স্কুলছাত্রী
লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে ক্লিনিক পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইউসুফ আলী (৪৫) নামে এক ক্লিনিক পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে কালীগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মা।
অভিযুক্ত ইউসুফ আলী উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের কাঞ্চনশ্বর কানার বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি রংপুর নিউ রূপসী বাংলা ক্লিনিকের পরিচালক।
মামলার এজাহার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিজ ক্লিনিকে প্রতিবেশী এক পোশাক শ্রমিক ও তার পরিবারের চিকিৎসার সুবাদে ওই পরিবারের সঙ্গে ইউসুফ আলীর সখ্যতা গড়ে ওঠে। ওই পোশাক শ্রমিক কাজের সুবাদে ঢাকায় থাকেন এবং তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে থাকেন।
গেল বৃহস্পতিবার ওই পরিবারের এক শিশু অসুস্থ হওয়ায় তাকে নিয়ে তার মা ও খালা লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে যান। তখন দম্পতির মেয়ে অষ্টম শ্রেণির স্কুলছাত্রী বাড়িতে একা ছিল। এ খবর জানতেন ইউসুফ আলী।
সেদিন স্কুলছাত্রীটি বাড়িতে একা থাকায় তার মায়ের নম্বর নেওয়ার কথা বলে ইউসুফ আলী তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এরপর বাড়ির গেট ও ঘরের দরজা বন্ধ করে তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
পরে তার মুখ খুলে দিলে মেয়েটি চিৎকার দিতে চেষ্টা করলে তাকে মারপিট করে মেরে ফেলার হুমকি দেন ইউসুফ। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়িতে ফেলে রেখে চলে যান তিনি।
পরে ওই স্কুলছাত্রী মোবাইল ফোনে তার মাকে বিষয়টি জানায়। প্রথমে তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
মামলার বাদী ভুক্তভোগীর মা বলেন, ‘আমার নিষ্পাপ মেয়ের জীবন যে নষ্ট করেছে তার ফাঁসি চাই। আমরা গরিব মানুষ। আসামিরা প্রভাবশালী, তারা নাকি টাকা দিয়ে সব কিনে ফেলেছে। তাই তাকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আমি টাকার অভাবে অসুস্থ মেয়ের দুইটা টেস্ট করাতে পারিনি। ওষুধ কেনারও টাকা নেই।’
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, ‘বাদীর এজাহার নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
১৪ দিন আগে
ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৩ জনের যাবজ্জীবন
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী গ্রামের নাসির মোল্যা (২৬), ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার লঙ্কারচর এলাকার সৈকত চন্দ্র (২৬) ও একই গ্রামের নাসির মোল্যা (৩৬)।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে কড়া পুলিশ পাহারায় তাদের ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী স্থানীয় গোহাইলবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ালেখা করত। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মামলার ১ নম্বর আসামি নাসির মোল্যার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে আসামি নাসির মোল্যা দেখা করার জন্য ওই ছাত্রীর বাড়ির কাছাকাছি জীবন মন্ডলের বাগানের কাছে আসেন। খবর পেয়ে মেয়েটি সেখানে গেলে সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা আসামিরা তাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যান।
পরে আসামিরা তাকে মধুমতি নদীর তীরে থাকা একটি নৌকায় তুলে নদীর চরে নিয়ে যান। সেখানে তারা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। সে সময় তারা মোবাইল ফোনে সেই নৃশংস ঘটনার ভিডিওচিত্র ও ছবি ধারণ ধারণ করেন তারা। পাশবিক নির্যাতনে ভুক্তভোগী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ১১টার দিকে আসামিরা তাকে পুনরায় নৌকায় করে নদীর পাড়ে ফিরিয়ে এনে বাড়ির কাছে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
অসুস্থ অবস্থায় মেয়েটি বাড়ি ফিরে তার মা, বাবা ও স্বজনদের বিষয়টি জানায়। পরে ভুক্তভোগীর স্বজনরা ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি বোয়ালমারী থানায় হাজির হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।
মামলার দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আজ (মঙ্গলবার) এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন বলেন, ‘আমরা এই রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট। এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ফলে সমাজে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে এবং অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হবে।’
১৭ দিন আগে
যশোরে পুকুরে ডুবে ৩ স্কুলছাত্রীর মৃত্যু
যশোরের বাঘারপাড়ায় পুকুরে গোসল করতে নেমে দুই বোনসহ ৩ স্কুলছাত্রীর পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার জামদিয়া গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো— জামদিয়া গ্রামের দক্ষিণপাড়ার নিসার আলীর মেয়ে লামিয়া (১৩) ও সুলতানা (১০) এবং একই এলাকার আশিকের মেয়ে ফাহিমা (৯)। লামিয়া জামদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী, সুলতানা ও ফাহিমা জামদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যথাক্রমে চতুর্থ ও তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
