চার সপ্তাহের জন্য সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নির্বাচন স্থগিতের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন হাইকোর্ট।। এর আগে গতকাল রবিবার রিটটি করেছিলেন স্বতন্ত্র সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ।
এদিকে, নির্বাচন স্থগিতে হাইকোর্টের রায়ের খবর শোনার পর বিক্ষোভ শরু করেন শিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে ও সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন।
দুপুরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ শুরু করেন। এ সময় তারা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।
তারা বলেন, নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিটকারী প্ররোচনার শিকার। তিনি রিট করে সকলের কাছে হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছেন। আমরা নির্বাচন যথাসময়েই চাই। নির্দেশনা আসা না পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।
সড়ক অবরোধের কারণে সিলেট–সুনামগঞ্জ মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে।
বিকেল সাড়ে ৩টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তারা অবরোধ অব্যাহত রেখেছেন।
গতকাল (রবিবার) শাকসু নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।
রিটে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত রাখার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা রয়েছে এবং সে নির্দেশনার আলোকে শাকসু নির্বাচন আয়োজন আইনসম্মত নয়।
শাকসু নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের বিভিন্ন পদে মোট ৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে চারজন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে সাতজন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে চারজন প্রার্থী রয়েছেন।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদে মোট ২৩টি পদ রয়েছে। অপরদিকে হল সংসদে পদ সংখ্যা ৯টি।
এদিকে, প্রার্থীদের প্রচারণার সময়সীমা ১২ ঘণ্টা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে শাকসু নির্বাচন কমিশন।
গতকাল সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন দেশের সব নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ায় শাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের প্রচারণায় বিঘ্ন ঘটে। পরে ১৫ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে শাকসু নির্বাচন আয়োজনের অনুমতি দেয়।
প্রার্থীদের প্রচারণার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রচারণার শেষ সময় বাড়িয়ে ১৮ জানুয়ারি রাত ৯টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচারণা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কয়েকজন প্রার্থীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সময় বাড়ানো হয়।
সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রার্থীরা আজ (সোমবার) সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রচারণা চালাতে পারবেন। আগামীকাল ২০ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে শাকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।