ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অস্থিতিশীল যুদ্ধবিরতি রক্ষা এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের পথ প্রশস্ত করতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পৌঁছেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই এ ধরনের প্রথম বৈঠক।
শনিবার (১১ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি আলোচনা বেশকিছু বাধার সম্মুখীন হয়েছে। কারণ, দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি বোমাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে এবং ইরান আলোচনার আগে কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে।
শনিবার ভোরে ইরানের প্রতিনিধিদলটি দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফের নেতৃত্বে ইসলামাবাদে পৌঁছায়। কালিবাফ এক্সে জানিয়েছেন, লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের আটকে থাকা সম্পদ ফেরত দিলেই কেবল আলোচনা সম্ভব।
কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভ্যান্সের সাফল্য কামনা করে বলেন, দেখা যাক কী হয়। ওরা (ইরান) সামরিকভাবে পরাজিত।
আজ (শনিবার) ইসলামাবাদের ব্যস্ত সড়কগুলো জনশূন্য ছিল। কারণ আলোচনার আগে পাকিস্তানের নিরাপত্তাবাহিনী রাস্তাগুলো বন্ধ করে দিয়েছে।
মার্কিন প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়েছে পাকিস্তান
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি মার্কিন প্রতিনিধিদল ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন।
ইসহাক দার আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় মার্কিন প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পক্ষগুলো গঠনমূলকভাবে আলোচনায় বসবে। সেই সঙ্গে সংঘাতের একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা সহজতর করার জন্য পাকিস্তানের আকাঙ্ক্ষা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৩
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ প্রদেশের মাইফাদুন শহরে একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের একটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে রকেট ছোড়ার দাবি করেছে।
ইসলামাবাদে জেডি ভ্যান্সের আগমন
জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার।
পাকিস্তানে রওনা হওয়ার আগে ইরানকে সতর্ক করে ভ্যান্স বলেছিলেন, তারা যেন আমেরিকার সঙ্গে খেলা না করে।
জবাবে কালিবাফ শর্ত দিয়েছেন যে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি না হলে আলোচনা হবে না।
অন্যদিকে, ইরানি প্রতিনিধিদলটির আজ দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
এর আগে, শুক্রবার রাতে তারা সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি ঘটানো।
অত্যাধুনিক মিডিয়া সেন্টার স্থাপন
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা প্রচার করতে আসা দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য জিন্নাহ কনভেনশন সেন্টারে উচ্চগতির ইন্টারনেটসহ একটি অত্যাধুনিক মিডিয়া সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান থেকে আসা সাংবাদিক ও কর্মকর্তাদের জন্য ‘ভিসা-অন-অ্যারাইভাল’ সুবিধাও ঘোষণা করেছে পাকিস্তান।
যুদ্ধ বন্ধের এই আলোচনার আগে ইসলামাবাদের রাস্তাঘাট পুরোপুরি জনশূন্য। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের বাড়ির ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়ায় শহরটিতে অনেকটা কারফিউর মতো পরিবেশ বিরাজ করছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, সংঘাতটি একটি কঠিন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। কারণ পক্ষগুলো লড়াইয়ের সাময়িক বিরতি থেকে একটি আরও স্থায়ী সমাধানের দিকে এগোচ্ছে। তিনি এই সময়টিকে ‘হয় জয়, না হয় পরাজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।