ক্রিকেট
দক্ষিণ আফ্রিকাকে ছাঁই দিয়ে ধরেছে নেদারল্যান্ডস
নাসাউ কাউন্টির পিচে এবার খাবি খাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটাররাও। শুরুতে ডাচ ব্যাটারদের নাকানি-চুবানি খাওয়নো পর এবার তারা নিজেরাই ডুবতে বসেছেন।
নেদারল্যান্ডসের দেওয়া ১০৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১২ রানেই চার উইকেট খুইয়েছে প্রোটিয়ারা।
দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম বলেই রান আউটের শিকার হন কুইন্টন ডি কক। দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে আরেক ওপেনার রিজা হেনড্রিকসকে বোল্ড করে দেন লোগান ভ্যান বিক।
দুই ওভারে দুই উইকেট হারানোর পর তৃতীয় ওভারেও অব্যাহত থাকে সেই ধারা। ওভারের তৃতীয় বলে কিংমার বলে খোঁচা দিতে গিয়ে স্লিপে ডাচ অধিনায়ক এডওয়ার্ডসের হাতে ক্যাচ হয়ে ফেরেন প্রোটিয়া অধিনায়ক মার্করাম।
আরও পড়ুন: প্রোটিয়া বোলিংয়ের সামনে ডাচদের অসহায় আত্মসমর্পণ
পরের ওভারটি উইকেটবিহীন গেলেও পঞ্চম ওভারে ক্লাসেনকে ফেরান কিংমা। ওভারের তৃতীয় বলটি উড়িয়ে মারতে গিয়ে প্রিঙ্গলের তালুবন্দি হয়ে যান তিনি। ক্লাসেন সাজঘরে ফিরলে ১২ রানে চার উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
তিন ওভার বোলিং করে একটি মেইডেনসহ ৭ রান খরচায় দুই উইকেট নিয়ে ত্রাস ছড়িয়েছেন ভিভিয়ান কিংমা।
এখন ১০৪ রানের লক্ষ্যটিই বহদূরের আলোর মতো টিমটিম করে জ্বলছে প্রোটিয়াদের সামনে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৮ ওভার শেষে চার উইকেটে ২২ রান করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ট্রিস্টান স্টাবস ১৬ বলে ৭ এবং ডেভিড মিলার ১২ বল মোকাবিলা করে ৬ রান নিয়ে ক্রিজে রয়েছেন।
ম্যাচটি জিততে এই দুই ব্যাটারের পথ দেখানো ছাড়া গতি নেই।
আরও পড়ুন: দ্বিতীয় ম্যাচেও আগে ফিল্ডিংয়ে প্রোটিয়ারা
৭২৬ দিন আগে
প্রোটিয়া বোলিংয়ের সামনে ডাচদের অসহায় আত্মসমর্পণ
উইকেট নিয়ে যে আশঙ্কা করেছিলেন এইডেন মার্করাম, তা মিলে গেল অক্ষরে অক্ষরে। আর প্রোটিয়া বোলিংয়ের গতিতে হতাশ হতে হলো নেদারল্যান্ডসকে।
নিউ ইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে শুরুতে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১০৩ রান করেছে নেদারল্যান্ডস।
ডাচদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেছেন সাইব্র্যান্ড এঙ্গেলব্রেখ্ট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেছেন অষ্টম ব্যাটার টিম প্রিঙ্গল (২৩)। মূলত এই দুজনের জুটিই ডাচদের দলীয় স্কোর শতরান পার করতে ভূমিকা রেখেছে।
আরও পড়ুন: দ্বিতীয় ম্যাচেও আগে ফিল্ডিংয়ে প্রোটিয়ারা
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে এদিন সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নিয়েছেন গত ম্যাচেও চমক দেখানো ওটনিয়েল বার্টম্যান। গত ম্যাচে ৯ রান দিয়ে একটি উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। আজকে রান দিয়েছেন ১১টি। এছাড়া কাদিসো রাবাদা ও কেশব মহারাজ দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।
ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা খায় নেদারল্যান্ডসের ব্যাটিং লাইন-আপ। তৃতীয় বলেই মাইকেল লেভিটকে কট বিহাইন্ড করে সাজঘরে ফেরত পাঠান মার্কো ইয়ানসেন।
ইয়ানসেনের আউটসাইড অফস্ট্যাম্পে করা ডেলিভারিটি ড্রাইভ করতে গেলে ইনসাইড এজ হয়ে যায়। তবে দারুণ নৈপুণ্যে বলটি গ্লাভসবন্দি করেন ডি কক। শুরুতে আম্পায়ার আউট না দিলেও আত্মবিশ্বাসী ডি কক রিভিউ নিয়ে সফল হন। ফলে ওয়াইড থেকে আসা একটি রানের পরই উইকেট পড়ে ডাচদের।
