বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেন নিরাপদে পার হতে পারে, সেজন্য ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খতিবজাদেহকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) তুরস্কের আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামের পার্শ্ববৈঠকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এ আহ্বান জানান।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন এবং রবিবার রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে জানান, পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ (সোমবার) জানিয়েছে, এই বিষয়ে দুই নেতা নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করবেন। ড. খলিলুর বর্তমানে বেলজিয়ামের ব্রাসেলস সফর করছেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষই উপসাগরীয় অঞ্চলের উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী চলমান ঘটনাবলি নিয়ে বাংলাদেশের ধারাবাহিক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সব পক্ষকে সংযম, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের গঠনমূলক অবস্থানের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে তেহরান সফর করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ বাংলার জয়যাত্রাকে নিরাপদে যাতায়াতের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে কাজে লাগানোর জন্য ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ইরান যখন জাহাজ হরমুজ পাড়ি দেওয়ার অনুমতি পাওয়া ছয়টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল, তখন আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ ছিলাম।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি অনুসরণ করেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ থাকলেও ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ৫ এপ্রিল ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বাংলার জয়যাত্রার পাশাপাশি অপরিশোধিত তেল বহনকারী বাংলাদেশগামী আরেকটি জাহাজের নিরাপদ যাত্রার সুবিধার্থে অনুরোধ করেন। প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রদূত জানান, এ বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যথাযথ পর্যায়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
বর্তমান সংকটে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের প্রশংসা করেন তিনি। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পরে ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে শোকপ্রস্তাব গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. নজরুল ইসলামকে ইরান দূতাবাসে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করার জন্য পাঠানোর জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।
ইরানি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ইরানে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর ব্যবস্থা করায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি প্রশংসা জ্ঞাপন করেন।
ওই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর উল্লেখ করেন, তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি দাপ্তরিক চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে ইরান থেকে আজারবাইজানে নিরাপদে সরিয়ে নিতে ইরান সরকারের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।