ক্রিকেট
বিপিএল ২০২৫ টি২০ ক্রিকেটের প্রথম সারির প্রতিদ্বন্দ্বীরা
তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চলছে বিপিএল (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ) ২০২৫ আসর। ঘরোয়া টি২০ ক্রিকেট উৎসবের মারদাঙ্গা উদ্দীপনায় ভাসছে সারা দেশ। ৭ দলের মোট ৪৬টি খেলার মধ্যে ফেজ-১, ফেজ-২, ও ফেজ-৩ সহ ৩২টি ম্যাচ শেষ। ফেজ-৪-এর ১০টি ম্যাচে কারা মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তা-ও নির্ধারণ হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ২০ ওভারের ব্যাটে-বলের যুদ্ধে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে কারা, চলুন তা দেখে নেওয়া যাক।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ২০২৫ আসরে শীর্ষ ৫ ব্যাট্সম্যান
.
টেবিল: বিপিএল-এর ১১-তম আসরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রানের বিচারে সেরা ৫ ব্যাট্সম্যান
ক্রমিক
ব্যাট্সম্যান
দল
মোট রান
ম্যাচ
এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান
সেঞ্চুরি
হাফ সেঞ্চুরি
১
তানজিদ হাসান তামিম
ঢাকা ক্যাপিটাল্স
৪২০
১০
১০৮
১
৩
২
মোহাম্মদ এনামুল হক বিজয়
দুর্বার রাজশাহী
৩৭৯
১০
১০০
১
২
৩
লিটন দাস
ঢাকা ক্যাপিটাল্স
৩৪৮
৯
১২৫
১
২
৪
জাকির হাসান
সিলেট স্ট্রাইকার্স
৩৪২
৯
৭৫
-
৩
৫
গ্রাহাম ক্লার্ক
চিটাগাং কিংস
৩৩৫
৮
১০১
১
১
সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করে প্রথম সারির ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। ঢাকা ক্যাপিটাল্সের এই দুর্দান্ত খেলোয়াড়ের ১০ ম্যাচে সংগ্রহ মোট ৪২০ রান। এর মধ্যে রয়েছে ১টি সেঞ্চুরি ও ৩টি হাফ সেঞ্চুরি। তারা খেলা ম্যাচগুলোর মধ্যে সর্বসেরা হচ্ছে ১০৮ রানের ইনিংসটি।
১০ ম্যাচে সর্বমোট ৩৭৯ রান নিয়ে তালিকার ২ নাম্বারে আছেন দুর্বার রাজশাহীর মোহাম্মদ এনামুল হক বিজয়। তার ব্যাট থেকে এসেছে ২টি হাফ সেঞ্চুরি ও ১ টি সেঞ্চুরি, যেখানে সেঞ্চুরির ইনিংসটি ছিলো তার সেরা পারফরমেন্স।
আরো পড়ুন: ‘বাদ পড়ার পর’ জ্বলে উঠলেন লিটন, রেকর্ড বই এলোমেলো
বিপিএল ২০২৫-এ এ পর্যন্ত এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের (১২৫) স্কোরের অধিকারী ঢাকা ক্যাপিটাল্সের লিটন দাস। কিন্তু ৯ ম্যাচে সংগৃহীত রানের হিসেবে তার অবস্থান নেমে এসেছে ৩ নাম্বারে। সেঞ্চুরির ইনিংস ছাড়া বাকি ম্যাচগুলোতে তার ২টি হাফ সেঞ্চুরি আছে।
চতুর্থ ব্যাট্সম্যানের নাম জাকির হাসান, এ পর্যন্ত যার সংগ্রহ ৯টি ম্যাচে মোট ৩৪২ রান। তার দখলে কোনও সেঞ্চুরি নেই, তবে ৩টি হাফ সেঞ্চুরি ও ৭৫ রানের স্কোর।
তালিকার সবশেষে রয়েছেন ইংলিশ ব্যাট্সম্যান গ্রাহাম ক্লার্ক। ৮ ম্যাচে ১টি হাফ সেঞ্চুরি ও ১ টি সেঞ্চুরি সহ তিনি মোট ৩৩৫ রান নিয়েছেন। সেঞ্চুরির (১০১ রান) ইনিংসটিই এখন পর্যন্ত তার সেরা পারফরমেন্স।
১১-তম বিপিএল আসরে আসরে শীর্ষ ৫ বোলার
.
