রাজনীতি
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত: ডা. জাহিদ
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে।
তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, 'ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) এখনও চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে সিসিইউ সুবিধাসহ একটি কেবিনে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে।’
তিনি বলেন, এরই মধ্যে হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: খালেদা জিয়াকে সিসিইউ সুবিধাসহ কেবিনে স্থানান্তর
বিদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে ড. জাহিদ বলেন, মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা তার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
গত ৮ জুলাই খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর ছয় দিন আগে একই হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল।
এর আগে গত ২২ জুন রাতে খালেদা জিয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন তার হৃদযন্ত্রে সফলভাবে পেসমেকার বসানো হয়।
৭৯ বছর বয়সি সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, হার্ট ও চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগের সঙ্গে লড়াই করছেন।
২০২০ সালে শর্তসাপেক্ষে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বাধীন মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে বেশ কয়েকবার হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
২০২১ সালের নভেম্বরে খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস ধরা পড়ার পর থেকে তার চিকিৎসকরা তাকে বিদেশে পাঠানোর পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন।
গত বছরের ২৬ অক্টোবর খালেদা জিয়ার পেট ও বুকে পানি জমে যাওয়া ও লিভারে রক্তক্ষরণ বন্ধে ট্রান্সজুগুলার ইন্ট্রাহেপ্যাটিক পোর্টোসিস্টেমিক শান্ট (টিপস প্রসিডিউর) নামে পরিচিত হেপাটিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন যুক্তরাষ্ট্রের তিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
আরও পড়ুন: মুক্ত খালেদাকে কীভাবে মুক্তি দেব, বুঝে উঠতে পারছি না: আইনমন্ত্রী
১০ দিন পর হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরছেন খালেদা জিয়া
৬৯০ দিন আগে
শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করবেন না, কোটা সমাধান আদালতের মাধ্যমেই হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সরকার শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়েই কোটা বাতিল করেছিল। আদালত সেটি পুনর্বহাল করেছে। সুতরাং কোটা সমাধান আদালতের মাধ্যমেই হতে হবে।
তিনি বলেন, 'এই বিষয়টি যারা বোঝেন না, বা বুঝেও বুঝতে চান না, যাদের বিএনপিসহ অন্যরা ইন্ধন দিচ্ছে, তাদের বলব, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করবেন না।'
শনিবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় বগুড়া শহরে পৌর অ্যাডওয়ার্ড পার্কের শহীদ টিটু মিলনায়তনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্লাটিনাম রজতজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতাদের সংবর্ধনা ও প্রয়াতদের মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়।
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কার নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রসঙ্গে মন্ত্রী বিশদ ব্যাখ্যা করে বলেন, কোটা সরকার পুনর্বহাল করেনি। সরকার বরং শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে কোটা বাতিল করেছিল। বাতিলের পর কোটাহীনভাবে সরকারি ও অন্যান্য চাকরিতে নিয়োগ হচ্ছে। হাইকোর্ট রায় দিয়েছে কোটা পুনর্বহালের জন্য। সুপ্রিম কোর্ট সেটি স্থগিত করেছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আদালতের রায়ের বিরূদ্ধে গিয়ে বা বিচারাধীন বিষয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। তাহলে আদালত অবমাননা হবে।
আরও পড়ুন: সবার সঙ্গে দেশের সুসম্পর্ক দেখে গাত্রদাহ হচ্ছে বিএনপির : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এসব বুঝেও যারা জনভোগান্তি ঘটাচ্ছেন, জনগণের ভোগান্তি যাতে না ঘটে, সেজন্য সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর। আশা করব শিক্ষার্থীরা সুপ্রিম কোর্টের রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।
ড. হাছান বলেন, বিএনপি স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক অপশক্তির তোষণ না করলে আওয়ামী লীগের ৭৫ বছরের দীপ্ত পথচলায় দেশ আরও এগিয়ে যেত। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশের বিরূদ্ধে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবে।
বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সংসদ সদস্য মজিবর রহমান মজনুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপুর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য এস এম কামাল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান ও ডা. মোস্তফা আলম নান্নু।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর সংক্ষিপ্ত হয়নি, কর্মসূচি অপরিবর্তিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
৬৯১ দিন আগে
শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে ধাবিত করার অপচেষ্টা করছে সরকার: মির্জা আব্বাস
বিএনপিকে জড়িয়ে শিক্ষার্থীদের কোটাবিরোধী আন্দোলনকে সরকার ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সরকারই এ আন্দোলন গড়ে তুলেছে কিনা, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
শনিবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন।
আব্বাস বলেন, ‘বিএনপির কথা বলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন অন্যদিকে নেওয়ার সুযোগ নেই। এটা তাদের (সরকার) অপকৌশল ছাড়া কিছুই নয়। মূলত কোটা আন্দোলনকে জড়িয়ে সরকার ভিন্ন কিছু করার পাঁয়তারা করছে।’
‘কোটা সংস্কার আন্দোলন শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি’ মন্তব্য করে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামিয়ে সরকার অন্য কোনো অপকৌশলে বা দেশের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র করছে কিনা, আমরা সেই আশঙ্কা করছি।’
আরও পড়ুন: চলমান আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছে বিএনপি, সরকারের এ অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন ফখরুল
এদিন আব্বাসের নেতৃত্বে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর মহানগর বিএনপির নবগঠিত আংশিক কমিটির নেতাকর্মীরা দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে যান। এরপর তারা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।
এসময় ঢাকা উত্তর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব, সদস্য সচিব আমিনুল হক এবং দক্ষিণ মহানগর শাখার আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু ও সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনসনসহ দলটির কয়েক হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্বাস বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের পতন নিশ্চিত করাই এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে। এই নৃশংস শাসন থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে।’
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের নবগঠিত কমিটির নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শপথ নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি, ‘বেগম খালেদা গুরুতর অসুস্থ। আমাদের নেত্রী যখন অসুস্থ, তখন সারা দেশ অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমরা আজ এই আশা নিয়ে (জিয়াউর রহমানের) কবর জিয়ারত করছি যে, জাতি ও দেশ অসুস্থতা থেকে মুক্তি পাক।’
আরও পড়ুন: শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে বিএনপি নৈতিক সমর্থন করে: ফখরুল
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অতীতে বিএনপির কোনো আন্দোলন ব্যর্থ হয়নি। সরকার বিএনপির আন্দোলনকে নস্যাৎ করে দেওয়ার জন্য মিথ্যা মামলা দিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে জেলে পাঠিয়েছে। তারপরও বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে আছে। এ সরকারের পতন ঘটানো পর্যন্ত তারা রাজপথে থেকে আন্দোলন করবে।’
বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে গত ৭ জুলাই ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ, চট্টগ্রাম ও বরিশাল মেট্রোপলিটন সিটি ইউনিটের আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে দলটি।
৬৯১ দিন আগে
আওয়ামী লীগ সরকার সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ডুবাচ্ছে: আমীর খসরু
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার জন্য সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগের দুঃশাসন ও রাজনীতির কারণে বাংলাদেশ সব দিক থেকে ডুবে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘দেশ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ডুবে গেছে। এখন দেখবেন ঢাকা শহর পানিতে ডুবে যাচ্ছে। আসলে এই ফ্যাসিবাদী সরকারের কারণেই বাংলাদেশ চতুর্দিকে ডুবছে।’
শুক্রবার (১২ জুলাই) এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ঢাকা শহরে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে কারণ এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের পর্যায়ে সক্ষম ও মেধাবীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয় না।
তিনি বলেন, ‘প্রশাসন যদি দলীয় লোকদের দ্বারা পরিচালিত হয়, তাহলে ঢাকা শহর ডুবে যাবে, পুরো বাংলাদেশ ডুবে যাবে।’
কয়েকটি বিরোধী দলের প্লাটফর্ম ‘গণতন্ত্র মঞ্চের’ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
উচ্চ আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু।
তিনি বলেন, ‘কোটা পদ্ধতি নিয়ে আমার অবস্থান পরিষ্কার। এই শাসকগোষ্ঠী বাংলাদেশের মেধাবীদের খাটো করতে চায়। আওয়ামী লীগ এভাবে শাসন করতে থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে মেধাবীদের কোনো সুযোগ থাকবে না, বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ারও কোনো সুযোগ থাকবে না।’
আরও পড়ুন: সরকারের দুঃশাসন দেশকে ধ্বংস করছে: ফখরুল
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে মেধাবী জাতি হিসেবে দেখে বলে মনে হয় না। ‘একটি ফ্যাসিবাদী সরকার একটি বুদ্ধিমান দেশে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। বুদ্ধিমান লোকেরা সত্য কথা বলে, সত্যের পথে চলে, আওয়াজ তোলে এবং প্রতিরোধ করে।’
