বরিশাল
ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণ: পরিবারটির বাঁচল না কেউ, গ্রামের বাড়িতে দাফন
‘চাচা অনেক কষ্ট করে বাড়িতে একটা পাকা ঘর তুলেছিলেন। ছাদের কাজ এখনও বাকি ছিল। কোরবানির ঈদে এসে কাজ শেষ করে গ্রামেই থাকার কথা ছিল। ফিরেছেন ঠিকই, তবে লাশ হয়ে। তার স্ত্রী-সন্তানেরাও ফিরছে লাশ হয়ে।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার উত্তর কনকদিয়া গ্রামের আবুল কামালের ভাতিজি মেঘলা। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাসের লাইনে লিকেজ থেকে বিস্ফারণের ঘটনায় ৪০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি নিজে প্রাণ হারিয়েছেন, তারপর একে একে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হার মেনেছেন তার পরিবারের সব সদস্য।
জীবিকার তাগিদে প্রায় ৩০ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বসবাস করতেন কামাল। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ছোট্ট সংসার ছিল তার। কিন্তু গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে সেই সংসারের পাঁচটি জীবনই একে একে নিভে গেছে।
গত ১০ মে ভোরে ফতুল্লার ভাড়া বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় আবুল কামাল, তার স্ত্রী সায়মা (৩২), ছেলে মুন্না (৮) এবং দুই মেয়ে মুন্নি (১০) ও কথা (৭) গুরুতর দগ্ধ হন। পরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে তাদের মৃত্যু হয়।
গত সোমবার আবুল কামালকে তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছিল। আজ (শনিবার) সকালে জানাজা শেষে কামালের কবরের পাশেই পরিবারের অপর চারজনকে দাফন করা হয় বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় উত্তর কনকদিয়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারি আর প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, আবুল কামাল ফতুল্লায় সবজির ব্যবসা করতেন। কয়েকদিন আগে তাদের বাসার গ্যাস লাইনে লিকেজ দেখা দেয়। বিষয়টি বাড়ির মালিক ও দারোয়ানকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ঘরে গ্যাস জমে ছিল।
তারা জানান, ১০ মে (রবিবার) ভোরে তরকারি গরম করার জন্য লাইটার দিয়ে চুলা জ্বালাতে গেলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পরিবারটির পাঁচ সদস্যই গুরুতরভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়।
চিকিৎকের বরাত দিয়ে কামালের মেজ ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, কামালের শরীরের ৯৫ শতাংশ, স্ত্রী সায়মার ৬০ শতাংশ, মেয়ে মুন্নির ৩৫ শতাংশ, কথার ৫২ শতাংশ এবং ছেলে মুন্নার ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, ‘এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাফন-কাফনে সহযোগিতা করা হবে।’
২০ দিন আগে
পটুয়াখালীতে হানি ট্র্যাপে ব্ল্যাকমেইল, আটক ৩
হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে এক ঔষধ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বাউফল উপজেলার বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আজাহার খান, কবির হোসেন ও যুবলীগ নেতা রাসেল তালুকদারসহ তিনজনকে আটক করেছে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ।
বুধবার (১৩ মে) রাতে পটুয়াখালী শহরের বনানী এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে এক ঔষধ ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেইল করে তার কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আদায় করেন। পরবর্তীতে আরও টাকা দাবি করলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বনানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে হানি ট্র্যাপ-সংক্রান্ত বিভিন্ন আলামত ও তথ্য-প্রমাণ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিরা একজন চাকরিজীবীর কাছ থেকেও বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
২১ দিন আগে
ভিসির অপসারণ দাবিতে পবিপ্রবিতে টানা তৃতীয় দিন চলছে অবস্থান কর্মসূচি
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের সদস্যরা।
একইসঙ্গে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় জড়িত বহিরাগতদের বিচারের দাবিও জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারেক হাওলাদার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলাম ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেছেন। ক্যাম্পাসের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বহিরাগতরা হামলা চালিয়ে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের আহত করেছে।
আন্দোলনকারীরা বলেন, তিনদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অভিভাবকহীন অবস্থায় রয়েছে। উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও ট্রেজারার কেউই ক্যাম্পাসে আসছেন না।
