আওয়ামী-লীগ
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ কী বেলজিয়ামে পালিয়ে গেছেন?
বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগেই সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বেলজিয়ামের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন বলে দাবি করেছে চট্টগ্রামভিত্তিক একটি গণমাধ্যম এবং একটি জাতীয় বেসরকারি টিভি চ্যানেল।
হাছান মাহমুদ দেশে ফেরার আগে ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের বেলজিয়াম শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার ভাইও বেলজিয়ামে থাকেন।
এক সময় তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হাছান মাহমুদ গত ৩১ আগস্ট চট্টগ্রামভিত্তিক দুটি গণমাধ্যম সি-প্লাস টিভি এবং চাটগা নিউজের প্রধান সম্পাদক আলমগীর অপুর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আলমগীর দাবি করেন, ৩১ আগস্ট রাত ১০টা ২৭ মিনিটে হাছান মাহমুদের একটি ফোন কল পান তিনি।
এদিকে শুক্রবার ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, হাসান এখন বেলজিয়ামে পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথাও বলছেন বলে জানায় বেসরকারি টেলিভিশনটি।
অন্যদিকে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় দিনের মাথায় গত ২ সেপ্টেম্বর হাছান মাহমুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।
গত ৬ আগস্ট ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছানকে আটক করা হয় বলে কয়েকটি টিভি চ্যানেল খবর প্রকাশ করে, তবে সেটিকে অনেকেই গুজব হিসেবেই দেখছেন।
ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাছান ঢাকা থেকে সরাসরি বেলজিয়াম যাননি। তিনি গত ২৬ আগস্ট এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে জার্মানির ডুসেলডর্ফ বিমানবন্দরে যান।
আরও পড়ুন: সাবেক এমপি বদির ক্যাশিয়ার সালাহ উদ্দিন সিলেটে গ্রেপ্তার
সেখান থেকে তাকে সড়কপথে বেলজিয়াম পৌঁছে দেন আওয়ামী লীগের জার্মান শাখার সাধারণ সম্পাদক মোবারক আলী ভূঁইয়া বকুল।
আলমগীর অপুকে উদ্বৃত করে টিভি চ্যানেলটি জানায়, '৩১ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি (হাছান) আমাকে ফোন করে। তিনি হয়তো নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং বুঝতে পেরে আমাকে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।’
টেলিফোনালাপে আলমগীর অপু বলেন, কিছু সময়ের জন্য সি-প্লাসের সম্প্রচার বন্ধ রাখার জন্য তিনি (হাসান) দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
এর আগে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও তার পরিবারের সদস্যদের হিসাব জব্দের জন্য সব ব্যাংকে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর দুর্নীতির অভিযোগে ১৮ জন সাবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীসহ ২৬ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে ঢাকার একটি আদালত।
এই ২৬ জনের মধ্যে ৯ জন সাবেক মন্ত্রী হলেন- পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, ধর্ম মন্ত্রী ফরিদুল হক খান, হাসানুল হক ইনু (তথ্য), বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এবং পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর হাছান মাহমুদের বিরুদ্ধেও বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাবেক নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান ধানমন্ডি থেকে গ্রেপ্তার
৫৪৬ দিন আগে
লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অভিযানকে স্বাগত জানালো আ. লীগ
লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের যৌথ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে এ অভিযানে নিরীহরা যেন হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
ফেসবুকে আওয়ামী লীগের ভেরিফাইড পেইজে লেখা হয়, ‘অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে যৌথ অভিযানকে আমরা স্বাগত জানাই। যেভাবে সারাদেশে নৈরাজ্য করছে অপরাধীরা, জনগণের স্বার্থেই তাদের নিবৃত্ত করা অতি প্রয়োজনীয়।’
তবে এ অভিযান চলাকালে কোনো নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা যাবে না উল্লেখ করে এ বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়ার সুপারিশ করেছে আওয়ামী লীগ।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে কমিশন গঠন