টেবিল: বিপিএল-২০২৫-এ ফেজ-৪ শুরুর পূর্বে সর্বোচ্চ উইকেট বিবেচনায় শীর্ষস্থানীয় ৫ বোলার
ক্রমিক
বোলার
দল
উইকেট
ম্যাচ
ইনিংস/ওভার
এক ইনিংসে সেরা বোলিং
১
তাসকিন আহমেদ
দুর্বার রাজশাহী
২২
১০
৩২.২
৭/১৯
২
আকিফ জাভেদ
রংপুর রাইডার্স
১৫
৭
২৬.৫
৪/৩২
৩
আবু হায়দার রনি
খুলনা টাইগার্স
১৫
৮
৩০.৫
৪/৪৪
৪
খুশদিল শাহ
রংপুর রাইডার্স
১৪
৯
২৪
৩/১৮
৫
আলিস আল ইসলাম
চিটাগাং কিংস
১২
৮
৩১
৩/১৭
১০টি ম্যাচে ৩৮ ওভার ২ বল করে ২২টি উইকেট নিয়ে এখন অব্দি টুর্নামেন্টের সেরা বোলারের আসনে রয়েছে তাসকিন আহমেদ। দুর্বার রাজশাহীর এই পেসারের সেরা স্কোর ১৯ রানে ৭ উইকেট।
আরো পড়ুন: আবারও পরীক্ষায় ফেল, সাকিবের বোলিং নিষেধাজ্ঞা বহালই থাকছে
রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলা পাকিস্তানি ক্রিকেটার আকিফ জাভেদ আছেন দ্বিতীয় অবস্থানে। মাত্র ৭ ম্যাচে ২৬ ওভার ৫ বল করে তিনি উইকেট নিয়েছেন মোট ১৫টি। তার উল্লেখযোগ্য পারফরমেন্স হচ্ছে ৩২ রানের বিপরীতে ৪টি উইকেট।
আকিফ জাভেদের সমসংখ্যক উইকেট নিলেও তার তুলনায় একটি বেশি ম্যাচ খেলার কারণে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন আবু হায়দার রনি। ৮ ম্যাচে তিনি বল করেছেন ৩০ ওভার ৫টি, যেখানে তার সেরা বোলিং ছিলো ৪৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট সংগ্রহ।
চতুর্থ অবস্থানে থাকা বোলার পাকিস্তানের খুশদিল শাহ, যিনি খেলছেন রংপুর রাইডার্সের হয়ে। ৯ ম্যাচে ২৪ ওভার বলের বিনিময়ে তার অর্জন সব মিলিয়ে ১৪ উইকেট। তন্মধ্যে এক ইনিংসে তার সর্বোচ্চ স্কোর ৩ উইকেটের বিপরীতে ১৮ রান প্রদান।
তালিকার ৫-এ আছেন চিটাগাং কিংসের আলিস আল ইসলাম। ৮টি ম্যাচে ৩১ ওভারের মধ্যে তার উল্লেখযোগ্য বোলিং স্কোর ১৭ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট। আর সব ম্যাচ মিলিয়ে সংগ্রহ করেছেন ১২টি উইকেট।
২০২৫ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ শ্রেষ্ঠ ৪ দল
.
টেবিল: ১১-তম বিপিএল আসরে ফেজ-৪ শুরুর পূর্বে পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে থাকা ৪টি দল
ক্রমিক
দল
ম্যাচ
জয়
পরাজয়
পয়েন্ট
নেট রান রেট
১
রংপুর রাইডার্স
৯
৮
১
১৬
১.২২৩
২
ফরচুন বরিশাল
৮
৬
২
১২
০.৯৯৩
৩
চিটাগাং কিংস
৯
৫
৪
১০
১.০৪৫
৪
খুলনা টাইগার্স
৯
৪
৫
৮
-০.১৪৮
বিপিএল-২০২৫ টুর্নামেন্টে সবথেকে এগিয়ে থাকা দলটি হচ্ছে রংপুর রাইডার্স। ৯টি ম্যাচের শুধু ১টি ছাড়া বাকি সবগুলোতে জয় নিয়ে দলটির সংগ্রহ ১৬ পয়েন্ট। সাথে আসরের সর্বোচ্চ নেট রান রেট ১.২২৩।
আরো পড়ুন: সাকিব-লিটনকে ছাড়াই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বাংলাদেশ দল ঘোষণা
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দল ফরচুন বরিশাল ৮ ম্যাচের মাত্র ২টিতে হেরে সবগুলোতে জয় পেয়েছে। দলটির সংগৃহীত পয়েন্ট ১২ এবং নেট রানের অনুপাত ০.৯৯৩।
৯টি ম্যাচের ৪টিতে পরাজয় ও ৫টিতে জয় পেয়ে তালিকার ৩ নাম্বারে রয়েছে চিটাগাং কিংস। ১০ পয়েন্ট অধিকারী এই দলটির নেট রান রেট ১.০৪৫।
সবশেষে রয়েছে খুলনা টাইগার্স, যারা ৯ ম্যাচের ৪টিতে জয় পেয়ে সংগ্রহ করেছে ৮ পয়েন্ট। ৫ ম্যাচ পরাজয়ের কারণে দলের নেট রানের অনুপাত দাড়িয়েছে -০.১৪৮।
পরিশিষ্ট
বিপিএল ২০২৫-এ এখন পর্যন্ত শীর্ষ অবস্থানে থাকা ব্যাট্সম্যানরা হচ্ছেন তানজিদ হাসান তামিম, মোহাম্মদ এনামুল হক বিজয়, লিটন দাস, জাকির হাসান, এবং গ্রাহাম ক্লার্ক। আসরের সর্বোচ্চ উইকেটধারী বোলারদের মধ্যে রয়েছেন তাসকিন আহমেদ, আকিফ জাভেদ, আবু হায়দার রনি, খুশদিল শাহ, এবং আলিস আল ইসলাম। ব্যাট ও বলের পারফরমেন্স নির্বিশেষে সামগ্রিক ভাবে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা দলগুলো হলো- রংপুর রাইডার্স, ফরচুন বরিশাল, চিটাগাং কিংস, এবং খুলনা টাইগার্স।
আরো পড়ুন: পিএসএলের ড্রাফটে বাংলাদেশের ৩ ক্রিকেটার
৫১১ দিন আগে
পিএসএলের ড্রাফটে বাংলাদেশের ৩ ক্রিকেটার