তারা অবিলম্বে উপাচার্যের পদত্যাগ এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তারা।
২৩ দিন আগে
পবিপ্রবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনকারীরা।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর থেকে সব অনুষদের ক্লাস, পরীক্ষাসহ প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে ক্যাম্পাসে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন তারা।
এদিকে, শিক্ষক ও কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় দুমকি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবিব ও সুলতান সাওকাত হোসেনকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। একই ঘটনায় আগে থেকেই বহিষ্কৃত দুমকি উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব রিপন শরীফসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে, সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন। এরপর আজ মঙ্গলবার থেকে হামলার বিচার এবং উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনে নামে ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ড. মো. সাইফুল ইসলাম, প্রক্টর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার ড. আমিনুল ইসলামসহ অন্যরা।
এ ব্যাপারে মতামত জানতে চাইলে ঢাকায় অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘এ আন্দোলনের আদৌ কোনো যৌক্তিকতা নেই। অবৈধ ও বেআইনি আবদারকে কেন্দ্র করে কতিপয় কর্মকর্তা ও শিক্ষক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন।’
এর আগে, সোমবার উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার অপসারণ দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবস্থান ধর্মঘট চলাকালে বহিরাগত দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। এতে প্রক্টর, শিক্ষক ও কর্মকর্তাসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
ওই হামলার ঘটনার পর আন্দোলনকারীরা ক্যাম্পাসে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করেন।
২৪ দিন আগে
এসএসসির খাতায় উত্তর লিখে দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত, পটুয়াখালীতে দুই শিক্ষককে অব্যাহতি
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চলমান এসএসসি পরীক্ষায় অর্থের বিনিময়ে কথিত ‘সিক বেডে’ এক পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষার সুযোগ করে দেওয়া এবং প্রকাশ্যে গণিত পরীক্ষার খাতায় উত্তরপত্র লিখে সরবরাহ করার ঘটনায় খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকদের প্রাথমিকভাবে পরীক্ষার সকল দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদনসহ চিঠি পাঠানো হয়েছে।
গত ৩ মে গণিত পরীক্ষার দিন অসাদুপায় অবলম্বনের দায়ে খেপুপাড়া মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ভিজিলেন্স টিম বহিষ্কার করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তদন্তে বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক জহিরুল ইসলাম (সমাজবিজ্ঞান) ও মেজবা উদ্দিন ওই শিক্ষার্থীকে অঙ্কের সমাধান সংবলিত পরীক্ষার বোর্ডের আলাদা বাড়তি খাতা সরবরাহের প্রমাণ মিলেছে।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ এ ঘটনার পরই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেককে বিষয়টির তদন্তের দায়িত্ব দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াসীন সাদেক তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, নকল সরবরাহ করা, কথিত ‘সিক বেড’ ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই শিক্ষকের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। শুধু তা-ই নয়, এই দুই শিক্ষকের যোগসাজশে বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীকে প্রশ্নের উত্তরপত্র লিখে সরবরাহ করা হয়েছিল। এমনকি সিসি ক্যামেরাবিহীন ওই কক্ষের মূল দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক শিক্ষক দেবাশীষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নকলে সরাসরি সহায়তার প্রমাণও মিলেছে।
গত ৬ মে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বহিষ্কৃত ওই পরীক্ষার্থীকে শিক্ষা বোর্ডের সরবরাহকৃত অতিরিক্ত খাতায় কয়েকটি অঙ্কের সমাধান লিখে দেওয়ার বিষয়ে সত্যতা খুঁজে পেয়েছেন। শিক্ষার্থীর খাতার হাতের লেখার সঙ্গে অতিরিক্ত খাতার হাতের লেখার মিল নেই। মূল খাতার অর্ধেকের বেশি খালি থাকা সত্ত্বেও কক্ষ পরিদর্শকের সই ও তারিখবিহীন গণিতের সমাধান করা বোর্ডের সরবরাহকৃত অতিরিক্ত খাতা পাওয়া যায়।