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো দলটি আরও বলেছে, ‘বাংলাদেশে শত শত থানা লুটের সঙ্গে যারা জড়িত- কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সদস্য, তাদের ভিডিও ফুটেজ, বিভিন্ন সংবাদ ইতোমধ্যে প্রকাশিত। তাদের আইনের যথাযুক্ত প্রয়োগে অবশ্যই গ্রেপ্তার করতে হবে।’
পোস্টে আরও বলা হয়, ‘কিন্তু ওই সব রাজনৈতিক দলের সদস্যরা যদি যৌথবাহিনীর সোর্স হিসেবে কাজ করে, তাহলে এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হবে। কারণ তারা প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের, এমনকি নিজ দলের প্রতিপক্ষকেও টার্গেট করবে।’
আওয়ামী লীগ বলছে, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সংশ্লিষ্টরা অবশ্যই অস্ত্রধারীদের বিষয়ে কঠোর হবেন।’
কোনো নিরপরাধ মানুষকে যেন গ্রেপ্তার না করা হয় সে বিষয়ে নজর রাখতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানায় দলটি।
পোস্টের শেষে বলা হয়, ‘আমরা চাই, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রমুক্ত বাংলাদেশ।’
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে থানা, পুলিশ লাইন, পুলিশ ফাঁড়ি ও অন্যান্য স্থান থেকে লুট হওয়া এবং থানায় জমা না হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে সরকার যৌথ অভিযান শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: উদ্ধার হয়েছে লুট হওয়া ৩৮৮০ অস্ত্র
৫৪৮ দিন আগে
গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর মামলায় আরও ৪ জন গ্রেপ্তার
গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) চারজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া র্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার সৈয়দ ফজলুর রহমান।
গ্রেপ্তাররা হলেন- গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকেরডাঙ্গা গ্রামের এজাহারভুক্ত আসামি রাকিব হোসেন (৬৩), বোয়ালিয়া গ্রামের অজ্ঞাত আসামি মো. লিমন শেখ (২৬), একই গ্রামের মেহেদী হাসান শেখ (১৮) এবং ঘটনাস্থল গোপীনাথপুর গ্রামের মো. আশরাফুল হক (৩৫)।
আরও পড়ুন: সাবেক নৌ প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার উপজেলা চেয়ারম্যান
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনিচুর রহমান জানান, গ্রেপ্তারকৃত চার আসামিকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাদের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠিয়েছেন।
গত ১০ আগস্ট গোপালগঞ্জের গোপীনাথপুরে ঢাকা খুলনা মহাসড়কে সেনাবাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর, সেনাবাহিনীর গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়।
এই হামলার ঘটনায় গোপালগঞ্জ সদর থানায় ১০৬ জনের নাম উল্লেখ ও ৩ হাজার ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ২২ আগস্ট একটি মামলা করেন গোপালগঞ্জে অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাকসুদুল আলম।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে সাবেক এমপি এম এ লতিফ গ্রেপ্তার
৫৫৪ দিন আগে
গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর ৪৯তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত
নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পালিত হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৯তম শাহাদাত বার্ষিকী।
দিবসটি পালন উপলক্ষে এ দিন সকাল ৭টায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকাসহ দলীয় ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৭টা ২০ মিনিটে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দলীয় নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মাহাবুব আলী খান ও সাধারণ সম্পাদক জিএম শাহাবউদ্দীন আজমের নেতৃত্বে জাতির জনকের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জেলা আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আরও পড়ুন: মিরপুরে শিক্ষার্থীদের হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা
পরে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
এছাড়া বঙ্গবন্ধু সমাধি সৌধ কমপ্লেক্স মসজিদে আয়োজন করা হয়েছে মিলাদ মাহফিল। জেলা ও উপজেলা জুড়ে আয়োজন করা হয়েছে আলোচনা সভা ও কাঙালি ভোজের।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও একটি হত্যা মামলা দায়ের
৫৬৮ দিন আগে
১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জয়ের