রাবাদা ও ইয়ানসেনের পরের দুই ওভার দেখেশুনে খেলার পর গত ম্যাচে অভিষিক্ত বার্টম্যানকে বোলিংয়ে আনেন মার্করাম। চতুর্থ বলেই সাফল্য পান তিনি। ডাচদের অপর ওপেনার ম্যাক ওডাউডের দর্শনীয় ক্যাচটি ধরেন ইয়ানসেন। পরের ওভারে বোলিংয়ে এসে ফের উইকেটের দেখা পান ইয়ানসেন। এবার তার শিকার বিক্রমজিত সিং। ৪.৩তম ওভারে ১৭ বলে ১২ করা বিক্রমজিত ফিরে গেলে ১৭ রানে প্রথম তিন ব্যাটারকে হারায় নেদারল্যান্ডস।
আরও পড়ুন: দলের বিপদকালে আরও একবার জয়ের নায়ক মাহমুদউল্লাহ
পরের চার ওভারে উইকেট বাঁচিয়ে রেখে খেলতে গিয়ে রানের চাকা আর ঘোরাতেই পারছিলেন না ব্যাস ডি লিড ও এঙ্গেলব্রেখ্ট। তবে নবম ওভারের প্রথম বলেই প্রোটিয়াদের ব্রেকথ্রু এনে দেন নর্টিকিয়া। তার শর্ট পিচ ডেলিভারিটি পেছন দিয়ে বের করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট অঞ্চলে দাঁড়িয়ে থাকা ডেভিড মিলারকে ক্যাচ দিয়ে ফেলেন ডি লিড। ফলে আরও বিপদে পড়ে নেদারল্যান্ডস। দশ ওভার শেষে তাদের স্কোর দাঁড়ায় চার উইকেটে মাত্র ৩৫ রান।
একাদশ ওভারে ফের এক জোড়া উইকেট পড়ে ডাচদের। নর্টকিয়ার ওই ওভারের প্রথম বলটি ঠেকিয়ে দ্বিতীয় বলেই ছক্কা মারেন ডাচ অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস। তবে পরের বলে দুঃখজনকভাবে রানআউট হয়ে যান তিনি। দুই বল পর নতুন ক্রিজে আসা তেজা নিদামানুরু ক্লাসেনকে ক্যাচ দিলে ৪৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারে চলে যায় নেদারল্যান্ডস।
তবে এখান থেকে দলকে টেনে তোলেন এঙ্গেলব্রেখ্ট ও অষ্টম ব্যাটার হিসেবে নামা লোগান ভ্যান বিক। বাউন্ডারি, সিঙ্গেলস নিয়ে সংগ্রহ বড় করার চেষ্টা করেন তারা। এতে সফলও হন এ দুজন।
৫৪ রানের জুটি গড়ে শেষ ওভারের প্রথম বলে এঙ্গেলব্রেখ্ট (৪০) ও শেষ বলে ভ্যান বিক (২৩) আউট হন। মাঝে দুই বলে শূন্য রানে ফেরেন টিম প্রিঙ্গল। তিনটি উইকেটই যায় ওটনিয়েলের ঝুলিতে।
৭২৬ দিন আগে
দ্বিতীয় ম্যাচেও আগে ফিল্ডিংয়ে প্রোটিয়ারা
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টস জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। সেদিন আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রোটিয়াদের ফিল্ডিংয়ে পাঠান ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা।
শনিবার (৮ জুন) নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে টস ভাগ্য গেল দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে। তবে টস জিতে আজও আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এইডেন মার্করাম। ফলে আগে ব্যাটিংয়ে নামছে নেদারল্যান্ডস।
আরও পড়ুন: কষ্টের জয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু টাইগারদের
গত ম্যাচের মতোই নিউ ইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই ম্যাচ। এই মাঠের পিচ প্রথম থেকেই কিছুটা স্লো দেখা যাচ্ছে। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে মাত্র ৭৭ রানে অল আউট করে সেই রান মোকাবিলা করতে ১৭তম ওভার পর্যন্ত খেলতে হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। আজও তাই ঝুঁকি না নিয়ে লক্ষ্য সামনে নিয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিলেন মার্করাম।
টসের পর একথা ঝরল মার্করামের কণ্ঠেও, ‘এই উইকেটে কয়েকটি ম্যাচ দেখেছি। তাই আগে উইকেটে ফাটল চাই। যদিও আজকের পিচ একটু আলাদা মনে হচ্ছে, তবে খুব বেশি পরিবর্তন আশা করছি না।’
তূলনামূলক দুর্বল ও র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা দল হলেও নেদারল্যান্ডসকে ছোট করে দেখতে চান না তিনি। বলেন, ‘এই বিশ্বকাপেই দেখেছি (ছোট দলগুলোকে ভালো পারফর্ম করতে)। তাই কোনো দলকেই হালকাভাবে নিচ্ছি না। এটা আমাদের জন্য বড় একটি ম্যাচ।’
