বৈদেশিক-সম্পর্ক
ড. ইউনূসকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে নববর্ষ-২০২৫ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
অধ্যাপক ইউনূসকে লেখা এক চিঠিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘নতুন বছরের শুভেচ্ছা।’
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) কূটনৈতিক চ্যানেলে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার উপ প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
৪০৩ দিন আগে
কঙ্গোতে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা নিরাপদে আছেন: আইএসপিআর
ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে কাজ করা বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী মিশনের সদস্যরা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর(আইএসপিআর)।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর বলছে, ‘ডি আর কঙ্গোতে চলমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি সব শান্তিরক্ষী নিরাপদ রয়েছেন এবং তাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।’
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর বলছে, সোমবার কঙ্গোর সবচেয়ে বড় শহর গোমা দখলের দাবি করেছে রুয়ান্ডাভিত্তিক বিদ্রোহীরা। কঙ্গো সরকার বলছে, বিদ্রোহীদের এই অগ্রযাত্রা হচ্ছে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের সামরিক প্রতিনিধি দল পাকিস্তান সফর করেছে: আইএসপিআর
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই সাহায্যকর্মী বলেন, এরআগে কঙ্গোলিজ সামরিক বাহিনীকে অস্ত্র সমর্পণের জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিল এম২৩ নামের বিদ্রোহীরা। কিন্তু সোমবার সকালে শহরজুড়ে গোলাগুলির আওয়াজ শোনা যায়।
এক বিবৃতিতে গোমার বাসিন্দাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্রোহীরা। শহরের কেন্দ্রীয় স্টেডিয়ামে কঙ্গোর সামারিক বাহিনীর সদস্যদের জড়ো করছেন তারা।
আফ্রিকার অন্যতম দীর্ঘ যুদ্ধে নাটকীয়ভাবে কঙ্গোর খনিজ-সমৃদ্ধ অঞ্চলে হামলা চালিয়ে বসেছে এম২৩ বিদ্রোহীরা। এতে সেখানকার নিরাপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে।
উত্তর কিভু প্রদেশে গোমা শহরটির অবস্থান। এই প্রদেশের এক তৃতীয়াংশ নাগরিক এরইমধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস বলেন, গেল ৪৮ ঘণ্টায় দক্ষিণ আফ্রিকার দুই শান্তিরক্ষী এবং উরুগুয়ের একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও এগারো জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
রুয়ানার প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহায়তায় কঙ্গোতে হামলা চালিয়েছেন এম২৩ বিদ্রোহীরা। এ ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। সব ধরনের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে বিদ্রোহীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: আনন্দবাজারে প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদ জানিয়েছে আইএসপিআর
৪০৩ দিন আগে
‘নিষেধাজ্ঞা’ সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের প্রতি সহায়তা অব্যাহত রাখায় ট্রাম্পকে ড. ইউনূসের ধন্যবাদ
দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর নির্বাহী আদেশে ৯০ দিনের জন্য বিশ্বের সব দেশে মার্কিন সহায়তা স্থগিত করলেও ইউএসএইডের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
রবিবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান আজ (রবিবার) মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ইউএসএইডের পুষ্টি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকার বিষয়টি সেখানে উঠে আসে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয়দের জন্য পুষ্টি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা—ইউএসএইড। খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা প্রদানে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে থাকে এই সংস্থটি।
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৪০ কোটি ডলার দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার, যার মধ্যে বাংলাদেশই পেয়েছে প্রায় ২০০ কোটি ডলার।
আরও পড়ুন: পরিবেশগত সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক
এর আগে, সব দেশকে দেওয়া মার্কিন সহায়তা স্থগিত করে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য ৯০ দিন সময় দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন, তবে ঠিক কোন কোন দেশ এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছে না—সে বিষয়ে কিছু স্পষ্ট করা হয়নি।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সেখানে কোনো দেশ নির্দিষ্ট করা হয়নি।’
