চট্টগ্রাম
চাঁদপুরে জালভোট দেওয়ায় ৫ জনের কারাদণ্ড
চাঁদপুরের কচুয়া, শাহরাস্তি ও হাজীগঞ্জ উপজেলায় জাল ভোট দেওয়ার কারণে ৫ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং একজনের বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। কারাদণ্ড প্রাপ্তদের মধ্যে পিতা-পুত্রও রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সংসদীয় ভোট চলাকালীন পৃথক পৃথক স্থানে এসব ব্যাক্তিদের কারাদণ্ড প্রদান করেন দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর-(১) কচুয়া আসনের তেগুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাল ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যালট পেপার চাওয়ায় মো. ছফিউল্লাহর ছেলে মো. হেলালকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল মান্নান কারাদণ্ড।
একই ঘটনায় ওই কেন্দ্রের একজন আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে কচুয়া থানায় সোপর্দ করে নিয়মিত মামলার নির্দেশ দেন বিচারক।
অন্যদিকে, চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের শাহরাস্তিতে জাল ভোট প্রদান-চেষ্টার অভিযোগে পিতা-পুত্রসহ ৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
দুপুরে উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের বড়তুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের খেড়িহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পৃথক ঘটনায় এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার বড়তুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার সময় বড়তুলা গ্রামের ইয়াকুব আলীর পুত্র মো. সাইফুল ইসলাম (৫৯) ও তার পুত্র মো. সাফায়েত হোসেনকে (২৭) আটক করেন ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. নাসরিন বানু সাফায়েত হোসেনকে ১ মাস ও তার বাবা সাইফুল ইসলামকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেন।
এছাড়া খেড়িহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টাকালে ওই গ্রামের আবু সৈয়দের পুত্র মো. সজিবকে ১ মাসের কারাদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানা।
অপরদিকে, দুপুরে একই আসনের হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দিতে এসে মো. নাহিদ (২৫) নামে এক যুবককে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজ হিমাদ্রী খীসা।
২২ দিন আগে
ভোট দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা
ফেনীতে স্বামীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোট দেওয়ার ‘অপরাধে’ বিবি জহুরা (৩২) নামে এক গৃহবধূকে তালাক দিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর বাঁশতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় জনতার তোপের মুখে পড়ে পালিয়ে যায় স্বামী ইসমাইল হোসেন কাওসার।
কাওসার ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি।
স্থানীয়রা জানান, এর আগে ঘটনার পরপর স্থানীয় লোকজন কাওসারকে মারধর করে আটক রাখেন। স্ত্রীকে দেওয়া মৌখিক তালাক ফিরিয়ে নিবে এমন কথা বলে কৌশলে পালিয়ে যান তিনি। এ ঘটনার পর বিবি জহুরাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, ৩ সন্তান নিয়ে জহুরা পড়েছেন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মাঝে।
তারা জানান, গতকাল (বুধবার) বিকেলে জহুরাকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য বলেন তার স্বামী। কিন্তু আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে জহুরা প্রথমবার ভোটার হওয়ায় উৎসাহের সঙ্গে সন্তানদের নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন। তখন কাওসার ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোট দিয়ে বেলা ১১টার দিকে ঘরে ফিরে স্বামীসহ সবার জন্য নাস্তা বানান তিনি। কাওসার ঘুম থেকে উঠে নাস্তা খেয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা করে দুপুরে ভাত খেয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়েন সেচ্ছাসেবক লীগের এ নেতা।
বিকেলে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির পাশের রাস্তায় গিয়ে জানতে পারেন জহুরা ভোট দিতে কেন্দ্রে গেছেন। এ খবর কাওসার শুনে মাগরিবের সময় স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেন ভোটের বিষয়ে। জহুরা তার জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার কথা জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির পাশের রাস্তা থেকে জহুরাকে মৌখিক তিন তালাক দেন তিনি। এ সময় স্ত্রীকে তার ঘরে যেতে বারণ করেন। আশপাশের লোকজন এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে কাওসারকে আটক করে মারধর দিয়ে আটক করে রাখেন। একপর্যায়ে জনসমাগম বাড়তে থাকলে বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে কাওসার কৌশলে পালিয়ে যান।
২০১৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার মধুয়াবাজার এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে বিবি জহুরার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন কাওসার। তাদের সংসারে আবদুল আলিম শুভ (১২), সাবিনা আফরিস ইভানা (৮), ইসরাত জাহান ইসমাত (৪) নামে তিন সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় নুরুল আফছার নামে এক ব্যক্তি জানান, বিয়ের পর থেকেই জহুরাকে সবসময় মারধর করতেন কাওসার। এ নিয়ে কয়েকবার সামাজিকভাবে বিচারও হয়েছে তার।
