বৈদেশিক-সম্পর্ক
বাংলাদেশ-নেপাল সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করলেন রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি
বন্ধু ও ভালো প্রতিবেশী হওয়ার গুরুত্বসহ বাংলাদেশ-নেপাল সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোকপাত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি।
তিনি দুদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, সামাজিক ও আন্তঃব্যক্তিক বন্ধন, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক ফোরামে সমপৃক্ততা নিয়েও আলোচনা করেছেন।
ঢাকাতে অনুষ্ঠিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৫’-এর ‘অ্যামবাসেডরিয়াল রিফ্লেকশন’ সেগমেন্টে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রদূত। এ সময় দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, পর্যটন, যোগাযোগ ও নাগরিকদের মধ্যে যোগাযোগকে মাইলফলক অর্জন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
২০২৬ সালে একসঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে যাবে বাংলাদেশ ও নেপাল। এ জন্য দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে গুরত্বারোপ করেন তিনি।
নভেম্বরের ২২ থেকে ২৪ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৫’-এর আয়োজন করেছে সেন্টার ফর গভার্ন্যান্স স্টাডিজ।
১০৪ দিন আগে
বাংলাদেশ-ভুটানের আলোচনা, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্ব
বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে সব ধরনের সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে।
শনিবার (২২ নভেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধি পর্যায়ে আলোচনার আগে দ্বিপক্ষীয় এই আলোচনায় বসেন দুই নেতা।
এর আগে, প্রধান উপদেষ্টা তার কার্যালয়ে শেরিং তোবগেকে স্বাগত জানান।
১০৪ দিন আগে
বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে ২ সমঝোতা স্মারক সই
স্বাস্থ্য সহযোগিতা এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভুটানের দুটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
শনিবার (২২ নভেম্বর) দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সমঝোতা স্মারকদুটি সই হয়।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ বিষয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সঙ্গে সই করে ভুটানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের তরফে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান সমঝোতায় সই করেন।
আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ এবং টেলিযোগাযোগ সেবা বাণিজ্য বিষয়ে দ্বিতীয় সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশের তরফে সই করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খান।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে সই ও নথি বিনিময় প্রত্যক্ষ করেন বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
সমঝোতা স্মারক সইয়ের আগে প্রধান উপদেষ্টা এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী টোবগে একান্ত বৈঠক করেন। এরপর তাদের নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
তিন দিনের সফরে শনিবার সকাল সোয়া ৮টায় ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। তাকে বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে দুই নেতার মধ্যে সংক্ষিপ্ত বৈঠক হওয়ার পর শেরিং তোবগেকে গার্ড অব অনার দেয় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় শেরিং তোবগে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি গাছ রোপণ করেন এবং দর্শনার্থী বইয়ে সই করেন।
শেরিং তোবগে দুপুরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক করেন। সন্ধ্যায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এবং তার প্রতিনিধিদলের সম্মানে রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।
রবিবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। ওইদিন বাংলাদেশ সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলও ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারে।
সফর শেষে ২৪ নভেম্বর সকালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী থিম্পুর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানাবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
১০৪ দিন আগে
বহিরাগত বা অভ্যন্তরীণ শক্তিকে সুযোগ দেওয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই: সিএসসিকে ঢাকা
ভারত মহাসাগর অঞ্চলে ‘স্থিতিশীল, নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ’ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ। পাশাপাশি কোনো অবস্থাতেই কোনো বহিরাগত বা অভ্যন্তরীণ শক্তিকে সুযোগ দেওয়ার সামর্থ্য বাংলাদেশের নেই বলে জানিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দিল্লিতে কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের (সিএসসি) জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সপ্তম সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তৃতার সময় এ কথা বলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ কিংবা সমাজের কোনো অংশের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে চ্যালেঞ্জ জানায়—এমন কোনো বহিরাগত বা অভ্যন্তরীণ শক্তিকে সুযোগ দেওয়ার সামর্থ্য আমরা রাখি না।
