এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক
ব্যাংকিংসহ সামগ্রিক আর্থিক খাত সংস্কারে বাংলাদেশ ব্যাংককে সহযোগিতার আশ্বাস এডিবির
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, পুনর্গঠন ও পুনঃমূলধনীকরণ এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি)।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (দক্ষিণ, মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া) জনাব ইংমিং ইয়াংয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠকে এই আশ্বাস দেওয়া হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, পুনর্গঠন ও পুনঃমূলধনীকরণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এ ক্ষেত্রে এডিবির সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ব্যাংকিং খাতসহ সামগ্রিক আর্থিক খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।
এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট এ সংস্কার কার্যক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানান এবং সংস্কার প্রক্রিয়ায় এডিবির সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশে আরও শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও টেকসই আর্থিক খাত গড়ে তুলতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. হাবিবুর রহমান ও ড. মো. কবির আহমেদ ও ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্টের (এফএসএসএসপিডি) সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
৬ দিন আগে
বাংলাদেশে এডিবির নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশে নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে চিংফেং ঝাংকে নিয়োগ দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তিনি ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
এডিবির অন্যতম বৃহৎ দেশভিত্তিক কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন ঝাং। তিনি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এডিবির দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করবেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কৌশলগত নীতিসংলাপে নেতৃত্ব দেবেন এবং বাংলাদেশের জন্য এডিবির পরবর্তী উন্নয়ন কৌশল প্রণয়নে দিকনির্দেশনা দেবেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর ঝাং বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এডিবির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ সফলভাবে বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে।’
তিনি বলেন, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতা জোরদার, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যে সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে এডিবি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আরও উন্নত অর্থায়ন পদ্ধতি, জ্ঞানভিত্তিক সমাধান এবং সফল বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা এ অগ্রযাত্রায় সহায়তা অব্যাহত রাখব।
টেকসই উন্নয়ন খাতে ঝাংয়ের ৩০ বছরেরও বেশি পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর মধ্যে ২০ বছরের বেশি সময় তিনি এডিবিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। কৃষি, খাদ্যব্যবস্থা, পানি সম্পদ, পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও গ্রামীণ উন্নয়ন খাতে রূপান্তরমূলক কর্মসূচি ও কৌশলগত উদ্যোগে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সরকার, উন্নয়ন সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তুলেছেন।
বর্তমান দায়িত্বে যোগ দেওয়ার আগে তিনি এডিবির অ্যাগ্রিকালচার, ফুড, নেচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেক্টর অফিসের সিনিয়র ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই পদে তিনি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই ও স্থিতিস্থাপক উন্নয়ন এগিয়ে নিতে এডিবির কৌশলগত কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের নাগরিক ঝাং সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ প্রকৌশলে ডক্টরেট, সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর এবং হাইড্রোলজিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে বিশেষায়িত পেশাগত শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।
বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে এডিবির সদস্য হয়। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশে এডিবির সরকারি ও বেসরকারি খাতের চলমান অনুদান ও প্রকল্প-অর্থায়নের পরিমাণ প্রায় ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা এডিবির অন্যতম বৃহৎ দেশভিত্তিক কর্মসূচি। বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তার জন্য সংস্থাটি এ পর্যন্ত প্রায় ৪৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ ও অনুদান অনুমোদন করেছে।
আগামী কয়েক বছরে টেকসই প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তার লক্ষ্যে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা অনুমোদনের পরিকল্পনা রয়েছে এডিবির।
১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এডিবি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিকূলতা-সহনশীল উন্নয়ন এগিয়ে নিতে কাজ করছে। বর্তমানে সংস্থাটির সদস্য ৬৯টি দেশ, যার মধ্যে ৫০টি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের।
২০ দিন আগে
এডিবির নাম ব্যবহার করে ভুয়া ঋণের প্রলোভন, জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) তাদের নাম, লোগো এবং কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়ের প্রতারণা সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্ক করেছে।
সোমবার (২০ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, এডিবি কখনোই কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি ঋণ, অনুদান, তহবিল বা অন্য কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে না। একইভাবে, আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে কোনো ব্যক্তির কাছে ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য চাওয়া বা মোবাইল ব্যাংকিং কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে অর্থ জমা দেওয়ার অনুরোধও করে না।
