আইনশৃঙ্খলা
ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি অস্থিরতার সুযোগ পাবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে দেশে কোনো ‘অপশক্তি’কে কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন শেষে এ কথা বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস; এই মাসে কোনো অপশক্তি দেশে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারবে না।’
এছাড়া দেশে যৌথ অভিযান পরিচালনার কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক মোকাবিলায় পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও আনসারের সমন্বিত কার্যক্রম নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। ভবিষ্যতে এসব কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
নতুন আনসার সদর দপ্তর সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, সুপরিকল্পিত ও উপযুক্ত স্থানে নিজস্ব সদর দপ্তর পাওয়ার বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা এবার পূরণ হতে যাচ্ছে।
আনসার সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৩ দশমিক ৪২৮ একর বা প্রায় ১১ বিঘা জমি বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান তিনি। খিলগাঁওয়ে বিদ্যমান আনসার সদর দপ্তরে জায়গার সংকট এবং যাতায়াত-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা দূর করতে বরাদ্দ পাওয়া জায়গায় আধুনিক ও বৃহৎ পরিসরের অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার ও ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার রয়েছে। এছাড়া ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনবল কাজ করছে।
তিনি বলেন, নিয়মিত ও অনিয়মিত সদস্য মিলিয়ে এটিই দেশের সবচেয়ে বড় বাহিনী।
কেন্দ্রীয় দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার সদস্যদের আবাসন সমস্যা সমাধানে ঢাকার আশুলিয়া ও শেরেবাংলা নগরে ডরমিটরি, ব্যারাকসহ অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও বিভিন্ন জাতীয় সংকটের সময় আনসার বাহিনীর অবদান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। এ সময় তিনি তাদের আর্থিক ও অন্যান্য দাবিগুলো ধীরে ধীরে পূরণের বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কারও দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে শুধু দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয় না; যথাযথ বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ফৌজদারি মামলাও করা হবে।
ঢাকার যানজট ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ব্যবস্থার উন্নয়নে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা সম্পন্ন হচ্ছে এবং সড়কে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরে আসছে।
এছাড়া বিভিন্ন কাজের জন্য একসঙ্গে পুরো সড়ক খনন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর পরিবর্তে ধাপে ধাপে কাজ শেষ করে দ্রুত সড়ক পুনর্নির্মাণ করতে বলা হয়েছে, যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়।
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৭ দিন আগে
আইনি কাঠামোর বাইরে পদক্ষেপ বা ক্রসফায়ারের সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আইনের কাঠামোর বাইরে কোনো পদক্ষেপ বা ‘ক্রসফায়ার’-এর সুযোগ নেই।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।
খুলনা জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সুশাসন নিশ্চিতকরণ ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে খুলনা জেলা প্রশাসন এ সভার আয়োজন করে।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইনের কাঠামোর বাইরে কোনো পদক্ষেপ বা ক্রসফায়ারের সুযোগ নেই। সন্ত্রাস দমনের জন্য ক্রসফায়ারের কোনো প্রয়োজন নেই এবং প্রচলিত আইনই এর জন্য যথেষ্ট।’
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে এবং বিচারপ্রার্থী জনগণ যেন দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পান, সেদিকে প্রশাসনকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’
সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা খুলনা জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত বর্তমান চিত্র মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।
খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ ও সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল, আমির এজাজ খান, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা, খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী, খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি।
খুলনা বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকাল ৯টায় খুলনা জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে জেলার সব পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী। এ সময় মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে আদালতে মামলা জট কমানোর জন্য বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সভায় জেলা ও দায়রা জজ চাঁদ মোহাম্মদ আব্দুল আলিম আল রাজীসহ অন্য বিচারকরা উপস্থিত ছিলেন।
৩৪ দিন আগে
প্রতিশোধপরায়ণ হইনি, হতে চাই না: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘আমরা প্রতিশোধপরায়ণ এখনও হইনি, আমরা হতে চাই না। আমরা বাংলাদেশের মানুষের সুশাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনায় কাজ করে যাব।’
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের বিষয়ে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
