লালমনিরহাটে দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি হয়েছে। এ সময় একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং দুজন আহত হন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত দেড়টার দিকে জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে জেলা বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ ঘটনা ঘটে।
জেলা বিএনপির সভাপতি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এছাড়া লালমনিরহাট-১ ও ২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান ও রোকন উদ্দিন বাবুলও উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, রোকন উদ্দিন বাবুল ও তার চাচাতো ভাই কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার পর তাদের দুজনের অনুসারীদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে এবং এ আসনের বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
নির্বাচনের সময় ধানের শীষের পক্ষে কাজ না করে গোপনে বিরোধিতা করার অভিযোগও ওঠে বিএনপির একটি অংশের বিরুদ্ধে। ওই অংশের নীরব বিরোধিতার পরও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন রোকন উদ্দিন বাবুল। এতে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব আরও প্রকট আকার ধারণ করে। তার পর থেকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিও পৃথকভাবে পালন করে আসছেন দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা।
গতকাল (রবিবার) জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় যোগ দিতে লালমনিরহাট আসেন। রাত ১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে তিনি জেলা বিএনপির আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
সভায় কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল ইসলাম সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের দলীয় কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত রোকন উদ্দিন বাবুলের অনুসারী ও সমর্থকরা তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং ওই নেতার বিরুদ্ধে ধানের শীষের বিরোধিতা করার অভিযোগ তোলেন।
একপর্যায়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। প্রধান অতিথি সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং জেলা বিএনপির সভাপতি ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর উপস্থিতিতেই অডিটরিয়ামজুড়ে হট্টগোল ও মারামারি শুরু হয়।
পরে আসাদুল হাবিব দুলুর দীর্ঘ চেষ্টা এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনার পর থেকে লালমনিরহাট জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে থমথমে অবস্থা ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে এ ঘটনার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন পলাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুর রহমান। আহত হন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামছুজ্জামান সবুজ ও একই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আখেরুজ্জামান স্বাধীন। হামিদুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী এক নেতা বলেন, পঞ্চগড়ের চেয়ে হাজারগুণ বড় হট্টগোল এখানে হয়েছে। যারা ধানের শীষে ভোট না দিয়ে বিরোধিতা করেছে তারা আজও দলীয় পদ নিয়ে সংসদ সদস্যের বিরোধিতা তথা উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা করছে। এদের কারণে দলীয় শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। যারা সংসদ সদস্যের বিরোধিতা করছে তারা নির্বাচনের সময়ও ধানের শীষের বিরোধিতা করেছে।
হামিদুর রহমানের ছেলে নাসির ইমতিয়াজ নিলয় বলেন, আমার বাবা অনেক অসুস্থ। তাকে কার্ডিওলজি বিভাগের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি মধ্যরাতে দলীয় কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় গিয়ে ধাক্কাধাক্কিতে অসুস্থ হয়েছেন। তিনি তার বাবার সুস্থতায় সবার কাছে দোয়া চান।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ জানান, জেলা বিএনপির মতবিনিময় সভায় উত্তেজনা হয়েছিল। তবে কী কারণে হয়েছে এ বিষয়ে আমাদের জানা নেই। খবর পেয়েই গিয়ে দেখি পরিবেশ শান্ত হয়ে গেছে। হামিদুর নামের একজন ধাক্কাধাক্কি আর চিৎকার-চেঁচামেচিতে অসুস্থ হলে আমাদের গাড়িতে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হককে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।