লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণের একটি মহাসড়কে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে এক নারী ও তার দুই সন্তানও রয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৩ মে) তিনটি গাড়িতে এ হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননেরর কয়েকটি এলাকায় হিজবুল্লার অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, মহামলার কয়েক ঘণ্টা আগে তারা দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এদিকে, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ওয়াশিংটনে আরেকটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে এই প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ভালো করার জন্য চাপ দিচ্ছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে দেশটিতে ইসরায়েলর তিনটি হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে মহাসড়কে চালানো এ হামলায় কোন গাড়িতে কতজন নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, বুধবার ইসরায়েলি তিনটি ড্রোন হামলার মধ্যে দুটি হামলা বৈরুত থেকে দক্ষিণের একটি মহাসড়কে চালানো হয়। মহাসড়কটি বৈরুতের সঙ্গে বন্দরনগরী সিডনকে সংযুক্ত করেছে। অপরদিকে, তৃতীয় হামলাটি সাদিয়াত শহরের ব্যস্ত মহাসড়কে চালানো হয়।
এ ছাড়াও, সিডনের উত্তরে বুধবার দুপুরের দিকে আরেকটি হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। সে সময় তারা একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক আলোকচিত্রী লেবাননের উপকূলীয় শহর বারজা ও জিয়েহর কাছে এই দুটি হামলায় নিহত তিনজনের মরদেহ দেখতে পেয়েছেন।
এদিকে, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারাও ইসরায়েলের দিকে হামলা চালাচ্ছে।
গত ১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-হিজবুল্লার মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
সর্বশেষ ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধ শুরু হয় ২ মার্চ। এর দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এরপর হিজবুল্লা উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা শুরু করে।
লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরেদ্দিন স্থানীয় সময় গতকাল (মঙ্গলবার) সাংবাদিকদের জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৩৮০ জন নিহত এবং ১ হাজার ১২২ জন আহত হয়েছেন।
এ নিয়ে যুদ্ধ শুরু সময় থেকে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৮২ জনে। এর পাশাপাশি আহত হয়েছেন ৮ হাজার ৭৮৬ জন।