সারাদেশ
টঙ্গীতে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলা, আটক ২৮
গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা। এ ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পৃথক অভিযানে মোট ২৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) টঙ্গীর বিভিন্ন স্থানে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এ অভিযান চালায়।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, গতকাল (বুধবার) রাতে টঙ্গী পূর্ব থানার কেরানীরটেক এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রুনা বেগমের বাসার সামনে ডিবি পুলিশ অভিযানে গেলে ১০-১২ জনের একটি দল পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ডিবি দক্ষিণের সহকারী কমিশনার আছাবুর রহমানের টিমের দুই সদস্য গুরুতর আহত হন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ৪টি সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে আটক করে।
এছাড়া, টঙ্গী পশ্চিম থানার হাজী মাজার বস্তি এলাকায় অপর এক অভিযানে আরও ২১ জন মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে আটক করেছে পুলিশ।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বেলায়েত হোসাইন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩৫ দিন আগে
শরিয়তপুরে নদীতে মাছ ধরতে নেমে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় কীর্তিনাশা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে রাজিব শেখ (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে নড়িয়া উপজেলার জপসা ইউনিয়নের মাইজপাড়া-সংলগ্ন নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাজিব ওই এলাকার হারুন শেখের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষিকাজ করতেন এবং অবসরে নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (বুধবার) দুপুরের দিকে হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে বৃষ্টি শুরু হয় এবং বজ্রপাত হয়। এ সময় রাজিব নদীতে মাছ ধরছিলেন। বজ্রপাতের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে এলেও তার প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
জপসা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দুলাল মকদম বলেন, ‘হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক উদ্ধার চেষ্টা করলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ূম জানান, বজ্রপাতে এই মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি বলেন, ‘তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে নিহতের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন শোকাহত পরিবারের পাশে রয়েছে।’
৩৫ দিন আগে
সাভারে জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ে বিপাকে পোশাক শিল্প
শিল্প অধ্যুষিত সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় পোশাক কারখানায় জ্বালানি তেলের সংকট, সীমাহীন লোডশেডিং ও মূল্য বৃদ্ধির কারণে স্থবিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে পোশাক কারখানাগুলোতে ব্যাপক লোডশেডিং ও জ্বালানি তেলের সংকটে উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। চলমান পরিস্থিতিতে কারখানাগুলোর উৎপাদন ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সাভারের হেমায়তেপুরে অবস্থিত পোশাক কারখানা একেএইচ গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম জানান, জ্বালানি সংকট ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং ব্যাপক লোডশেডিংয়ের জন্য প্রতিদিন গড়ে শতকরা ১০ শতাংশ উৎপাদন কম হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে পণ্য পরিবহনে। জ্বালানি সংকটের কারণে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
তিনি বলেন, পোশাক উৎপাদন কিছুটা কম হলেও সমস্যা নেই, কিন্তু উৎপাদিত পোশাক সময়মতো শিপমেন্ট না করতে পারলে বড় সমস্যা। জ্বালানি তেলের অভাবে সকালের পণ্যবোঝাই কাভার্ড ভ্যান বিকেলে পাঠাতে হচ্ছে। কোনো কোনো সময় পথেই তেল শেষ হওয়ায় কাভার্ড ভ্যান পথে আটকে যাচ্ছে। এ কারণে সঠিক সময়ে শিপমেন্ট করা যাচ্ছে না, ফলে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান তাদের ক্রয়াদেশ ধীরে ধীরে কমিয়ে দিচ্ছে।
বর্তমান এই সংকটের কারণে পোশাক কারখানাগুলোর ‘মহাবিপদের’ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পোশাক শিল্প খাত সচল রাখার জন্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
সাভার পৌর এলাকায় অবস্থিত বৃহত্তর শিল্প প্রতিষ্ঠান আল মুসলিম গ্রুপ এবং জে কে গ্রুপের কারখানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় নিজস্ব গ্যাসচালিত জেনারেটর দিয়ে তারা কারখানার যাবতীয় কাজ পরিচালনা করছে।
