ট্রোল ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তাকে ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে নিয়ে আসা হয়। শুরু হয় তার স্বজনদের খোঁজ চেয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণা।
অসুস্থ হয়ে ফেরত আসা সুমন মানসিকভাবে এতোটাই অসুস্থ ছিলেন যে তিনি বিমানবন্দরেই নিজের জামা-কাপড় মলমূত্র ত্যাগ করে নষ্ট করে ফেলেন। এসময় তিনি নিজের নাম ‘সুমন’-এটুকু ছাড়া আর কোনো তথ্যই দিতে পারছিলেন না। এই প্রেক্ষিতে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটা জিডি করা হয়। গতকাল রাতে তিনি উত্তরার আশকোনার ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারেই ছিলেন।
ওমান থেকে ফেরত আসা সুমনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার রতনপুর গ্রামে। আজ সকাল ১১টায় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের ডেপুটি ডিরেক্টর শরিফুল ইসলামের উপস্থিতিতে তার বড় ভাই মামুনের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়। প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের একটি অ্যাম্বুলেন্সে তিনি বাড়ি ফিরবেন।
ব্র্যাকের এসোসিয়েট ডিরেক্টর শরিফুল হাসান বলেন, ‘আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন না মাঝে মধ্যেই বিদেশ থেকে আসা মানসিক ভারসাম্যহীন এমন লোকদের সন্ধান আমরা পাই যাদের কাছে পাসপোর্ট থাকে না। শুধুমাত্র একটা ট্রাভেল পাস নিয়ে তারা ফেরত আসেন। মানসিকভাবে সুস্থ না থাকায় অনেক সময় তারা সেই ট্রাভেল পাসটাও হারিয়ে ফেলেন। ফলে তাদের স্বজনদের খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়। এজন্য আমরা এয়ারপোর্টে এই প্রবাসীদের সহায়তায় একটা কাঠামো করার অনুরোধ করেছি।’
তিনি বলেন, লক্ষ্মীপুরের সুমন ভাইয়ের মতো আরও ১৪৮ জন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বিদেশ থেকে ফেরত আসা অভিবাসীকে তাদের স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। বিমানবন্দরের বিদেশ-ফেরতদের জরুরি সহায়তা দিতে গত আট বছর ধরে কাজ করছে ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টার। সিভিল এভিয়েশন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক, এপিবিএনসহ সবার সহযোগিতায় গত আট বছরে ৩৭ হাজারেরও বেশি মানুষকে নানা ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে। শুধু ২০২৪ সালেই ৪০ জন প্রবাসীকে বিশ্বের নানা দেশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের ম্যানেজার ও মানবপাচার বিরোধী লড়াইয়ে ভূমিকা রেখে যুক্তরাষ্ট্রের টিআইপি হিরো-২০২৪ পুরস্কারে ভূষিত আল-আমিন নয়ন ও মালয়েশিয়া থেকে ফেরত আসা রায়হান কবিরসহ একটি টিম এই কাজে যুক্ত আছেন। প্রবাসে বা বিদেশ থেকে ফিরে সংকটে আছেন এমন যে কেউ বা তাদের পরিবারের সদস্যরা ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে সহায়তার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন।
১৭৪ দিন আগে
ইসরায়েলের হামলার মধ্যেই যুদ্ধবিরতির আলোচনা প্রত্যাখান ইরানের
ইসরায়েল হামলা অব্যাহত রাখলে কোনো যুদ্ধবিরতির কথা বিবেচনা করবে না বলে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী কাতার ও ওমানকে স্পষ্ট জানিয়েছে ইরান। চলামান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের এ অবস্থানে বড় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৫ জুন) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মধ্যস্থতার আলোচনা সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘কাতার ও ওমানকে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ‘তারা কেবল তখনই বাস্তবিক অর্থে আলোচনায় বসবে, যখন ইসরায়েলের চালানো হামলার জবাব সম্পূর্ণ হবে।’
সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ইরান বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এর আগে, শুক্রবার (১৪ জুন) ভোরে ইসরায়েল একটি আকস্মিক হামলা শুরু করে। ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় এবং দেশটির পারমাণবিক অবকাঠামোরও কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইতোমধ্যে অভিযান আরও কঠিন হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরায়েল। এর জবাবে ইরানও কঠোর প্রতিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তেহরান বলেছে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তারা ‘নরকের দরজা খুলে দেবে’। এই পরিস্থিতিতে চলমান সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে, কিছু গণমাধ্যমে বলা হয়েছিল, পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য কাতার ও ওমানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্ত করতে বলেছে ইরান। এই সংবাদ সঠিক নয় বলে জানান নাম প্রকাশ না করা ওই কর্মকর্তা।
তবে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান, কাতার ও ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলি হামলায় আইআরজিসি গোয়েন্দা প্রধান ও দুই জেনারেল নিহত
সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে ওমান। যদিও ইসরায়েলের সর্বশেষ বিমান হামলার পর সর্বশেষ রাউন্ডের আলোচনা বাতিল হয়েছে। তাছাড়া, কাতারও উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপ সহজ করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে, এর মধ্যে ২০২৩ সালে একটি বন্দি বিনিময়ের মধ্যস্থতাও ছিল।
কাতার ও ওমান উভয়ই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। এরপর ইসরায়েলের সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগে যুক্ত হয় এই দেশ দুটি।
২৪৬ দিন আগে
সংকুচিত হয়েই চলেছে দেশের শ্রমবাজার, রপ্তানি কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ
গত এক বছরে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের জনবল রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। এর পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের শ্রমবাজার ক্রমেই সংকুচিত হয়ে চলেছে।
বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ১০ লাখ ১১ হাজার ৮৬৯ জন কর্মী বিদেশে গিয়েছেন। এর মধ্যে ৯৫ শতাংশ কর্মী গিয়েছেন মাত্র পাঁচটি দেশে— সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কাতার, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে এই সংখ্যা ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম। সে বছর ১৩ লাখ ৭ হাজার ৮৯০ জন কর্মী বিদেশ পাঠানো হয়।
২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ৯৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মী বিদেশে যান। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে এই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৪৪২ জনে। অর্থাৎ, চলতি বছর জানুয়ারির তুলনায় কেবল ফেব্রুয়ারিতেই জনবল রপ্তানি কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ।
তিনটি বড় শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এগুলো হলো— মালয়েশিয়া, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এছাড়া সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলোতে নিয়োগ কমে যাওয়ায় এবং মালয়েশিয়া, ওমানের পাশাপাশি বাহরাইনের শ্রমবাজারও বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এর মাঝে অবশ্য সরকার নতুন শ্রমবাজার খোলার চেষ্টা করছে, তবে তাদের সাফল্যকে এখনও পর্যাপ্ত বলা যায় না। বিদ্যমান বাজারগুলো চালু করতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকার পরিবর্তনের পর শ্রমবাজারের অবস্থা
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ফলে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসে।
এরপর জনশক্তি ব্যবসায়ীরা আশা করেছিলেন, নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি কাজে লাগিয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব হবে। কিন্তু নতুন সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টা প্রবাসী কল্যাণ নিয়ে নানা সময়ে বক্তব্য দিলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো উদ্যোগ এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।
আরও পড়ুন: উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য শ্রমবাজার নয়, মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হওয়া জরুরি: স্পিকার
প্রধান শ্রমবাজারগুলোর অবস্থা
মালয়েশিয়া
২০২৩ সালে সাড়ে তিন লাখের বেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের জুন থেকে দেশটির শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৪ সালে এক লাখেরও কম কর্মী দেশটিতে যেতে পেরেছেন।
ওমান
২০২৩ সালে ওমানে সোয়া লাখের বেশি কর্মী যান, কিন্তু ২০২৪ সালে দেশটির শ্রমবাজার বন্ধ থাকায় মাত্র ৩৫৮ জন কর্মী যেতে পেরেছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত
২০২৩ সালে প্রায় এক লাখ কর্মী আমিরাতে গিয়েছিলেন, তবে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজারে।
বাহরাইন
২০১৭ সাল থেকে বাহরাইনে কর্মী নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। গত বছরও দেশটি বাংলাদেশ থেকে একজন কর্মীও নেয়নি।
দক্ষ কর্মীর অভাব ও বিকল্প শ্রমবাজার
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী পাঠানোর হার কম। দক্ষ কর্মীদের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান প্রতিশ্রুতিশীল শ্রমবাজার হলেও ভাষা ও পেশাগত দক্ষতার অভাবে অনেকেই সেখানে ঢোকার সুযোগ পাচ্ছেন না।
২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার ঘোষণা দেয় দক্ষিণ কোরিয়া। অথচ সে বছর মাত্র ৪ হাজার ৪৯৬ জন কর্মী পাঠানো সম্ভব হয়। ২০২৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে গিয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৯১৮ জন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনিম সিদ্দিকী ইউএনবিকে বলেন, ‘সরকার দাবি করে বাংলাদেশ থেকে ১৬৮টি দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে ৯৫ শতাংশ কর্মীই যাচ্ছে মাত্র ছয়টি দেশে। বাকি দেশে আসলে নামেমাত্র কর্মী পাঠানো হচ্ছে, কোথাও তা মাত্র ২ থেকে ৩/৪ শতাংশ।’