আগামী ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি শান্তিপূর্ণভাবে শ্রদ্ধা জানাতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।
বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, 'আপনার ও আমার শ্রদ্ধা নিবেদনই তারই প্রতিবাদ।’
ফেসবুক পেইজে এক ভিডিও বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক বাড়িটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলেই শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন: জয়
তিনি বলেন, ‘আমি তাদের প্রটেস্টর বলব না, আমি তাদের মব বলব। তারা জাতির পিতার ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে।’
জয় বলেন, ধানমন্ডির বাসায় জাতির পিতা ও তার পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
এটি একটি জাদুঘর উল্লেখ করে তিনি বলেন, '৭৫ সালের খুনিরাও ওই বাড়িটি ধ্বংস করার সাহস দেখাতে পারেনি।’
ওয়াশিংটনে বসবাসরত জয় বলেন, বঙ্গবন্ধু কোনো দলীয় বিষয় নন।
তিনি বলেন, ‘তিনি জাতির পিতা, তাকে ছাড়া আমরা বাংলাদেশি হতে পারতাম না, আজ পাকিস্তানি হয়ে থাকতাম।’
তিনি বলেন, বাঙালি জাতির প্রতি আমার আহ্বান, আপনারা যদি স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশকে ভালোবাসেন, ৩২ নম্বরে (ধানমন্ডি ৩২) ফুল দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।’
তিনি সবাইকে মহান আল্লাহর কাছে বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতার চেতনা ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তাদের তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এবং বঙ্গবন্ধুর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য এবং তার তিন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়।
বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় বিদেশে থাকায় ঘাতকদের হাত থেকে রেহাই পান।
৫৭১ দিন আগে
দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলেই শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন: জয়
দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলেই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।
এছাড়া বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টিতে পাকিস্তানের আইএসআই ইন্ধন যোগাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফেরাতে ভারত সরকারকে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জয় বলেন, ৭৬ বছর বয়সি শেখ হাসিনা অবশ্যই বাংলাদেশে ফিরবেন। তবে তিনি রাজনীতিতে ফিরবেন কি না, এ বিষয়ে স্পষ্ট করেননি।
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশের জনগণকে পরিত্যাগ করবে না এবং বিপর্যস্ত আওয়ামী লীগকেও অন্ধকারে ছেড়ে দেবে না।
তিনি তার মাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও দেশটির সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সেইসঙ্গে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে সহায়তা ও চাপ প্রয়োগের জন্য ভারতের প্রতি অনুরোধ জানান।
জয় বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা সত্যি যে আমি বলেছিলাম তিনি বাংলাদেশে আর ফিরবেন না। কিন্তু সারা দেশে আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর লাগাতার হামলার পর গত দুদিনে অনেক কিছুই বদলে গেছে। এখন আমরা আমাদের জনগণকে নিরাপদে রাখতে যা যা করা দরকার তা করতে যাচ্ছি; আমরা তাদের একা ছেড়ে যাব না।
টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকালে তিনি পিটিআইকে বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হলে তিনি অবশ্যই বাংলাদেশে ফিরবেন।’
আরও পড়ুন: রাজনীতিতে ফিরবেন না শেখ হাসিনা: ছেলে সজীব ওয়াজেদ
বাংলাদেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পেতে যাচ্ছে উল্লেখ করে জয় দেশে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান। বলেন, ‘অন্যথায় দেশে নৈরাজ্য বিরাজ করবে এবং এই অঞ্চলের দ্বিতীয় আফগানিস্তানে পরিণত হবে।’
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশে কখনো প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র চলতে পারে না। তার (মুহাম্মদ ইউনূস) ব্যক্তিগত মতাদর্শ যাই হোক না কেন, তিনি বলেছেন, তিনি ঐক্যের সরকার চান, এগিয়ে যেতে চান এবং অতীতের ভুলগুলোর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ অন্ধকার হতে দেবেন না। আশা করি তিনি তার কথায় অবিচল থাকবেন।’
