মাদক
খুলনা নগরীর ১১৭ স্পটে মাদকের কারবার, শনাক্ত ২৭২ ব্যবসায়ী
খুলনা নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে মাদক ব্যবসার বিস্তার বাড়ছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ১১৭টি মাদক বিক্রির স্পট চিহ্নিত করে এর সঙ্গে জড়িত ২৭২ জন মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনাও চেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খুলনা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়েও তালিকাটি পাঠানো হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাতক্ষীরা ও যশোর থেকে সড়ক ও রেলপথে ফেনসিডিল ও ইয়াবা খুলনায় আসে। পণ্যবাহী পরিবহনে করে এসব মাদক পথের বাজার ও জিরো পয়েন্ট দিয়ে নগরীতে প্রবেশ করে। এছাড়া বেনাপোল থেকে আসা কমিউটার ট্রেনেও ফেনসিডিল ও ইয়াবা আসে। এসব মাদকবাহী ট্রেন থেকে ব্যবসায়ীরা দৌলতপুর ও খুলনা স্টেশনে নেমে যায়।
তিনটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে মাদক বিক্রির স্পটগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন উপপরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তা প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন।
প্রতিবেদনে নগরীর উল্লেখযোগ্য মাদক বিক্রির স্পট হিসেবে টুটপাড়া, গাছতলা, মহিরবাড়ি খালপাড়, ৫ নম্বর ঘাট, গ্রিনল্যান্ড বস্তি, জোড়াগেট, ১০ তলার পেছন, ৪ ও ৬ নম্বর ঘাট, হাসপাতাল রোড, নিক্সন মার্কেট, দারোগার বস্তি, বার্মাশীল রোডের পানির ট্যাংকির মোড়, নিরালা আবাসিক এলাকা, হাজীবাড়ির মোড়, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল, লবণচরা, জিরো পয়েন্ট, কৈয়া বাজার, ইসলামনগর, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) ক্যাম্পাস, গিলেতলা, কুয়েট রোড, আটরা পালপাড়া, দৌলতপুর, খালিশপুর ও মহেশ্বরপাশা কালীবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আগে শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের কেউ কেউ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মাদক বিক্রেতাদের পুঁজি দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসার বিনিময়ে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগও ছিল। সে সময় গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা ও কোডিন ফসফেটের কারবার হতো। প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ টাকার মাদক বিক্রি হতো বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকারীদেরও পরিবর্তন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, গত মাসের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় খুলনা জেনারেল হাসপাতালের সুপার ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, ওই মাসে ১৩৭ জনের ডোপ টেস্ট করা হয়। এর মধ্যে আটজনের ফল পজিটিভ আসে। তাদের অধিকাংশ মরফিন ও গাঁজা সেবন করেন বলে তিনি সভায় জানান।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) অমিত কুমার বর্মণ বলেন, নগরীকে মাদকমুক্ত করতে প্রতিদিনই অভিযান চালানো হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীরা পলাতক থাকলেও তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। নগরীতে মাদকসেবীদের মধ্যে ইয়াবার চাহিদা বেশি বলেও জানান তিনি।
৬ দিন আগে
৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ
দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলি তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিগত সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নের বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট হয়েছে। লুটপাটের অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার এবং অন্য অংশ মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কাজে ব্যবহারের বিষয়টি সরকার গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছে।
এ পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলি তদারকি ও সমন্বয়ে জেলা পর্যায়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের তদারকি ও সমন্বয়ের এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী ইকবাল হাসান মাহমুদ রাজশাহী ও নাটোর জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড় এবং আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে লক্ষ্মীপুর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিতাই রায় চৌধুরী চুয়াডাঙ্গা, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির হবিগঞ্জ এবং আরিফুল হক চৌধুরী মৌলভীবাজার জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে চট্টগ্রাম জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা এবং আসাদুল হাবিব দুলু ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। মো. আসাদুজ্জামান খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট এবং জাকারিয়া তাহের ফেনী ও নোয়াখালী জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ এবং সাচিং প্রুকে কক্সবাজার জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মো. শরিফুল আলম টাঙ্গাইল ও নরসিংদী, শামা ওবায়েদ ইসলাম মাদারীপুর ও শরীয়তপুর এবং অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
