হিমবাহ ধসে কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও কাদার স্রোতে নেপাল-চীন সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় নিহত বেড়ে ৩৫৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আরও ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট প্রবল পানি ও কাদার স্রোত কয়েকটি জনপদে আঘাত হানে। এতে নেপালের পাশাপাশি তিব্বতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
নেপাল পুলিশের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্যায় ৩৫৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া আরও অন্তত ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সেই সঙ্গে তিব্বতে আরও তিনজন নিহত হয়েছেন এবং সেখানে নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৫৫৮ জন।
ড্রোনের মাধ্যমে ধারণ করা ভিডিওতে নেপালের ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা উঠে আসে। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, প্রাণ বাঁচাতে পালানোর সময় বন্যার পানির স্রোতে মানুষ ভেসে যাচ্ছে এবং ভবন ও সেতু ধসে পড়ছে।
নুয়াকোট জেলার সোলি গ্রামের প্রায় ২৫টি বাড়ি নিয়ে গঠিত জনপদটি প্রায় পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কাঠমান্ডুভিত্তিক সাংবাদিক নিরাজন পৌডিয়াল। তার বাবা-মা ও স্বজনরা ওই গ্রামে থাকেন। পরিবারের খোঁজ নিতে আজ বৃহস্পতিবার তিনি সেখানে গেছেন।
পৌডিয়াল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তাদের কোনো খবর নেই। আশঙ্কা করছি, আর কোনো খবর পাওয়া যাবে না।’
বৈশ্বিক উষ্ণায়নে হুমকিতে হিমালয় অঞ্চলের জনপদ
ভারত, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশজুড়ে বিস্তৃত হিমালয় পর্বতমালায় বিশ্বের অনেক উঁচু শৃঙ্গ ও হিমবাহ রয়েছে। পর্বতমালার খাড়া ঢাল ও নিচের সবুজ উপত্যকাগুলো বন্যা, ভূমিধস ও চরম আবহাওয়ার জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বাড়ায় হিমবাহ গলে যাওয়ার ঘটনাও বেড়েছে। কাঠমান্ডুর গবেষকেরা চলতি বছরের শুরুতে দেখতে পান, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহগুলো দ্রুত গলছে এবং ২০০০ সালের পর থেকে বরফ গলার হার দ্বিগুণ হয়েছে।