জয় বলেন, গণতন্ত্র ফিরে এলে হয় আওয়ামী লীগ বা বিএনপি ক্ষমতায় আসবে এবং মুজিব পরিবার ও শেখ হাসিনা পাশে থাকবে।
গত দুদিন ধরে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সব নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মা শীগগিরই যেকোনো সময় অবসর নিতে চেয়েছিলেন। তাই আমরা ভেবেছিলাম, তিনি যেহেতু চলে গেছেন, তারা (হামলাকারীরা) আমাদের দলের লোকদের কিছু করবে না; কিন্তু তা হয়নি। উল্টো তারা হামলা শুরু করে।’
জয় কিংবা তার বোন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল রাজনীতিতে যোগ দেবেন কি না- এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশকে নৈরাজ্য থেকে রক্ষা করার জন্য যা যা করা দরকার, তিনি করবেন।
‘এই প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর আমি দিতে পারব না। তবে বাংলাদেশকে বাঁচাতে এবং আওয়ামী লীগকে রক্ষার জন্য যা যা করা দরকার, আমি তাই করব। মুজিব পরিবার তাদের ছেড়ে যাবে না।’
বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে জয় বলেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বোঝা যায়, বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে।
‘পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আমি পাকিস্তানের আইএসআইয়ের জড়িত থাকার বিষয়ে সন্দেহ করছি। হামলা ও বিক্ষোভ ছিল অত্যন্ত সমন্বিত ও সুপরিকল্পিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলার চেষ্টা ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার যাই করুক না কেন, তারা পরিস্থিতি আরও খারাপ করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, হামলাকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ করছে, যা কেবল সন্ত্রাসী সংগঠন এবং বিদেশি শক্তিই সরবরাহ করতে পারে।
সিআইএর মতো একটি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এর সঙ্গে জড়িত থাকার গুঞ্জনের বিষয়ে জয় বলেন, (এ বিষয়ে) তার কাছে কোনো প্রমাণ নেই, তবে সংশ্লিষ্টতা থাকতেও পারে। অবশ্য চীনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি একেবারে নাকচ করে দেন তিনি।
আরও পড়ুন: আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই এখন অগ্রাধিকার: ড. ইউনূস
শেখ হাসিনার যুক্তরাজ্য বা অন্য কোনো দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার খবরকে ‘গুজব’ বলে প্রত্যাখ্যান করে জয় বলেন, তার মায়ের মার্কিন ভিসা বাতিলের খবরটিও সত্য নয়।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা (রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা) করা হয়নি। আজ হোক কাল হোক, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং আশা করছি, সেটা বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মাধ্যমে হবে। আর সেটি হলে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসবেন।’
‘এই মুহূর্তে তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চান। এখন প্রশ্ন হলো- তিনি কখন ফিরবেন!’
শৈশবের বেশিরভাগ সময় ভারতে পড়াশোনা করে কাটানো জয় এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতার জন্য দ্রুত বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘মাকে রক্ষা করার জন্য আমি ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। ভারত যদি তার পূর্বাঞ্চলে স্থিতিশীলতা চায়, তাহলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের চাপ দিতে হবে এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্রের দ্রুত পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে সামনে থেকে নেতৃত্ব নিতে হবে।’
বাংলাদেশে ‘ভারতবিরোধী’ প্রচার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ভারতবিরোধী শক্তি ইতোমধ্যে খুব সক্রিয় এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতার বাইরে থাকায় আইএসআই এখন ভারতবিরোধী শক্তিকে যত খুশি অস্ত্র সরবরাহ করতে পারে।’
ভারতবিরোধী শক্তিগুলো আরও জোরদার হওয়ার আগেই ভারতকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন জয়।
‘শেখ হাসিনা নিজের জীবন বাঁচাতে পালিয়ে গেছেন’ এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, ‘আর যেন কোনো রক্তপাত না হয়, সেজন্য পরিবার থেকে তাকে চলে যাওয়ার জন্য জোর করা হয়েছিল।’
