আইনশৃঙ্খলা
রংপুর বিভাগে ঝুঁকিতে ২৫০০ কেন্দ্র, ৬ স্তরের নিরাপত্তা জোরদার
গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫৬ ভোটারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৪৬টি ভোটকেন্দ্র। তবে এর মধ্যে ২ হাজার ৫৬১টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।
ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ৬ স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। এসব কেন্দ্রে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি থাকবে বডি ক্যামেরা পরিহিত পুলিশবাহিনী।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর পুলিশ লাইনসে পুলিশ সদস্যদের নির্বাচনি প্যারেড শেষে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফাত হুসাইন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ করতে জেলা পুলিশের আওতাধীন ৬৬৯টি কেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েনসহ কেন্দ্রের বাইরে ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ দল, স্ট্রাইকিং ফোর্স, সাব সেক্টর ও সেক্টর ভাগ করে ভোটার, ভোটপ্রত্যাশী ও নির্বাচনে ব্যবহৃত সরঞ্জমাদির নিরাপত্তা দেওয়া হবে। কেন্দ্রগুলোতে গোয়েন্দা পুলিশের নজরদারির পাশাপাশি ৩১৫টি কেন্দ্রে পুলিশের কাছে থাকবে বডি ক্যামেরা।
মারুফাত হুসাইন বলেন, নির্বাচনের মাঠে পুলিশের পাশাপাশি দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, বিজিবি, এসআইএফ (সাবেক র্যাব), আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করবে। রংপুর জেলায় ৮৭৩টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে জেলা পুলিশের আওতাধীন ৬৬৯টি কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, রংপুর জেলার নির্বাচনি পরিবেশ অত্যন্ত ভালো, এখন পর্যন্ত কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। আমরা আশা করছি এটি বজায় থাকবে। সেই সঙ্গে ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা হবে।
ঝুঁকিতে ২৫০০ কেন্দ্র, অতিঝুঁকিপূর্ণ ৮২৭টি
পুলিশ সুপার জানান, রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫৬ ভোটারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৪৬টি ভোটকেন্দ্র। তবে এর মধ্যে ২ হাজার ৫৬১টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। বিশেষ করে চরাঞ্চল, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকা ও কোনো কোনো প্রার্থীর বাড়ির নিকটবর্তী কেন্দ্রগুলো নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এসব কেন্দ্রে অতীতে ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা, সংঘর্ষ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। ফলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব কেন্দ্রে এরই মধ্যে বসানো হচ্ছে সিসি টিভি। এছাড়া বাড়তি অস্ত্রধারী পুলিশ, আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। থাকছে ভিজিলেন্স টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স।
পুলিশের রংপুর রেঞ্জ উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ৮ জেলার ৩৩টি সংসদীয় আসনে ৩০টি পৌরসভা ও ৫৩৩টি ইউনিয়ন রয়েছে। এর মধ্যে ভোটকেন্দ্র ৪ হাজার ৫৪৬টি। অতিঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়েছে ৮২৭টিকে।
রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ। প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পুলিশ সদস্যদের শরীরে থাকবে বডিওর্ন ক্যামেরা, যার লাইভ মনিটরিং করা হবে ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে।
রংপুরে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ২১৬
জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে ৮৭৩টি ভোটকেন্দ্রে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ২১৬টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বাকি কেন্দ্রগুলো সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হবে।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১২১টি ও ৮ উপজেলায় ৯৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্র জানায়, ভোটার সংখ্যা বেশি, ইতোপূর্বে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর, সীমানা প্রাচীর না থাকা, প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাবশালী নেতার বাড়িসংলগ্ন কেন্দ্র, দূরবর্তী ও জনবহুল এলাকাসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে এসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) জানিয়েছে, রংপুর জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের ৩টি আসনের আংশিক অংশে নির্বাচনি দায়িত্বে থাকবে মেট্রোপলিটন পুলিশ। এসব স্থানের ২০৪টি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনসহ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে আলাদা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনি দায়িত্বে ৩০টি মোবাইল পেট্রোল টিম ও ৭৮টি স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স কাজ করবে।
এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, রংপুর জেলার সংসদীয় ছয়টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১৩ লাখ ৬ হাজার ৩৩৩ জন এবং পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১২ লাখ ৯২ হাজার ৮৩৮ জন। হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৩১ জন। জেলায় মোট ৮৭৩টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৯৮৮টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ও স্বতন্ত্র মিলে ৪৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রস্তুত সেনাবাহিনীর কমান্ডো গ্রুপ