আলী আহম্মদ নামে আরেকজন জানান, শ্বশুরকেও কয়েকবার মারধর করেন কাওসার।
মোহাম্মদ আজাদ নামে স্থানীয় এক সালিশদার জানান, কয়েকবার বিচারে তিনি উপস্থিত ছিলেন।
কাওসার উগ্র মেজাজের উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে তিনি এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে মানুষকে জিম্মি করতেন। পিতার পরিবার অসচ্ছল হওয়ায় সন্তানদের কথা বিবেচনা করে তার স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। কাওসার ফেনী শহরের রেলগেট এলাকায় বেডিং কারিগর হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি অনেকটা ঘরে আবদ্ধ থাকতেন বলে জানান মোহাম্মদ আজাদ।
২২ দিন আগে
অর্থ আত্মসাৎ করতে ‘নিজেকে অপহরণের’ নাটক, বিকাশকর্মী গ্রেপ্তার
এজেন্টদের সরবরাহের উদ্দেশ্যে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার পর তা আত্মসাতের ফন্দি আসে বিকাশের এক বিক্রয় প্রতিনিধির। এরপর গা ঢাকা দিয়ে অপহরণের নাটক সাজান তিনি। সেইসঙ্গে ফোন করে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশের অভিযানে ধরা পড়েছেন ওই ব্যক্তি। তার সঙ্গে থাকা আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৫ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুরে। এরপর গতকাল (মঙ্গলবার) তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেলেই দুজনকে আদালতের মাধ্যমে হাজতে পাঠিয়েছে সদর মডেল থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন— চাঁদপুর সদরের উত্তর ইচুলি এলাকার মো. রাব্বি (২২) এবং একই এলাকার ফরহাদ হোসেন (২১)। এই নাটকের মূল নাট্যকার রাব্বি বিকাশের বিক্রয় প্রতিনিধি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, মেসার্স দিবা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পরিবেশক ও বিকাশের বিক্রয় প্রতিনিধি রাব্বি গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে ঢাকা ব্যাংকের চাঁদপুর শাখা থেকে অফিসের সুপারভাইজারের মাধ্যমে ৯ লাখ টাকা তোলেন। এরপর টাকাগুলো সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিকাশ এজেন্টদের কাছে বিতরণের কথা ছিল তার। কিন্তু টাকাগুলো আত্মসাতের ধান্দায় পরিকল্পনা আঁটেন তিনি। সে মোতাবেক তিনি নিখোঁজ হন।
পরে মূল ঘটনা ধামাচাপা দিতে তিনি অফিসে ফোন করে জানান যে তাকে অপহরণ করা হয়েছে। বিষয়টি জেনে ওই দিনই চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রাব্বির ব্যবস্থাপক মনির হোসেন তালুকদার। পুলিশ তদন্তে নেমে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাব্বিকে আটক করে থানা পুলিশ।
এরপর থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি অপহরণ ও হামলার ঘটনা সাজানো বলে স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ (বুধবার) তার বসতঘরের মেঝে খুঁড়ে প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়ানো ৯ লাখ টাকা উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশের একটি দল। থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কালাম গাজীর নেতৃত্বাধীন দলটি ওই টাকা উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সেই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত রাব্বির সহযোগী মো. ফরহাদ হোসেনকেও (২১) গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে ওসি ফয়েজ আহমেদ ইউএনবিকে বলেন, গ্রেপ্তাররা বিকাশের পরিবেশকের দায়িত্বে থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৯ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করেছিল। এ ঘটনায় ব্যবস্থাপকের পক্ষ থেকে থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তিনি জানান, উদ্ধার করা টাকা জব্দ করা হয়েছে এবং মামলাটির বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।
২৩ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের ধর্মঘট স্থগিত
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য চলমান ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে।
এনসিটি ডিপি ওর্য়াল্ডকে ইজারা দেওয়ার চুক্তি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে না হওয়ার ঘোষণা আসার পর লাগাতার ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরে আটক ৩ জনসহ আন্দোলনরত ১৭ শ্রমিক-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ১৫ জন নেতার সরকারি বাসা হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বিদেশি কোম্পানির কাছে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ চার দফা দাবিতে গতকাল (রবিবার) সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট ডেকেছিল চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
পরে গতকাল বিকেলের দিকে ঢাকার পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সংবাদ সম্মেলনের পর আশার আলো জ্বলেছিল। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা নেই।