নিহতদের পরিবার জানায়, শুক্রবার স্কুল বন্ধ থাকায় লামিয়া, তার ছোট বোন সুলতানা ও প্রতিবেশী ফাহিমা দুপুর ১২টার দিকে পার্শ্ববর্তী ইকরাম মোল্লার পুকুরে গোসল করতে যায়। এ সময় অসাবধানতাবশত পানিতে ডুবে তিনজনের মৃত্যু হয়। পরে পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজির পর পুকুর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজালাল আলম বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
২১ দিন আগে
লালমনিরহাটে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) ধর্ষণের পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাতে এ ঘটনায় বাদী হয়ে আদিতমারী থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা।
মামলার এজাহারে জানা যায়, উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়িটারী গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে মোখলেছার রহমান (৪০) গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় প্রতিবেশী ওই স্কুলছাত্রীকে ফুসলিয়ে বাড়ির পাশের একটি লিচুবাগানে নিয়ে যান। সেখানে ভুক্তভোগীর মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে তাকে বাগানে ফেলে রেখে যান মোখলেছার। বিষয়টি প্রকাশ করলে তাকেসহ তার পরিবারের সদস্যদের মেরে ফেলার হুমকিও দেন তিনি। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে ভুক্তভোগী ধর্ষণের বিষয়টি গোপন রাখে।
ওই ঘটনার পর গত ১ জুলাই নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে প্রতিবেশী সুমি বেগম ও নছিমন বেগমের সহায়তায় ওই স্কুলছাত্রীকে ডেকে নেন মোখলেছার। পরে স্কুলছাত্রীকে প্রথমে রংপুর নিয়ে গিয়ে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে ঢাকায় নিয়ে যান তিনি। সেখানে এক বন্ধুর বাসায় রেখে আবারও ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করেন মোখলেছার। এ সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করে ছুটে গিয়ে বাইরের লোকজনের সহায়তা চার। সেখানের স্থানীয় লোকজন মোখলেছারকে মারধর করে ছেড়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা বুক্তভোগীর কাছ থেকে বাড়ির ফোন নম্বর নিয়ে গাজীপুর থেকে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
এ ঘটনার অসুস্থ মেয়েটিকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবার। চিকিৎসা শেষে তিনি কিছুটা সুস্থ হলে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে মোখলেছার ও তার সহযোগী দুই নারীর বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় মামলা করেন তার বাবা। ধর্ষক পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলকার কয়েকজন নারী বলেন, মোখলেছার রহমান খুবই খারাপ প্রকৃতির মানুষ। তার ভাই মহুবর রহমান এই ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ। তার ক্ষমতার প্রভাবে তিনি অপকর্ম করে বেড়ান। এ মামলাটিও নষ্ট করতে জোর চেষ্টা করেছিল গ্রাম পুলিশ মহুবর। তার সঙ্গে থানা পুলিশের সম্পর্ক ভালো। এ কারণে বারবার অপরাধ করেও বেঁচে যান মোখলেছার। মোখলেছারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন তারা।
ভুক্তভোগীর বাবার দাবি, আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে তাকে হত্যা করতে ঢাকায় নিয়ে গিয়েছিল মোখলেছার। তার বিশ্বাস ছিল, আমার মেয়ে কোনো একদিন ঘটনাটি আমার কাছে প্রকাশ করবে। সেই ভয়ে আমার মেয়েকে মেরে ফেলতে আসামিরা তাকে অপহরণ করে।
তিনি বলেন, আমি অশিক্ষিত গরীব মানুষ, টাকা পয়সা নেই। ন্যায়বিচারের জন্য কোথায় যেতে হবে, সেটাও জানি না। থানায় মামলা করেছি। আমি আমার মেয়ের ওপর অন্যায়কারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। মামলা করার পর থেকে তাদের লোকজনের হুমকিতে আমাদের জীবন অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।
আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, অভিযোগ পাওয়ামাত্র আমরা ঘটনা তদন্ত করে রাতেই মামলা নথিভুক্ত করেছি। আজ (বুধবার) ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতেলে পাঠিয়েছি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৫৮ দিন আগে
পাবনায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে যুবদল নেতা গ্রেপ্তার
পাবনার আতাইকুলায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে যুবদল নেতা আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দল থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) ভোরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আতাইকুলা থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার আবুল কাশেম পাবনার আতাইকুলা থানার আড়িয়াডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আতাইকুলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আমরা গতকাল সারা রাত অভিযান চালিয়েছি। ভোরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছি। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, গত ১১ জুন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার পরদিন শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে আতাইকুলা থানায় মামলা করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ও আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল (রবিবার) অভিযুক্তের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন স্থানীয়রা।
