সমাজে শিক্ষকদের মর্যাদা রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সবচেয়ে মেধাবীরা যাতে শিক্ষকতাকে কর্মজীবনের প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নেন, সে জন্য শিক্ষকতাকে আকর্ষণীয় ও প্রতিযোগিতামূলক পেশায় পরিণত করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকতা কখনোই শেষ ভরসার পেশা বা আর দশটি সাধারণ চাকরির মতো হতে পারে না। সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকলে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বাড়ে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা, সম্মান ও মর্যাদা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষাব্যবস্থাকে সরকার এমনভাবে ঢেলে সাজাচ্ছে, যাতে সবচেয়ে মেধাবী ব্যক্তিরা শিক্ষকতাকে তাদের পেশাজীবনের প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নিতে আগ্রহী হন।
তারেক রহমান জানান, সরকার এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে কোনো শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকবে না। কেউ যদি কোনো কারণে শিক্ষাজীবনের যেকোনো পর্যায়ে ঝরে পড়ে, তবুও যেন বেকার না থাকে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
শিক্ষকদের বেতন বা অবসরকালীন সুবিধা পেতে যেন বারবার সরকারি দপ্তরে যেতে না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেও তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘বেতন বা অবসরকালীন সুবিধার জন্য একজন শিক্ষককে এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরে কষ্ট করতে হবে না। নিয়ম অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য অর্থ যথাসময়ে ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ আলোচনা অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের মর্যাদা, অধিকার, পেশাগত উন্নয়ন এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ বছর ‘শিক্ষকদের পাশে থাকা, পেশার সুরক্ষা, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার ৬০ বছর’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের ১০২ জন বিশিষ্ট শিক্ষকের হাতে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ তুলে দেন।
রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের আমন্ত্রণ
প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, এ বছর থেকে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অন্তত একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে আমন্ত্রণ জানানো নিশ্চিত করতে হবে।
এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অতিথির তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কর্মরত কিংবা অবসরপ্রাপ্ত—যে অবস্থাতেই থাকুন না কেন, শিক্ষকতা পেশার মর্যাদার কারণে শিক্ষকদের রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্মান জানানো উচিত।
তারেক রহমান জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে শিক্ষকদের উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, পরিবারের পর শিক্ষকরাই শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
অনুষ্ঠানে সম্মাননা পাওয়া গুণী শিক্ষকদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের ‘প্রয়োজন ও প্রিয়জন’ হয়ে উঠতে হবে।