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) দশম আসরের প্লেয়ার্স ড্রাফটে বাংলাদেশি ৩ ক্রিকেটারের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের আসরটি আগামী ৮ এপ্রিল শুরু হয়ে চলবে ১৯ মে পর্যন্ত।
পেসার নাহিদ রানা, ব্যাটসম্যান লিটন দাস ও লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন পিএসএলের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে চুক্তি করেছেন।
প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে গোল্ড ক্যাটাগরিতে নাহিদ রানাকে দলে ভিড়িয়েছে পেশোয়ার জালমি।
আরও পড়ুন: সাকিব-লিটনকে ছাড়াই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বাংলাদেশ দল ঘোষণা
দুইবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ড্যারেন স্যামির কোচিংয়ে বাবর আজম, সাইম আইয়ুবের মতো তারকাদের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করবেন ডানহাতি পেসার নাহিদ।
করাচি কিংস গোল্ড ক্যাটাগরিতে লিটন দাসকে বেছে নিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) রেকর্ড সেঞ্চুরি করা এই অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার এর আগে আইপিএল, এলপিএল ও সিপিএলে খেলেছেন।
সিলভার ক্যাটাগরিতে লাহোর কালান্দার্সে যোগ দিয়েছেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। রিশাদ গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্সের জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। এখন এনওসি পেলে বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো খেলবেন।
সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার প্লাটিনাম ক্যাটাগরিতে থাকলেও পিএসএলের ড্রাফটে কাউকেই নেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: ‘বাদ পড়ার পর’ জ্বলে উঠলেন লিটন, রেকর্ড বই এলোমেলো
৫২১ দিন আগে
‘বাদ পড়ার পর’ জ্বলে উঠলেন লিটন, রেকর্ড বই এলোমেলো
বাংলাদেশের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল থেকে বাদ পড়ার পরদিনই চোখ ধাঁধানো ব্যাটিং উপহার দিলেন লিটন কুমার দাস। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তিনি। আর তাতেই এলোমেলো হয়ে গেছে বিপিএলের রেকর্ড বই।
রবিবার (১২ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে দুর্বার রাজশাহীর বিপক্ষে ২৫৪ রানের পাহাড়সম স্কোর গড়েছে ঢাকা।
এদিন টস হেরে শুরুতে ব্যাটিং করতে নেমে ১৯.৩ ওভারে ২৪১ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়েন তানজিদ তামিম ও লিটন দাস। ৬৪ বলে আটটি ছক্কা ও ছয়টি চারের সাহায্যে ১০৮ রান করে তানজিদ ফিরে যাওয়ার পর দুই বলে একটি ছক্কায় ৭ রান করেন সাব্বির হোসেন। অপর প্রান্তে মাত্র ৫৫ বল মোকাবিলা করে ৯টি ছক্কা ও ১০টি চারের সাহায্যে ১২৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন লিটন।
এটি টি-টোয়েন্টিতে লিটনের প্রথম সেঞ্চুরি। আর তানজিদের তার সঙ্গে ২৪১ রানের এই জুটি বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর ফলে ২০১৭ সালে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও ক্রিস গেইলের অবিচ্ছিন্ন ২০১ রানের জুটি ভেঙেছেন ঢাকার দুই ওপেনার।
এছাড়া ৪৪ বলে শতরান স্পর্শ করে বিপিএলের ইতিহাসে বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ভেঙে গড়েছেন লিটন। এর আগের রেকর্ডটি ছিল তামিম ইকবালের দখলে। ৫০ বলে সেঞ্চুরি করে এতদিন তিনিই ছিলেন বিপিএলে দ্রুততম সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশি ব্যাটার। তবে সব মিলিয়ে বিপিএলে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড রয়েছে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান আহমেদ শেহজাদের দখলে। ৪০ বলে সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব রয়েছে তার।