‘আঞ্চলিক নিরাপত্তার জটিলতা মোকাবিলায় আমরা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্মান, অভিন্ন স্বার্থ এবং সুবিধা ভাগাভাগির নীতিতে আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করি। একটি স্থিতিশীল, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ অঞ্চল নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হাতে হাত মিলিয়ে একসঙ্গে পথ চলতে ও কাজ করতে প্রস্তুত।’
ভারত মহাসাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার এবং গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বিষয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ, ভারত ও অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে নয়াদিল্লিতে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাগতিক দেশ ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল মালদ্বীপ, মরিশাস, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের স্বাগত জানান। এ ছাড়া পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে সম্মেলনে অংশ নেয় সেশেলস এবং আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিল মালয়েশিয়া।
সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া ড. খলিলুর রহমান বলেন, কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভকে ‘উন্মুক্ত আঞ্চলিকতাবাদের’ ভিত্তিতে একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আঞ্চলিক বহুপক্ষীয় সংস্থা হিসেবে বিকশিত দেখতে চায় বাংলাদেশ।
কনক্লেভের পাঁচটি চিহ্নিত কর্মস্তম্ভকে বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং সেগুলোর মাধ্যমে সমষ্টিগত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধিতে সিএসসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে এমন মূল্যবোধ ও নীতিমালা অনুসরণ করে, যা সবার যৌথ সমৃদ্ধির জন্য একটি স্বাধীন, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভারত মহাসাগর নিশ্চিত করার দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করে। যেখানে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি, আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা—এসবকে অবশ্যই প্রধান ভিত্তি হিসেবে থাকতে হবে। টেকসই উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা এবং মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।
খলিলুর রহমান আরও বলেন, ‘আমাদের অঞ্চলের সামুদ্রিক ক্ষেত্র আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ তার দায়িত্ব পালনে অটল। জলদস্যুতা, অবৈধ মাছ ধরা, সামুদ্রিক সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধ মোকাবিলায় আমরা মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। অতীতে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের কিছু চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশও মোকাবিলা করেছে। আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতে সব প্রকার সন্ত্রাসবাদের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করি।’
সম্প্রতি বাংলাদেশ ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের (মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন) হুমকির মুখোমুখি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। বাংলাদেশের অঙ্গীকার হলো নিজস্ব সাইবার স্পেস, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও প্রযুক্তিকে সুরক্ষিত রাখা; শুধু নাগরিকদের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্যই নয়, বরং নিশ্চিত করার জন্য যে বাংলাদেশ থেকে কোনো কর্মকাণ্ড যেন আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের জন্য হুমকিস্বরূপ না হয়।
আঞ্চলিক নিরাপত্তার জটিলতা মোকাবিলায় পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্মান, অভিন্ন স্বার্থ এবং সুবিধা ভাগাভাগির নীতিতে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘একটি স্থিতিশীল, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ অঞ্চল নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হাতে হাত মিলিয়ে একসঙ্গে পথ চলতে ও কাজ করতে প্রস্তুত।’
তিনি আরও বলেন, ‘পারস্পরিক বিশ্বাস ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে যেকোনো বিষয়ে অভিন্ন সমাধান খুঁজে পেতে আমরা প্রস্তুত। বাংলাদেশ এই কনক্লেভকে একটি উন্মুক্ত আঞ্চলিকতাবাদচালিত, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আঞ্চলিক বহুপক্ষীয় সংস্থা হিসেবে গড়ে ওঠার প্রত্যাশা করে।’
এর আগে, বুধবার নয়াদিল্লিতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন ড. খলিলুর রহমান। বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, তারা সিএসসি-এর কাজ এবং গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন।
১০৬ দিন আগে
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি বাংলাদেশের
১৩ লাখ রোহিঙ্গার ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তাদের নিজ দেশে ফেরানোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটি রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গৃহীত প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি এ সংকটের টেকসই সমাধান এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরার জন্য নতুন করে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ওআইসি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন যৌথভাবে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে এবং ১০৫টি দেশ এতে সমর্থন জানায়।