আরও পড়ুন: দলের বিপদকালে আরও একবার জয়ের নায়ক মাহমুদউল্লাহ
নেপালের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাসে পরিপূর্ণ রয়েছে ডাচরাও। অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস বলেন, ‘তাদের (প্রোটিয়া) বিপক্ষে এর আগেও আমরা জিতেছি। সেদিন আমরা ভালো খেলেছিলাম। আমরা বোলিং-ব্যাটিং দুই বিভাগে ভালো খেলোয়াড় আছে।’
দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশ: কুইন্টন ডি কক, রিজা হেন্ড্রিকস, এইডেন মার্করাম (অধিনায়ক), ট্রিস্টান স্টাবস, হাইনরিখ ক্লাসেন, ডেভিড মিলার, মার্কো ইয়ানসেন, কেশব মহারাজ, কাগিসো রাবাদা, আনরিখ নর্টকিয়া, ওটনিয়েল বার্টম্যান।
নেদারল্যান্ডস একাদশ: মাইকেল লেভিট, ম্যাক্স ওডাউড, বিক্রমজিৎ সিং, সাইব্র্যান্ড এঙ্গেলব্রেখ্ট, স্কট এডওয়ার্ডস (অধিনায়ক), ব্যাস ডি লিড, তেজা নিদামানুরু, লোগান ভ্যান বিক, টিম প্রিঙ্গল, পল ভ্যান মিকারেন, ভিভিয়ান কিংমা।
৭২৬ দিন আগে
দলের বিপদকালে আরও একবার জয়ের নায়ক মাহমুদউল্লাহ
লক্ষ্যটা ছিল মাত্র ১২৫। টি-টোয়েন্টিতে এটি একেবারেই মামুলি লক্ষ্য হলেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পা হড়কাতে বসেছিল বাংলাদেশ।
শুরুতে জোড়া ধাক্কা ও দলীয় ২৮ রানে তিন উইকেট হারানোর পর ৬৩ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দর দেখিয়ে বিদায় নেন তৌহিদ হৃদয় ও লিটন দাস।
লিটন আউট হওয়ার পর জয়ের জন্য ৩৫ বলে ২৬ রানের দরকার ছিল। কিন্তু এখানে ফের ঘুরে যায় ম্যাচের মোড়। টাইগাররা একের পর এক উইকেট হারাতে থাকলে ভক্তদের হৃদয়ের ধুঁকপুকুনি বেড়ে যায়। তবে এদিনও ভক্তদের হতাশ করেননি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ব্যাটিং দৃঢ়তায় দলকে জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন তিনি।
সাত নম্বরে ব্যাট করতে নামা মাহমুদুল্লাহর এর আগেও এমন কীর্তি আছে অসংখ্য। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে যখন দলের বিপদ, ঠিক সেই সময়ে হাল ধরেন তিনি।
আরও পড়ুন: কষ্টের জয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু টাইগারদের
তৌহিদ হৃদয় ২০ বলে ৪০ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে বিদায় নিলে ব্যাটিংয়ে নামেন সাকিব। শুরুতে তিনি দেখেশুনে খেলছিলেন। ফলে বল ও রানের ব্যবধান ক্রমেই কমছিল। এরই মধ্যে লিটন আউট হয়ে গেলে মাহমুদুল্লাহ ক্রিজে আসেন। তিনিও শুরুতে কয়েকটি বল দেখেশুনে খেলেন।
রানের চাকায় গতি বাড়াতে ১৬.২ ওভারে পাথিরানার ওপর চড়াও হন সাকিব। তবে থার্ড ম্যান অঞ্চলের সীমানায় দাঁড়িয়ে থাকা মাহিশ থিকশানাকে অতিক্রম করতে পারেনি তার শট। ফলে ১৪ বলে ৮ রান করে তিনি বিদায় নেন।
সাকিব সাজঘরে ফিরলে ২২ বলে ১৬ রান দরকার ছিল বাংলাদেশের। তবে পরের ওভারে পরপর দুই বলে জোড়া উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন নুয়ান থুশারা। ১৮তম ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে রিশাদ হোসেন ও তাসকিনকে যথাক্রমে বোল্ড ও লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তিনি। এরপর ওই প্রান্ত থেকে উইকেট ধসের আশঙ্কা দেখা দেয়। অন্যপ্রান্তে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না মাহমুদুল্লাহর।
তবে ৩৮ বছর বয়সী সতীর্থের পরামর্শ নিয়ে ওই ওভারের পরের দুটি বল কোনোরকমে মোকাবিলা করেন তানজিম সাকিব। পরের ওভারে স্ট্রাইকে এসেই ছক্কা হাঁকিয়ে চাপমুক্ত হন মাহমুদুল্লাহ, ভারমুক্ত করেন বাংলাদেশের কোটি ভক্তকেও। পরের বলে স্ট্রাইক রোটেট করলে তানজিম ফের অস্বস্তিতে পড়েন। তবে তৃতীয় বলে তিনি কোনোমতে এক রান নিলে আর সুযোগ নেননি মাহমুদুল্লাহ। বাকি কাজটুকু তিনি নিজ হাতেই সারেন।