এদিকে, রবিবার রাতে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি একতাশামুল হক রাজিব ও সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল সরদারের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবুল কাশেমকে দলীয় সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
৮১ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে ১১ বছরের শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণ, গোপন না রাখলে প্রাণনাশের হুমকি
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার ঘুড়কা এলাকার এক স্কুলছাত্রীকে (১১) ধর্ষণের অভিযোগে আবু হানিফ শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে তাকে আটক করে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা। এরপর পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গ্রেপ্তার হানিফ শেখ ওই গ্রামেরই বাসিন্দা।
এ ঘটনায় গতকাল (রবিবার) রাতেই সলঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, হানিফ ওই স্কুলছাত্রীকে গতকাল (রবিবার) বিকেলে ডেকে গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এর আগেও তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার কথা কাউকে জানালে শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এ কারণে ভয়ে এত দিন সে বিষয়টি গোপন রেখেছিল।
তবে কিছুদিন ধরে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ও অসুস্থতা বুঝতে পেরে তার মা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপর শিশুটি ঘটনার কথা জানায়।
গতকাল তার পরিবারের সদস্যরা কৌশলে হানিফ শেখকে আটকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে সলঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে। পরে মামলা হয়ে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী বলেন, এ ঘটনায় গতকাল রাতে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
৮১ দিন আগে
সাভারে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মুদি দোকানদার গ্রেপ্তার
সাভারে ৫ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে শাহজাহান (৬০) নামে এক মুদি দোকানদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে সাভার থানাধীন বনগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) ভুক্তভোগী শিশুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে জানা যায়, গত বুধবার দুপুরে সাভার থানাধীন বনগ্রামের স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ওই ছাত্রী টিফিনের সময় মুদি দোকানে বিস্কুট কিনতে যায়। এ সময় দোকানদার শাহজাহান বিস্কুট দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে দোকানের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। শিশুটি চিৎকার করার চেষ্টা করলে শাহজাহান তার মুখ চেপে ধরেন।
ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেন তিনি। পরবর্তীতে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে এ ঘটনা তার চাচাকে জানায়। ওই রাতেই সাভার মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করে শিশুটির পরিবার। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শাহজাহানকে আটক করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) ইমরান হোসেন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, গ্রেপ্তার শাহজাহান দীর্ঘদিন ধরে সাভারের পাছ বনগ্রাম এলাকায় রাশিদা মেম্বারের বাড়ির পাশে একটি মুদি দোকান ঘরে বসবাস করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগী শিশুটির চাচা বলেন, ‘আমার ভাতিজি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। দুপুরে স্কুলের টিফিনের সময় সে মুদি দোকানদার শাহজাহানের দোকানে বিস্কুট কিনতে যায়। সেখানে তাকে দোকানের ভেতর টেনেহিঁচড়ে নিয়ে ধর্ষণ করে শাহজাহান।
১০৫ দিন আগে
‘প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়’ স্কুলছাত্রী অপহরণ, যুবক গ্রেপ্তার
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে তৌকির রহমান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব)-১৩। অভিযানে অপহৃত শিক্ষার্থীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
গ্রেপ্তার তৌকির নগরীর পূর্ব বোতলা এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী সপ্তম শ্রেণির একজন নিয়মিত ছাত্রী। স্কুলে যাতায়াতের সময় দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্যক্ত করাসহ প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন অভিযুক্ত তৌকির রহমান। বিষয়টি ভুক্তভোগী তার পরিবারকে জানালে পরিবারের পক্ষ থেকে তৌকিরকে অনুরোধের পর সতর্কও করা হয়। কিন্তু তাদের কথায় গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করার হুমকি দেন তৌকির।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ এপ্রিল সকালে ভুক্তভোগী ইউনিফর্ম পরে স্কুলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়। সে সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে তৌকির রহমান ও তার ৩-৪ জন সহযোগী মিলে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার একাধিকবার মেয়েটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে তারা রংপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অপহরণ মামলা করেন।