সভায় মন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীকে দলীয় দাসত্বে পরিণত করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টের পর পুলিশ বাহিনীকে মানসিক শক্তি ও সাহস জোগাতে হয়েছে। তারা এখন নিরপেক্ষভাবে কাজ করার চেষ্টা করছে এবং করে যাচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ শুধু দেশের গুটিকয়েক মানুষ করছে না; প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকেও মাদকের চালান আসছে।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুর্নীতি দুইভাবে হয়—একটি অর্থনৈতিক, অন্যটি বুদ্ধিবৃত্তিক। এই দুই ধরনের দুর্নীতি আমাদের বন্ধ করতে হবে।
রাজনৈতিক বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রতিশোধপরায়ণ এখনো হইনি, আমরা হতে চাই না। আমরা বাংলাদেশের মানুষের সুশাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় কাজ করে যাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেমন মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলছি, তেমনি রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধেও কথা বলছি। সেই পথে বিএনপির কোনো নেতা যদি বাধা হয়ে দাঁড়ান, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন রয়েছে, সেটাকেও আমরা বিবেচনায় নেব না। আমরা কোনো রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে প্রশ্রয় দিতে চাই না।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলার বাদী হতো পুলিশ। ৫ আগস্টের পর পুলিশ বাদী হয়ে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা করেছে—এমন একটি উদাহরণও নেই। তবে কোনো ব্যক্তি মামলা করলে পুলিশ তা নিতে অস্বীকার করতে পারবে না; বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। এই ব্যালান্সের জায়গায় আমরা এসেছি। আগের মতো মিথ্যা গায়েবি মামলা আর নেই।
মতবিনিময় সভায় জেলার সংসদ সদস্যরা, জেলা পরিষদ প্রশাসক, জেলা প্রশাসকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
বিকেলে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে আইনমন্ত্রীর।
৩৫ দিন আগে
৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ
দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলি তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিগত সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নের বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট হয়েছে। লুটপাটের অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার এবং অন্য অংশ মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কাজে ব্যবহারের বিষয়টি সরকার গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছে।
এ পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলি তদারকি ও সমন্বয়ে জেলা পর্যায়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের তদারকি ও সমন্বয়ের এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী ইকবাল হাসান মাহমুদ রাজশাহী ও নাটোর জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড় এবং আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে লক্ষ্মীপুর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিতাই রায় চৌধুরী চুয়াডাঙ্গা, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির হবিগঞ্জ এবং আরিফুল হক চৌধুরী মৌলভীবাজার জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে চট্টগ্রাম জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা এবং আসাদুল হাবিব দুলু ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। মো. আসাদুজ্জামান খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট এবং জাকারিয়া তাহের ফেনী ও নোয়াখালী জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ এবং সাচিং প্রুকে কক্সবাজার জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মো. শরিফুল আলম টাঙ্গাইল ও নরসিংদী, শামা ওবায়েদ ইসলাম মাদারীপুর ও শরীয়তপুর এবং অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
আব্দুল বারীকে বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে ঢাকা এবং মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হাবিবুর রশিদ পেয়েছেন গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের দায়িত্ব।
মো. রাজীব আহসান বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর, মীর শাহে আলম রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম এবং ফারজানা শারমিন সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। শেখ ফরিদুল ইসলামকে যশোর, মাগুরা ও নড়াইল এবং ইয়াসের খান চৌধুরীকে জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি, মোহাম্মদ শামীম কায়সার জয়পুরহাট ও নওগাঁ এবং আলহাজ্ব মো. জি কে গউস সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। মিঞা নুরুদ্দিন আহম্মেদকে রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)-কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ, গুরুতর অপরাধ দমনসহ সংশ্লিষ্ট জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও উন্নত রাখতে সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।
এছাড়া সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের তদারকি ও পরামর্শ দেবেন তারা। প্রয়োজনবোধে দায়িত্বপ্রাপ্তরা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে পরামর্শও দিতে পারবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব না করে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বিদ্যমান ক্ষমতা এবং মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের আলোকে এ দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।