ম্যাচ শেষ হতেই তাই সতীর্থরা তার দিকে ছুটে আসেন। ছুটে এসে বুকে জড়িয়ে ধরেন কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহেও। আর সবার ভালোবাসা নিয়ে বুক চিতিয়ে মাঠ ছাড়েন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।
আরও পড়ুন: প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বিশ্বকাপে সেরাটা দেওয়ার লক্ষ্য বাংলাদেশের
প্রথম ম্যাচেই শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে শেষ আটে ওঠার পথ সুগম করল টাইগাররা। ‘ডি’ গ্রুপে তাদের শক্ত প্রতিপক্ষ বলতে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ও লঙ্কানরা। গ্রুপের অন্য দুই দল হচ্ছে নেপাল ও নেদারল্যান্ডস। তুলনামূলক দুর্বল এই দলদুটির বিপক্ষে জিততে পারলে শেষ আট নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলাদেশের। সেইসঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয় পেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের রাউন্ডে ওঠারও সুযোগ থাকবে তাদের।
অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও হারল শ্রীলঙ্কা। এর ফলে পরের রাউন্ডে যাওয়ার স্বপ্ন খানিকটা ফিকে হয়ে গেছে তাদের। সুযোগ বাঁচিয়ে রাখতে তাই নেপাল ও ডাচদের বিপক্ষে বড় জয়ের বিকল্প নেই লঙ্কানদের। পাশাপাশি একাধিক ম্যাচে বাংলাদেশের পরাজয় চাইবে হাসারাঙ্গা অ্যান্ড কোং।
সোমবার রাত সাড়ে আটটায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। প্রোটিয়াদেরও দ্বিতীয় ম্যাচ সেটি। আর বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় তৃতীয় ম্যাচে নেপালের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা।
৭২৬ দিন আগে
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জেতায় টাইগারদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৬টায় যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে ‘ডি’ গ্রুপের খেলায় মাঠে নামে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। ম্যাচটি ২ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ।
প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১২৪ রান করে শ্রীলঙ্কা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেট হারিয়ে এক ওভার হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে বাংলাদেশ। এর ফলে জয় দিয়ে টাইগারদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হয়েছে।
৭২৬ দিন আগে
কষ্টের জয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু টাইগারদের
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ২ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। এর ফলে জয় দিয়ে টাইগারদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হয়েছে।
শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৬টায় যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে ‘ডি’ গ্রুপের খেলায় মাঠে নামে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। এদিন টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১২৪ রান করে শ্রীলঙ্কা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেট হারিয়ে এক ওভার হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের হয়ে ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ রান করেন তৌহিদ হৃদয়। তার ২০ বলে ৪০ রানের ইনিংসটি ছিল চারটি ছক্কা ও একটি চারের মারে সাজানো। এছাড়া লিটন দাস খেলেন ৩৮ বলে ৩৬ রানের ধৈর্য্যশীল ইনিংস। চতুর্থ উইকেটে এই দুই ব্যাটারের ৯৩ রানের জুটিটিই বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। শেষে মাহমুদুল্লাহর ১৩ বলে অপরাজিত ১৬ রান ছাড়া আর কোনো ব্যাটার ব্যক্তিগত সংগ্রহ দুই অঙ্কে নিয়ে যেতে পারেননি।
শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট নিয়েছেন নুয়ান থুশারা ও অধিনায়ক ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা।
আরও পড়ুন: প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বিশ্বকাপে সেরাটা দেওয়ার লক্ষ্য বাংলাদেশের
এর আগে, প্রথম ইনিংসে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের অসামান্য প্রদর্শনী দেখান বাংলাদেশি বোলাররা। বিশ ওভারে অতিরিক্ত হিসেবে মাত্র চার রান দিয়েছেন তাসকিন-মোস্তাফিজরা। এর মধ্যে ওয়াইড ছিল মাত্র দুটি।
দলের হয়ে নির্ধারিত চার ওভারে মাত্র ১৭ রান খরচ করে তিন উইকেট নেন মোস্তাফিজ। ২২ রানে তিন উইকেট নেন রিশাদ। এছাড়া চোট থেকে মাঠে ফেরা তাসকিনের ঝুলিতে গেছে দুটি উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১২৪/৯ (নিসাঙ্কা ৪৭, ধানাঞ্জয়া ২১, আসালাঙ্কা ১৯; মোস্তাফিজ ১৭/৩, রিশাদ ২২/৩, তাসকিন ২৫/২)
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১২৫/৮ (তৌহিদ ৪০, লিটন ৩৬, মাহমুদুল্লাহ ১৬*; থুশারা ১৮/৪, হাসারাঙ্গা ৩২/২)
ফলাফল: বাংলাদেশ ২ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রিশাদ হোসেন।
৭২৭ দিন আগে
প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বিশ্বকাপে সেরাটা দেওয়ার লক্ষ্য বাংলাদেশের
যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বেশ কয়েকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। তবে শহরের বাসিন্দাদের অনেকের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে তেমন ধারণাই নেই।
ইথিওপিয়ার এক ট্যাক্সি ড্রাইভারের কথাই ধরুন। লোকটি টুর্নামেন্ট সম্পর্কে জেনে একেবারে হতবাক।
তার শহরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ হতে চলেছে, এ শুনেই তাজ্জব বনে গেলেন ৩০ বছর ধরে ডালাসে বসবাসকারী এই ট্যাক্সিচালক। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ নামের একটি দল এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করছে, তাও তিনি জানেন না।
ডালাসে টলমান বিশ্বকাপের মূল ভেন্যুগুলোর একটি থাকলেও এই চালকের প্রতিক্রিয়া মূলত টেক্সাসের এই শহরটির মানুষের ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকারই বহিঃপ্রকাশ।
আরও পড়ুন: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারেন যারা
ক্যাথরিন নামের এক রাইডশেয়ার ড্রাইভারেরও অবস্থাও এরকম। তিনিও বিশ্বকাপ সম্পর্কে খুবই কম জানেন। ক্রিকেট সম্পর্কে তার ধারণা এতই কম যে তিনি মনে করেন, ক্রিকেট হচ্ছে বেসবলের মতো একটি খেলা; তবে এর ব্যাটটি গোল নয়, চ্যাপ্টা।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে অনুকূল জলবায়ু ও সেখানে বাস করা বিপুল পরিমাণ দক্ষিণ এশীয়র ক্রিকেটের প্রতি অনুরাগের কারণে দেশটির ক্রিকেটের কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে ডালাস। আর এই ইতিবাচক পরিবেশ দেশটির সবখানে ক্রিকেটের বিকাশকে ত্বরান্বিত করছে।
