ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গরুচোর সন্দেহে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে হাবিব নামে এক ব্যক্তি নিহত ও সুমন নামে আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় ২ শতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে এ ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা করা হয়। কালীগঞ্জ থানার বারোবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে মামলা দুটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ।
পুলিশ সূত্র জানায়, গরু চুরির অভিযোগে প্রথম মামলাটি করেছেন গরু চুরিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাদুরগাছা গ্রামের বিধবা নিলুফা ইয়াসমিন। এতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সংঘবদ্ধ পিটুনিতে গুরুতর আহত সুমনের ভাই ও যশোর শহরের আরাপপুরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন বাদী হয়ে দুই শতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলাটি করেছেন।
উল্লেখ্য, গেল শুক্রবার ভোর রাতে বাদুরগাছা গ্রামের বিধবা নিলুফা বেগমের বাড়িতে গরু চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হন হাবিব ও সুমন। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের একটি বাঁশের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করে।
সংঘবদ্ধ পিটুনির একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই হাবিবের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ শনিবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একই সঙ্গে মুমূর্ষু অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলা ও তদন্তের বিষয়ে এসআই আবুল কালাম আজাদ জোড়া মামলার তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, ‘দুই শতাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নামে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করবে।’