৫২ দিন আগে
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে ডিএমপির নিরাপত্তা জোরদার
আগামীকাল ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দিবসটিকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের নাশকতা, অপ্রীতিকর ঘটনা বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা মোকাবেলায় এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজধানীজুড়ে পিকেট ও চেকপোস্ট ডিউটি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশেষ করে মহানগরের সকল প্রবেশপথে তল্লাশি কার্যক্রম ও চেকপোস্ট পরিচালনা জোরদার থাকবে। পাশাপাশি ডিবি ও সিটিটিসি সাদা পোশাকে সকল গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুতে অপারেশনাল কাজে মোতায়েন থাকবে। যেসব স্থানে সাধারণ মানুষের সমাগম বেশি হবে, সেখানে সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং ডগ-স্কোয়াড ইউনিটের মাধ্যমে বিশেষ সুইপিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এছাড়া, সকল অনুষ্ঠানস্থল এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ এলাকাকে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের নজরদারিতে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে সাদা পোশাকে সিটিএসবি ও আইএডির গোয়েন্দা কার্যক্রম পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে পর্যাপ্ত সংখ্যক কুইক রেসপন্স টিম।
নিয়মিত মোতায়েনের পাশাপাশি ডিএমপির অতিরিক্ত ফোর্সসহ র্যাব ও সিআইডি যৌথভাবে মহানগরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠে সক্রিয় থাকবে। সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য সকল উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে ডিউটি তদারকি করবেন।
৭৫ দিন আগে
ঈদুল আজহা সামনে রেখে সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি নেই: র্যাব ডিজি
পবিত্র ঈদুল আজহা কেন্দ্র করে সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকি নেই বলে জানিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ। তবে কোনো হুমকি না থাকলেও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় র্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা প্রস্তুতি রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে র্যাব ডিজি এসব কথা বলেন।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে র্যাব ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আমরা এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের হুমকি অনুভব করিনি। তবে হুমকি না থাকলেও আমাদের নিজস্ব যে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে, সেটি জোরদার রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদের প্রধান প্রধান জামাতগুলোতে নিরাপত্তা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে মোবাইল চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। দেশব্যাপী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে চেকপোস্টের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ঈদকে কেন্দ্র করে ফাঁকা রাজধানীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আহসান হাবীব পলাশ বলেন, ঈদে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে জনসমাগম তুলনামূলক কমে যাওয়ায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের ঝুঁকি থাকে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাত্রিকালীন নিরাপত্তা চৌকির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। একইসঙ্গে সব মেট্রোপলিটন শহর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে রাত্রিকালীন টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
কোরবানির পশুর হাট ও জাল টাকা রোধে র্যাবের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভোগান্তি রোধে র্যাবের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া জাল টাকা প্রতিরোধ ও শনাক্তকরণে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে ও জাল টাকা প্রস্তুতকারীদের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান চলমান আছে। কোরবানির পশুবাহী যানবাহন যেন কেউ জোরপূর্বক নির্দিষ্ট কোনো হাটে নিয়ে যেতে বাধ্য করতে না পারে, সে বিষয়েও বিশেষ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের গুজব ছড়ানো প্রতিরোধে র্যাবের সাইবার উইং সক্রিয় রয়েছে জানিয়ে র্যাব প্রধান বলেন, ঈদ ও কোরবানিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ যেন কোনো গুজব বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিতে না পারে, সে লক্ষ্যে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার মনিটরিং সার্বক্ষণিকভাবে চালু রয়েছে। কেউ এ ধরনের অপচেষ্টা চালালে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বান্দরবানের রুমা ও থানচিতে র্যাবের ক্যাম্পে কেএনএফের হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেখানে র্যাব ও পুলিশের বিশেষ ক্যাম্প কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং তারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গেই কাজ করছে। র্যাবের ক্যাম্পে মূলত কোনো হামলা হয়নি। আমরা নতুন একটি ক্যাম্প করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলাম, সেখানে তারা অতর্কিত হামলা করেছে। এর পেছনে আমাদেরও কিছু অসাবধানতা বা দুর্বলতা ছিল।