২০১৭ সাল থেকে প্রতি বছর এ প্রস্তাব গৃহীত হয়ে আসছে। এ বছরের প্রস্তাবে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মানবিক সহায়তা প্রদানে বাধাদান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশসহ অন্যান্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রে জোর করে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের এই কমিটি।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য এই কমিটি আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দেয় বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
১৯ নভেম্বর প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার পর সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল। গত ৮ বছরে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরাতে দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি বলে হতাশাও ব্যক্ত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
১০৬ দিন আগে
শ্রমবাজার খুললেও মালয়েশিয়ার বেশিরভাগ শর্ত পূরণ করা সম্ভব নয়: আসিফ নজরুল
বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য ফের শ্রমবাজার খুললেও ১০টি শর্ত যুক্ত করেছে মালয়েশিয়া, যেগুলোকে অগ্রহণযোগ্য মনে করছে ঢাকা। এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, বেশিরভাগ শর্ত পূরণ করা সম্ভব নয়। এগুলো পূরণ করতে গেলে আবারও সিন্ডিকেট হবে।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) হোটেল শেরাটন ঢাকায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও’র সহযোগিতায় তৈরি ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্লাটফর্মের (ওইপি) উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অতীতে বহুবার জটিলতা এবং সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে। ২০১৮ সালে দুর্নীতির অভিযোগে একবার বন্ধ হওয়ার পর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে নতুন সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে ২০২২ সালে এটি আবার চালু হয়। কিন্তু সম্প্রতি মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশসহ অন্যান্য কর্মী প্রেরণকারী দেশ (যেমন: ভারত, নেপাল, মিয়ানমার) থেকে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।
গত অক্টোবরের শেষের দিকে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি চিঠি দিয়ে রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা যৌক্তিক করার জন্য ১০টি বাধ্যতামূলক মানদণ্ড নির্ধারণ করে। তাদের দাবি, এতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
এই শর্তগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো: কমপক্ষে ৫ বছর কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা থাকতে হবে; বিগত ৫ বছরে কমপক্ষে ৩ হাজার কর্মী পাঠানোর রেকর্ড থাকতে হবে; অন্তত ৩টি ভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা থাকতে হবে; কমপক্ষে ১০ হাজার বর্গফুটের নিজস্ব স্থায়ী অফিস থাকতে হবে; নিজস্ব প্রশিক্ষণ সুবিধা থাকতে হবে; মানবপাচার, জোরপূর্বক শ্রম, মানি লন্ডারিং বা অন্য কোনো অপরাধে সংশ্লিষ্ট না থাকার রেকর্ড থাকতে হবে।
বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের সংগঠনসহ অনেকেই এই শর্তগুলোকে ‘অযৌক্তিক, অবাস্তব ও বৈষম্যমূলক’ বলে মনে করছেন।
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা বলেন, ‘মালয়েশিয়া থেকে যে ১০টা শর্ত দিয়েছে, কয়েকটা শর্তের ব্যাপারে আমরা শক্ত আপত্তি জানিয়েছি। আমরা রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে কথা বলার পরে মালেশিয়াকে জানিয়েছি যে এসব শর্ত মিটআপ (পূরণ) করা সম্ভব না। কারণ এগুলো মিটআপ করতে গেলে এখানে আবার সিন্ডিকেট হবে। অল্প কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সি সুযোগ পাবে। এটি আমরা চাই না।’
তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়া আশ্বাস দিয়েছে যে তারা এগুলো বিবেচনা করবে। শ্রমবাজার সবসময় সবার জন্য উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা মালয়েশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক আলাপ অব্যাহত রাখব।’
১০৭ দিন আগে
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭০ বাংলাদেশি
লিবিয়ায় অনিয়মিতভাবে অবস্থানরত ও দেশে ফিরতে আগ্রহী ১৭০ জন বাংলাদেশিকে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় দেশে ফেরত আনা হয়েছে।
সমন্বয়ে মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে স্থানীয় সময় ৬টা ১০ মিনিটে বুরাক এয়ারের একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে তারা ঢাকায় পৌঁছান।
ফেরত আসা বেশিরভাগ বাংলাদেশি মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন বলে জানা যায়। তাদের অনেকেই সেখানে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকায় পৌঁছালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইওএমের কর্মকর্তারা তাদের অভ্যর্থনা জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিজেদের দুর্ভোগ ও অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধ জানান।
আইওএম তাদের প্রত্যেককে পথখরচ, খাদ্যসামগ্রী ও প্রাথমিক চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করে। লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক অবস্থায় থাকা বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে।
১০৮ দিন আগে