এদিকে, মামলার পর থেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ ও র্যাব-১১ যৌথভাবে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে কুমিল্লা জেলার লালমাই থানার পূর্ব অশোকতলা গ্রামের অভিযান চালায়। অভিযানে ওই গ্রামের জনৈক ক্বারী আজিজের বাড়ি থেকে তৌকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখান থেকেই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, গ্রেপ্তার তৌকির রহমানকে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১৩৫ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে মো. সালাম (২১) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা শিশু ধর্ষণ আপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোস্তাগীর আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এম এম শাহজাহান মুকুল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আদালতের রায় অনুযায়ী, আসামি মো. সালামকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পৃথক দুটি ধারায় সাজা দেওয়া হয়েছে। মামলায় আইনের ৯(১) ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া আইনের ৭ ধারায় তাকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভাগ করতে হবে।
আদালত উল্লেখ করেছেন, উভয় সাজা পর্যায়ক্রমে কার্যকর হবে। তবে আসামি ইতোপূর্বে হাজতে থাকার সময়কাল মূল দণ্ডাদেশ থেকে বাদ যাবে।
মামলার নথি ও তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ দামুড়হুদা থানার কার্পাসডাঙ্গা এলাকার দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় অপহরণ করেন আসামি মো. সালাম। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ভুয়া বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং কাল্পনিক কাবিননামা তৈরি করে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন তিনি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে আদালতে মামলা করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হারুন অর রশীদ দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসামি সালাম এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
মেডিকেল প্রতিবেদনে ধস্তাধস্তির চিহ্ন না থাকলেও ভুক্তভোগীর বয়স ১৬ বছরের কম হওয়ায় এবং সম্মতিবিহীন যৌন সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়ায় আদালত এই রায় দিয়েছেন বলে জানিয়েছে আদালত সূত্র।
তদন্ত প্রতিবেদনে অপহরণে সহায়তার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলেও প্রমাণের অভাবে মামলার অন্যান্য আসামি—বজলুর রশীদ মজু, মোছা. মনোয়ারা বেগম এবং জালাল ওরফে শাহজালালকে মামলার দায় হতে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া মামলার ২ নম্বর আসামি মো. আল-আমিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বা প্রমাণের অভাবে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো বিবেচনা করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর আসামিকে কড়া পুলিশ পাহারায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি এম এম শাহজাহান মুকুল। এই রায়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে ধর্ষণের যে প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এই রায় তা রোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, আমরা এই রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট এবং আশা করি এর মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীর পরিবারও এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
১৩৭ দিন আগে
অপহরণের ৩০ ঘণ্টার মধ্যে সিলেটে স্কুলছাত্রী উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২
সিলেটের মোগলাবাজার থানা এলাকা থেকে অপহরণ করা নবম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মোগলাবাজার থানা পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানার ভানুগাছ রোড থেকে ওই কিশোরীকে (১৫) উদ্ধার করে। অভিযান চলাকালে অপহরণের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মৌলভীবাজার সদর থানার কাশিনাথ রোড এলাকার আল আমিন হাসান (১৮) এবং একই থানার কাচরিবাজার এলাকার মাহি আহমেদ নয়ন (১৮)।
পুলিশ জানায়, সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্কুলে যাওয়ার পথে মেয়েটি দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়। পরে তার বাবা মোগলাবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির সূত্র ধরে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহজালাল শুভ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন জানান, নিখোঁজের পরপরই পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধারে কাজ শুরু করে এবং সফলভাবে তাকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
২৪০ দিন আগে