তিনি আরও বলেন, ইয়াসিন বাহিনী বা অন্য কেউ র্যাবের চেয়ে শক্তিশালী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা আর সেখানে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।
র্যাব ডিজি বলেন, দেশের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য র্যাব সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
১৪৫ দিন আগে
ঈদে সার্বিক নিরাপত্তা ও মহাসড়ক তদারকিতে কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার যেকোনো ধরনের অনিয়ম, সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখবে। অতীত সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনা ও দুর্বৃত্তায়নের অবসান ঘটিয়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও তৎপর রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ‘ন্যাশনাল অপারেশন মনিটরিং সেন্টার’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি মনিটরিং কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। ঈদের সাত দিন আগে থেকে সাত দিন পর পর্যন্ত দেশের মহাসড়ক, পশুর হাট, যমুনা ও পদ্মা সেতুসহ সব এক্সপ্রেসওয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় থাকবে। পর্যাপ্ত জনবল মোতায়েনের পাশাপাশি যেসব স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই, সেখানে পুলিশ সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অতীতের তুলনায় এবার সড়ক দুর্ঘটনা কম হয়েছে। যেসব দুর্ঘটনা ঘটেছে, তার বেশিরভাগই অসচেতনতা ও ব্যক্তিগত গাফিলতির ফল। নওগাঁয় লোহার রডবাহী ট্রাকে ছাদে যাত্রী বহনের ঘটনায় দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভাড়া বাঁচাতে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ করায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ সময় নিরাপদ যাতায়াতে জনগণকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পশুর হাট ব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনুমোদনহীন কোনো হাট বসতে দেওয়া হবে না। সম্প্রতি মিরপুরে মেট্রোরেল লাইনের নিচে বসা একটি অবৈধ পশুর হাট তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাল নোট প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে বিভিন্ন পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে ‘রাষ্ট্রের ভেতর রাষ্ট্র’ তৈরির অপচেষ্টা যৌথ অভিযানের মাধ্যমে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার এবং দাগী আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি জানান, ওই এলাকায় পুলিশ অ্যাকাডেমি, র্যাব অ্যাকাডেমি, পুলিশ স্পোর্টস কমপ্লেক্স এবং কারাগারসহ সমন্বিত নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সন্ত্রাসীদের ঔদ্ধত্য কঠোরভাবে দমন করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
যমুনা সেতুর টোল প্লাজায় উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের দীর্ঘ যানজটের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ম্যানুয়াল টোল আদায়ের কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানে ডিজিটাল অটোমেশন চালুর জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়া হবে। গাড়িতে কার্ডভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় টোল আদায় পদ্ধতি চালু এবং ব্যবহারকারীদের জন্য প্রণোদনার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
সাভারে সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আহ্বান করে তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, গত তিন মাসে সংঘটিত প্রতিটি জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। মাদক চক্র ও হামলাকারীদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৪৫ দিন আগে
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন।
বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলির সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা জানান।
সাক্ষাৎকালে পুলিশ সংস্কার ও বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশকে কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে সুইজারল্যান্ড।
এ সময় দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, সন্ত্রাসবাদ দমন, সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা, পুলিশসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কার, আর্থিক সংস্কার, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ, স্ক্যামসহ ডিজিটাল প্রতারণা প্রতিরোধ, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সাক্ষাতের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্বে নিযুক্তির জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। আমরা প্রকৃত সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা করতে চাই। দেশের সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ আয়োজনসহ সকল গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। তবে তা সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে যাতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়।
বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে অতিমাত্রায় বল প্রয়োগ করতে পুলিশকে ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পুলিশ সংস্কারে সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বর্তমান সরকারের সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জসমূহ সম্পর্কে মন্ত্রীর কাছে জানতে চান এবং সংসদকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদসহ রাজনৈতিক মাঠে শান্তিপূর্ণ বিতর্ক ও আলোচনা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় গ্রহণযোগ্য।