এডিবি জানায়, সম্প্রতি প্রতারকরা সংস্থাটির নাম ও কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে নকল ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, ভুয়া পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন প্রতারণামূলক উপকরণ তৈরি করছে। এসবের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এডিবির কোনো সম্পর্ক বা সম্পৃক্ততা নেই।
এ অবস্থায় জনসাধারণকে এ ধরনের ভুয়া ঋণের প্রস্তাব সম্পর্কে সতর্ক থাকার এবং এ ধরনের যোগাযোগে কোনো ধরনের সাড়া না দেওয়ার জন্য জোরালোভাবে পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। এডিবির ঋণ বা আর্থিক সহায়তার নামে কেউ যোগাযোগ করলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে জানানোরও অনুরোধ করা হয়েছে।
এডিবি আরও জানায়, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে সংস্থাটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার এবং বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে। তাই এডিবির প্রতিনিধি পরিচয়ে কেউ যদি সরাসরি ব্যক্তি পর্যায়ে ঋণ বা আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেয়, তবে সেটিকে প্রতারণা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
৩০ দিন আগে
বাংলাদেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে: ৫০০ কোটি ডলার অর্থায়নের আশ্বাস দিয়ে এডিবি প্রেসিডেন্ট
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দার নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল।
সোমবার (২৫ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতের সময় দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। এ সময় ৫০০ কোটি ডলারের অর্থায়ন ঘোষণার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
সাক্ষাৎকালে কান্দা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। স্থিতিশীলতা রক্ষা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস উন্মোচন এবং উন্নত কর্মসংস্থান ও বিস্তৃত সুযোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম আরও বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি বাংলাদেশকে সহায়তা করবে।’
এ বিষয়ে আজ (সোমবার) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান ঢাকা সফরে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রায় ১৪০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি সই করেছে এডিবি।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবজনিত অর্থায়ন ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়তা আরও ২৫ কোটি ডলার বাড়িয়েছে এডিবি। এ সংঘাতের কারণে জ্বালানি, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও জাহাজ পরিবহনের ব্যয় বেড়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংকিং খাতের চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এডিবি সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, অতিরিক্ত অর্থায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগ আনা এবং জ্বালানি ও রপ্তানি খাতের বহুমুখীকরণ ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে আরও সহনশীল অর্থনীতি গঠনে সহায়তা করবে।
আগামী পাঁচ বছরে ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’-এর জন্য ৫ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার পরিকল্পনাও করেছে ব্যাংকটি।
সফরকালে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন কান্দা। প্রস্তাবটির লক্ষ্য বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আরও ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
পাঁচ বছরের এ প্যাকেজের আওতায় বছরে প্রায় ১০০ কোটি ডলার দেওয়া হতে পারে। এটি বাংলাদেশের জন্য এডিবির বর্ধিত বার্ষিক সার্বভৌম প্রতিশ্রুতি কাঠামোর সঙ্গে কৌশলগতভাবে সমন্বিত হবে বলে জানা গেছে।
আরও জানা গেছে, মধ্যমেয়াদে বাংলাদেশে এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম প্রতিশ্রুতি প্রায় ২০০ কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে প্রায় ২৪০ কোটি ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই বাড়তি সহায়তা বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, সুশাসন জোরদার এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য এডিবি ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেবে। পাশাপাশি সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এডিবির আসন্ন কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি প্রণয়ন করা হবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এর আগে এডিবি প্রেসিডেন্ট অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে বাংলাদেশের সংস্কার কর্মসূচি, সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ, বৈদেশিক অর্থায়নের প্রয়োজন এবং প্রবৃদ্ধি ও সহনশীলতা জোরদারে এডিবির সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া তিনি বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। বিনিয়োগের সুযোগ ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়। পুঁজিবাজার দৃঢ় করা, বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্প প্রস্তুত, সহ-অর্থায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে অতিরিক্ত বেসরকারি মূলধন সংগ্রহে সরকারকে সহায়তা করছে এডিবি।
৮৬ দিন আগে
২০২৬ সাল থেকে স্মার্ট প্রিপেইড মিটার চালু করবে তিতাস
আগামী ২০২৬ সাল নাগাদ স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপন করতে যাচ্ছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিসট্রিবিউশন পিএলসি। এ লক্ষ্যে এরইমধ্যে একটি প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরামর্শক (পিএমসি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ।
বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধের মধ্যে স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের প্রকল্পটি শুরু করতে পারবো।’