শুধু তা-ই নয়, বিপিএলের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বেশি রানের পুঁজি। এই রেকর্ড গড়ার পথে ঢাকা ২০১৯ সালে রংপুর রাইডার্সের করা ২৩৯ রানের পুঁজিকে পেছনে ফেলেছে। ফলে জিততে হলে ইতিহাস সৃষ্টি করেই ম্যাচটি জিততে হবে রাজশাহীকে।
৫২৩ দিন আগে
সাকিব-লিটনকে ছাড়াই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বাংলাদেশ দল ঘোষণা
আগামী মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তানে শুরু হতে যাওয়া আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
তবে এই সিরিজে তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের অভাব অনুভব করবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এর আগে এই দুই ক্রিকেটারকে দলে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও ভিন্ন পরিস্থিতির কারণে তারা বাংলাদেশ দলে থাকতে পারছেন না।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে তামিম জানান, বাংলাদেশের হয়ে আর মাঠে নামছেন না তিনি।
এদিকে অবৈধ বোলিংয়ের অভিযোগে সাকিবের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ইসিবি কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে বোলিং পরীক্ষাতেও সাকিবের বোলিং বৈধ হয়নি। যার ফলে তিনি বোলার হিসেবে বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পারবেন না।
এমন পরিস্থিতিতে বিসিবিও নিশ্চিত করেছিল যে, সাকিব কেবল ব্যাটার হিসাবে খেলতে পারবেন, তবে নির্বাচকরা তাকে মাঠে না নামানোর সিদ্ধান্ত নেন।
উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান লিটন দাসকেও বাদ দিয়েছে বাংলাদেশ। কম পারদর্শী ব্যাটার বেশ কিছুদিন ধরেই নিজের ফর্মের উন্নয়নে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। আর ২৭ ফেব্রুয়ারি একই ভ্যেনুতে গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: আবারও পরীক্ষায় ফেল, সাকিবের বোলিং নিষেধাজ্ঞা বহালই থাকছে
আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি-২০২৫ বাংলাদেশ স্কোয়াড:
নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ হাসান তামিম, মুশফিকুর রহিম, তৌহিদ হৃদয়, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সৌম্য সরকার, পারভেজ হোসেন ইমন, জাকের আলী, মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব ও নাহিদ রানা।
আরও পড়ুন: বিপিএল: জাকিরের ভূমিকায় ৩ উইকেটে ঢাকাকে হারাল সিলেট
৫২৩ দিন আগে
আবারও পরীক্ষায় ফেল, সাকিবের বোলিং নিষেধাজ্ঞা বহালই থাকছে
ইংল্যান্ড থেকে পরীক্ষায় ফেল করে গত মাসে চেন্নাইয়ের শ্রী রামচন্দ্র সেন্টার ফর স্পোর্টস সায়েন্সে দ্বিতীয়বার বোলিং অ্যাকশন পুনর্মূল্যায়নের পরীক্ষা দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে তাতেও লাভ হয়নি এই বাঁহাতি অলরাউন্ডারের।
দ্বিতীয় পরীক্ষাতেও পাস করতে পারেননি তিনি। এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিংয়ে নিষিদ্ধই থাকছেন সাকিব।
এ বিষয়ে বিসিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাকিবের ওপর ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) অধীনস্থ প্রতিযোগিতায় বোলিং করার নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। গত মাসে ভারতের চেন্নাইয়ে শ্রী রামচন্দ্র স্পোর্টস সায়েন্স সেন্টারে পুনর্মূল্যায়নের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যতদিন না পুনর্মূল্যায়ন মানে পরীক্ষায় সাকিবের বোলিং অ্যাকশন ঠিক পাওয়া যাচ্ছে, ততদিন তার এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষায় পাস করতে না পারায় সাকিবের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলার সম্ভাবনা কঠিন হয়ে গেল। ১২ জানুয়ারির মধ্যে আইসিসিতে দলের সদস্যদের তালিকা পাঠাতে হবে সব দেশকে। সেক্ষেত্রে শুধু ব্যাটার হিসেবে সাকিবের বাংলাদেশ দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
আরও পড়ুন: টি-টোয়েন্টিতে সাকিবের বিকল্প কে?