এদিকে রংপুরে যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের কমান্ডো গ্রুপ। নির্বাচনের দিন বিভাগের প্রত্যন্ত এলাকার যেকোনো কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ঘটলে তারা হেলি ড্রপ করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করবেন।
চার জেলায় ৩ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন
এ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও শান্তি রক্ষায় রংপুর বিভাগের ৪ জেলায় ৩ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবির রংপুর সেক্টর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম শফিকুর রহমান জানান, রংপুর সেক্টরের অধীনে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলায় ২৬টি বেজ ক্যাম্পে ৭৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা নির্বাচনি এলাকার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও চেকপোস্ট স্থাপনসহ মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করছেন। এসব জেলার ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ নজর দিয়েছে বিজিবি।
নির্বাচনি এলাকায় নিরাপত্তা দিতে বিজিবির তল্লাশি কার্যক্রম চালু রয়েছে। এছাড়া ঝুঁকি বিবেচনায় বিভিন্ন স্থানে ডগ স্কোয়াড স্থাপন করা হয়েছে। টহল ও গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
এসএম শফিকুর রহমান জানান, রংপুর বিভাগের ৪টি জেলায় ২ হাজার ৫৭২টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৬০০টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র। এছাড়া জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিজিবির সমন্বয়ক টিমের প্রতিনিধিরা কাজ করছে।
এদিকে পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী ছাড়াও র্যাব, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে কাজ করছে।
৪ দিন আগে
অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে ৫ মিনিটের মধ্যে ব্যবস্থা: রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার
কোনো ভোটকেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে ৫ মিনিটের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে উপস্থিত হয়ে ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে নিজ কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে রাজশাহী বিভাগের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার এ কথা বলেন।
ড. বজলুর রশীদ বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এমনভাবে মোতায়েন করেছি ও প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করছি, তাতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা কম।
তিনি জানান, রাজশাহী বিভাগে ৩৯টি সংসদীয় আসনে ভোটার এক কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ৫ হাজার ৫০৪টি যার মধ্যে ১ হাজার ৭৬৭টি গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগজুড়ে ২১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৩৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন থাকবেন মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬ জন সদস্য যার মধ্যে রয়েছেন ১০ হাজার সেনাসদস্য, বিজিবি ৪ হাজার ১২৩ সদস্য, রেঞ্জ পুলিশের ১৩ হাজার ৭৯৬ সদস্য, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ২ হাজার ৪০৫ সদস্য, স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্সের (সাবেক র্যাব) ১ হাজার ৬ জন এবং ৭২ হাজার ৭৩৬ জন আনসার। প্রতি আসনে গড়ে ২ হাজার ৬৬৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তা ও ভোটকেন্দ্রের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে ৫ হাজার ২৬৬টি কেন্দ্রে সিসি টিভি এবং ২ হাজার ৩১৮টি বডি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
৪ দিন আগে
পূজার মতো নির্বাচনও শান্তিপূর্ণ হবে, আশা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার
নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘পূজা যেমন শান্তিপূর্ণ হয়েছে, নির্বাচনও শান্তিপূর্ণ হবে।’
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে এ কথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ হয় সে লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।
তিনি জানান, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারা দেশে সেনাবাহিনীর ১ লাখ, পুলিশের দেড় লাখ, নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিজিবির ৩৭ হাজার, র্যাবের ১০ হাজার, কোস্ট গার্ডের প্রায় ৫ হাজার এবং আনসারের প্রায় ৬ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় কোস্ট গার্ড এবং নেভির সংখ্যা আগের থেকে বাড়ানো হয়েছে।
সভায় উপদেষ্টা বলেন, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এবার নির্বাচনে বিএনসিসিও নিয়োগ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ বা অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়ন করা হচ্ছে। সেখানে বডি ক্যামেরা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে। ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হচ্ছে। আর ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) কর্তৃক প্রণীত ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’ তো থাকছেই। গত দুর্গাপূজায়ও এ অ্যাপের মাধ্যমে আমরা সাফল্য পেয়েছি। সুতরাং, কেউ কোনো ধরনের অপতৎপরতা ঘটানোর চেষ্টা করলে পার পাবে না।
নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এদেশের আপামর জনসাধারণ ও রাজনৈতিকদলসহ সর্বমহলের প্রত্যাশা অনেক আর সেই প্রত্যাশা পূরণে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আপনাদের কাঁধে।
১৩ দিন আগে