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও শ্রমবাজার খোঁজার তাগিদ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে বাংলাদেশি ও মালয়েশিয়ার রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেটের কারণে। অনেক কর্মী মালয়েশিয়ায় গিয়ে কাজ পাননি, ফলে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি। সরকারকে দ্রুত মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।’
সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবকাঠামো খাত বন্ধ থাকায় কর্মী নিয়োগ কমে গেছে। এছাড়া সৌদি আরবে গত বছর ৬ লাখ কর্মী যাওয়ায় (এ বছর) চাহিদা কমে গেছে বলে জানান এই গবেষক।
দেশের ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্টদের সংগঠন বায়রার সাবেক সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী ইউএনবিকে বলেন, ‘শ্রমবাজারের সংকট কাটাতে হলে বন্ধ হয়ে যাওয়া বাজারগুলো দ্রুত খুলতে ব্যবস্থা নিতে হবে।’ এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা যায় বলে পরামর্শ দেন তিনি।
হায়দার আলী বলেন, ‘বিকল্প বাজার তৈরি না করা গেলে (দেশের) শ্রমবাজার হুমকির মুখে পড়বে। তখন মানুষ অবৈধভাবে সাগরপথে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করবে, যা আরও বিপজ্জনক হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংকুচিত হয়ে যাওয়া কাতার ও সৌদির শ্রমবাজারে লোক পাঠানো আরও বাড়াতে হবে। থাইল্যান্ড সম্ভাবনাময় একটি বাজার ছিল, সেটিও বন্ধ। এটি চালু করতে দুই দেশের আলোচনার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।’
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সাত-আটটি বড় শ্রমবাজারের মধ্যে তিনটি বন্ধ রয়েছে। কাতার, কুয়েত ও সৌদি আরবেও কর্মী নিয়োগ কমেছে। মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান গত এক বছর ধরে শ্রমবাজার বন্ধ রেখেছে। এসব বাজার খুলতে না পারলে কর্মী পাঠানোর হার আরও কমে যাবে।’
কী বলছে সরকার
বিএমইটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল হাই বলেন, ‘আমরা শ্রমবাজার বৃদ্ধির জন্য কাজ করছি; নতুন নতুন বাজার খুলছি। যেমন: রাশিয়া, পর্তুগাল, মাল্টা, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও আফ্রিকার কঙ্গোতে নতুন করে কর্মী পাঠানো শুরু হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে রাশিয়ায় বেশি কর্মী যাচ্ছে।’
ইরাক ও ইরানেও কর্মী পাঠানো হচ্ছে জানিয়ে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইরাকে ৫০০ ডলার বেতনে ৫০ হাজারের বেশি কর্মী পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় সব ইউরোপীয় দেশের দূতাবাস থাকলেও কর্ম ভিসার জন্য ভারত বা নেপালের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়, যা বাংলাদেশিদের ইউরোপে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।’
৩২৯ দিন আগে
আমিরাত ও ওমান সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
সরকারি সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি দুবাইয়ের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র।
আরও পড়ুন: দালালের খপ্পরে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে জড়াচ্ছেন বাংলাদেশিরা: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা দুবাই থেকে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে যাবেন ১৪ ফেব্রুয়ারি। সেখানে তিনি ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করবেন।
কনফারেন্স শেষে ১৮ ফেব্রুয়ারি দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার।
৩৭০ দিন আগে
দুই দেশের অর্থনীতিতেই অবদান রাখছেন ওমানে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওমানে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রশংসা করে বলেছেন, তারা দু'দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখছে।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের অর্থনীতিতে যেমন বাংলাদেশি শ্রমিকদের অবদান রয়েছে, তেমনি বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও অবদান রয়েছে। উভয় অর্থনীতিই শ্রমশক্তির সুফল পাচ্ছে।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত ওমানের রাষ্ট্রদূত আবদুল গাফফার বিন আবদুল করিম আল-বুলুশি বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এম নাঈমুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
পশ্চিম এশিয়ার দেশটিতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের পারফরম্যান্সের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একমত পোষণ করেন ওমানের রাষ্ট্রদূত।