এর আগে, গত সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেট খেলার সময় সাকিবের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন আম্পায়াররা। এরপর ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বার্মিংহামের লাফবোরো ইউনিভার্সিটিতে আইসিসি অনুমোদিত কেন্দ্রে অ্যাকশনের পরীক্ষা দেন তিনি।
তবে প্রথমবারের সেই পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হতে পারেননি উল্লেখ করে ইসিবি জানায়, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি বোলিং করতে পারবেন না।
আইসিসির বিধি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও বোলিংয়ের অযোগ্য হয়ে পড়েন সাকিব। আর সেই নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেতে গত ২১ ডিসেম্বর চেন্নাইয়ে ফের পরীক্ষা দেন এই অলরাউন্ডার।
দ্বিতীয়বারের পরীক্ষার প্রস্তুতি বেশ ভালোভাবেই নিয়েছিলেন সাকিব। গল মারভেলসের হয়ে খেলা এই ক্রিকেটার দলটির নেটে বোলিং অ্যাকশন শোধরানোর প্রস্তুতি নেন। সেখানে বিভিন্ন অ্যাকশনের ভিডিও ফুটেজ দেখে কাজ করেন। এছাড়া পাকিস্তানি স্পিন বোলিং কিংবদন্তি সাকলাইন মুশতাকও তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবুও বোলিং অ্যাকশন ঠিক করতে পারলেন না তিনি।
অবশ্য, চাইলে শুধু ব্যাটার হিসেবে খেলা চালিয়ে যেতে পারবেন সাকিব। এর মধ্যে বোলিং অ্যাকশন শোধরানোর কাজও চালিয়ে যেতে পারবেন। অ্যাকশন ঠিক হলে যদি পরীক্ষায় পাস করেন, তবে বোলিংয়ের ওপর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা উঠবে তার।
৫২৪ দিন আগে
বিপিএল: জাকিরের ভূমিকায় ৩ উইকেটে ঢাকাকে হারাল সিলেট
জাকির হাসানের ২৭ বলে ৫৮ রানের সুবাদে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) শুক্রবারের ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসকে তিন উইকেটে হারিয়েছে সিলেট স্ট্রাইকার্স।
ঢাকার লিটন দাস ৪৩ বলে ৭৩ ও মুনিম শাহরিয়ার ৫২ রান করলেও জাকিরের ৫৮ রানের কারণে ঢাকা পড়ে যান তারা।
প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৯৩ রান তোলে ঢাকা। সাব্বির রহমানের ১০ বলে ২৩ ও থিসারা পেরেরার ৯ বলে ১৮ রানের ঝড়ো ইনিংস শেষ দিকে এগিয়ে যায়।
সিলেটের হয়ে রাহকিম কর্নওয়াল ২৭ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন।
আরও পড়ুন: খুলনাকে প্রথম হারের স্বাদ দিল রাজশাহী
জবাবে সিলেট ব্যাট করতে নামলে ইনিংসের প্রথম বলেই রাহকিম কর্নওয়াল শূন্য রানে আউট হয়ে যান। জর্জ মুন্সি (৮ বলে ১১) ও অ্যারন জোন্সের (৮ বলে ১৪) গুটিয়ে গেলে চতুর্থ ওভারে সিলেটের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৪২
এরপর সাতটি চার ও তিনটি ছক্কায় রান তাড়া করতে নেমে জয়ের হাল ধরেন জাকির হাসান। দশম ওভারে তার আউট, সিলেটের স্কোর ৫ উইকেটে ১০৯, অল্প সময়ের জন্য গতি পাল্টে দেয়।
তবে অধিনায়ক আরিফুল হক দায়িত্ব নেওয়ার আগে রনি তালুকদার ২০ বলে ৩০ ও জাকের আলী ১৭ বলে ২৪ রান করে সিলেটকে চাপে রাখেন।
আরিফুল ১৫ বলে চারটি চার ও একটি ৬ নিয়ে ২৮ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে শেষ ওভারে সিলেটের জয় নিশ্চিত করে।
ঢাকার হয়ে দুটি করে উইকেট নেন ফরমানউল্লাহ ও শুভম রঞ্জন।
এবারের মৌসুমে এটি সিলেটের প্রথম জয়। অন্যদিকে ঢাকা এখনও জয়ের উল্লাস করতে পারেনি। তারা এখন পর্যন্ত খেলা ছয় ম্যাচেই হেরেছে।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা তামিম ইকবালের
৫২৪ দিন আগে
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা তামিম ইকবালের