তদন্ত কর্মকর্তা পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা অভিযুক্ত শিক্ষক মেজবা উদ্দিনের হাতের লেখার নমুনা পরীক্ষাও করেন। এরপর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর কাছে পাওয়া অতিরিক্ত খাতার লেখার সঙ্গে মেজবা উদ্দিনের হাতের লেখার বহু অক্ষরের মিল পাওয়া গেছে। তারপরও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ—সিআইডির মাধ্যমে তা নিশ্চিত হওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর বাবা তদন্ত কর্মকর্তাকে জানান, তার সন্তানের অসুস্থতার খবর তার জানা ছিল না।
কক্ষপরিদর্শক দেবাশীষ চন্দ্র সিকদার তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন, পরীক্ষা চলাকালীন (ঘটনার দিন) শিক্ষক জহিরুল ইসলাম ৯ নম্বর কক্ষে (সিসি ক্যামেরাবিহীন) বহু নির্বাচনি প্রশ্নপত্রের পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন। কিছুক্ষণ পরেই সহকারী শিক্ষক মেজবা উদ্দিন ওই কক্ষে প্রবেশ করে পরীক্ষার্থীর সৃজনশীল প্রশ্নের ছবি তুলে নেন। এক ঘণ্টা পরে বোর্ডের সরবরাহকৃত অতিরিক্ত উত্তরপত্রে প্রশ্নের সমাধান করে ওই পরীক্ষার্থীকে তা সরবরাহ করেন। কক্ষ পরিদর্শক দেবাশীষ মেজবা উদ্দিনকে বাধা দিলে তিনি ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাকে নিবৃত থাকতে বাধ্য করেন। এরপর কেন্দ্র সহকারী জহিরুল ইসলাম দাঁড়িয়ে থেকে ওই পরীক্ষার্থীকে নকলে সহায়তা করেন। এমনকি মেডিকেল সনদ ছাড়া সভাপতি কিংবা কেন্দ্রের পরামর্শ ছাড়া ‘সিক বেডে’ ক্যামেরাবিহীন কক্ষে পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে কেন্দ্র সচিব মুহাম্মদ মহসিন রেজাকে অভিযুক্ত শিক্ষক মেজবা উদ্দিন ও জহিরুল ইসলাম চাপ প্রয়োগ করেন বলেও উল্লেখ করেছেন দেবাশীষ।
এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিব জানান, তিনি এই প্রথমবার এসএসসি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন। মেডিকেল সনদ ব্যতীত বোর্ডের পরামর্শ ছাড়া ‘সিক বেডের’ কক্ষে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত ওই দুই শিক্ষক তাকে চাপ প্রয়োগ করেন। বিষয়টি পূর্বপরিকল্পিত এবং ওই দুই শিক্ষকের এ বিষয়ে আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলেও তিনি তদন্ত টিমকে জানিয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াসীন সাদেক তার মতামতে উল্লেখ করেছেন, কেন্দ্র সহকারী কম্পিউটার অপারেটর জহিরুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক মেজবা উদ্দিন বহিষ্কৃত ওই পরীক্ষার্থীকে পরিকল্পিতভাবে কেন্দ্র সচিব ও কক্ষ পরিদর্শককে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সিসি ক্যামেরাবিহীন কক্ষে মেডিকেল প্রত্যয়ন ব্যতীত ‘সিক বেডে গণিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং বোর্ডের সরবরাহ করা অতিরিক্ত উত্তরপত্রে নকল সরবরাহ করায় একই সঙ্গে অসাদাচারণ ও ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। ঘটনাটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধানমালা-২০২৪-এর প্রবিধান-৫২ (২) (জ), ৫২ (২) (ঝ)-এর দণ্ড ও প্রবিধান ৫২-এর অপরাধযোগ্য দণ্ড ও দি পাবলিক এক্সামিনেশন অ্যাক্ট ১৯৮০-এর ৮ ও ৯ ধারা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন তিনি।
এই প্রতিবেদনের আলোকে উপরোক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহাপরিচালক, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, উপপরিচালক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে গত বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদনসহ চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয় অভিযুক্ত শিক্ষক মেজবা উদ্দিন বলেন, ‘মূলত কেন্দ্র সচিব ও কক্ষ পরিদর্শক তাদের অপরাধ আমাদের ওপর চাপাচ্ছেন। আমাদের ওপর আনীত অভিযোগ কিংবা দায় সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা। কারণ কেন্দ্র সচিব ও কক্ষ পরিদর্শকের অনুমতি ছাড়া অন্য কারও কক্ষে প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ বলেন, জড়িত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার কার্যক্রম থেকে তাদের অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডকে পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে প্রতিবেদন আকারে প্রদান করা হয়েছে। সরকারের নকলমুক্ত পরিবেশকে তারা সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করতে এমন অপকর্ম করেছেন বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেছেন।
২৬ দিন আগে
বরিশালে বাসচাপায় দাদি-নাতনি নিহত
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলায় হানিফ পরিবহনের চাপায় পথচারী দাদি ও নাতনি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে উপজেলার পশ্চিম জয়শ্রী কাজী বাড়ীর সামনে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসীন হোসেন।
নিহতরা হলেন— ওই গ্রামের মৃত পান্নু কাজীর স্ত্রী রোকসানা ইয়াসমিন (৬৫) ও নিহতের ছেলে রুবেল কাজীর ৭ বছরের মেয়ে আরফা।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি আরও জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুর্ঘটনাস্থল দিয়ে রোকসানা ও তার নাতনি মহাসড়ক পারাপার হওয়ার সময় বেপরোয়া গতিতে যাওয়া হানিফ পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা দুইজন নিহত হন।