জাতীয় নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোলটস উপদেষ্টার অফিসকক্ষে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে শেখ হাসিনার রায়-পরবর্তী জনপ্রতিক্রিয়া, জাতীয় নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ ও এ উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি, বন্দি প্রত্যর্পণ, সাইবার ক্রাইম ও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ দুদেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, জার্মানি ও বাংলাদেশ পরীক্ষিত বন্ধু। অদূর ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
নির্বাচনের তারিখ ও সময় এবং সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, আশা করি, নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। তবে এর নির্দিষ্ট দিন ও তারিখ নির্ধারণের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন জাতীয় নির্বাচনের যে তারিখই নির্ধারণ করুক, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
শেখ হাসিনার রায় পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। ছোটখাটো দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটাতে চাইলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
অপরাধের মাত্রা সম্পর্কে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, অপরাধ বাড়ছে না। এটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে।
তিনি বলেন, মানুষ এখন স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারছে, যা বিগত ১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে করতে পারেনি।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক) খন্দকার মো. মাহাবুবুর রহমান, জার্মান দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন আনিয়া কেরস্টেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১০৮ দিন আগে
বাংলাদেশের জনগণের সামগ্রিক কল্যাণের প্রতি ভারত অঙ্গীকারবদ্ধ: নয়াদিল্লি
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছে, ভারত সেটি লক্ষ করেছে।
‘ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত বাংলাদেশের জনগণের শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি ও স্থিতিশীলতাসহ সামগ্রিক কল্যাণের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকব।’
এদিকে, আজ রায় ঘোষণার পর আরও একবার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিদের দ্বিতীয় কোনো দেশ আশ্রয় দিলে তা হবে অত্যন্ত অবন্ধুসুলভ আচরণ এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞার শামিল।
সেখানে বলা হয়, আমরা ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন অবিলম্বে দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।
দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে এটি ভারতের জন্য অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব বলেও বিজ্ঞিপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
১০৯ দিন আগে
হাসিনা ও কামালকে হস্তান্তরে ভারতকে চিঠি পাঠানো হবে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে হস্তান্তরের জন্য ভারতের কাছে চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও কামালকে ফেরত পাঠানোর চিঠি এখানে ভারতের মিশনে অথবা দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, এর আগেও আমরা চিঠি পাঠিয়েছি, কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। আজ রায় হয়ে গেছে, আমাদের তাকে (শেখ হাসিনা) ফেরত আনতে হবে।
এর আগেও বাংলাদেশের চিঠির জবাব দেয়নি ভারত। এ ছাড়া এই আইনে নানা ফাঁক রয়েছে—এই প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাংবাদিকদের তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা চিঠি দেব। আইনি ফাঁক যদি থাকে, তবে সেটা আইনবিদরা দেখবেন।
প্রচলিত আইনে ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে বাধ্য কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনি বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবেন না। আইনের মানুষরা এটি নিয়ে বলতে পারবেন।
ভারত যদি শেখ হাসিনাকে ফেরত না দেয়, তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আমি অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কোনো মন্তব্য করব না।
সোমবার দুপুরে বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জুলাই গণহত্যার মামলার রায় ঘোষণা করেন।
এই ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এই মামলার অন্য আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তিন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক।
এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন নিজের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি জবানবন্দিতে বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে সরাসরি ‘লেথাল উইপন’ (মারণাস্ত্র) ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বছরের ১৮ জুলাই শেখ হাসিনার ওই নির্দেশনা তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মাধ্যমে পেয়েছিলেন তিনি।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে নিরীহ, নিরস্ত্র দেড় হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা এবং ৩০ হাজার মানুষকে আহত করা হয়েছিল।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই পাঁচ অভিযোগ হলো— উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান; প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ; রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা; রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত ছয়জনকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা করা।
১০৯ দিন আগে