আজ থেকে পরীক্ষা শুরু, ১২ ফেব্রুয়ারি ফাইনাল: প্রধান উপদেষ্টা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর আয়োজিত গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের ধাপে ধাপে পরীক্ষা শুরু হলো। আজ থেকে শুরু, ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ফাইনাল। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশই এখন সবচেয়ে বড় নির্দেশ, ইসির নির্দেশনা মেনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা আসলে নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য করবে, এটাই আমাদের কাজ। জাতির জন্য এটা বড় এক চ্যালেঞ্জ, যা আমাদের নিতে হবে এবং এই বিশাল কাজটি শেষ করে তাকে ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দাঁড় করাতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন যেন কোনোকিছুর অভাব বোধ না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ মনোযোগী হতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি কোথাও যেন কোনো গলদ না থাকে। ২০২৬ সালের নির্বাচন যেন এমন একটি নির্বাচন হয়, যা ভবিষ্যতে নির্বাচনের ক্ষেত্রে আদর্শ তৈরি করবে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমান্ডের মূল ভূমিকায় থাকবে। এখন নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে, একসঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। আমরা এবারের নির্বাচনে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করব। সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করব, কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সবকিছু মনিটরিং করা হবে।
তিনি বলেন, বডি ক্যামেরার নানা সম্ভাবনার দিক আছে। এটি যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে বিশাল মাত্রায় সাফল্য পাওয়া সম্ভব।
এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে এবং প্রয়োজন হলে আরও কম দিনের ব্যবধানে বৈঠকে বসা হবে বলে জানান তিনি।
এ সময় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয়ে যেন কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, এবার নির্বাচনকে ঘিরে দেশ ও বিদেশের বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক নির্বাচন কভার করবেন এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরা বিপুল আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তারা বিষয়টিকে খুবই সিরিয়াসলি নিয়েছেন, আমাদেরও এ বিষয়ে সুপার সিরিয়াস থাকতে হবে। আমাদেরই সবকিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এই মুহূর্তে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যে প্রস্তুতি রয়েছে, তাতে একটি সুন্দর নির্বাচন সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তারা প্রত্যেকেই ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে চলছেন। আশা করি, তারা কেউই এই মনোভাব থেকে সরে যাবেন না।
বৈঠকে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশগ্রহণ করছে।
তিনি জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ২৬টি দেশের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় তিনশ’ জনের পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তাদের ৫৬ জন প্রতিনিধি বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তাদের দুজন প্রতিনিধি মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত আপিল প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেছেন।
প্রার্থীরা আজ মধ্যরাত থেকে শুরু করে ১০ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারবেন বলে উল্লেখ করেন ইসি সচিব।
সাইবার স্পেসে তথ্য বিকৃতি এবার একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে আখতার আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যালট, গণভোটের ব্যালট এবং পোস্টাল ব্যালট গণনার ক্ষেত্রে কিছুটা বাড়তি সময় প্রয়োজন হবে। এটিকে ঘিরে যেন কোনো অপতথ্য বা গুজব ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য গণমাধ্যমগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
২৫ দিন আগে
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন, নজরদারিতে থাকবে ৪১৮ ড্রোন
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৭৬১টি। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ (বেশি ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্র ৮ হাজার ৭৮০টি, গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্র ১৬ হাজার ৫৪৮টি এবং সাধারণ কেন্দ্র ১৭ হাজার ৪৩৩টি। অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ২৫ হাজার বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
ভোটের সময় নজরদারি জোরদারে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোট ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করবে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে দুই পর্বে বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথম পর্বে চলমান মোতায়েন অব্যাহত থাকবে। দ্বিতীয় পর্বে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক মোতায়েন হবে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাত দিনের জন্য। পুরো নিরাপত্তাব্যবস্থার সমন্বয় থাকবে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপির পাশাপাশি ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও র্যাব মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড ও সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হবে।
নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ বিশেষ টিম গঠন করে সংশ্লিষ্ট সমন্বয় সেলের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। প্রাপ্ত অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট এলাকার সমন্বয় সেলে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