ওসি মো. মহসীন হোসেন জানান, খবর পেয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি হানিফ পরিবহনের ওই বাসটি আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
৩০ দিন আগে
সেশন ফি কমানোর দাবিতে বিএম কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
শিক্ষার্থীদের সেশন ফি ও অনান্য ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাসহ ১০ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছে সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর ১২টার দিকে বিএম কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট থেকে এই বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি কলেজ ক্যাস্পাস ও শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষার্থীদের ওপর প্রতি বছর অতিরিক্ত সেশন চার্জ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অযৌক্তিক খাত দেখিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ টাকা নিচ্ছে। যেসব খাতে টাকা নেওয়া হচ্ছে, তার কোনো সেবা বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন না। দাবি মানা না হলে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
তবে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ ড. শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের কিছু দাবি সল্প সময়ের, আবার কিছু দীর্ঘ সময়ের। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
৩০ দিন আগে
ভোলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র ও গাঁজাসহ আসামি আটক
ভোলার সদর উপজেলার ইলিশা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও গাঁজাসহ মো. জাকির হোসেন (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড।
আটক মো. জাকির হোসেন কোরালিয়া খায়েরহাট এলাকার বাসিন্দা।
মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে ভোলা দক্ষিণ জোন কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, জাকির হোসেন একাধিক মামলার আসামি। তিনি ঢাকা থেকে কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চে করে আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক নিয়ে ভোলায় আসছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল (সোমবার) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কোস্ট গার্ড বেস ভোলা ইলিশা তুলাতুলি মোহনা-সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় লঞ্চে তল্লাশি চালিয়ে একটি একনলা বন্দুক, ৪ রাউন্ড গুলি এবং আনুমানিক ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ২ কেজি গাঁজাসহ জাকির হোসেনকে আটক করা হয়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছেন।
সাব্বির আলম বলেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তার কাছ থেকে পাওয়া অবৈধ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।
৩১ দিন আগে
কলাপাড়ায় পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মেহেরুন্নেছা উর্মি (২৮) নামের এক নারী পুলিশ কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২ মে) ভোরে টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামের একটি ভাড়া বাসার তিন তলার কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত উর্মি বাউফল উপজেলার ইন্দ্রপুর গ্রামের বহিষ্কৃত পুলিশ সদস্য মহিববুর রহমান বাপ্পীর স্ত্রী ছিলেন। তিনি পার্শ্ববর্তী আমতলী পৌর শহরের শাহজাহান মিয়ার কন্যা এবং কলাপাড়া থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে স্বামী বাপ্পী, দেড় বছরের সন্তান ফারদিন ও চার বছরের সন্তান ফারিস্তাকে নিয়ে আমিরুল ইসলামের পাঁচতলা ভবনের তিন তলার বাসাটি ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন উর্মি। পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো।
গতকাল (১ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বাপ্পী থানায় খবর দিয়ে জানান, তার স্ত্রী ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পরে পুলিশ ভোরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, মানসিক সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য ওই পুলিশ সদস্যের স্বামী ও দুই সন্তানকে থানায় আনা হয়েছে। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
৩৪ দিন আগে