তবে মার্কিন প্রশাসনের ওই আদেশ জারির পর বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যম শুধু ‘বাংলাদেশ’ শব্দটি ব্যবহার করে সংবাদ প্রকাশ করেছে, যা পাঠককে বিভ্রান্ত করতে পারে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
বিভ্রান্তি এড়াতে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশে গণমাধ্যমের কাছ থেকে সরকার আরও স্পষ্টতা প্রত্যাশা করে বলে জানানো হয়েছে।
গত ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত ওই আদেশে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা সমস্ত বিভাগ ও সংস্থার প্রধানরা এই আদেশ প্রাপ্তির ৯০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচিগুলো পর্যালোচনার জন্য অন্যান্য দেশ ও বাস্তবায়নকারী বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং ঠিকাদারদের নতুন করে উন্নয়ন সহায়তা তহবিল বিতরণ স্থগিত রাখবে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানাল বাংলাদেশ
প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের পর বিশ্বব্যাপী সব বাস্তবায়নকারী অংশীদারদের ‘তাৎক্ষণিক সহায়তা কার্যক্রম বন্ধের আদেশ’ জারি করে ইউএসএইড।
বাংলাদেশেও ওই আদেশ পৌঁছেছে বলে ইউএনবিকে জানিয়েছেন ইউএসএইডের কার্যক্রম বাস্তবায়নকারী সংস্থা কেয়ার বাংলাদেশের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে সংস্থাটির কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর টনি মাইকেল গোমেজ বলেন, ‘গত ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প শপথ নেওয়ার পরপরই আমরা এ ধরনের একটি চিঠি পাই।’
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনা ও বাজেট অফিস (ওএমবি) বণ্টন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর করবে। ওএমবি পরিচালকের সঙ্গে পরামর্শক্রমে ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মতিতে প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে প্রতিটি বৈদেশিক সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত, সংশোধন কিংবা বন্ধ করা হবে কিনা—সে বিষয়ে আদেশের ৯০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন মার্কিন সরকারের দায়িত্বশীল বিভাগ ও সংস্থার প্রধানরা।
তবে পর্যালোচনা শেষ হওয়া সাপেক্ষে ৯০ দিনের সময়কাল শেষ হওয়ার আগেও বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের নতুন বাধ্যবাধকতা ও বিতরণ কার্যক্রম শুরু হতে পারে। সেক্ষেত্রে এই কার্যক্রম একইভাবে চলবে, নাকি সংশোধিত আকারে চালিয়ে যাওয়া হবে—মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মনোনীত ব্যক্তি ও ওএমবি পরিচালকের সঙ্গে পরামর্শক্রমে তা নির্ধারণ করা হবে। পরবর্তীতে নতুন কোনো সহায়তা তহবিলের ক্ষেত্রেও এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।
অবশ্য নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই স্থগিতাদেশ রদও করার ক্ষমতা রাখে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই ক্ষমতাবলে সহায়তা কর্মকাণ্ড স্থগিতের আদেশ থেকে অব্যাহতি পেয়েছে ইসরায়েল ও মিসর।
৪০৪ দিন আগে
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও স্বার্থে এগিয়ে যাবে: প্রণয় ভার্মা
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, ‘তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অংশীদারিত্ব অবশ্যই উভয় পক্ষের সাধারণ মানুষকে উপকৃত করবে এবং তাদের সম্পর্ক সবসময় জনকেন্দ্রিক।’
তিনি বলেন, 'আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, আমাদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংযোগের বাস্তবতা এবং আমাদের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও সুবিধার যৌক্তিকতাই আমাদের সম্পর্ককে এগিয়ে নেবে।’
ভারতের ৭৬তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন উপলক্ষে শনিবার(২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, তারা একটি 'গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক' বাংলাদেশকে সমর্থন করেছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন।
তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে একটি স্থিতিশীল, ইতিবাচক, গঠনমূলক, দূরদর্শী এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্কের সন্ধান অব্যাহত রাখবে, যেখানে জনগণই হবে প্রধান অংশীজন।
আরও পড়ুন: অবাধ-অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে বদ্ধপরিকর সরকার: ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ
৪০৪ দিন আগে
জাতীয় বন্দর ব্যবস্থাপনা কৌশল প্রণয়নে জাইকার সহযোগিতা চাইলেন উপদেষ্টা
জাতীয় বন্দর ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্র প্রণয়নে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) কাছে কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
রবিবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে জাইকার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এই আহ্বান জানান তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ‘জাপান বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, জ্বালানি পরিবহন ও অবকাঠামো খাতে জাইকা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। জাইকার সার্বিক সহযোগিতায় মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত রিয়াজের বাড়িতে উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেন
‘এছাড়াও সমুদ্র বন্দর ব্যবস্থাপনায় জাপানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। দেশের মেরিটাইম সেক্টরে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বর্তমান সরকার ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল পোর্ট স্ট্র্যাটেজি’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এই বন্দর কৌশল প্রণয়নে জাইকাকে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা করার আহ্বান জানাচ্ছে সরকার,’ বলেন তিনি।
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘এই কৌশলপত্রের মাধ্যমে একটি সমন্বিত, শক্তিশালী ও যুগোপযোগী বন্দর কাঠামো গড়ে তোলা হবে। বন্দরকেন্দ্রিক সব সেবা একটি প্ল্যাটফর্মে আনতে মেরিটাইম সিঙ্গেল উইন্ডো চালু করা হবে।’
‘দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে গত পঞ্চাশ বছরের বেশি সময়ে বাংলাদেশে কোনো সমন্বিত বন্দর ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়নি। প্রতিটি বন্দর আলাদাভাবে তাদের কার্যক্রম ও উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে। বাংলাদেশে এখন আধুনিক ও সমন্বিতভাবে কার্যকর বন্দর ব্যবস্থাপনা সময়ের দাবি। বিশ্বের বিখ্যাত বন্দরগুলো অটোমেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এতে সেখানে বেশি বেশি বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে।’
বাংলাদেশে জাইকার প্রধান প্রতিনিধি ইচিঘুচি তোমাহিদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ সময়ে সেখানে ছিলেন।
আরও পড়ুন: ভারত ভিসা না দেওয়ায় ভারতের ব্যবসায়ীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন: সাখাওয়াত হোসেন
৪০৪ দিন আগে
অবাধ-অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে বদ্ধপরিকর সরকার: ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ
পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বহুত্ববাদী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করছে।
তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার।’
ভারতের ৭৬তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, বিগত বছরগুলোতে দু'দেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে আসছে। বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, উদ্বেগ ও অগ্রাধিকারের ওপর ভিত্তি করে সম্পর্ক জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরসহ রাজনৈতিক নেতা, উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, ব্যবসায়ী নেতা, সম্পাদক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সেলিব্রেটিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ, নিজের স্বার্থ দেখবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, তারা পারস্পরিক সম্পর্ককে এমন একটি জনকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ— যেখানে উভয় দেশের জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত হবে।
তিনি বলেন, 'আমি মনে করি, সদিচ্ছা, পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।’
দুই দেশের শুরুতে দুই দেশের জাতীয় সংগীতের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন বলেন, এটি বিশ্বে অনন্য যে দুটি জাতীয় সংগীতই একই কবি নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা, যা সম্পর্ককে সংজ্ঞায়িত করে।
সারা জীবন শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে কাজ করা এই উপদেষ্টা বলেন, ৭৬ তাকে নিজের বয়সের কথা মনে করিয়ে দেয়। 'আমার বয়স স্বাধীন ভারতের সমান'
তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বহুমুখী এবং আমাদের অভিন্ন ইতিহাস, ভৌগোলিক নৈকট্য, সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং মানুষে-মানুষে সংযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত।
উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের জনগণ ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বাংলাদেশের জনগণ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।
আরও পড়ুন: সীমান্ত ইস্যু একদিনে সমাধান সম্ভব নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা, যাতে অভিন্ন সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী ভারত উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'বাংলাদেশ আশা করে এই সম্পর্ক ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে হবে।’