এমন প্রেক্ষাপটে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য অব্যাহত রাখার স্বার্থে এবং রমজান মাস ও জাতীয় নির্বাচনের কথা বিবেচনা করে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ প্রথমে ধর্মঘট থেকে সরে আসার বিষয়টি বিবেচনায় নিলেও পরবর্তী সময়ে কয়েকজন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার ও বিভিন্ন থানায় আন্দোলনকারীদের নামে জিডি হওয়াসহ কয়েকটি কারণে ধর্মঘট অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে আশিক চৌধুরী জানান, ‘রবিবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছ থেকে একটি চিঠি এসেছে। চিঠিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড ইজারা চুক্তি নিয়ে চলমান দরকষাকষির (নেগোসিয়েশন) অগ্রগতির প্রশংসার পাশাপাশি এ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। ডিপি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, শেয়ার করা খসড়া কনসেশন চুক্তি তারা গ্রহণ করেছে এবং বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছে। তবে তারা এটি আরও পুনর্মূল্যায়ন (রিভিউ) করার জন্য কিছু সময় চেয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আনুষ্ঠানিক মেয়াদ রয়েছে আর দুই কার্যদিবস। ডিপি ওয়ার্ল্ড সময় নেওয়ার কারণে নেগোসিয়েশনটি বর্তমান সরকারের আমল পেরিয়ে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গিয়ে আবারও কন্টিনিউ হতে পারে।’
২৫ দিন আগে
ধর্মঘটে অচল চট্টগ্রাম বন্দর, চেয়ারম্যানকে অপসারণের দাবি ‘গুজব’
দুই দিন স্থগিত থাকার পর চট্টগ্রাম বন্দরে আজ (রবিবার) সকাল থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। বন্দর ইয়ার্ডের পাশাপাশি এবার বহির্নোঙরেও কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ধর্মঘট শুরু হওয়ার পর বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে সব ধরনের পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ রয়েছে, থেমে আছে পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রমও।
আজ (রবিবার) সকালে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির এক ভিডিওবার্তায় বন্দরের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানকে অপসারণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তবে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তাকে অপসারণের তথ্যটি সত্য নয়। তিনি এখনও সপদে বহাল রয়েছেন।
এদিকে, বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান আজ দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বন্দর ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, বন্দরের কার্যক্রম সচল আছে।
তিনি বলেন, ‘বন্দর সচল আছে। আমি ২ ঘণ্টা বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা সবাই কাজে যাবেন। কেউ বাধা দেবেন না।’
তবে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ জানিয়েছে, সকাল থেকে বন্দরে কোনো ধরনের কার্যক্রম হচ্ছে না। কোনো শ্রমিক-কর্মচারী কাজে যোগ দেননি। এবারের কর্মসূচি কার্যকর হলে পুরো বন্দর অচল হয়ে পড়বে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ভার আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ ৪ দফা দাবিতে ফের লাগাতার ধর্মঘট শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। গতকাল (শনিবার) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।
ওই সময় চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের দুই সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহিম খোকন লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এরপর পরিষদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে চট্টগ্রাম শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।
সূত্র জানিয়েছে, এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ৩১ জানুয়ারি (শনিবার) থেকে ৮ ঘণ্টা করে তিন দিন এবং মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করে আসছিল বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার পরিবহন এবং জাহাজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। তবে বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর বিকেলে লাগাতার কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত করেন সংগঠনটির নেতারা। শ্রমিক নেতারা নৌ উপদেষ্টার সঙ্গে আলাপকালে এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলের সুস্পষ্ট ঘোষণা এবং শ্রমিক–কর্মচারীদের বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু দাবি না মানার কারণে আজ সকাল থেকে ফের ধর্মঘট শুরু হয়। নতুন করে বন্দর অচলের কর্মসূচিতে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিসহ বন্দর ব্যবহারকারীদের মাঝে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলন স্থগিত করার পরপর আন্দোলনরত ১৫ জন কর্মচারীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন জানায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানাতে অনুরোধ করা হয়। এ খবর জানতে পেরে আন্দোলনকারীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন।
উল্লেখ্য, দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দর দিয়ে সমুদ্রপথে পরিবাহিত আমদানি–রপ্তানি পণ্যের ৭৮ শতাংশ পরিবহন হয়। কনটেইনারজাত পণ্যের প্রায় পুরোটা পরিবহন হয় এই বন্দর দিয়ে। বন্দর বন্ধ হলে কন্টেনারে রপ্তানি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। কনটেইনারে বোঝাই করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত শিল্পের কাঁচামাল খালাসও বন্ধ হয়ে যায়।
২৬ দিন আগে
উখিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১৫০০ রোহিঙ্গা আটক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কক্সবাজারের উখিয়ায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে সেনাবাহিনী নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী। অভিযানে শরণার্থী শিবিরের বাইরে অবৈধভাবে বসবাস করা অন্তত ১ হাজার ৫০০ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালীসহ আশপাশের এলাকায় এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। অভিযানটি এখনও চলমান থাকায় আটকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
যৌথ বাহিনীর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি বিশেষ গোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপব্যবহার করতে পারে এমন আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গাদের জন্য নির্দিষ্ট ক্যাম্প নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা নিয়ম ভঙ্গ করে স্থানীয় বাঙালিদের জমি দখল করে ক্যাম্পের বাইরে অবস্থান করছেন। এটি কেবল আইনের লঙ্ঘনই নয়, বরং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনি আবহে এই বিশাল অনিবন্ধিত জনগোষ্ঠীকে নাশকতামূলক কাজে ব্যবহারের ঝুঁকি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আটক রোহিঙ্গাদের বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো করা হচ্ছে। সেখান থেকে সরাসরি ক্যাম্পে ফেরত না পাঠিয়ে প্রথমে নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে— তারা কেন এবং কাদের সহায়তায় ক্যাম্পের নির্ধারিত সীমানা থেকে বেরিয়ে এসেছে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে কোনো রাজনৈতিক পক্ষ তাদের ভাড়াটে হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার পর স্থানীয় জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনরায় নির্ধারিত শরণার্থী ক্যাম্পে তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
২৬ দিন আগে
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করলেন আবদুল আউয়াল মিন্টু
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে দাগনভূঞা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ফেনী–৩ (দাগনভূঞা ও সোনাগাজী) আসনে বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে থানায় জিডি করেন মিন্টুর নির্বাচনি এজেন্ট মোহাম্মদ শামসুদ্দীন।
জিডি উল্লেখ করা হয়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে দাগনভূঞা উপজেলায় ফেনী–৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন ওরফে মানিকের নির্বাচনি প্রচারণায় জামায়াত নেতা মেজবাহ উদ্দিন ধানের শীষের প্রার্থী মিন্টুকে উদ্দেশ্য করে হুমকি দিয়েছেন। এরকম আরও বিভিন্নভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিনিয়ত তাকে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। এতে করে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ ব্যাপারে জামায়াত নেতা মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘নির্বাচনের প্রচারণাকালে আমি একটি রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছি। এখানে এটিকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নেওয়ার কিছু নেই। আমি যা বলেছি, আপনারা ভিডিওতে বক্তব্যটি শুনতে পারেন। এটি অনলাইনে পাওয়া যাবে।’
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান ধানের শীষ প্রার্থীর পক্ষে তার এজেন্ট জিডি করেছেন বলে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
২৬ দিন আগে
চার দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে ফের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে চার দফা দাবিতে আগামীকাল রবিবার সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও লাগাতার কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির।
বন্দরের পাশাপাশি এবার বহিনোঙ্গরেও অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার পর ব্যবসায়ীদের ক্ষতি ও রোজার পণ্য খালাসের কথা ভেবে তারা কর্মসূচিতে শিথিলতা এনেছিলেন। কিন্তু এরপরই বন্দর কর্তৃপক্ষের নেওয়া পদক্ষেপে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ সময় চারটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা না দেওয়ার বিষয়ে সরকারি ঘোষণা দেওয়া এবং বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহার করে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা। এছাড়া আন্দোলনকারী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া যাবতীয় শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা বাতিলের দাবিও জানানো হয়েছে।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন চলছে। এর আগে, গত শনিবার থেকে তিন দিন ৮ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করা হয়। পরে মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু হলেও নৌপরিবহন উপদেষ্টার আশ্বাসে বৃহস্পতিবার বিকেলে তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল।
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। সমুদ্রপথে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৭৮ শতাংশই এই বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। বিশেষ করে কনটেইনার পরিবহনের ক্ষেত্রে এই বন্দরের ওপর নির্ভরতা ৯৯ শতাংশ। ধর্মঘটের ফলে কনটেইনারে পণ্য রপ্তানি এবং শিল্পের কাঁচামাল খালাস প্রক্রিয়া চরমভাবে ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন ছাড়াও অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ হারুন, তসলিম হোসেন, ইয়াসিন রেজা রাজু, আবুল কাসেম, জাহিদ হোসেন, শরীফ হোসেন ভুট্টো ও ইমাম হোসেন খোকন প্রমুখ।