খসরু কোটা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও তাদের ভোটাধিকারের দাবিতে একই দৃঢ় সংকল্প নিয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, বাংলাদেশের নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কোটা আন্দোলন ইতোমধ্যে মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। ছাত্র ও যুবসমাজ এখন সমগ্র জনগোষ্ঠীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করছে।’
তিনি আরও বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল বা পুনর্বহাল শুধু আইনি বিষয় নয়, এটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয়।
সরকার যেন দ্রুত নীতিনির্ধারণী ভিত্তিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের জন্য একটি কমিশন গঠন করে আমাদের কর্মসংস্থান কীভাবে হবে সে বিষয়ে একটি কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য উদ্যোগ গ্রহণ করার দাবিও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরের মতোই চীন থেকে খালি হাতে ফিরে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের হতাশ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন সাইফুল হক।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশ ও নাগরিকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দেশের সম্পদ লুটপাট ও জনগণকে দমন অব্যাহত রেখেছে।
তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বিরোধী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
সাকি বলেন, ‘এই ফ্যাসিবাদী সরকার কোনও কথাই শুনছে না। জনগণ আশা করে, বিরোধী দলগুলো আবারও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবে এবং এই সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করবে।’
আরও পড়ুন: চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের সমর্থন
৬৯২ দিন আগে
চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের সমর্থন
সাধারণ শিক্ষার্থীদের চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনে তাদের পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (জেসিডি)। কারণ, তারা মনে করে সীমিত সংখ্যক বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন লোক ছাড়া সরকারি চাকরিতে কোটার কোনো প্রয়োজন নেই।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, ‘আমরা ২০১৮ সালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন দিয়েছিলাম। এখন যে আন্দোলন চলছে তাতেও আমরা সমর্থন দিচ্ছি।’
বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কোটাবিরোধী আন্দোলনের প্রতি ছাত্রদলের সমর্থনের কথা জানান নাসির।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল মনে করে, সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন যে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করছে, তার মাধ্যমে কোটা সংস্কারের বিষয়টি চূড়ান্ত সমাধান হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আমাদের বক্তব্য হলো, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য খুব সীমিত সংখ্যক কোটা ছাড়া এই মুহূর্তে বাংলাদেশে কোনো কোটার প্রয়োজন নেই। এটা আমাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রদলের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।’
আরও পড়ুন: অসুস্থ খালেদা জিয়ার জীবন ঝুঁকিতে: ফখরুল
তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডারদের প্রতিহত করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন সফল হবে বলে তারা আশাবাদী।
নাছির বলেন, ২০১৮ সালে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবি না জানিয়ে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেছিল।
তিনি বলেন, ‘কিন্তু অবৈধ প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কার না করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ইচ্ছাকৃতভাবে কোটা বাতিল করেছেন।’
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেমন আদালতকে ব্যবহার করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একটি নিষ্পত্তিকৃত বিষয়ের রায় তার পক্ষে নিয়ে গেছেন, তেমনি একটি মীমাংসিত বিষয়ও তিনি এখন বিচার বিভাগের মাধ্যমে কোটা পুনর্বহালের চেষ্টা করছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার গত ১০ থেকে ১২ বছরে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১২ থেকে ১৩ হাজার নেতা-কর্মীকে মুক্তিযোদ্ধাদের জাল সনদ দিয়েছে।
নাছির বলেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সুবিধার্থে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে কোটা পদ্ধতি পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘কোটাবিরোধী আন্দোলনে যারা আছেন তাদের অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে এই ফ্যাসিবাদী ও অবৈধ সরকার যে গুম ও হত্যার সংস্কৃতি চালু করেছে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্যও আমরা আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে ভারতের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের পক্ষে কথা বলার আহ্বান জানান।