হঠাৎ করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) রাতে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমার অধ্যায় শেষ।’
এর আগে, ২০২৩ সালের জুলাইতে বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তদের চমকে দিয়ে প্রথমবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তামিম। তবে নাটকীয়ভাবে একদিন পরই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে ক্রিকেটে ফেরেন তিনি।
আজ ফেসবুক পোস্টে তামিম লেখেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে আছি অনেক দিন ধরেই। সেই দূরত্ব আর ঘুচবে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমার অধ্যায় শেষ।’‘অনেক দিন ধরেই এটা নিয়ে ভাবছিলাম। এখন যেহেতু সামনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো বড় একটি আসর সামনে, আমি চাই না আমাকে ঘিরে আবার অলোচনা হোক এবং দলের মনোযোগ ব্যাহত হোক।’
তিনি বলেন, ‘এটা অবশ্য আগেও চাইনি। চাইনি বলেই অনেক আগে নিজেকে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে সরিয়ে নিয়েছি। যদিও অনেকেই বলেছেন, অনেক সময় মিডিয়ায় এসেছে, আমিই নাকি ব্যাপারটি ঝুলিয়ে রেখেছি। কিন্তু বিসিবির কোনো ধরনের চুক্তিতে যে নেই, এক বছরের বেশি সময় আগে যে নিজ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে, তাকে পরিকল্পনায় রাখা বা তাকে নিয়ে আলোচনারও তো কিছু নেই।’
‘তারপরও অযথা আলোচনা হয়েছে। অবসর নেওয়া বা খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত একজন ক্রিকেটার বা যেকোনো পেশাদার ক্রীড়াবিদের নিজের অধিকার। আমি নিজেকে সময় দিয়েছি। এখন মনে হয়েছে, সময়টা এসে গেছে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আন্তরিকভাবেই আমাকে ফেরার জন্য বলেছে। নির্বাচক কমিটির সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। আমাকে এখনও উপযুক্ত মনে করার জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। তবে আমি নিজের মনের কথা শুনেছি।’
এই ক্রিকেট তারকা আরও বলেন, ‘২০২৩ বিশ্বকাপের আগে যা হয়েছে, আমার জন্য তা বড় ধাক্কা ছিল, যেহেতু ক্রিকেটীয় কারণে আমি দলের বাইরে যাইনি। তারপরও আমি যেখানেই গিয়েছি, ক্রিকেট ভক্তদের অনেকে বলেছেন, আমাকে আবার জাতীয় দলে দেখতে চান। তাদের ভালোবাসার কথা ভেবেছি আমি। আমার ঘরেও একজন অনুরাগী আছে। আমার ছেলে কখনও আমাকে সরাসরি বলেনি, কিন্তু তার মাকে বারবার বলেছে, বাবাকে আবার দেশের জার্সিতে খেলতে দেখতে চায়।’
‘ভক্তদের হতাশ করার জন্য আমি দুঃখিত। ছেলেকে বলছি— তুমি যেদিন বড় হবে, সেদিন বাবাকে বুঝতে পারবে,’ বলে শেষ করেন তিনি।
৫২৫ দিন আগে
খুলনাকে প্রথম হারের স্বাদ দিল রাজশাহী
চিটাগাং কিংস ও ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে বিপিএলের মাত্র দ্বিতীয় দল হিসেবে অপরাজিত থাকলেও তৃতীয় ম্যাচে এসে খেই হারাল খুলনা টাইগার্স। খুলনাকে হারিয়ে টানা দুই ম্যাচ হারের পর আবারও জয়ে ফিরেছে দুর্বার রাজশাহী।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) খুলনাকে ২৮ রানে হারিয়েছে এনামুল হক বিজয়ের দল।
এদিন টস জিতে রাজশাহীকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠান খুলনা অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। শুরুতে ব্যাট করে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭৮ রান তোলে রাজশাহী।
দলের হয়ে ২৯ বলে অপরাজিত সর্বোচ্চ ৪৮ রানের ইনিংস খেলেন রায়ান বার্ল। এছাড়া ইয়াসির আলী ২৫ বলে ৪১ এবং মোহাম্মদ হারিস, জিসান আলম ও আকবার আলী যথাক্রমে ২৭, ২৩ ও ২১ রানের ইনিংস উপহার দেন।