২৭ দিন আগে
মিয়ানমার থেকে ছোঁড়া গুলিতে আহত সেই হুজাইফা মারা গেছে
সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে গুরুতর আহত হুজাইফা আফনান (১৩) ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ২৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মেনেছে মেয়েটি।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌন ১০টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
হুজাইফার চাচা শওকত আলী বলেন, সকালে চিকিৎসকরা হুজাইফাকে মৃত ঘোষণা করেছেন। মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে। আপনারা সবাই আমার ভাতিজির জন্য দোয়া করবেন।
গত ১১ জানুয়ারি সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় মিয়ানমারের ওপার থেকে আসা গুলিতে গুরুতর আহত হয় স্থানীয় জসিম উদ্দিনের মেয়ে হুজাইফা আফনান। তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ওইদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। তার দুই দিন পর ১৩ জানুয়ারি বিকেলে মাথায় বিদ্ধ গুলিটি অপসারণ করা সম্ভব না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হুজাইফাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
চমেক হাসপাতালের অ্যানেসথেশিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ সে সময় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, হুজাইফার অস্ত্রোপচার করা হলেও ঝুঁকি থাকায় মস্তিষ্কে ঢুকে যাওয়া গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি। তবে মস্তিষ্কের চাপ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে মাঝেমধ্যেই সশস্ত্র সংঘর্ষ বাঁধে। বাংলাদেশ সীমান্তে এই সংঘর্ষ হলে ছুটে আসা গুলিতে মাঝেমধ্যেই টেকনাফ অঞ্চলে বাংলাদেশিদের হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
হুজাইফা গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরের দিন একই এলাকায় সীমান্তে স্থল মাইন বিষ্ফোরণে আবু হানিফ নামে এক জেলের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর গত ২৭ জানুয়ারি কনাফ উপজেলার নাফ নদের সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে সীমান্তের দিক থেকে ছোড়া গুলিতে সোহেল (১৫) ও ওবায়দুল্লাহ (১৪) নামে দুই কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা আতঙ্কে দিন পার করে আসছেন।
সীমান্তে চলমান এই ধরনের সহিংসতা স্থানীয়দের জীবন ও নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে বলে মনে করছে স্থানীয় সচেতন মহল। বিষয়টির দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
২৭ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরে নৌ-উপদেষ্টার গাড়িবহর আটকে শ্রমিক-কর্মচারীদের বিক্ষোভ
চট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলনকারী শ্রমিক-কর্মচারীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে অচল হয়ে পড়া চট্টগ্রাম বন্দরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এসে তিনি বন্দর ভবনের সামনে আন্দোলনকারীদের সামনে পড়েন।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা উপদেষ্টার গাড়ি আটকে বিভিন্ন স্লোগান দেন। প্রায় ১৫ মিনিট পর পুলিশ ও বন্দরের নিরাপত্তা কর্মীদের পাহারায় উপদেষ্টার গাড়িবহর বন্দর ভবনে প্রবেশ করে।
টানা ৫ দিনের কর্মবিরতিতে অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে বন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটি টার্মিনালসহ সব জেটিতে কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ। বহিঃনোঙরে ও জেটিতে পণ্যবাহী জাহাজ আটকে আছে। ইয়ার্ড থেকে পণ্য খালাস ও বন্দরে পণ্যবাহী যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থা নিরসনে আন্দোলনকারীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করতে নৌপরিবহন উপদেষ্টা আজ সকালে ঢাকা থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সরাসরি বন্দরে যান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামান।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নৌ-উপদেষ্টার গাড়িবহর কাস্টমস মোড়ে পৌঁছালে আন্দোলনকারীরা তার গাড়ি আটকে দিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সহযোগিতায় গাড়িবহর বন্দর ভবনে প্রবেশ করে। গাড়ি থেকে নেমে বন্দর ভবনের ভেতরে ঢোকার সময়ও শ্রমিক-কর্মচারীরা স্লোগান দিতে থাকেন। পরে উপদেষ্টাকে দ্রুত লিফটে করে উপরের তলায় নিয়ে যাওয়া হয়।
বন্দরের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বন্দর ভবনে প্রবেশের পর নৌপরিবহন উপদেষ্টা চলমান কর্মবিরতি ও অচলাবস্থা নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন।
উল্লেখ্য, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ এবং আন্দোলনকারীদের হয়রানি ও বদলি প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল (বুধবার) থেকে লাগাতার কর্মবিরতি চলছে। এর আগে, টানা তিন দিনের কর্মবিরতির পর আন্দোলনে জড়িত অন্তত ১৫ জনকে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলির আদেশ দেয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এর প্রতিবাদে প্রথমে ২৪ ঘণ্টা এবং পরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
২৯ দিন আগে