তিনি বলেন, ‘এটা সত্য এবং তারা উভয় অর্থনীতির জন্য কাজ করছে।’
আরও পড়ুন: আমরা আমাদের দরজা বন্ধ রাখতে পারি না: ভারতকে ট্রানজিট দেওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, ওমান দীর্ঘদিন ধরে ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে এবং বর্তমানে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রত্যাশা করছে।
তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দ্বিগুণ হতে পারে।’
এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময় ওমানের সহায়তার বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
বাংলাদেশিদের ওপর ভিসা বিধিনিষেধের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত জানান, ওমানে প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি কাজ করছেন।
তিনি বলেন, 'এটা (বিধিনিষেধ) সুনির্দিষ্ট করে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারণ করা হয়নি। চাহিদা নির্ধারণের জন্য আমরা পর্যায়ক্রমে শ্রমবাজার পর্যালোচনা করি। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতে আমরা অনেক সময় যেসব দেশে জনবল বেশি, সেসব দেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া স্থগিত করি। স্থগিতাদেশ শিথিল করার জন্য আপনাকে পরবর্তী পর্যালোচনা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’
বাংলাদেশের ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে- বিষয়টি যে এমন নয় তা স্পষ্ট করেন তিনি।
'কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটা এমন ছিল না। জনশক্তি ভিসা ছাড়া ফ্যামিলি ভিসা ও ট্যুরিস্ট ভিসাসহ অন্য সব ভিসা দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশিদের জন্য বর্তমানে ১০টি ক্যাটাগরিতে ওমানের ভিসার দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তার সরকারের কাছে চিঠি পাঠানোর পরামর্শ দেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, এটি তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষে আলোচনা করতে সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, 'আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছি, যাতে শিগগিরই ওয়ার্কিং ভিসা চালু করা যায়।’
সার আমদানি ইস্যুতে রাষ্ট্রদূত বলেন, তার সরকার এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সরকারের আলোচনা করার প্রস্তাব করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার প্রস্তাবটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং জানুয়ারিতে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রদূত।
তিনি আরও বলেন, হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরণ করলে ভালো হবে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আপনাকে নিয়ে গর্ব করতেন।’
রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীকে একটি ওমানি নৌকার রেপ্লিকা উপহার দেন।
সেখানে লেখা ছিল, 'দৃঢ়তা ও সাহসিকতার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর মশাল বহনকারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ওমানের রাষ্ট্রদূত আব্দুল গাফফার আলবুলুশির পিক্ষ থেকে অভিনন্দন।’
বৈঠকে অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ২০৩৫ সালের মধ্যে হাইড্রোজেন থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায় বাংলাদেশ: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
৫৯৩ দিন আগে
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ১০ ক্যাটাগরিতে ভিসা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ওমান
ওমান সালতানাত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ১০টি ক্যাটাগরির ওপর থেকে সাময়িক ভিসা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে বলে ঘোষণা করেছে ঢাকায় ওমানের দূতাবাস।
দূতাবাসের একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিষেধাজ্ঞামুক্ত ভিসাগুলো হলো- অফিসিয়াল ভিসা, পারিবারিক ভিসা, জিসিসি দেশগুলোতে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিজিটর ভিসা এবং প্রকৌশলী, ডাক্তার, নার্স, শিক্ষক, হিসাবরক্ষক, বিনিয়োগকারী ও উচ্চ আয়ের পর্যটকদের ভিসা।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশিদের ওমানের ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্তটি কোনোভাবেই রাজনৈতিক নয়: ওমান দূতাবাস
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এখন থেকে রয়্যাল ওমানি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে এই ক্যাটাগরিগুলোর ভিসার সব আবেদন ও নথিপত্র জমা নেওয়া এবং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে স্থানীয় দূতাবাস।
