বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকারের নিজ দায়িত্বে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা উচিত। তার ওপর যে রায় হয়েছে এবং যেসব বিচারিক প্রক্রিয়া অপেক্ষমাণ রয়েছে, সেগুলোর মুখোমুখি তাকে হতে দেওয়া উচিত।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বাগেরহাট সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ ও তার সঙ্গী-সাথীদের তাদের দলে (জামায়াতে) নিতে গেলে অবশ্যই কেন্দ্রের অনুমতি নিতে হবে। কেন্দ্রের অনুমতি ছাড়া কাউকে দলে নেওয়া যাবে না। আমাদের কাছে কেউ অনুমতি চায়নি। অতএব কাউকে তাদের দলে নেওয়া হয়নি। আমরা মনে করি না, এখনই আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে আসার উপযুক্ত।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের রাজনীতি হত্যা করেছে। তারা দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে, অসংখ্য মায়ের বুক খালি করেছে। অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছে। গুম হওয়া মানুষদের সবাই এখনও ফিরে আসেনি। এ অবস্থায় খোলস বদল করে আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতিতে চলে আসবে। এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ দুঃখ প্রকাশ করেনি। তাদের মধ্যে অনুশোচনা নেই। পাশের দেশ থেকে উসকানি অব্যাহত রেখেছে। দল ভারী করার জন্য তাদের (আওয়ামী লীগকে) রাজনীতিতে সামিল করলে তা হবে অন্যায়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, সরকারের নিজ দায়িত্বে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা উচিত। তার ওপর যে রায় হয়েছে এবং যেসব বিচারিক প্রক্রিয়া অপেক্ষমাণ রয়েছে, সেগুলো তাকে ফেস করতে দেওয়া উচিত। বিচার হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে। আমরা অন্যায্য বিচার চাই না।
তিনি বলেন, সংসদে কৌশলগত বিষয় এলে সরকার বিরোধী দলকে সহজে কথা বলতে দেয় না। সংসদে পদ্ধতিগতভাবে কথা বলতে গেলে মাঝে মধ্যে বাধাগ্রস্ত হতে হয়। তবে সে দাঁড়িয়ে গেলে স্পিকার তাকে বাধা দেন না। তিনি আশা করেন, সরকার এই বাধা তুলে নেবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে নানান সমস্যা আছে। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে দেশের জনগণ সরকারি দলের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। জনগণ পাঁচ বছর সরকারি দল এবং বিরোধী দলের কার্যক্রম বিবেচনায় নেবে। পাঁচ বছর পরে জনগণ বিচারের রায় প্রদান করবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজনীতিতে আসলে শারীরিক ব্যায়ামের জায়গা নেই। দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে রাজনীতিতে মাসল পাওয়ারের ব্যবহার দেখে আসছি। রাজনীতি হচ্ছে নীতির রাজা, এখানে শারীরিক কসরতের জায়গা নেই। বুদ্ধি-বিবেচনা করে রাজনীতি করতে হয়। রাজনীতির উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে সেবা দেওয়া।
তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনের পর দেশে জামায়াতের চারজন খুন হয়েছেন। সুন্দর বাংলাদেশ আমাদের পেতেই হবে। তা না হলে রাজনীতিতে আমাদের ব্যর্থতাই প্রমাণিত হবে। দেশে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সরকারি দলের। দায়িত্বশীল ভূমিকা তাদেরকেই পালন করতে হবে। সরকারি দল যত আন্তরিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেবে, দেশ তত সুন্দরভাবে চলবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল হিসেবে যেখানে সহযোগিতা করা দরকার সেখানে সহযোগিতা করে থাকি। আর যেখানে বিরোধিতা করা দরকার সেখানে বিরোধিতা করি।
জামায়াত আমির বলেন, সরকারি দল সরকার পরিচালনা করলেও দেশের সমস্ত মানুষ সরকারকে ভোট দেয় না। মানুষ তার পছন্দমতো ভোট দেয়। এটাই গণতন্ত্রের ভাষা। এ সময় মিডিয়া পুরোপুরি স্বাধীন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিডিয়া পুরোপুরি স্বাধীন হওয়া উচিত।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাগেরহাট জেলা শাখা এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিমি এতে সভাপতিত্ব করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, খুলনা অঞ্চল পরিচালক ও সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, জামায়াত নেতা বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম প্রমুখ।