পদোন্নতির দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত রেখে কর্মবিরতিতে নেমেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকরা। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষাসহ অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমেও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর আগে গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যায় ১০২ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক মুস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, ২৪ জন শিক্ষকের পদোন্নতির সুপারিশ দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়ন না হওয়ায় অসন্তোষ বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে এক শিক্ষক আমরণ অনশনে বসেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য আইনি জটিলতা এড়াতে এবং দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শিক্ষকরা কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে দ্রুত দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
একাধিক শিক্ষক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেট অনুমোদিত বিধিবিধি অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে আসছে যা দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পদোন্নতি ও পর্যায়োন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট সব বিধি যথাযথ কর্তৃপক্ষ, অর্থাৎ চ্যান্সেলরের অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর করতে হবে। এই নির্দেশনার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান অ্যাকাডেমিক কাঠামো ও কার্যক্রম আইনি অনিশ্চয়তায় পড়েছে বলে দাবি শিক্ষকদের।
তাদের মতে, চ্যান্সেলরের অনুমোদিত সংবিধি ও বিধি না থাকলে শিক্ষাক্রম নির্ধারণ, পরীক্ষা গ্রহণ এবং ডিগ্রি প্রদানও আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
শিক্ষকরা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের মধ্যে অধিকাংশ বিভাগেই একাধিক ব্যাচে পাঠদান চলছে, অথচ অনেক বিভাগে মাত্র তিন থেকে চারজন শিক্ষক কর্মরত আছেন। একইসঙ্গে ৫১টি শূন্যপদ দীর্ঘদিন ধরে পূরণ না হওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম চাপের মধ্যে রয়েছে। খণ্ডকালীন শিক্ষকদের ভাতা বন্ধ থাকা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম বলেন, যে নিয়মে শিক্ষকেরা পদোন্নতি চাচ্ছেন, তাতে ইউজিসির আপত্তি রয়েছে। ইউজিসি জানিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিন্ন নীতিমালার আওতায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে হবে। ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত পত্র দিয়েছে ইউজিসি।
তিনি আরও বলেন, ‘অভিন্ন নীতিমালা দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় অভিযোজন করেছে। যে তিনটি করেনি, তার মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। আমরাও অভিযোজন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ করছি। এটা হয়ে গেলে তারা যোগ্যতা অনুযায়ী পদোন্নতি পাবেন। তাছাড়া শিক্ষকদের সঙ্গে আমার মিটিং হয়েছে। মিটিংয়ের রেজুলেশন হাতে পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারব।’
তাই অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়, এমন কাজ না করে সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান উপাচার্য।