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পটিতে শিগগরই আরও একটি পিএমসি নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এরইমধ্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পে ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট লিমিটেডকে (ডিটিসিএল) পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: তিতাস স্মার্ট প্রিপেইড মিটার প্রকল্পে অগ্রগতি সামান্য
এর আগে ২০১১ সালে প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম শুরু করে তিতাস। পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করার পর এ পর্যন্ত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদী এলাকায় মোট চার লাখ ২০ হাজার প্রিপেইড মিটার বসিয়েছে তিতাস। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে এই মিটারগুলো বসানো হয়েছিল।
তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘এবারের প্রকল্পটি এডিবি ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে এবং সব মিটারই স্মার্ট প্রিপেইড হবে। আগের মিটারগুলো প্রিপেইড হলেও স্মার্ট ছিল না।’
তিনি জানান, ‘প্রিপেইড ও স্মার্ট প্রিপেইড মিটারের মধ্যে পার্থক্য হলো—প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করতে ব্যবহারকারীকে নির্দিষ্ট ভেন্ডর পয়েন্টে যেতে হয়, কিন্তু স্মার্ট প্রিপেইড মিটারে স্মার্টফোনের মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকেই রিচার্জ করা যাবে।’
নতুন প্রকল্পের আওতায় তিতাসের আওতাধীন এলাকায় মোট সাড়ে ১৭ লাখ স্মার্ট প্রিপেইড মিটার বসানো হবে বলে জানান তিনি। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ১৮ মাস আগে এডিবি ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে দুটি পৃথক চুক্তি সই হয়েছে বলে তিতাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: শিল্পে গ্যাসের দাম বাড়ল ৩৩ শতাংশ
সরকারি তথ্য মতে, ২০২৩ সালের নভেম্বরে এই ঋণ চুক্তি করেছে তিতাস।
নতুন এই প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ঢাকা দক্ষিণ ও নারায়ণগঞ্জে স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে। আর এডিবির অর্থায়নে স্মার্ট মিটার বসানো হবে ঢাকা উত্তর ও গাজীপুরে।
তিতাস গ্যাস বর্তমানে ২৮ লাখ ৭৮ হাজার গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে। এর মধ্যে ২৮ লাখ ৫৩ হাজার আবাসিক, ১২ হাজার ৭৮টি বাণিজ্যিক, ৫ হাজার ৪২৯টি শিল্প প্রতিষ্ঠান, ১ হাজার ৭৫৫টি ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্ট এবং ৩৯৬টি সিএনজি স্টেশন রয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিতাস গ্যাস দেশের মোট গ্যাস বিতরণ বাজারের ৫৫ শতাংশ দখলে রেখেছে। বাকি ৪৫ শতাংশ বিতরণ করছে অন্য পাঁচটি কোম্পানি।
৪৯১ দিন আগে
বাংলাদেশের সামাজিক সহনশীলতা কর্মসূচিতে ২৫০ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন এডিবির
বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা সংস্কারে সহায়তার জন্য বৃহস্পতিবার ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নীতি-ভিত্তিক ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
সামাজিক সহনশীলতা কর্মসূচি জোরদারকরণের দ্বিতীয় উপ-কর্মসূচিতে এ ঋণ অর্থায়ন করবে এবং প্রথম উপ-কর্মসূচির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হবে যা প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতি সংস্কার বাস্তবায়ন করেছে এবং বাংলাদেশে সামাজিক সুরক্ষার অন্তর্ভুক্তি ও সাড়াদান শক্তিশালী করেছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় এডিবির মুখ্য সামাজিক খাত বিশেষজ্ঞ হিরোকো উচিমুরা-শিরোইশি বলেন, ‘করোনা মহামারি দুর্যোগ ও সংকট মোকাবিলা ও পরিচালনা করতে মানুষকে সহায়তা করার জন্য সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারকরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত এডিবির
এই উপ-কর্মসূচি বাংলাদেশে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কভারেজ ও দক্ষতা উন্নত এবং সুবিধাবঞ্চিতদের সহনশীলতা তৈরি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পুনরুদ্ধারকে সমর্থন করতে এডিবির সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।
নতুন কর্মসূচির আওতায় এডিবি সামাজিক সুরক্ষা কভারেজ ও দক্ষতা উন্নতকরণ, সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তিদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও গভীর এবং বৈচিত্রপূর্ণ সুরক্ষা চাহিদার সাড়াদান জোরদারে সংস্কার শক্তিশালী করতে সরকারকে সহায়তা করছে।
আরও পড়ুন: ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে এডিবির সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে, কিছু নির্দিষ্ট সংস্কারের মধ্যে রয়েছে সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শহুরে দরিদ্রদের জন্য আরও ভালো সুরক্ষা কভারেজ।
দ্বিতীয় উপ-কর্মসূচি ডিজিটালাইজেশন ও পদ্ধতির সমন্বয়ের পাশাপাশি সরকারি কর্মসূচির সমন্বয়ের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নত করতে সহায়তা করে।
১৫৩২ দিন আগে
দেশে ব্যবসার সক্ষমতা উন্নয়নে এডিবির অনুদান
দেশের ব্যবসায় প্রতিযোগিতায় উন্নতি ও আন্তআঞ্চলিক বাণিজ্য প্রসারের জ্ঞানভিত্তিক কাজে পাঁচ লাখ ডলার অনুদানের অনুমোদন দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
২০৭১ দিন আগে
করোনাভাইরাস: বাংলাদেশকে চিকিৎসা সরঞ্জাম দিল এডিবি
করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা উন্নয়নে এবং ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মঙ্গলবার বাংলাদেশকে বেশ কিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
২৩১৬ দিন আগে
এশিয়ার অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে করোনাভাইরাস: এডিবি
করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়া, স্বল্প পর্যটন ব্যবসা, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, বাণিজ্য হ্রাস পাওয়া এবং স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাবসহ বিভিন্ন কারণে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে আক্রান্ত হবে বলে নতুন এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
২৩৫৬ দিন আগে