আব্দুল বারীকে বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে ঢাকা এবং মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হাবিবুর রশিদ পেয়েছেন গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের দায়িত্ব।
মো. রাজীব আহসান বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর, মীর শাহে আলম রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম এবং ফারজানা শারমিন সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। শেখ ফরিদুল ইসলামকে যশোর, মাগুরা ও নড়াইল এবং ইয়াসের খান চৌধুরীকে জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি, মোহাম্মদ শামীম কায়সার জয়পুরহাট ও নওগাঁ এবং আলহাজ্ব মো. জি কে গউস সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। মিঞা নুরুদ্দিন আহম্মেদকে রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)-কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ, গুরুতর অপরাধ দমনসহ সংশ্লিষ্ট জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও উন্নত রাখতে সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।
এছাড়া সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের তদারকি ও পরামর্শ দেবেন তারা। প্রয়োজনবোধে দায়িত্বপ্রাপ্তরা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে পরামর্শও দিতে পারবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব না করে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বিদ্যমান ক্ষমতা এবং মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের আলোকে এ দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।
৯ দিন আগে
ফোন দিলেই পৌঁছে যাচ্ছে মাদক, দৌলতপুর সীমান্তজুড়ে সক্রিয় একাধিক সিন্ডিকেট
ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সীমান্ত গলে অবৈধভাবে মাদক প্রবেশের পাশাপাশি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তা উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এখন আর মাদকসেবীদের নির্দিষ্ট স্থানে যেতে হয় না; একটি ফোন কলেই ‘হোম ডেলিভারি’ পদ্ধতিতে চাহিদা অনুযায়ী মাদক হাতে হাতে পৌঁছে যাচ্ছে।
পুলিশের একটি গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে সমাজের প্রভাবশালী ও অসাধু কিছু ব্যক্তি জড়িত। এদের মধ্যে খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্নীতিগ্রস্ত কিছু সদস্য, নামধারী সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগানো ব্যক্তিদেরও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
বিজিবি ও পুলিশের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, চিলমারী ইউনিয়নের বাংলাবাজার সীমান্ত এবং উদয়নগর বিওপি-সংলগ্ন পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে সীমান্তের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে সীমান্তের একটি অংশ ভারতের অভ্যন্তরে চলে যাওয়ায় কয়েকটি এলাকায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর টহল কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে উদয়নগর সীমান্তকে মাদক পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহার করছে চোরাকারবারিরা।
এছাড়া আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ ও পশ্চিম ধর্মদহ, প্রাগপুর ইউনিয়নের জামালপুর ও বিলগাতুয়া, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চল্লিশপাড়া ও ভাগযোতসহ পদ্মা নদীর বিভিন্ন নৌপথ ব্যবহার করেও দেশে মাদক প্রবেশ করছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দৌলতপুরে প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মাদকের লেনদেন হয়ে থাকে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বর্তমানে মাদক কারবারিদের প্রধান লক্ষ্য ১৭ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ ও যুবকেরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদক কারবারি জানান, ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ও বিভিন্ন নেশাজাতীয় ট্যাবলেটের চাহিদা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি। আকারে ছোট হওয়ায় এসব মাদক সহজে বহন করা যায় এবং প্রশাসনের নজর এড়াতে সরাসরি বেচাকেনার পরিবর্তে ফোনের মাধ্যমে ‘হোম ডেলিভারি’ সিস্টেমে কেনা বেচা করা হচ্ছে।
বিজিবির দাবি, ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ৫৫ পয়সায় সংগ্রহ করা এসব নেশাজাতীয় ট্যাবলেট দেশে এনে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় বহিরাগত মোটরসাইকেল আরোহী ও অপরিচিত মানুষের আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে বিকেল ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে সীমান্ত এলাকায় তরুণদের মাদকসেবনের প্রবণতা বাড়ে, যা স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
সীমান্তে বিজিবি ও পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলেও মাদকের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়ে উঠছে না।
কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ১৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
৩৪ দিন আগে
