পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ও ভালো কার্যকর সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ। সংলাপের দরজা সবসময় খোলা থাকবে বলেও জানান তিনি।
সিলেটে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ইমজা) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ভারতের সঙ্গে হাজারো সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে, কিন্তু সংলাপ ও আলোচনার দরজা সবসময় খোলা থাকবে। সেটি খোলা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ক্ষেত্রেই পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং নীতিগুলো পরস্পরের সঙ্গে জড়িত ও আন্তঃসম্পর্কিত।
হুমায়ুন কবির বলেন, একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। বিশেষ করে আমরা যে পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছি, তার ক্ষেত্রে এগুলোকে সমন্বিত করতে হবে এবং পরস্পরের পরিপূরক হতে হবে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে পররাষ্ট্রনীতি শুধু বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয় নয়। অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য শক্তিশালী সম্পৃক্ততার ক্ষেত্র থাকা প্রয়োজন।
ভারতের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কারণ বাংলাদেশে মানুষ হত্যার পর দেশ ছেড়ে পালানো ‘সন্ত্রাসীরা’ ভারতে অবস্থান করছে।
তিনি আরও বলেন, ভারত যদি তাদের জায়গা দেয়, তাহলে তা বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতির বিরুদ্ধে যাবে। বিষয়টি মোকাবিলার জন্য এটি চাপ সৃষ্টি করবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সম্পৃক্ততা জাতীয় স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে এবং জনগণের স্বার্থে পরিচালিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে এ পর্যন্ত দুবার সাক্ষাৎ করেছেন হুমায়ুন কবির। ভারতকে পরিস্থিতি বুঝতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি তার (দূতের) সঙ্গে দুবার সাক্ষাৎ করেছি। তিনি চেষ্টা করছেন, কিন্তু কোথাও গিয়ে আটকে যাচ্ছেন।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড থামানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ভারতে তিনি ব্যক্তিগত না কি সরকারি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন, সেটি প্রাসঙ্গিক নয়। তাকে জায়গা দেওয়া একটি খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরি করছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির জানান, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনের আগে এ ধরনের সফরের সম্ভাবনা খুবই কম।
তিনি বলেন, উপযুক্ত সময় হলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন। তবে ইউএনজিএ অধিবেশনের আগে এ সফরের সম্ভাবনা খুবই কম, কারণ তিনি সেখানে অংশ নেবেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। মাসের শেষ দিকে বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে অংশ নিতে বিশ্বনেতারা নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে জড়ো হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ভারত শিগগিরই ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজন করবে। এক ভারতীয় সাংবাদিক জানতে চেয়েছিলেন, সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশ নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তা জানানো হয়েছে কি না এবং তিনি অংশ না নিলে সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব কে করবেন।
গতকাল (শুক্রবার) নয়াদিল্লিতে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণের বিষয়ে জানানোর মতো কোনো হালনাগাদ তথ্য তার কাছে নেই।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত ভারত সফরের তারিখ এখনও চূড়ান্ত না হলেও এ বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
শুক্রবার প্রতিমন্ত্রীর কর্মসূচিতে সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠার পর এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। হজরত শাহজালাল মাজারে রাজনৈতিক কর্মীরা কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে হয়রানির করেছেন বলে অভিযোগ ওঠার পর শুক্রবার সিলেটের টেলিভিশন সাংবাদিকরা প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় বিএনপির সংবাদ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার সিলেট সফরে গিয়ে হুমায়ুন কবির জুমার নামাজের পর মাজারে দোয়া করেন।
বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, অতীতে জ্বালানি খাতে দুর্নীতির মাত্রা বুঝতে হলে এ খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতির দিকে তাকালেই তা বোঝা যাবে। বর্তমান সরকার জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মক্কা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং বাংলাদেশের এই চুক্তিতে যোগ দেওয়া অস্বাভাবিক কিছু হবে না।
তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশই একাধিক নিরাপত্তা জোটের অংশ। জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে প্রয়োজন, বাংলাদেশ সেখানেই যোগ দেবে।
বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে হুমায়ুন কবির জানান, বাংলাদেশকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কিনতে কেউ চাপ দিচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কিনছে, কারণ এর প্রয়োজন রয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও উড়োজাহাজ কেনা হতে পারে বলেও জানান তিনি।