তারপরও ওই ইথিওপিয়ান ট্যাক্সিচালক ও ক্যাথরিনের মতো অনেকের কাছেই ক্রিকেট এখানে বেশ অপরিচিত। ক্রিকেটের কেন্দ্র হয়ে উঠলেও ডালাসের স্টেডিয়ামটি ঠিক কোথায়, তা দুজনের কেউই জানেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে হতাশাজনক সিরিজ হারের পর হারানো গৌরব ফেরানোর লক্ষ্যে এরই মধ্যে ডালাসে পৌঁছেছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল। শনিবার (৮ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায় বিশ্বকাপ মিশনে প্রথমবার মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
গত ৫ জুন গ্র্যান্ড প্রেইরি ক্রিকেট স্টেডিয়াম-সংলগ্ন একটি মাঠে (ফ্যাসিলিটি) অনুশীলন করেছে টাইগাররা। তবে অনুশীলনের জায়গাটিতে এখনও উন্নয়ন কাজ চলছে। ফলে তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ ও তানজিম সাকিবদের মতো পেসারদের পূর্ণ রানআপের জায়গা বের করে অনুশীলন করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল। বিশ্বকাপের ম্যাচ এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তাই এই বিষয়টি তাদের মনে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে বলে অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের দুটি গা গরমের ম্যাচ থাকলেও সেখানেও বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে টাইগাররা। প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ, যেখানে খেলোয়াড়দের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছ। পরের ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে হওয়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা পরিত্যক্ত হয়।
আরও পড়ুন: দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি: যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সিরিজ হারের স্বাদ পেল বাংলাদেশ
স্ট্যান্ডবাই প্লেয়ার হিসেবে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। অনুশীলন সুবিধার ব্যাপারে প্রশ্ন করতেই দ্বিধায় জড়ান তিনি। তার জোর করে ‘হ্যাঁ’ বলা থেকেই বোঝা যাচ্ছিল যে, বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুত হতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম অনুশীলন সুবিধা পাচ্ছেন তারা।
তবে এতকিছুর মধ্যেও আশার বিষয় হচ্ছে, দলের মূল পেসার তাসকিন আহমেদ পূর্ণ শক্তিতে বোলিংয়ে ফিরেছেন।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন টাইগারদের প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ লিপু।
ডালাসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগেও চোট নিয়ে আমরা অনেক আশঙ্কায় ছিলাম। এখন আবার নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে শরিফুলের ছয়টি সেলাই। ওর সেরে উঠতে কতদিন লাগবে, তা বুঝতে আমাদের আরও সময় প্রয়োজন।’
তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ থেকেই তাসকিন খেলতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
৭২৮ দিন আগে
আয়ারল্যান্ডকে সুযোগই দিল না ভারত
প্রথমে বোলিং করে স্বল্প রানে গুটিয়ে দিয়ে ব্যাটিং তাণ্ডব চালালেন ভারতীয় ব্যাটাররা। এর ফলে পুরো ম্যাচজুড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনো সুযোগই পেল না আয়ারল্যান্ড। ম্যাচটি ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে নিজেদের করে নিল রোহিত শর্মা অ্যান্ড কোং।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ১৫.৫ ওভারে মাত্র ৯৬ রানেই অলআউট হয়ে যায় আয়ারল্যান্ড। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১২.২ ওভারেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত।
অপরিচিত পিচ ও কন্ডিশনে কেমন ব্যাটিং হবে, সেই অনিশ্চয়তা মাথায় নিয়ে বিশ্বকাপ মিশনের প্রথম ম্যাচে টস জেতে ভারত। অনিশ্চয়তা থেকেই শুরুতে ফিল্ডিং করে রোহিত শর্মার দল। তবে ভারতীয় বোলারদের তাণ্ডবে ম্যাচটি একেবারে একপেশে হয়ে যায়।