মাদকবিরোধী অভিযানকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে চাই: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সবাইকে নিয়ে আমরা মাদকবিরোধী অভিযানকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে চাই। শুধু আইন করে শাস্তি দিয়ে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মাদকের অপব্যবহার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেছি। সকলকে নিয়ে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে চাই এবং এটি ছাড়া আমার মতে বিকল্প কোনো পথ নেই। শুধু আইন করে শাস্তি দিয়ে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়।
মন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, ঠাকুরগাঁওয়ে আমরা যে পদক্ষেপগুলো নিতে যাচ্ছি, সেই পদক্ষেপের ফলে আমরা অবশ্যই কিছুটা ইতিবাচক ফল লাভ করব। আমরা চাই এ ব্যাপারে সকলে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবেন। মূল কাজ হচ্ছে প্রচার করা যে মাদক খারাপ জিনিস। এভাবে মানুষের সামনে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
এক্ষেত্রে প্রশাসনের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক পয়গামসহ অন্যরা।
৩৯ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী খুন, ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ পৌর এলাকায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী আব্দুর রহমান (২০) নিহত হওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে নিহতের বাবা ফিরোজ বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান।
ওসি জানান, মঙ্গলবার রাতে রায়গঞ্জ পৌর এলাকার ফুলজোড় নদীর পশ্চিমপাড় মহল্লায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে একই এলাকার তারা সেখের ছেলে টিটোনের সঙ্গে আব্দুর রহমানের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে টিটোন ধারালো বার্মিজ ছুরি ও চাপাতি দিয়ে আব্দুর রহমান এবং তার বড় ভাই হাসানের ওপর হামলা চালায়।
এ ঘটনায় দুই ভাই গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে আব্দুর রহমানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেও তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আব্দুর রহমান রায়গঞ্জ বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। তার বড় ভাই হাসান বর্তমানে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ওসি আহসানুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪৯ দিন আগে
মাদকের কবলে জনসংখ্যার ৪.৮৮ শতাংশ, শক্তিশালী আইনি কাঠামো হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশে বর্তমানে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ মাদকের কবলে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মাদকের বিস্তার রোধে সরকার বিদ্যমান আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করতে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন’ সংশোধন ও আধুনিকায়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তা জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘২৬ জুন মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর অনুকূলে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ মাদক ব্যবহার করছে যা মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। নতুন সিন্থেটিক ও সেমি-সিন্থেটিক মাদকের বিস্তারের কারণে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারজনিত সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, অপরাধীরা এখন প্রযুক্তির সহায়তায় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাই কেবল নড়বড়ে আইনি ভিত্তি দিয়ে এই অপরাধ দমন সম্ভব নয়। অপরাধীদের কঠোর শাস্তি এবং সমাজ পরিবর্তনের জন্য একটি অভেদ্য আইনি দেওয়াল গড়ে তোলা হচ্ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কর্মকর্তাদের ঢাল-তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দারের মতো খালি হাতে সশস্ত্র মাদক চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়।’ কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে অধিদপ্তরে অত্যাধুনিক অস্ত্র, পর্যাপ্ত যানবাহন ও ডগ স্কোয়াড যুক্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া, আসামিদের থানায় সোপর্দের আগ পর্যন্ত রাখার জন্য আধুনিক হাজতখানা নির্মাণ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মামলা জটের কারণে যাতে আসামিরা পার পেয়ে না যায়, সেজন্য মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, মাদকের পাশাপাশি অনলাইন জুয়া রোধে সম্প্রতি একটি আধুনিক আইন (সংসদে) উত্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সাইবার অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আধুনিকায়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও আইনি সংস্কার আনা হচ্ছে।
মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকার তেজগাঁওসহ তিনটি বিভাগীয় শহরের নিরাময় কেন্দ্রের শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া ঢাকার কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে।
তিনি জানান, দেশের সাতটি বিভাগীয় শহর—চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহে ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ শযাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প শুরু হয়েছে। এসব কেন্দ্রে চিকিৎসার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা থাকবে।
সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশব্যাপী লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৪০৩টি কেন্দ্রের মধ্যে নির্বাচিত ৭৩টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রকে মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে।
বেসরকারি কেন্দ্রগুলোকে বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করে সরকারি বিধিমালা ও জাতীয় গাইডলাইন অনুসরণ করে মানবিক সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা মহানগর এলাকার নির্বাচিত ১৫টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
৭২ দিন আগে
মাদকের ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন, পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব
দেশে মাদকসংক্রান্ত প্রায় ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন থাকায় বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এই জট কমাতে মাদক মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। পরে দিবসটি উপলক্ষে নির্বাচিত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে কার্যকরভাবে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করা যাচ্ছে না। মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকেরই সশস্ত্র গ্রুপ রয়েছে, অথচ অভিযানে যাওয়া অধিদপ্তরের পরিদর্শকদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই। এ পরিস্থিতিকে তিনি ‘ঢাল-তলোয়ারবিহীন নিধিরাম সর্দারের’ সঙ্গে তুলনা করেন।
মন্ত্রী বলেন, মাদক শনাক্তকরণে পর্যাপ্ত পরীক্ষাগার নেই। ফলে জব্দ হওয়া মাদকের দ্রুত পরীক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেও সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে মামলা পরিচালনায় বিদ্যমান আদালতগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে ঢাকায় প্রায় ১৮ হাজার এবং চট্টগ্রামে প্রায় ৩৯ হাজার মামলা রয়েছে। মামলার জটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে আসামিরাই সুবিধা পাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাদক মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এখতিয়ারসম্পন্ন বিদ্যমান আদালতগুলোও মামলা বিচার করবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের পর থানায় হস্তান্তরের আগে রাখার জন্য অধিদপ্তরের নিজস্ব কোনো হাজতখানা নেই। সংশোধিত আইনে হাজতখানা নির্মাণ, পরিবহন সুবিধা, ডগ স্কোয়াড এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জন্য আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এসব সক্ষমতা বৃদ্ধির পর আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি জানান, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে তোলা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধের ধরন বদলে গেছে। এখন অনলাইনে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে, সেই অর্থ অবৈধ পথে পাচার হচ্ছে এবং মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করা হচ্ছে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী আইনি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
মন্ত্রী আরও বলেন, মাদক আইন সংস্কারের পাশাপাশি মানি লন্ডারিং, সাইবার অপরাধসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনও আধুনিকায়ন করা হবে। এসব আইনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। শক্তিশালী আইনি ভিত্তি ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়াই করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
৭২ দিন আগে
রংপুরে বিষাক্ত মদ্যপান: চলে গেলেন বাকি দুজনও
রংপুরের মিঠাপুকুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও বিষাক্ত মদ্যপানে বাকি দুজনও মারা গেছেন। এর ফলে এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে একে একে পাঁজনেরই মৃত্যু হলো।
বুধবার (৩ জুন) রাতে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুলা মিয়া (৪৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়। বালারহাট ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) মাহিদুল ইসলাম তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুলা মিয়া উপজেলার বালারহাট কুমোরপুর কন্তিবাড়ি গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (৩১ মে) রাতে উপজেলার বালারহাট বাজারে কয়েকজন ব্যক্তি মেয়াদোত্তীর্ণ ও বিষাক্ত মদ্যপান করেন। পরে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদের মধ্যে কাফ্রিখাল ইউনিয়নের সাতভেন্টি এনায়েতপুর গ্রামের ছাত্তার মিয়া (৬০) ওই রাতেই নিজ বাড়িতে মারা যান। এরপর পর্যায়ক্রমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাকিদের মৃত্যু হয়।
গত সোমবার (১ জুন) হাসপাতালে বুজরুক ঝালাই গ্রামের হুজুর আলী (৪৫) ও সংগ্রামপুর বেলতলা এলাকার সাজু মিয়ার (৫৫) মৃত্যু হয়। এরপর মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে মারা যান বুজরুক ঝালাই গ্রামের পাকারমাথা এলাকার এরশাদ আলী (৪০)। আর সবশেষ গতকাল (বুধবার) রাতে মৃত্যু হয় দুলা মিয়ার।
মিঠাপুকুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ শিকদার বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। আইনি প্রক্রিয়ায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আবু জাফর বলেন, বিষাক্ত মদপানে ৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর থেকে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে সচেতন করতে এলাকায় লিফলেট বিতরণ এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে এর ভয়াবহতা সম্পর্কে সাবধান করা হচ্ছে।
৯৩ দিন আগে
রংপুরে নারীকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আটক ৪
রংপুর নগরীর ধাপ কটকিপাড়া এলাকায় কর্মজীবী এক নারীকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে জমি বিক্রির টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ৪ যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২০ মে) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ। এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন— মিনহাজ আহমেদ (২৮), মহিম হাসান (২৫), শাহরিয়ার সরকার (২৮) ও আব্দুল মজিদ (২০)। তাদের সবার বাড়ি নগরীর ধাপ কটকিপাড়া এলাকায়।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী ওই নারী নগরীর একটি কারুপণ্য প্রতিষ্ঠানের আলমনগর কারখানায় কর্মরত। সম্প্রতি তিনি তিন লাখ ৬০ হাজার টাকায় একটি জমি বিক্রি করেছেন। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে সেই টাকা ব্যাংকে জমা রেখে তিনি তার ধাপ কটকিপাড়ার ভাড়া বাসায় ফেরেন।
রাত ৮টার পর স্থানীয় কয়েকজন যুবক জোরপূর্বক তার বাসায় প্রবেশ করে ঘরে মাদক আছে এমন দাবি করে তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে তারা বিছানার তোষকের নিচে ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন। এরপর তারা বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হলে ওই নারীকে মারধর করেন তারা। পাশাপাশি তার ব্যাংকের চেক বইয়ের পাতাও নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, জমি বিক্রির টাকার সন্ধানে তারা ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তছনছ করে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে বাড়ির মালিক গোপনে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ও ধাপ ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে তদন্তে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ইয়াবা-সদৃশ বস্তুগুলো ভুয়া বলে প্রতীয়মান হয়। এ ঘটনায় ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ।
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ বলেন, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে, মাদক দিয়ে ফাঁসানোর নাটক সাজিয়ে কিংবা প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানি করার বিরুদ্ধে আরএমপি সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নগরবাসীকে যেকোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দ্রুত পুলিশকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
১০৮ দিন আগে
ফেনীতে টাকা না দেওয়ায় মাদকাসক্ত সন্তানের ছুরিকাঘাতে মা নিহত
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় মাদক সেবনের জন্য টাকা না পেয়ে এক যুবক ছুরিকাঘাতে মাকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নিহতের স্বামী ও মেয়ে।
রবিবার (১০মে) রাত ৯টার দিকে উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের দিলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম লাকি বেগম (৪৫)। আহতরা হলেন তার স্বামী মো. মোস্তফা (৫৫) ও মেয়ে মিথিলা মোস্তফা (১৮)। তারা দিলপুর গ্রামের মকবুল আহমদ হুদুর বাড়ির বাসিন্দা।
মোস্তফা সৌদি আরব প্রবাসী। মিথিলা রাজাপুর আলিম মাদরাসার এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় ফেনীকে (২১) আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল (রবিবার) রাতে রাফি বাড়িতে এসে মাদক সেবনের জন্য তার মায়ের কাছে টাকা চান। এ সময় লাকি বেগম টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে রাফি ধারালো ছুরি দিয়ে তার ওপর হামলা চালান। এতে গুরুতর আহত হন লাকি বেগম।
মাকে ছুরিকাঘাতের পর বোন মিথিলাকেও ছুরিকাঘাত করেন রাফি। মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে যান মোস্তফা। সে সময় তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়।
পরে পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। রাফি তখন পালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
আহত তিনজনকে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক লাকি বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাহরিয়ার কবির বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই লাকি বেগমের মৃত্যু হয়েছে। আহত মোস্তফা ও মিথিলার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে রাফিকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, অনলাইনে অর্ডার দিয়ে দুটি ছুরি কিনেছিলেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ছুরি জব্দ করেছে পুলিশ।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, লাকি বেগমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
১১৭ দিন আগে