পৌষের তৃতীয় সপ্তাহে এসে দেশের উত্তরের জেলা নওগাঁয় শুরু হয়েছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় শীতের দাপট স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। সেইসঙ্গে কমছে তাপমাত্রাও। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি ) সকাল ৮টায় নওগাঁ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র; যা চলতি বছর নওগাঁ জেলায় এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ। এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রার পারদ নেমেছে ৪ দশমিক ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর থেকে ঘন কুয়াশার সঙ্গে তীব্র শীত অনুভূত হয়। রাতভর কুয়াশায় ঢেকে থাকে পথঘাট ও এলাকা। সকালে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা কমে যায় ঠান্ডার অনুভূতি। আজ সকাল থেকে নিরুত্তাপ সূর্যের দেখা মিলেছে। সূর্য উঠলেও হিমেল হাওয়ায় জনজীবন হয়ে ওঠেছে বিপর্যস্ত।
সদর উপলোর ডাক্তারের মোড় এলাকার আহসান হাবিব বলেন, দিনেরবেলা রোদ থাকায় শীতের তীব্রতা কিছুটা কম থাকে। কিন্তু সন্ধ্যা হলেই পরতে হয় শীতের কাপড়। ঘুমোতে গেলে ২-৩ টা লেপ-কম্বল ছাড়া উপায় থাকে না।
বরুনকান্দি এলাকার ভ্যানচালক আব্দুস সালাম বলেন, সন্ধ্যার পর ঠান্ডা বাতাস ও শীতের কারনে ভ্যান চালানো কষ্ট হয়ে যায়। আজ সূর্য উঠার আগ পর্যন্ত কুয়াশা ছিল। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত ভ্যান চালানোই কষ্ট। সকালে যাত্রীও পাওয়া যায় না।
নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবু জার গাফফার জানান, গত কয়েকদিন ধরে ঠান্ডাজনিত রোগে শিশু, মধ্য বয়সী ও বয়স্ক মিলে কয়েক শতাধিক রোগীর চিকিৎসা করা হয়েছে। আজ সকাল পর্যন্ত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও টিওপিডি রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় দুই শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছে।
নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আজ সকাল ৮টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গতকালের তুলনায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রা ৪ দশমিক ৩ ডিগ্রী কমে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।
নওগাঁয় শীতের প্রকোপ বাড়তে থাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহায়, গরিব ও দিনমজুরদের মধ্য শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করা হয়েছে।
নওগাঁ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আশেকুর রহমান জানান, প্রতিটি উপজেলায় অসহায়, ছিন্নমুল ও দিনমজুদের মাঝে গরমকাপড় বিতরণ করার জন্য ইতোমধ্যে ৬ লাখ টাকা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। এ খাতে জেলার ১১টি উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ৬৬ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ও জেলা পরিষদ থেকে ৩০ হাজার ৬০০ পিস কম্বল জেলায় বরাদ্দ এসেছে। ত্রাণ ও কম্বল বিতরণ এখনো চলছে।