আয়ারল্যান্ডের দেওয়া ৯৭ রানের লক্ষ্য মোকাবিলায় মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় ভারত। ১২.২ ওভারেই জয় নিশ্চিত করেন ঋষভ পান্ত ও শিবম দুবে।
আরও পড়ুন: ভারতের বোলিং বিষে নীল আয়ারল্যান্ড
দলের হয়ে রোহিত সর্বোচ্চ ৫২ রানের ইনিংস খেলেন। আর ঋষভের ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান। রোহিত তিনটি ছক্কা ও চারটি চার মারেন। অন্য পাশ থেকে ঋষভ মারেন তিনটি চার ও দুটি ছক্কা।
আইরিশ বোলারদের প্রাপ্তি বলতে মার্ক অ্যাডায়ার ও বেঞ্জামিন হোয়াইটের উইকেট দুটি।
৯৬ রান রক্ষার লক্ষ্যে মাঠে নেমে প্রথম ওভারেই রোহিতকে জীবন দেন আয়ারল্যান্ডের বালবির্নি। মার্ক অ্যাডায়ারের ওভারের শেষ বলে ব্যাট চালালে সেকেন্ড স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা বালবির্নির কাছে ক্যাচ যায়। তবে গতির কারণে তিনি বলে স্পর্শই করতে পারেননি।
তবে দ্বিতীয় ওভারেই সাফল্য পান অ্যাডায়ার। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের প্রথম চারটি বল ডট হলে চতুর্থ বলে সজোরে ব্যাট চালান কোহলি। তবে বলটি হঠাৎ লাফিয়ে ওঠায় বল-ব্যাটে ঠিকমতো সংযোগ করতে ব্যর্থ হন তিনি। ফলে থার্ড ম্যানে দাঁড়িয়ে থাকা হোয়াইটের হাতের ওপর গিয়ে পড়ে বল। ফলে ৫ বলে ১ রান করে ফিরতে হয় কোহলিকে।
আরও পড়ুন: বাবরের অধিনায়কত্ব নিয়ে পাকিস্তানের দুই ক্রিকেটারের লড়াই
এরপর দুর্ঘটনার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন দলের বাইরে থাকা ঋষভ পান্তকে নিয়ে দেখশুনে খেলতে থাকেন রোহিত। এই দুজনের ব্যাটিং দৃঢ়তায় এক পর্যায়ে দলীয় স্কোর ৫০ পার করে ভারত। এরপর হাত খোলা শুরু করেন হিটম্যান রোহিত।
তবে একেবারে শেষের দিকে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন রোহিত। দলের তখন প্রয়োজন আর ২১ রান। এরপর সূর্যকুমার যাদব ক্রিজে এসে চার বলে ২ রান করে আউট হন। পরে শিবম দুবে মাঠে নামলেও দুই বল মোকাবিলা করে রান করতে পারেননি তিনি। অন্যপাশ থেকে আর উইকেটের পতন চাননি ঋষভও। নিজেই বাকি কাজটুকু সারেন তিনি।
অসাধারণ বোলিং পারফর্ম্যান্সের কারণে ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে জসপ্রীত বুমরাহর হাতে।
৭২৯ দিন আগে
ভারতের বোলিং বিষে নীল আয়ারল্যান্ড
টসের সময় ব্যাটারদের যে ফর্ম ও লড়াই করার প্রত্যয় জানিয়েছিলেন পল স্টার্লিং, মাঠের খেলায় তা যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারল না দলটি।
টস হেরে আগে ব্যাট করে ১৫.৫ ওভারে মাত্র ৯৬ রানেই গুটিয়ে গেছে তাদের ইনিংস।
দলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর ২৬। দুটি করে ছক্কা ও চারের মারে এ রান করেন তিনি। এর পরবর্তী স্কোর ১৫ যা এসেছে অতিরিক্ত থেকে।
ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন হার্দিক পান্ডিয়া। এছাড়া আর্শদীপ সিং ও জসপ্রীত বুমরাহ নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। এদিন তিন ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে সবচেয়ে কিপটে ছিলেন বুমরাহ।
আরও পড়ুন: টস জিতে আয়ারল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে ভারত
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় ওভারেই দুই ওপেনারকে হারায় আয়ারল্যান্ড। আর্শদীপ সিং ও মোহাম্মদ সিরাজের প্রথম দুই ওভার দেখেশুনে খেলে তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় অধিনায়ক পল স্টার্লিংকে।
