দিনাজপুরে শখের মোটরসাইকেল কেড়ে নিল কিশোর জাবির খালেদ ও তার বন্ধু রিয়াদ হোসেন নামের দুই যুবকের প্রাণ। সম্পর্কে তারা পরষ্পরের বন্ধু ছিলেন।
শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যার দিকে দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কের ফতেজংপুর ইউনিয়নের চাম্পাতলী এলাকায় দশমাইল হাইওয়ে পুলিশ থানার পশ্চিম পাশে গাড়োডাঙ্গি সেতুর ওপর এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জাবির খালেদ (১৮) চিরিরবন্দরের বাসিন্দা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক (সার্জন) ডা. আশরাফ খালেদ সাগরের একমাত্র ছেলে। আর রিয়াদ হোসেন চিরিরবন্দরের তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর শাহাপাড়ার দুলাল হোসেনের ছেলে। তারা দুজনই চিরিরবন্দরের আমেনা বাকী মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যার দিকে গাড়োডাঙ্গি সেতুর ওপর একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় মোটরসাইকেলচালক জাবির খালেদ এবং আরোহী রিয়াদ হোসেন গুরুত্বর আহত হন। সৈয়দপুরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উভয়কে রংপুরের ডক্টরস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নিহতদের স্বজনরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পছন্দের মডেলের মোটরসাইকেল কেনার আবদার করে আসছিলেন খালেদ। মোটরসাইকেলটি কেনার পর সেটির চাবির একটি ছবি আলহামদুল্লিলাহ লিখে গত বছরের ২২ মে নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ারও করেছিলেন তিনি। গতকাল বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে সৈয়দপুরের দিকে রওনা দিয়েছিলেন খালিদ। পথিমধ্যে গতি হারিয়ে একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে সংঘর্ষে সব কিছু শেষ হয়ে যায়।
দশমাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নির্মল চন্দ্র মোহন্ত জানান, দুর্ঘটনার কারণে প্রাইভেটকারের চালককে আটকসহ জব্দ প্রাইভেটকার চিরিরবন্দর থানা পুলিশে তুলে দিয়েছেন তারা।
চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুন নবী জানান, দুর্ঘটনায় মৃত্যুর বিষয়ে নিহত রিয়াদ হোসেনের চাচা আতাউর রহমান বাদী হয়ে গতকাল (শনিবার) রাত ১২টার দিকে প্রাইভেট কারচালক ফটিক রায় সুমনকে (২২) আসামি করে একটি মামলা করেছেন।