এ বিষয়ে জে কে গ্রুপের কারখানার মহাব্যবস্থাপক মাহবুব আলম জানান, জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের পোশাক কারখানায় উৎপাদন কম হচ্ছে। যেখানে প্রতিদিন ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হতো, সেখানে এখন ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। শুধু উৎপাদনই নয়, জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদিত পণ্য শিপমেন্টের জন্য চট্টগ্রামে পাঠাতে পণ্য বহনকারী কাভার্ড ভ্যান তেলের অভাবে পথিমধ্যে আটকে পড়ছে। ফলে সময়মতো পণ্য ডিপোতে পৌঁছাতে পারছে না। এ কারণে অনেক কারখানার মালিককে নিজ খরচে বিমানযোগে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে। এতে করে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ব্যাপক লোডশেডিংয়ের কারণে গ্যাস দিয়ে জেনারেটর চালাতে গিয়েও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পোশাক কারখানার মালিকরা।
কর্ণপাড়ার স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের স্টিচেস লিমিটেড পোশাক কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় তারাও নিজস্ব জেনারেটর দিয়ে কারখানার কার্যক্রম সচল রেখেছে।
ওই কারখানার প্রধান উৎপাদন পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এভাবে আর কয়েকদিন চলতে থাকলে কারখানা চালানো কষ্টকর হয়ে পড়বে। এ কারখানায় প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক রয়েছে। প্রতিদিন এখানে ১৫ থেকে ২০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হলেও এখন সেটা কমে ১০ হাজারে নেমে এসেছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক আকতার উজ্জামান লস্কর বলেন, চাহিদার চেয়ে বিদ্যুতের উৎপাদন কম হওয়ায় এবং চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের যোগান না পাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই উৎপাদন বাড়বে। এতে করে বিদ্যুতের সরবরাহ ঘাটতি পূরণ হবে।
৩৬ দিন আগে
গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ২০
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২০ যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে গোপালগঞ্জ-পিরোজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার মালেকের বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক শিপলু আহমেদ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, উপজেলার মালেক বাজার নামক এলাকায় পিরোজপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ইমাদ পরিবহনের একটি বাস অতিরিক্ত গতি নিয়ে ওয়েলকাম পরিবহনের অপর একটি যাত্রীবাহী বাসকে ওভারটেক করতে যায়। এ সময় ইমাদ পরিবহনের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে বাসটি ফেলে দেন। এতে বাসের অন্তত ২০ যাত্রী আহত হন।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
৩৬ দিন আগে
চট্টগ্রামে অতিবৃষ্টিতে দেওয়াল ধসে প্রাণ গেল নারীর
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে অতিবৃষ্টির কারণে দেওয়াল ধসে দেলোয়ারা বেগম (৬০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই শিশু আহত হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার শিকলবাহা মাস্টারহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল আলম আশেক এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত দেলোয়ারা বেগম ওই এলাকার মৃত ফজল আহমেদের স্ত্রী।
নিহতের স্বজনরা জানান, অতিবৃষ্টির কারণে রাস্তার পাশের একটি দেওয়াল ধসে পড়ে। এ সময় দেলোয়ারা বেগম দেওয়ালটির নিচে চাপা পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম বলেন, ‘দেওয়াল ধসে একজন নারীর মৃত্যু এবং দুই শিশু আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৩৬ দিন আগে
বাগেরহাটে স্বস্তির বৃষ্টি এলেও ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
বাগেরহাটসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে প্রচণ্ড তাপদাহের পর স্বস্তির বৃষ্টি ঝরেছে। প্রচণ্ড গরমের পর বৃষ্টিতে স্বস্তি এলেও পাকা বোরো ধান নিয়ে চাষিরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে শুরু হয়ে বেলা প্রায় সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বাগেরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় একটানা বৃষ্টি ঝরেছে। বৃষ্টিতে বাগেরহাট শহরের সাধনার মোড়, শালতলা, রাহাতের মোড়, খারদ্দারসহ শহর ও শরহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কে হাঁটু সমান পানি জমে যায়। বৃষ্টির সঙ্গে মাঝে মধ্যে দমকা বাতাসও বয়ে যায়।
কৃষিবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রচণ্ড গরমের পর বৃষ্টিতে স্বস্তি এলেও পাকা বোরো ধান নিয়ে চাষিরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। বৃষ্টিপাতের কারণে পাকা বোরো ধান ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষিবিভাগ এবং চাষিরা। দমকা বাতাসে বিভিন্ন এলাকায় জমিতে পাকা বোরো ধান হেলে পড়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান জমি ঘুরে দেখছেন।
এদিকে, বাগেরহাটের বিভিন্ন নদ-নদীতে জোয়ারে স্বাভাবিকের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর মোংলাসহ দেশের ৪টি সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বজায় রাখতে বলেছে। আবহাওয়া বিভাগ বলছে, আগামী কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আজ (বুধবার) দুপুর ১২টার দিকে বাগেরহাট শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, আকাশ অন্ধকারে আচ্ছন্ন। মুষলধারে বৃষ্টি ঝরছে। বিভিন্ন সড়কে বৃষ্টিতে হাঁটুসমান পানি জমে আছে। সেই সঙ্গে মাঝে মধ্যে দমকা বাতাস বয়ে যাচ্ছে। আবার আকাশে বিকট শব্দে বিদ্যুৎ চমকাতে শোনা গেছে। মানুষ বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলাচল করছে। শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ভৈরব ও দড়াটানাসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেলোয়ার হোসেন, আলমগীর শেখ, হোসনে আরা খাতুন এবং রোমেচা বেগমসহ শহরের বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড গরমে তারা কষ্ট পাচ্ছিলেন। আজকের বৃষ্টি তাদের মধ্যে অনেকটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। এখন গরমের তীব্রতা নেই। অনেকটা ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করছে।
বাগেরহাটের কচুয়া এবং মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকজন চাষির সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বৃষ্টিপাত এবং দমকা বাতাসের কারণে তাদের জমিতে পাকা বোরো ধানের অনেক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে জমিতে কেটে রাখা পাকা ধান পানিতে ডুবে গেছে। অনেক জমিতে আবার ধান ঝরে পড়ছে।
বাগেরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানান, বৃষ্টিপাত এবং দমকা বাতাসের কারণে পাকা বোরো ধান কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে কেটে জমিতে রাখা বোরো ধানের ক্ষতির আশঙ্কা বেশি। জেলা সদর, ফকিরহাট এবং মোল্লাহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানের জমি ঘুরে দেখছেন বলে তিনি জানান।
মোতাহার হোসেন আরও জানান, এ বছর জেলায় ৬৮ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। ১২ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার হেক্টর জমির ধান কেটে চাষিরা জমিতেই রেখেছেন। বৃষ্টিপাতের কারণে ওই সব ধানের বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উপপরিচালকের তথ্যমতে, বাগেরহাটে এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে ৫ দশমিক ৬ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু ফলন প্রতি হেক্টর জমিতে ৭ টন হয়েছে।
মোংলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হারুন অর-রশিদ জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুর থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ঝরলেও আজ সকালে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। এর পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল বিকেল ৩টা থেকে আজ বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোংলায় ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে। মাঝেমধ্যে দমকা বাতাস বয়ে যাচ্ছে। যার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৩৮ কিলোমিটারে বেগে বয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গত কয়েকদিন ধরে বাগেরহাট অঞ্চলে প্রচণ্ড গরম ছিল। তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি রের্কড করা হয়। বৃষ্টির পর গরমের তীব্রতা কমে গেছে। আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। মোংলাসহ দেশের চারটি সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত অব্যাহত রাখা হয়েছে। আজ মোংলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রের্কড করা হয়।
আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত বাগেরহাটের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন দেখা গেছে।
৩৬ দিন আগে