‘তিনি দেশ ছাড়তে রাজি ছিলেন না। তাকে সুরক্ষা দিতে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুত ছিল। কিন্তু এর ফলে গণভবনের দিকে মিছিল নিয়ে আসা শত শত বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হতে পারত। দেশের স্বার্থে আমরা তাকে বুঝিয়েছি যে, আমরা তাকে মরতে দিতে পারি না।’
জয় আরও বলেন, ‘আমাদের সরকার দুর্বল ছিল না, কিন্তু আমার মা শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করতে চাননি। তবে তিনি দেশ ছাড়ার পরও রক্তপাত থামেনি। শেখ হাসিনার থাকা ও না থাকার মধ্যে পার্থক্য কী, মানুষ তা এখন বুঝতে পারবে।’
৫৭৫ দিন আগে
শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই সরকারের প্রতিপক্ষ নয়: কাদের
শিক্ষার্থীরা সরকারের প্রতিপক্ষ নয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটার বিষয়ে দাবি পূরণের পরও একটি গোষ্ঠী সরকার বনাম ছাত্র খেলা খেলে পরিস্থিতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।
শিক্ষার্থীদের কেউ ঢাল হিসেবে ব্যবহার করবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মূল দাবি পূরণ হয়েছে। ছাত্রসমাজ কোনোভাবেই সরকারের বিরোধী নয়। আদালতের রায়ের পরপরই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও একটি বিশেষ গোষ্ঠী সরকার বনাম ছাত্র খেলা খেলে পরিস্থিতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। ছাত্রদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তারা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।’
প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের পরিধি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান আওয়ামী লীগের এই নেতা।
তিনজন বিচারপতিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যদি জাতিসংঘ বা কোনো দেশ বা সংস্থা এই তদন্তে যোগ দিতে চায়, তবে তাদের স্বাগত জানানো হয় এবং সরকার তাদের স্বাগত জানাবে।
নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাদের অনেকের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আহতদের দেখতে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরেছেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের আটকের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অহেতুক হয়রানি বা আটক না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে সেজন্য নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যেহেতু শিক্ষার্থীদের মূল দাবিগুলো পূরণ হয়েছে, আমি বিশ্বাস করি তারা তাদের শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষার হলে ফিরে যাবে। জাতি তাদের কোনো অশুভ শক্তির ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে দেখতে চায় না।’
সুশীল সমাজকে গুরুত্ব দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তাদের ব্যক্তিগত মতামতকে কাজে লাগাতে হবে, যাতে কোনো তৃতীয় পক্ষ পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে। দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা এবং জনগণ ও সম্পদের নিরাপত্তার বিষয়টি সবার বিবেচনা করা উচিত।’
কাদের বলেন, ‘দেশের মানুষ জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধকে স্বাগত জানালেও বিএনপি অসন্তুষ্ট। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সম্পর্ক কতটা ঘনিষ্ঠ। এজন্য তারা জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক বলে অভিহিত করেছেন। বিএনপি-জামায়াত সব সময় হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করেছে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানে দেশের বিভিন্ন পেশাজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ শুরু করেছেন। একে একে সবার সঙ্গে পরামর্শ করবেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, সুজিত রায় নন্দী ও দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।
৫৮১ দিন আগে
অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ১৯৭১ সালে যেভাবে পাক হানাদার বাহিনীদের সঙ্গে এদেশের দোসর রাজাকার, আলবদর, জামায়াত-শিবির তাণ্ডব চালিয়েছে, তা কোটা আন্দোলনের ঘটনার সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে।
তিনি বলেন, এই হামলাকারীরা চিহ্নিত সন্ত্রাসী, তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে।
বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে বিএনপি-জামায়াতের ইন্ধনে মানুষ হত্যা, নৈরাজ্য, অগ্নিসংযোগ ও সরকারি সম্পদ ধ্বংসের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান।
