জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০১৪ সালে ময়মনসিংহের ফুলপুরে কৃষক আশ্রাব আলী হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং আরও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন— ফুলপুর উপজেলার দেওখালী গ্রামের নূর হোসেন (৫৭), নূর হোসেনের ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (৩২) ও সোহরাব আলীর ছেলে সহিদুল (৩৭)। তাদের ৩০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সোহরাব আলী (৬২), তার স্ত্রী স্বরূপা খাতুন (৫৭) ও নূর হোসেনের স্ত্রী রেহেনা খাতুনকে (৫৪) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, বাদী ও আসামিরা প্রতিবেশী। জমিজমা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল। ২০১৪ সালের ১৮ জানুয়ারি ঘটনার দিন সকালে অভিযুক্তরা পুর্বপরিকল্পিতভাবে আশ্রাব আলীর ওপর চড়াও হন এবং গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে আসামি সোহরাব আলীর হুকুমে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কৃষক আশ্রাব আলীর ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পরের দিন নিহত আশ্রাব আলীর ছেলে জুলহাস উদ্দিন ছয়জনকে আসামি করে ফুলপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় তদন্ত, ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ, জেরা আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করে নূর হোসেন, সহিদুল ও উজ্জল মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। এই রায়ে অভিযুক্ত সোহরাব আলী, স্বরূপা খাতুন ও রেহানা খাতুনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামালায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আকরাম হোসেন এবং আসামি পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট এএইচএম খালেকুজ্জামান।