জনকেন্দ্রিক সম্পর্কের প্রশ্নে উপদেষ্টা ওয়াহিদুদ্দিন তার কিছু ব্যক্তিগত মন্তব্য তুলে ধরেন এবং বলেন,তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু কয়েকজন ভারতীয় শিক্ষাবিদ রয়েছেন— তারা ভারতে থাকেন বা বিদেশে থাকেন।
তিনি বলেন, তারা অনেক গবেষণা নেটওয়ার্ক এবং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহযোগিতা করে এবং ধারণাগুলো বিনিময় করে।
উপদেষ্টা বলেন, 'আমি আস্থার সঙ্গে বলতে পারি যে, ভারত ও বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের অনেকের এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আমাদের দুই দেশের পারস্পরিক শুভেচ্ছা ও বোঝাপড়ায় অবদান রাখবে।’
ওয়াহিদউদ্দিন ভারতের সরকার ও জনগণকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক চিরকাল অটুট থাকার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন উপদেষ্টা।
আরও পড়ুন: ‘বাতিঘর, নায়ক-স্থিতিশীলতার বিস্ময়কর প্রতিচ্ছবি’ হিসেবে অভিহিত ড. ইউনূস
৪০৪ দিন আগে
‘বাতিঘর, নায়ক-স্থিতিশীলতার বিস্ময়কর প্রতিচ্ছবি’ হিসেবে অভিহিত ড. ইউনূস
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘আলোকবর্তিকা, বীর ও স্থিতিশীলতার বিস্ময়কর প্রতিচ্ছবি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের সভায় যোগদান পর্ব শেষে প্রধান উপদেষ্টা শুক্রবার(২৪ জানুয়ারি) রাতে ঢাকার উদ্দেশে দাভোস ত্যাগ করেছেন।
শফিকুল আলম বলেন, ‘একটি বিষয় স্পষ্ট ছিল, হাসিনার পতনের পরপরই ছাত্ররা সবচেয়ে বড় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল- তা ছিল অধ্যাপক ইউনূসকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হতে রাজি করানো। আর এটাই সব পার্থক্য তৈরি করে দিয়েছে।’
শুক্রবার বিকালে দাভোস সভা শেষ হলে বেশিরভাগ বিশ্বনেতা এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের নেতারা নিজ নিজ দেশে ফিরে যান।
বাংলাদেশের ডাভোস মিশন একটি উচ্চ মর্যাদায় সমাপ্ত হয়েছে উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ও তার ছোট ডাভোস প্রতিনিধি দল 'মাথা উঁচু করে' দেশে ফিরছেন।
অধ্যাপক ইউনূস রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে ৪৭টি বৈঠক করেছেন।
আলম বলেন, শীর্ষ ইউরোপীয় নেতারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং এর সংস্কার কর্মসূচিকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করছেন।
প্রেস সচিব বলেন, বিপ্লব পরবর্তী মাসগুলোতে দেশের সম্ভাবনা ও স্থিতিশীলতা সম্পর্কে শীর্ষ বেসরকারি কোম্পানিগুলো আশ্বস্ত এবং সর্বশেষ অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান দেখে তারা মুগ্ধ।
অধ্যাপক ইউনূসের সাক্ষাৎকার নিতে বিশ্বের সেরা কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের শীর্ষ সাংবাদিকরা ধারাবাহিক চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, 'ভারতীয় গণমাধ্যম আউটলেটগুলোর অপপ্রচার নিয়ে কেউ মাথা ঘামাচ্ছে বলে মনে হয় না। ভারতীয় মিডিয়া তাদের রাজনৈতিক প্রভুদের জন্য যে নোংরা কাজ করে সে সম্পর্কে তারা (দেশের মানুষ) খুব সচেতন ‘
আলম বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের টিউলিপ সিদ্দিক কাহিনী শেখ হাসিনার 'বিশাল ডাকাতি'র গল্পে কিছু অতিরিক্ত স্তর যুক্ত করেছে। শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনের সময় কী ধরনের লুণ্ঠন ও লুটপাট হয়েছে, তা পশ্চিমা গণমাধ্যম এখন জানে।’
অধ্যাপক ইউনূস তথ্য জালিয়াতি নিয়েও কথা বলেন এবং 'একনায়কতন্ত্রের' সময় বিশ্বকে অন্ধ থাকার জন্য দোষারোপ করেন।
শনিবার সন্ধ্যায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে প্রধান উপদেষ্টার ঢাকায় অবতরণের কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশকে সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করল সুইজারল্যান্ড
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উপসচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার শুক্রবার সন্ধ্যায় ইউএনবিকে জানান, ড. ইউনূস ২১ জানুয়ারি ডাভোসে পৌঁছে সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে চারটি বৈঠক, মন্ত্রী পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে চারটি বৈঠক করেছেন এবং জাতিসংঘ বা অনুরূপ সংস্থার প্রধান/শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে ১০টি বৈঠক করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা সিইও/উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ১০টি বৈঠক করেন, ডব্লিউইএফ আয়োজিত ৯টি প্রোগ্রাম এবং চারটি আনুষ্ঠানিক নৈশভোজ ও মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ড. ইউনূস ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভার ফাঁকে আরও দুটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি ৮টি গণমাধ্যমের অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