প্রথমবারের মতো নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এ প্রশিক্ষণ ২০ জানুয়ারির মধ্যে শেষ হবে। নজরদারিতে ব্যবহৃত ৪১৮টি ড্রোন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র্যাব ও আনসার বাহিনী সমন্বিতভাবে পরিচালনা করবে। বিভিন্ন বাহিনীর ডগ স্কোয়াডও নির্বাচনকালে ব্যবহৃত হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ–২০২৬’। এনটিএমসি প্রস্তুত করা এই অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, দুর্গম ও চরাঞ্চলে ব্যালট ও নির্বাচনি সামগ্রী পরিবহনের জন্য বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে—এমন দুষ্কৃতিকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভোটের আগে চার দিন সারা দেশে নিবিড় টহল চালানো হবে।
অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ–২ এর অগ্রগতি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এ অভিযানে ১৯ হাজার ৮৫৪ জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময়ে ৩৪৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ হাজার ১৯১ রাউন্ড গুলি, ৭২২ রাউন্ড কার্তুজসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে মোট গ্রেপ্তার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৩৬৭ জনে।
নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। পাশাপাশি সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
২৭ দিন আগে
রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয়, পুলিশ রাষ্ট্রের কর্মচারী: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
পুলিশ সুপারদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয়, তারা জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রের কর্মচারী। পুলিশ বাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো জনগণের সেবা করা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচনকালীন দায়িত্ব প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মানবিক মর্যাদা ও আইনের শাসন রক্ষা অনেকটাই মাঠপর্যায়ের পুলিশের আচরণের ওপর নির্ভর করে। জনগণের আস্থা অর্জন ছাড়া কেবল শক্তি প্রয়োগ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় এক লাখ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় শতভাগ নিরপেক্ষ থাকতে হবে এবং কোনো অনৈতিক সুবিধা বা আপ্যায়ন গ্রহণ করা যাবে না। ভোটকেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে রিটার্নিং কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ কোনো সাধারণ বাহিনী নয়; এটি রাষ্ট্র ও জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে পুলিশের ভিত্তি হতে হবে জ্ঞান, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব সেবা।
দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে এবং জনগণের বিশ্বাস নষ্ট করে। কোনো পুলিশ সদস্য যদি ব্যক্তিগত স্বার্থ বা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য দায়িত্বচ্যুত হয়, তবে সে রাষ্ট্রের ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়। অন্যায় আদেশ বা পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া যাবে না।
উপদেষ্টা বলেন, পেশাগত জীবনে নানা চাপ ও সমালোচনা আসতে পারে, তবে সততা ও দেশপ্রেম থাকলে কোনো কিছুই দায়িত্ব পালনে বাধা হতে পারে না। আপনারা শুধু আজকের পুলিশ নন, আপনারাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশের পুলিশ। জনগণের আত্মত্যাগ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রত্যাশাকে ধারণ করে দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বমুক্ত একটি মানবিক, সাহসী ও গৌরবময় পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে পুলিশ বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সমাপনী কুচকাওয়াজের উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গণি, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরী প্রমুখ।
২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী আজকের এই প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন। কুচকাওয়াজে ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৮৭ জন ছাড়াও ২৮তম বিসিএসের ১ জন, ৩৫তম বিসিএসের ৩ জন, ৩৬তম বিসিএসের ১ জন, ৩৭তম বিসিএসের ২ জন এবং ৪০তম বিসিএসের ২ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন।
২৮ দিন আগে
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট নই: মির্জা ফখরুল
নির্বাচনের আগে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দলের নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ির নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশের মানুষ অপেক্ষা করছে নির্বাচনের জন্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিস্থিতি যেভাবে দাঁড়িয়েছে সেটাতে আমি সন্তুষ্ট হতে পারছি না। যে হারে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে খুন করা হচ্ছে, বিশেষ করে আমাদের দলের কয়েকজন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছি। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। আমরা আশা করব সরকার এ ব্যাপারে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন এবং এবং নির্বাচনের সময় এই ঘটনাগুলোর যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যাপারে তারা আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।