খুলনার বোলারদের মধ্যে নাসুম আহমেদ সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন।
আরও পড়ুন: তাসকিনের রেকর্ড গড়া ম্যাচটি জয়ে রাঙাল রাজশাহী
১৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে প্রথম ওভারেই ধাক্কা খায় খুলনা। জিশান আলমের অফস্পিনে উইলিয়াম বসিস্তো একবার লেগ বিফোরের আবেদন থেকে বেঁচে গেলেও পঞ্চম বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর ৭ বলে মাত্র ১ রান করে তাসকিনের বলে আউট হয়ে ফেরেন অধিনায়ক মিরাজ।
২৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর উইকেটে থিতু হওয়ার চেষ্টা করেন নাইম শেখ আর আফিফ হোসেন। এ সময় রান তোলার গতি একেবারেই পড়ে যায়। ১৭৯ রানের লক্ষ্য থাকলেও ২৮ বল খেলে ২৪ রান করে আউট হন নাইম আর ৩০ বলে ৩৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন আফিফ।
তারা যখন ফিরে যান তখন জয়ের জন্য ৭ ওভারে খুলনার প্রয়োজন ছিল ৮৯ রান। আর রান রেটের পাহাড় মাথায় নিয়ে বড় শট খেলতে গিয়ে একের পর এক বাকি উইকেটগুলো হারাতে থাকে তারা। শেষ পর্যন্ত ইনিংসের তিন বল বাকি থাকতেই ১৫০ রানে গুটিয়ে যায় খুলনার ইনিংস।
দলের হয়ে আফিফ ও নাইমের ইনিংসদুটিই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। এছাড়া শেষদিকে ১৫ বলে ১৮ রান করেন নাসুম।
রাজশাহীর ৭ বোলারের সবাই এই ম্যাচে উইকেট পেয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট গিয়েছে রায়ান বার্ল, তাসকিন আহমেদ ও সোহাগ গাজীর ঝুলিতে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দুর্বার রাজশাহী: ১৭৮/৫ (বার্ল ৪৮*, ইয়াসির ৪১, হারিস ২৭; নাসুম ২/২০)।
খুলনা টাইগার্স: ১৫০/১০ (১৯.৩ ওভার) (আফিফ ৩৩, নাইম ২৪, অঙ্কন ১৮; বার্ল ২/১৩, তাসকিন ২/৩০)।
ফলাফল: দুর্বার রাজশাহী ২৮ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রায়ান বার্ল।
৫২৫ দিন আগে
টানা ৩ উইকেট পতনের পর ৬ বলে ৩০ রান, রংপুরের অবিশ্বাস্য জয়
শেষ দুই ওভারে যখন ৩৯ রানের প্রয়োজন, সেখানে ১৯তম ওভারের প্রথম দুই বলে ইফতিখার আহমেদ দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে রংপুরের সমর্থকদের মনে অনেকটা আশার সঞ্চার করলেও পরের তিন বলে তিন উইকেট পড়ে গেলে আশার সেই বেলুনর চুপসে যায়। এরপর শেষ ওভারে নুরুল হাসান সোহান যা করলেন, তার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিল না।
শেষ ওভারে যখন ২৬ রান প্রয়োজন, তখন ব্যাট হাতে অভাবনীয় কায়দায় জ্বলে উঠলেন তিনি। প্রথম চার বলে ৬, ৪, ৪ ও ৬ হাঁকানোয় শেষ ২ বলে দরকার ছিল ৬ রান। পঞ্চম বলে হাঁকালেন ৪ আর শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিলেন রংপুর রাইডার্সের নাবিক সোহান।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ম্যাচে ফরচুন বরিশালকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে রংপুর। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৭ রান করে বরিশাল। জবাবে শেষ বল পর্যন্ত খেলে জয় নিশ্চিত করে সোহানের দল।
এ নিয়ে ৬ ম্যাচের সবগুলোতেই জিতল রংপুর। অন্যদিকে ৫ ম্যাচে বরিশালের দ্বিতীয় হার এটি। দুই দলের প্রথম দেখাতেও বরিশালকে হারিয়েছিল রংপুর। ওই ম্যাচটি তারা জেতে ৮ উইকেটে।
আরও পড়ুন: বরিশালকে হেসেখেলে হারিয়ে রংপুরের জয়যাত্রা অব্যাহত