মন্ত্রী বলেন, যারা দেশে তাণ্ডব চালিয়েছে তারা কখনো ছাত্র হতে পারে না। তারা ছিল বিএনপি-জামায়াত রাজাকারের দল। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে শক্তি। তাদের কার্যকলাপে আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে।
আরও পড়ুন: আন্ডার গ্রাউন্ডে গেলে জামায়াত-শিবির মোকাবিলার প্রস্তুতি আছে: আইনমন্ত্রী
তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-বিএনপি, শিবির ও ছাত্রদল এত শক্তি কোথা থেকে পেল। এটা আমাদের খুঁজে দেখতে হবে। যেখান থেকেই হোক, যত বড় শক্তিশালী হোক, আইনের মাধ্যমে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তর করেছেন। তিনি দেশি ও আন্তর্জাতিক সব ষড়যন্ত্র আর নানা প্রতিকূলতাকে মোকাবিলা করে উন্নত-সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছেন।
মানববন্ধন শেষে হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, অগ্নিসংযোগ ও সরকারি সম্পদ ধ্বংসের প্রতিবাদে একটি মিছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শুরু করে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
আরও পড়ুন: সব মুক্তিযোদ্ধার কবর একইরকম হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী
৫৮২ দিন আগে
কাদেরের সঙ্গে বৈঠকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান
আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের নিয়ে মত বিনিময় সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপস্থিত নেতারা।
বুধবার (৩১ জুলাই) সকালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চলমান আন্দোলন নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে কাদের উপস্থিত সাবেক ছাত্রনেতাদের কথা বলতে না দেওয়ায় তাৎক্ষণিক ক্ষোভের জন্ম দেয়।
আরও পড়ুন: জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে: ওবায়দুল কাদের
সাবেক ছাত্রনেতাদের মতামত না নিয়ে ওবায়দুল কাদের নিজেই বক্তব্য দেন। এ সময় ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের মধ্য থেকে 'ভুয়া ভুয়া' ধ্বনি ওঠে। ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন সাবেক কর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, অনুষ্ঠানের ছবি শেয়ার করেছেন এবং সভা নিয়ে সমালোচনা করেছেন।
দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়, ওবায়দুল কাদেরের সাবেক ছাত্রনেতাদের সঙ্গে মত বিনিময় করার কথা ছিল, কিন্তু তা হয়নি।
আরও পড়ুন: জামায়াতকে নিষিদ্ধ করলে দেশের আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হবে: আইনমন্ত্রী
৫৮৩ দিন আগে
জামায়াতকে নিষিদ্ধ করলে দেশের আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হবে: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও রাজনীতির অনেক উন্নতি হবে।
মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আজকের বক্তব্যের মধ্যে এ প্রশ্নের জবাব রয়েছে।
তিনি বলেন, আগামীকালকের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
আনিসুল হক বলেন, আমি কিছুক্ষণ পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বসব। সেখানে আমরা সিদ্ধান্ত নেব কোন আইনি প্রক্রিয়ায় এটা হবে। সেটা যখন আমরা সিদ্ধান্ত নেব, তখন বলব।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
এর মানে আগামীকালের মধ্যেই কি এই সিদ্ধান্ত হবে, এ বিষয়ে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ।
চলমান আন্দোলনের মধ্যে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করলে সরকার আবার ঝামেলায় পড়বে কিনা এমন প্রশ্নে আনিসুল হক বলেন, দেখেন এই যে নৃশংসতা, যেটি গত ১৬ জুলাই থেকে চালানো হয়েছে। কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে যে সহিংসতা চালানো হয়েছে, যারা কোটাবিরোধী আন্দোলন করছেন তারা কিন্তু জানিয়েছেন এই সহিংসতার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই....। সেক্ষেত্রে আমাদের কাছে তথ্য-উপাত্ত আছে, জামায়াত-বিএনপি ও ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্রদলের যারা জঙ্গি তারাই এটা করেছে।
তিনি বলেন,‘কোনো দলকে যদি নিষিদ্ধ করা হয়, সেটি নির্বাহী আদেশেই হয়। সেটি কোনো বিচার বিভাগীয় আদেশে হয় না।’
আরও পড়ুন: আগামীকালের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ করা হবে: আইনমন্ত্রী
৫৮৪ দিন আগে