অচলাবস্থা কাটাতে ববি শিক্ষকদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকদের পদোন্নতি আন্দোলনে সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরার বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষকরা সোমবারের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের সভাপতিত্বে তার বাসভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা এবং আন্দোলনরত শিক্ষক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিরসনে শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। তবে এখনই পাঠদানে ফিরছেন না শিক্ষকরা, তারা নিজেদের মধ্যে সভা করে সোমবারের মধ্যে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
গত ২১ এপ্রিল থেকে চলমান এ আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস, ক্লাস টেস্ট, মিডটার্ম পরীক্ষা ও পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
বৈঠকে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, রেঞ্জ ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ইসরাত জাহান লিজা, কলা অনুষদের ডিন ড. আব্দুল বাতেন, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাফিজ আশরাফুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ আলোচনার পর উপাচার্য ও বিভাগীয় কমিশনার সাংবাদিকদের জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় সচল করার বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের পদোন্নতি-সংক্রান্ত দাবিগুলো নিয়ম অনুযায়ী পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, উপাচার্য ও বিভাগীয় আমাদের বলেছেন, আপনারা আইন অনুযায়ী সব কিছু পাবেন। তারা আমাদের শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এখন যেহেতু পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত আমরা শিক্ষকরা মিলে নিয়েছিলাম, তাই আবার সকল শিক্ষকের সঙ্গে রবি বা সোমবারের মধ্যে বসে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব।
ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল বলেন, চলমান বিষয় নিয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) বিভাগীয় কমিশনার ও ভিসির সঙ্গে ডিনদের মিটিং ছিল। সেখানে ছয় অনুষদের ছয়জন ডিনের মধ্যে পাঁচজন ডিন উপস্থিত ছিলেন। উপাচার্য ও বিভাগীয় কমিশনার আমাদের দাবির কিছু বিষয়ে আমাদের সঙ্গে একমত পোষণ করছেন। তারা বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষকদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরবর্তীতে যত দ্রুত সম্ভব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও বোর্ড বসানো হবে। এ ছাড়াও তারা আমাদের ক্লাস এবং পরীক্ষা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ তৌফিক আলম বলেন, আজ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি ডিনদের সঙ্গে একটা ত্রিপক্ষীয় মিটিং হয়েছে। মিটিংয়ে আমরা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সিন্ধান্ত নিয়েছি, ক্লাস পরীক্ষা যেগুলো বন্ধ রয়েছে, সেগুলো একাডেমিক কার্যক্রম শিক্ষকরা খুব দ্রুতই চালু করবে। একইসঙ্গে তাদের যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলোর সমাধানের জন্য আগামী সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। খুব শিগগিরই একটা সিন্ডিকেট সভা ডাকা হবে। সিন্ডিকেটে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে, ১০২ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২১ এপ্রিল থেকে কর্মবিরতিতে নামেন শিক্ষকরা। ববিতে ২১০ জন শিক্ষক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬০ জন শিক্ষকের সকল যোগ্যতা অর্জনের পরও বছরের পর বছর পদোন্নতি আটকে আছে বলে অভিযোগ তোলেন আন্দোলনরতরা।
শিক্ষকদের অভিযোগ, বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব পাওয়ার পর গত বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে পদোন্নতি বোর্ড গঠন করেন। এরপর দুটি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হলেও উপাচার্য সেখানে নিয়োগ বোর্ড অনুমোদনের প্রস্তাব উত্থাপন করেননি। সর্বশেষ ৩১ মার্চ সিন্ডিকেট সভা হলেও এই সংকটের কোনো সমাধান হয়নি। তাই তারা কর্মবিরতিতে নেমেছেন।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০১৫ সালের বিধিমালা অনুযায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল । কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) চিঠি দিয়ে সেই কার্যক্রম আটকে দিয়েছে। ইউজিসির চিঠিতে বলা হয়, শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে ২০২১ সালের অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।
দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এ নীতিমালার আওতায় এলেও ববিসহ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় এখনও তা কার্যকর হয়নি। এখন থেকে নীতিমালা তৈরি শেষে ববির সিন্ডিকেটে পাস করতে হবে। তারপর দ্রুত অনুমোদনের জন্য ইউজিসিতে পাঠানো হবে। ইউজিসির অনুমোদন শেষে শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হবে।
৩৫ দিন আগে