সম্প্রতি অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত (১৬-১৭ মার্চ) গ্লোবাল ফ্রড সামিট, ২০২৬-এ অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, স্ক্যাম বা ডিজিটাল প্রতারণা বর্তমানে বিশ্বের মোট প্রতারণার প্রায় ৪০ শতাংশ। এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা ছাড়া এটি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রদূতও ডিজিটাল প্রতারণাকে একটি উদ্বেগের বিষয় হিসেবে অভিহিত করেন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রদূতের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে চরমপন্থা বা উগ্রবাদ অল্প মাত্রায় থাকতে পারে, তবে তা কখনোই সন্ত্রাসবাদে রূপ নেয়নি। বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট এবং ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে।
আর্থিক খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে সংস্কার অপরিহার্য। রাষ্ট্রদূত একমত পোষণ করে বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা যেকোনো রাষ্ট্রের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান নিয়ামক। পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী নির্দিষ্ট করে বলেন, মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং সামগ্রিক সংস্কার খাতে সুইজারল্যান্ড তাদের সহযোগিতা জোরদার করতে পারে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের কাউন্সেলর আলবার্তো জিওভানেত্তি উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম (ইউএনওডিসি)-এর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক ক্রিস্টিয়ান হোলজ এক পৃথক বৈঠকে মিলিত হন।
২০৭ দিন আগে
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান আইজিপির
দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঈদুল ফিতরের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।
আইজিপি বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে, ট্রাফিক ও জেলা পুলিশসহ সব ইউনিটের সদস্যরা অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন।
অনুষ্ঠান চলাকালীন পুলিশ প্রধান সদর দপ্তরে কর্মরত সব পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা, সদস্য এবং সিভিল স্টাফদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন ।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজিপিরা, ঢাকাভিত্তিক বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান এবং পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
২০৮ দিন আগে
প্রস্তুতি যথেষ্ট, ঈদে রাজধানীতে নিরাপত্তার শঙ্কা নেই: ডিএমপি কমিশনার
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীতে মোট ১ হাজার ৭৭১টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ১২১টি ঈদগাহ এবং ১ হাজার ৫৯৯টি মসজিদে জামাতের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। এছাড়া ঈদ জামাতকে ঘিরে কোনো নিরাপত্তার শঙ্কা নেই জানিয়ে তিনি বলেছেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ‘যথেষ্ট প্রস্তুতি’ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তারপরও আমাদের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা নজরদারি করছে। যদি কিছু হয়, আমাদের জানাবে। সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা অটুট রাখার জন্য আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি আছে।
তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানী ঢাকায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১২১টি ঈদগাহ ও ১৫৯৯টি মসজিদসহ মোট ১৭২০টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, জাতীয় ঈদগাহে ৩৫ হাজারেরও বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করবেন। আর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মোট পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তার মধ্যে প্রথম জামাত শুরু হবে সকাল ৭টায়।
এছাড়া আগারগাঁওয়ে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগের দিন ঢাকায় তিনটি ঈদ জামাত এবং শিয়া সম্প্রদায়ের আটটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সব স্থানে অনুষ্ঠিতব্য ঈদ জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি সমন্বিত ও সুবিন্যস্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
মো. সরওয়ার বলেন, প্রবেশ গেটে তল্লাশির জন্য আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। পুরো জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় সিসি ক্যামেরা দিয়ে মনিটরিং করা হবে। ঈদগাহ ময়দানে আসার প্রধান তিনটি সড়কের প্রবেশ মুখ মৎস্যভবন, প্রেসক্লাব এবং শিক্ষাভবনে ব্যারিকেড থাকবে, যাতে অন্যান্য গাড়ি এই ঈদগাহ ময়দানের আশেপাশের রাস্তায় না আসে।
তিনি আরও বলেন, ঈদ জামাতের চারদিকে পুলিশের পেট্রোলিং ব্যবস্থা থাকবে। মূল গেট হয়ে সব মুসল্লিদের প্রবেশ করতে হবে। নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশ গেট এবং পৃথক নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। ঈদগাহ ময়দান এবং আশপাশের এলাকায় সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড সুইপিং এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম সুইপিং করবে।
এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমাদের ডিএমপির বোম ডিসপোজাল টিম প্রস্তুত থাকবে। পুরো এলাকা ঘিরে অন্য একটা বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে সোয়াট, সাদা পোশাকে ডিবি এবং সিটিটিসির সদস্যরা ঈদগাহে দায়িত্ব পালন করবেন।
২১৩ দিন আগে