তারেক রহমানের সফর সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তার এটা একটা ব্যক্তিগত সফরই বলা যাবে। কারণ ওনি আসছেন নিজের গ্রামে বগুড়ায়। সেখান থেকে তিনি রংপুরে জুলাই শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর তিনি দিনাজপুরে যাবেন তার নানির কবর জিয়ারত করতে। সেখান থেকে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে আসবেন, আমাদের এখানে কয়েকজন শহীদ আছেন, তার মধ্যে একজন শহীদের কবর তিনি জিয়ারত করবেন এবং পরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় বড় একটি দোয়া মাহফিল হবে, সেখানে অংশগ্রহণ করবেন এবং সেখান থেকে তিনি পঞ্চগড় যাবেন।’
তিনি বলেন, তিনি যখন দেশে আসলেন তখন ঢাকাতে লক্ষ লক্ষ মানুষ জমায়েত হয়েছিল। তাকে সংবর্ধনা জানাতে। এখন জেলাগুলোতে আসছেন। সাধারণভাবেই নেতা কর্মীরা উজ্জ্বীবিত হবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোটের প্রভাব জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরবে না মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আরেকটি বিষয়ট যেটা আমি জোড় দিয়ে বলতে চাই-বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন এটা আপনার জাতীয় নির্বাচনে কখনো বা কোনদিনই প্রভাব ফেলেনি। আমরা আশা করি সেভাবে এবারও কোনো প্রভাব ফেলবে না।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, আমাদের অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলো বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কাজ করার কোনো সুযোগ পায়নি। বিশেষ করে আমাদের ছাত্রদল, তাদেরকে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। আর যে বিষয়টা আমি জোর দিয়ে বলতে চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন, এটা জাতীয় নির্বাচনে কখনোই কোনদিনও প্রভাব ফেলে নাই। আশা করি এবারও ফেলবে না।
গণভোট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, গণভোটে আমরা নিজেরাই-একইদিনে গণভোট ও জাতীয় সংসদ ভোট চেয়েছিলাম, সেভাবেই হয়েছে এবং এই সংসদ নির্বাচনে যে সমস্ত সংস্কারগুলো নিয়ে গণভোট হচ্ছে, সেই সংস্কারগুলো আমরাই বহু আগে ২০১৬ সালে এবং ২০২৩ সালে ৩১ দফার মাধ্যমে সেটা জাতির সামনে প্রস্তাব তুলে ধরেছি।
‘সুতরাং সংস্কার তো একটা চলমান প্রক্রিয়া সেটা থাকবে। সেখানে না বলার কোনো কারণ আছে, সেটা আমার মনে হয়না।’
৩৭ দিন আগে
যেকোনো সময় ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে পারবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো বা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিরোধে ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ভোটকেন্দ্রসহ যেকোনো স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যেকোনো সময় প্রবেশ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৯তম সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। ব্রিফিংয়ের সময় তিনি এ কথা জানান।
উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে ও মাঠ পর্যায়ে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রচার-প্রচারণাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থার গ্রহণের জন্য সভায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি এ সময় সাধারণ জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহযোগিতা এবং নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম আরও জোরদার করাসহ আরও বেশি সক্রিয় ও তৎপর থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি সকল বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য-উপাত্ত সমন্বয় করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৪১ দিন আগে
খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন ঘিরে ঢাকায় ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির ২৭ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান এ তথ্য জানান।
শরিফুল ইসলাম বলেন, সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে এভারকেয়ার হাসপাতাল, জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা ও জিয়া উদ্যানজুড়ে ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে আজ সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় নেওয়া হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মরদেহ। সকাল সোয়া ৯টার পর খালেদা জিয়ার মরদেহ বহনকারী লাল-সবুজ পতাকা মোড়ানো গাড়িটি গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসায় পৌঁছায়।
খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা আজ (বুধবার) দুপুর ২টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে এবং এরপর তার স্বামী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে তাকে দাফন করা হবে।
অন্যদিকে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সারা দেশে বুধবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং সাধারণ ছুটি পালিত হচ্ছে।
৪৬ দিন আগে
হাদিকে গুলির পর কুমিল্লা সীমান্তে বিজিবির নজরদারি বৃদ্ধি
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের পর থেকে কুমিল্লা সীমান্তজুড়ে টহল জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সীমান্তের যেসব এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেখানে অতিরিক্ত নজরদারির পাশাপাশি ফোর্স বাড়ানো হয়েছে। গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে জেলার চৌদ্দগ্রাম, সদর দক্ষিণ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গোলাবাড়ি, বিবিরবাজার, বৌয়ারা বাজার ও চৌদ্দগ্রামের আমানগড় এলাকায় বিজিবি সদস্যদের তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিবিরবাজার এলাকার বাসিন্দা আবু হাশেম বলেন, ঢাকায় গুলির ঘটনার পর শুক্রবার ও শনিবার সীমান্ত অনেকটা গরম। বিজিবি চেকপোস্ট বাড়িয়েছে, যাকে পাচ্ছে তাকেই তল্লাশি করছে।
৬৩ দিন আগে