রাজশাহীতে স্বামীকে পিটিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় স্বামীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার সরদহ রেলস্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী দম্পতি ট্রেন ও স্টেশনে পপকর্ণ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঘটনার সময় তাদের পপকর্ণ বিক্রির টাকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী আজ (বুধবার) দুপুরে চারঘাট থানায় আশরাফুল ইসলাম (৩৫) নামে একজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। অভিযুক্তের বাড়ি উপজেলার হলিদাগাছী জাগিরপাড়া গ্রামে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে প্রতিদিনের মতো ট্রেনে পপকর্ণ বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে বের হন ওই দম্পতি। দিনভর বিভিন্ন স্টেশনে বিক্রি শেষে রাত ১টার দিকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেন থেকে সরদহ স্টেশনে নামেন তারা। পরে তারা স্টেশনসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান অভিযুক্ত আশরাফুল।
প্রথমে স্বামীকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করেন আশরাফুল। তার কাছ থেকে পপকর্ণ বিক্রির টাকা ছিনিয়ে নেন তিনি। সে সময় হামলাকারীর হাতে ছুরি দেখে প্রাণভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান ভুক্তভোগীর স্বামী। পরে আসামি ওই নারীকে ধরে পাশের জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী স্বামী জানান, হামলার সময় তিনি চিৎকার করলেও আশপাশের কেউ এগিয়ে আসেনি। প্রায় ৪৫ মিনিট পর স্থানীয় কয়েকজন তার চিৎকার শুনে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তিনি পাশের জঙ্গল থেকে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। এ সময় স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযুক্তের পরিচয় জানতে পারেন তিনি।
সরদহ স্টেশনের স্টেশনমাস্টার ইকবাল কবির জানান, গভীর রাতে স্টেশনের পাশে ঘটনাটি ঘটলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি তাদের নজরে আসেনি। পরে খবর পেয়ে পুলিশকে জানানো হয়। জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে।
চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক জানান, এ ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৩৬ দিন আগে
পটুয়াখালীতে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ৫ বসতঘর বিধ্বস্ত, ক্ষতিগ্রস্ত অর্ধশতাধিক
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কালবৈশাখী ঝড়ে অন্তত ৫টি বসতঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে উপড়ে পড়েছে শত শত গাছপালা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবাবগঞ্জ ও সলিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর কয়েক দফায় প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। এতে নবাবগঞ্জ গ্রামের মন্নান বয়াতি, মরিয়ম ও মাধবের বসতঘর এবং সলিমপুর গ্রামের নির্মল বিশ্বাস ও বিমল বিশ্বাসের বসতঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
এছাড়া লতাচাপলী, মহিপুর, ধুলাসার ও মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের বেশ কিছু ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে হতদরিদ্র পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে আহাজারি চলছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলায় ১৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাগর উত্তল রয়েছে। তবে মাছধরা ট্রলারগুলো নিরাপদে রয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের সহযোগিতার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’
৩৬ দিন আগে
নওগাঁয় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ আটক ৭
নওগাঁয় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ডাকাতদলের সাত সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র, একটি ট্রাকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নওগাঁ সদর মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
এর আগে আজ ভোরে সদর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের সাহাপুর এলাকার শহিদুল ইসলামের মিলের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন— জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার বাসিন্দা আজাহার আলী (৪৫), জাহাঙ্গীর আলম (৪৪), সৈকত হোসেন (৩০), আবু হোসেন (৩৫) ও হাসান আলী (৩০) এবং বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাসিন্দা রনি (৩২) ও হামিদুল ইসলাম (৩২)।
পুলিশ সুপার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সদর উপজেলার সান্তাহার-নাটোর সড়কে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র, ট্রাক ও অন্যান্য মালবাহী যানবাহন নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে সাহাপুর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তারা। তবে তাদের সাতজনকে আটক করা হয়। তবে তাদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন পালিয়ে যান।
অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র, রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি ট্রাক, একটি মোটরসাইকেল, একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান এবং আটটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