সুইজারল্যান্ডের স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে জেনেভায় জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম জুরিখ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানান।
ড. ইউনূসের সঙ্গে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক (সিনিয়র সচিব) লামিয়া মোরশেদ, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সচিব (পশ্চিম) এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ প্রমুখ।
দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সভায় মূল বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ব নেতাদের একত্রিত করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় সাড়া দেওয়া, জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে প্রবৃদ্ধিকে উদ্দীপিত করা এবং ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জ্বালানি রূপান্তর পরিচালনা করা।
'কলাবোরেশন ফর দ্য ইন্টেলিজেন্ট এজ' প্রতিপাদ্যে এই বছরের সভাটি আহ্বান করা হয়েছে এবং প্রোগ্রামটি পাঁচটি ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র। তবে অত্যন্ত আন্তঃসংযুক্ত ধারণাগত অগ্রাধিকারের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
১৩০টিরও বেশি দেশের প্রায় তিন হাজার নেতা এবং সব গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের ৬০টি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ ৩৫০ জন সরকারি নেতা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
আরও পড়ুন: মাতারবাড়িকে আঞ্চলিক মেগা বন্দরে রূপান্তরে আগ্রহী সৌদি কোম্পানি
৪০৫ দিন আগে
মাতারবাড়িকে আঞ্চলিক মেগা বন্দরে রূপান্তরে আগ্রহী সৌদি কোম্পানি
বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রবন্দর মাতারবাড়ীকে এ অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ বন্দরে রূপান্তরে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি মালিকানাধীন কোম্পানি রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল।
বিশ্বমানের টার্মিনাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি মাতারবাড়ীর গভীর সমুদ্রবন্দর পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
সুইজারল্যান্ডের পার্বত্য শহর দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সভার ফাঁকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কোম্পানির নির্বাহী চেয়ারম্যান আমির এ আলীরেজা।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উপসচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ইউএনবিকে বলেন, প্রধান উপদেষ্টা কোম্পানিটিকে বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের এবং দেশে আরও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলকে এ অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য রপ্তানি ও শিপিং হাব হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে আরও বন্দর গড়ে তুলবে।
আলীরেজা বলেন, পতেঙ্গা টার্মিনাল পরিচালনাকারী রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।
তিনি বলেন, কোম্পানিটি সম্প্রতি চীন থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ক্রেন এবং অন্যান্য সরঞ্জাম আমদানির আদেশ দিয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের সরঞ্জামের কার্যাদেশ দেবে।
তিনি আরও বলেন, ‘এগুলো হাইব্রিড সরঞ্জাম, যার অর্থ হলো তারা বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি উভয়েই চলতে পারে ও কার্বন নিঃসরণ কমাবে।’
মাতারবাড়ীকে গভীর সমুদ্র বন্দরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হিসেবে বর্ণনা করে আলীরেজা বলেন, তার কোম্পানি এ বন্দরে বিনিয়োগ এবং এটিকে এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান শিপিং হাবে পরিণত করতে আগ্রহী।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের বন্দরের দক্ষতা দেশে বিপুল বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে, কারণ অনেক শীর্ষ নির্মাতারা তাদের কারখানা দেশে স্থানান্তর করতে আগ্রহী হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং জেনেভায় জাতিসংঘে ঢাকার স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক আরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: দাভোসে দ্বিতীয় দিনে ১৪ বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা
৪০৫ দিন আগে
বাংলাদেশকে সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করল সুইজারল্যান্ড
বাংলাদেশের ‘গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময়’ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সুইজারল্যান্ডের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল কাউন্সিলর ও সুইস ফেডারেল ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্সের (এফডিএফএ) প্রধান ইগনাজিও ক্যাসিস।