গত কয়েক ম্যাচে দারুণ পারফর্ম করা অ্যালেক্স হেলস এদিন শুরুতেই আউট হয়ে যান। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে এই ওপেনারকে হারিয়ে বেশ কিছুটা চাপে পড়ে যায় রংপুর, যার প্রভাব পড়ে তাদের রানরেটে। তবে অষ্টম ওভার থেকে লক্ষ্য তাড়ায় মনোযোগী হয় তারা।
সপ্তম ওভারের শেষ বলে ২২ রান করে (১৯ বলে) সাইফ হাসান সাজঘরে ফিরলে ইফতিখার আহমেদের সঙ্গে ১২ বলে ২৫ রানের ঝড়ো জুটি গড়েন তৌফিক খান। ২৮ বলে ৩৮ রান করে তিনিও ফিরে গেলে আরেক পাকিস্তানি ব্যাটার খুশদিল শাহের সঙ্গে ৫৩ বলে ৯১ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যান ইফতিখার।
এরপর ১৭.৫তম ওভারে শাহিন আফ্রিদির বলে ইফতিখার ফিরে গেলে পরের ওভারের প্রথম দুই বলে দুটি ছক্কা মেরে লক্ষ্য একরমক বাগে নিয়ে আসেন খুশদিল। কিন্তু পরের বলে তিনি আউট হয়ে গেলে তার পরের দুই বলে জাহান্দাদ খান শেখ মেহেদী ও সাইফউদ্দীনকেও ফিরিয়ে দিলে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বরিশাল। আর সেখান থেকে প্রত্যাবর্তনের অভাবনীয় গল্প লিখে বরিশালের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নেন সোহান।
রংপুরের হয়ে ২৪ ও ৩৬ বলে সর্বোচ্চ ৪৮ করে রান করেন যথাক্রমে খুশদিল ও ইফতিখার; তৌফিক করেন ৩৮ আর ৭ বল খেলে অধিনায়ক সোহানের রান ৩২।
অপরদিকে, বরিশালের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন জাহানান্দ খান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ফরচুন বরিশাল: ১৯৭/৫ (কাইল মেয়ার্স ৬১*, শান্ত ৪১, তামিম ৪০; কামরুল ২/৪৭, আকিফ ১/১৬)।
রংপুর রাইডার্স: ২০২/৭ (খুশদিল ৪৮, ইফতিখার ৪৮, তৌফিক ৩৮, সোহান ৩২*; জাহান্দাদ ২/৪৮)।
ফলাফল: রংপুর রাইডার্স ৩ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: নুরুল হাসান সোহান।
৫২৬ দিন আগে
বিপিএল: সিলেটকে ৮ উইকেটে হারাল রংপুর রাইডার্স
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সিলেট পর্বের প্রথম ম্যাচে অ্যালেক্স হেলসের সেঞ্চুরিতে সিলেট স্ট্রাইকার্সকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে রংপুর রাইডার্স।
সোমবার (৬ জানুয়ারি) রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ঘরের মাঠে পরাজয়ের মুখে পড়ে সিলেট স্ট্রাইকার্স।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটে ২০৫ রান করে সিলেট। তাদের হয়ে রনি তালুকদার, জাকির হাসান ফিফটি করেন এবং জাকের আলী ও অ্যারন জোন্সের জ্বলে উঠে তাদের শক্তিশালী স্কোর এনে দেয়।
শেষ পাঁচ ওভারে ৭৪ রান তুলতে সক্ষম হয় সিলেট। শেষ ওভারে আকিফ জাভেদের বোলিংয়ে জোন্স ও জাকের ৪টি ছক্কা হাঁকান। অন্যদিকে রংপুর রাইডার্সের হয়ে সবচেয়ে দক্ষতার সঙ্গে বল করেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। নিজের চার ওভারে ৩১ রান দিয়ে দুটি উইকেট তুলে নেন তিনি।
অপর পক্ষে ব্যাটসম্যান আজিজুল হাকিমকে শূন্য রানে হারায় রাইডার্স। তবে অ্যালেক্স হেলস এবং সাইফ হাসান তাদের বড় অঙ্কের মোট রান তুলে মূল ভিত্তি গড়েন।
অ্যালেক্স ১০টি চার ও ৭টি ছক্কায় ৫৬ বলে ১১৩ রান এবং সাইফ ৪৯ বলে ৩টি চার ও ৭টি ছক্কায় ৮০ রান করেন।
তাদের ব্যাটিং দক্ষতা পুরো রান সংগ্রহ করার সময় কাঙ্ক্ষিত হার নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল। ১৮তম ওভারে সাইফ আউট হলেও লক্ষ্যে পৌঁছানোর দূরত্বে ছিল রংপুর রাইডার্স।
রাইডার্স ১৯ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। ২ উইকেটে ২১০ রান তুলে নেয়। ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরির জন্য ম্যাচসেরা হয়েছেন অ্যালেক্স হেলস।
আরও পড়ুন: বিপিএল: রংপুরের বিপক্ষে বড় স্কোর সিলেটের
৫২৯ দিন আগে