এছাড়াও দূতাবাস আশ্বাস দিয়েছে, ওয়ার্ক ভিসার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে ওমান ও বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ দুই পক্ষই কাজ করছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ওমানের সামগ্রিক অভিবাসন নীতি পর্যালোচনা করতে দাপ্তরিক উদ্দেশ্য ছাড়া সব ভিসা বিভাগের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল রয়্যাল ওমানি পুলিশ।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশি নাগরিকদের সব ধরনের ভিসা প্রদান স্থগিত করেছে ওমান
৬১৫ দিন আগে
ঋণ করে ওমানে গিয়েছিলেন অগ্নিকাণ্ডে নিহত হোসেন
আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে এনজিও থেকে ঋণ এবং আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ধার করে ওমানে যান হোসেন মিয়াজী। আগুন নিভিয়ে দিল সব স্বপ্ন। চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে তার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
হোসেন মিয়াজী ওমানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর বুরাইমির একটি সোফা কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। সোমবার (১১ মার্চ) ভোরে ওমানের ওই কারখানায় হঠাৎ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে লাগা আগুনে তার মৃত্যু হয়।
চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নিজমেহার গ্রামের যুগী বাড়ির আব্দুস সালামের একমাত্র ছেলে তিনি।
আরও পড়ুন: যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসচালক নিহত
একমাত্র পুত্রসন্তান ও পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎসকে হারিয়ে নির্বাক বাবা আব্দুস সালাম এবং মা নুরজাহানের কান্না থামছেই না। তারা কেবলই বিলাপ করছেন ও র্মূছা যাচ্ছেন।
স্বজনরা জানান, পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় আত্মীয়-স্বজন ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ২০১৯ সালে বিদেশ পাঠানো হয় তাকে। করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে ঋণের দায় কাটিয়ে এখনো উঠতে পারেনি পরিবারটি। এমন পরিস্থিতিতে পুত্রের মৃত্যু!
হোসেনের ছোট বোন মরিয়ম আক্তার জানান, নিজের ভাইয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তার শ্বশুর বাড়ি এলাকার এনজিও থেকে ঋণ এনে দিয়েছেন। একটি দুর্ঘটনা তাদের সবাইকে পথে বসিয়ে দিল।
হোসেনের মা নুরজাহান বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, একটু ভালো থাকার আশায় ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছি। আজ আমার সব শেষ।
হোসেনের মৃতদেহ দেশে আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মা বাবা ও পরিবারের সদস্যরা। শেষবারের মতো সন্তানকে একনজর দেখতে তারা আকুতি জানান।
পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মিজানুর রহমান ইউএনবিকে জানান, তার লাশ দেশে আনতে পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
তিনি আরও জানান, তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হোসেন অত্যন্ত বিনয়ী ও কর্মঠ ছিল।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় ভটভটির ধাক্কায় কৃষক নিহত
বরগুনায় সাংবাদিক নিহতের ঘটনায় ৭ সহকর্মী কারাগারে
৭০৪ দিন আগে
শাহ আমানত বিমানবন্দে ওমান ফেরত উড়োজাহাজ থেকে ৬৪টি স্বর্ণের বার উদ্ধার
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওমান ফেরত উড়োজাহাজের সিটের নিচ থেকে ৬৪টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। প্রায় সাড়ে ৭ কেজি ওজনের এসব বারের বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা।
শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ৯টায় ওমান থেকে আসা ওমান এয়ারের একটি উড়োজাহাজ থেকে এসব স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তসলিম আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিমানবন্দরের কর্মরত শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে উড়োজাহাজটির সিটের নিচ থেকে ৬৪টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৪টি স্বর্ণের বার জব্দ, আটক ২
যার ওজন প্রায় সাড়ে ৭ কেজি এবং বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা বলে জানান তিনি।
বিমাবন্দরে দায়িত্বরত কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আল আমিন প্রধান বলেন, রাতে ওমান এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজে স্বর্ণের বড় চালান আসবে এমন গোপন সংবাদের ভিক্তিতে গোয়েন্দা টিম প্রস্তুত ছিল। বিমানটির ২৫বি নম্বর আসনে এই সোনা থাকতে পারে তথ্য ছিল। উড়োজাহাজটির সিটের নিচে কালো স্কচটেপে মোড়ানো ৪টি দণ্ডাকৃতির বস্তু পাওয়া যায়। এগুলো খুলে ৬৪টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন স্বীকৃত স্বর্ণকার দিয়ে এসব পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় এসব ২৪ ক্যারেটের সোনা বলে নিশ্চিত হন কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: জয়পুরহাটে ১০টি স্বর্ণের বার জব্দ, আটক ৩
ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ৩.৪৯ কেজি স্বর্ণ জব্দ, আটক ১
৭৩২ দিন আগে