ইনিংসের তৃতীয় ও আর্শদীপের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম ডেলিভারিটি ছিল লেগ স্ট্যাম্পে। বল কিছুটা লাফিয়ে উঠলে তা স্লগ করতে গিয়ে টপ এজ হয়ে উপরে উঠে যায়। উইকেটের পেছন থেকে তা গ্লাভসবন্দি করেন ঋষভ। এরপর ওই ওভারেই আর্শদীপের মিডল উইকেটে রাখা শেষ ডেলিভারিটি থামাতে ব্যর্থ হয়ে বোল্ড হয়ে যান অ্যান্ডু বালবির্নিও।
মাত্র ৯ রানে দুই উইকেটে হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় আয়ারল্যান্ড। এরপর তৃতীয় ও চতুর্থ ব্যাটার লোরকান টাকার ও হ্যারি টেক্টর বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে বুমরাহ, সিরাজ, আর্শদীপদের বোলিং আক্রমণের সামনে খুব বেশি সুবিধা করতে পারছিলেন না তারা। এর প্রভাব পড়ে স্কোরবোর্ডেও। প্রথম পাওয়ার প্লেতে আর উইকেট না হারালেও মাত্র ২৬ রান তোলে আয়ারল্যান্ড।
তবে পাওয়ার প্লের পরেই ফের আসে ধাক্কা। ব্রেকথ্রুর আশায় সপ্তম ওভারে হার্দিককে বোলিং করতে পাঠান রোহিত । ওই ওভারের পঞ্চম বলেই টাকারকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান হার্দিক। ফেরার আগে ১৩ বল মোকাবিলা করে দুই চারের সাহায্যে মাত্র ১০ রান করেন তিনি। এরপর শুরু হয় উইকেটে রক্তক্ষরণ।
আরও পড়ুন: বাবরের অধিনায়কত্ব নিয়ে পাকিস্তানের দুই ক্রিকেটারের লড়াই
পরের ওভারে বুমরাহর শেষ ডেলিভারিতে ক্যাচ আউট হয়ে ফিরে যান হ্যারি টেক্টর। ফেরার আগে ১৬ বলে মাত্র চার রান করেন তিনি। পরের ওভারটি ছক্কা হাঁকিয়ে শুরু করলেও হার্দিকের শেষ বলে আউট হন ৮ বলে ১২ রান করা কার্টিস ক্যাম্ফার। এর পরের ওভারের চতুর্থ বলে ফের উইকেট। এবার সিরাজের শিকার হন জর্জ ডকরেল। ফলে ১০ ওভার খেলার আগেই ৬ উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড।
একাদশ ওভারের প্রথম বলেই মার্ক অ্যাডায়ারকে ফিরিয়ে ওই ওভার মেইডেন নেন হার্দিক। পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে উইকেট নেন অক্ষর প্যাটেল। তিনি ব্যারি ম্যাকার্থিকে ফেরালে ৫০ রানে ৮ উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড।
এর পর দুটি ২০ ছাড়ানো জুটি গড়ে স্কোরবোর্ড শতরানের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন শেষের ব্যাটাররা। তবে ৭০ রানের মাথায় বুমরাহ বলে জশুয়া লিটল ও ৯৬ রানে ডিলানি রান আউট হলে সেখানেই গুটিয়ে যায় আয়ারল্যান্ডের ইনিংস।
৭২৯ দিন আগে
টস জিতে আয়ারল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে ভারত
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামছে ভারত। এদিন টস জিতে শুরুতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা।
টসের পর রোহিত বলেন, ‘আমরা যে ধরনের পিচে খেলে অভ্যস্ত, সেরকম পিচেই আজ খেলব। তবে নতুন কন্ডিশনে কী হবে তা অজানা। তাই সামনে একটি লক্ষ্য রেখে খেলাটা ভালো হবে বলে মনে হয়েছে।’
অন্যদিকে, জয়ের প্রত্যয় ঝরেছে আইরিশ অধিনায়ক পল স্টার্লিংয়ের কণ্ঠে।
‘বিশ্বকাপের আগে নেদারল্যান্ডসে একটি (ত্রিদেশীয়) সিরিজ খেলেছি। সেখানে আমাদের যথেষ্ট ম্যাচ উইনার ছিল। তাদের আজকে জ্বলে উঠতে হবে। কন্ডিশন বুঝে খুব দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব।’
ভারত একাদশ:
রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), বিরাট কোহলি, ঋষভ পন্ত, সূর্যকুমার যাদব, শিবম দুবে, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, অক্ষর প্যাটেল, জাসপ্রিত বুমরাহ, আরশদীপ সিং, মোহাম্মদ সিরাজ।
আয়ারল্যান্ড একাদশ:
পল স্টার্লিং (অধিনায়ক), অ্যান্ড্রু বালবির্নি, লোরকান টাকার (ডব্লিউ), হ্যারি টেক্টর, কার্টিস ক্যাম্ফার, জর্জ ডকরেল, গ্যারেথ ডিলানি, মার্ক অ্যাডায়ার, ব্যারি ম্যাকার্থি, জশুয়া লিটল, বেঞ্জামিন হোয়াইট।
৭২৯ দিন আগে