তিনি আরও জানান, আটকরা ডাকাত ও ছিনতাইকারী দলের সদস্য। রাস্তায় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের উদ্দেশে তারা একত্রিত হয়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তারা জয়পুরহাট ও বগুড়ায়সহ বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতি ও ছিনতাই করে আসছিলেন। এই আসামিরা আটক হওয়ায় সড়কে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, নওগাঁ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ ব্যানার্জি, উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমানসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৩৬ দিন আগে
নোয়াখালীতে স্কুলশিক্ষার্থী হত্যা মামলায় কোচিং শিক্ষকের মৃত্যুদণ্ড
নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিয়া হোসেন অদিতা (১৪) হত্যা মামলায় আসামি কোচিং শিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই অদিতাকে হত্যা করা হয় বলে আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম সিকদার এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. সেলিম শাহী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকায় নিজ বাসা থেকে স্কুলছাত্রী অদিতার গলা ও হাত-পায়ের রগ কাটা অবস্থায় রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনার দিন রাতেই অদিতার সাবেক কোচিং শিক্ষক স্থানীয় আব্দুর রহিম রনিকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন রনি।
গ্রেপ্তারের সময় রনির মাথা, ঘাড়, গলাসহ শরীরের একাধিক স্থানে অদিতার নখের আঁচড় দেখতে পায় পুলিশ। এমনকি তার পরিহিত জামায়ও রক্তের দাগও পাওয়া যায়। পরে রনির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা, বালিশসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করে পুলিশ।
চাঞ্চল্যকর এ মামলায় বাদীপক্ষের ৪১ জন সাক্ষী গ্রহণ করা হয়। আসামিপক্ষের পাঁচজন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্যও গ্রহণ করেন বিচারক।
হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে আসামির ফাঁসির দাবি জানায়। একইসঙ্গে স্থানীয় সচেতন মহল এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি তোলে।
তাসনিয়া হোসেন অদিতা নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার প্রয়াত রিয়াজ হোসেন সরকারের মেয়ে ছিল। তার মা রাজিয়া সুলতানা বেগমগঞ্জ উপজেলার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। রিয়াজ হোসেন সরকার ২০১২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় মারা যান। এরপর রাজিয়া সুলতানা দুই মেয়েকে নিয়ে লক্ষ্মীনারায়ণপুরের জাহান মঞ্জিলে থাকতেন।
ঘটনার দিন সকালে বাসা থেকে স্কুলে যায় অদিতা। দুপুর ১২টার দিকে প্রাইভেট পড়া শেষে সে বাসায় একা ছিল। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে ঘরের মূল দরজায় তালা দেখতে পান তার মা। তালা খুলে ভেতরে ঢুকে সামনের কক্ষে আলমারির জিনিসপত্র এলোমেলো দেখতে পান তিনি। সে সময় তিনি ঘরে অদিতাকে দেখতে পাননি। কিছুক্ষণ পর অন্য একটি কক্ষ খুলে মেয়ের বিছানায় তার গলা ও দুই হাতের রগ কাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।
রাজিয়া সুলতানা জানান, ঘটনার কিছুদিন আগে রনির কোচিংয়ে পড়া বন্ধ করে দিয়ে অন্য জায়গায় প্রাইভেট পড়তে শুরু করে অদিতা। এতে ক্ষিপ্ত হন রনি। যদিও বিষয়টি তাদের বুঝতে না দিয়ে অদিতাদের বাসায় বিভিন্ন সময় আসা-যাওয়া করতেন তিনি।
ঘটনার দিন অদিতার মা বাসায় না থাকার সুযোগে দুপুর ১২টা থেকে ২টার মধ্যে অদিতাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন রনি। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য ঘরে আলমারিতে থাকা মালামাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখেন তিনি।
ঘটনার পর পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে আব্দুর রহিম রনিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তদন্ত শেষে অন্যদের অব্যাহতি দিয়ে রনিকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।
রায় ঘোষণার পর নিহতের মা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মামলায় সহযোগিতাকারী আইনজীবী, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।
বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মোল্লা হাবিবুর রসুল মামুন। তিনি বলেন, এ রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির হিরু। তিনি রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, আসামিপক্ষ ন্যায়বিচার পাননি। তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
৩৬ দিন আগে