এফডিএফএ প্রধান দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সভার ফাঁকে বুধবার (২৩ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, 'আমি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে আনন্দিত এবং এই গুরুত্বপূর্ণ ক্রান্তিকালে বাংলাদেশকে সুইজারল্যান্ডের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছি।’
ক্যাসিস বলেন, সুইজারল্যান্ড এ অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ক্যাসিস ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে তার উপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির প্রশাসক আচিম স্টেইনারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ২০২৫ সভায় ক্যাসিস ইউরোপীয় নীতি এবং ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
সুইজারল্যান্ড যখন ২০২৬ সালে ওএসসিইর সভাপতিত্ব করার প্রস্তুতি নেওয়ার প্রাক্কালে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সম্পর্কিত বিষয়গুলো তুলে ধরেন তিনি।
দাভোসে অবস্থানকালে এফডিএফএর প্রধান বর্তমানে সুইস বৈদেশিক নীতির আগ্রহের মূল বিষয়গুলোতে একাধিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেছেন।
ক্যাসিসের কর্মসূচিতে ইইউ কমিশনার মারোস শেফকোভিচের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এসময় উভয়েই সুইজারল্যান্ড এবং ইইউর মধ্যে আলোচনার বাস্তব সমাপ্তিকে স্বাগত জানান।
তারা আলোচনার প্যাকেজ কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সময়সূচি এবং সংশ্লিষ্ট পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করেন।
চেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যান লিপাভস্কি এবং বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নার্ড কুইন্টিনের সঙ্গে আলোচনার সময় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ও আলোচ্যসূচিতে ছিল।
আরও পড়ুন: দাভোসে দ্বিতীয় দিনে ১৪ বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা
৪০৭ দিন আগে
জুলাই অভ্যুত্থান: জাতিসংঘ মিশনের প্রতিবেদন মধ্য-ফেব্রুয়ারিতে
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জাতিসংঘের তথ্য-অনুসন্ধানী মিশনের প্রতিবেদন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা মধ্য-ফেব্রয়ারিতে প্রকাশ করা হবে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এমন তথ্য জানিয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এমন মন্তব্য করেন। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার মধ্যে এই বৈঠক হয়েছে। পরে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এমন তথ্য জানিয়েছেন।
এ সময়ে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘের সহায়তা চেয়েছেন ড. ইউনূস। ভলকার তুর্ক বলেন, জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় থেকে প্রতিবেদনটির প্রকাশনা সামনে রেখে বাংলাদেশের সঙ্গেও এটি শেয়ার করা হবে।
আরও পড়ুন: জুলাই অভ্যুত্থানে হতাহতদের পরিবারকে সহায়তার দাবিতে মানববন্ধন
শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের সময় অপরাধের তদন্ত করায় জাতিসংয়ের মানবাধিকার কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এছাড়া ছয়টি স্বাধীন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনও একই সময়ে প্রকাশিত হবে বলে জানিয়েঝছেন তিনি।
তাদের পর্যবেক্ষণ, এসব প্রতিবেদন একটি অন্যটির পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
এ সময়ে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে সহায়তার জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধানের কাছে আহ্বান জানান ড. ইউনূস। এ ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দিয়ে তুর্ক বলেন যে তিনি এ বিষয়ে মিয়ামারে জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত জুলি বিশপসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলবেন।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবি থেকে সরকার পতন আন্দোলন এবং তার পরবর্তী সময়ে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে কাজ করেছে জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধানী মিশন। ১ জুলাই থেকে ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে তারা।
অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন, দায়দায়িত্ব চিহ্নিতকরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের মূল কারণ বিশ্লেষণের পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সুপারিশ করবে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং দল।
আরও পড়ুন: জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ১০০ জনকে কর্মসংস্থানের প্রস্তাব
৪০৭ দিন আগে