রাকিব বলেন, ‘কোটাবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ঢাকা কলেজের সকল নেতাদের আমি বলছি, আপনার কলেজের সহপাঠী আতিকুর রহমান রাসেলকে গুম করা হয়েছে। আমরা আশা করি, আপনারাও তার অবস্থান জানতে চাইবেন।’
ছাত্রদলের ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান রাসেলের সন্ধান চেয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের অভিযোগ, গত ১ জুলাই রাতে রাজধানীর আজিমপুর এলাকা থেকে সাদা পোশাকধারী পুলিশ রাসেলকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছে।
আরও পড়ুন: চলমান আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছে বিএনপি, সরকারের এ অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন ফখরুল
রাকিব বলেন, কোনো অভিযোগ বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না থাকলেও কোনো কারণ ছাড়াই রাসেল নিখোঁজ হয়েছেন। ‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ছাত্রদল ভয় পায় না। ছাত্রদলের একজন নেতাকর্মীও ভয় পায় না। রাসেলের সন্ধান চাইতে রাস্তায় নামবে ছাত্রদল।’
অনুষ্ঠানে বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, ‘রাসেল ১২ দিন ধরে নিখোঁজ। আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত। রাসেলের পরিবারও খুব কঠিন সময় পার করছে।’
রাসেল নিখোঁজের বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নীরব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
দেরি না করে রাসেলকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া না হলে আগামী দুই দিনের মধ্যে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন বকুল।
সংবাদ সম্মেলনে রাসেলের বাবা আবুল হোসেন সরদারও তার প্রিয় ছেলেকে নিরাপদে ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়ে বক্তব্য দেন।
রাসেলের বাবা আবেগাল্পুত হয়ে বলেন, 'আমি ১১ দিন ধরে খুব অসুস্থ ছিলাম কারণ আমি খেতে বা পান করতে পারি না। আমার দুই ছেলে আছে, একজন বিদেশে থাকে, আরেকজন পড়াশোনার জন্য ঢাকায় থাকে। কিন্তু এখন আমরা তার অবস্থান জানি না। তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। গত ২ জুন লালবাগ থানায় জিডি করি। কিন্তু এখনও তার কোনও সন্ধান মেলেনি। আমরা পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, কিন্তু কোনো ফল হয়নি।’
সরদার উল্লেখ করেন, ১১ দিন আগে রাজধানীর আজিমপুর এলাকায় রাসেল নিখোঁজ হন। তিনি বলেন, 'আমার ছেলে ১১ দিন ধরে কোথায় আছে, কী খাচ্ছে জানি না। আমি আমার সন্তানকে ফেরত চাই। আমি জানি না আমার ছেলে কী অপরাধ করেছে... রাজনীতিতে যুক্ত হওয়াটা যদি অপরাধ হয় তাহলে আমার আর কিছু বলার নেই।’
আরও পড়ুন: সরকারের দুঃশাসন দেশকে ধ্বংস করছে: ফখরুল
৬৯৩ দিন আগে
কোটা সংস্কার নিয়ে কেউ রাজনীতির চেষ্টা করলে রাজনৈতিকভাবে জবাব দেব: ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কোটা পদ্ধতিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে সব ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে আদালতের নির্দেশনা মেনে প্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের কোটা বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
বিএনপি কোটাবিরোধী আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে দেবে না আওয়ামী লীগ। এই অরাজনৈতিক আন্দোলন নিয়ে কেউ রাজনীতি করার চেষ্টা করলে আমরা রাজনৈতিকভাবে তার জবাব দেব। এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, কিছু কুচক্রী গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। গত পাঁচ বছরে কোটার অনুপস্থিতি নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রভাবিত করেছে, একটি বৈচিত্র্যময় ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ গঠনের জন্য কোটা অপরিহার্য। তিনি বলেন, ‘কোটা কোনো ধরনের বৈষম্য নয়; কিছু বৈষম্য দূর করার জন্য এগুলো প্রয়োজন।’
আরও পড়ুন: সরকার শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সবকিছু করতে প্রস্তুত: জনপ্রশাসনমন্ত্রী
তিনি উল্লেখ করেন, কোটা ইস্যুতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত চার সপ্তাহের স্থিতাবস্থা জারি করেছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, চলমান বিচারিক কার্যক্রম ও আদালতের নির্দেশনা সত্ত্বেও তথাকথিত বাংলা ব্লকেড কর্মসূচির অজুহাতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।’
বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য শিক্ষার্থীদের উসকানি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, 'বিএনপিসহ কয়েকটি দল প্রকাশ্যে কোটা আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত করার চেষ্টা করছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল প্রকাশ্যে বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রয়োজন নেই।’
সবাইকে সর্বোচ্চ আদালত ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, 'বিক্ষোভের নামে জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা ও যানবাহন চলাচলে বাধা দেওয়া অবৈধ।’
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন, আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: কোটা সংস্কার: পুলিশের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে ঢাকায় সড়ক অবরোধ
৬৯৩ দিন আগে
আগস্টের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে কোটা সমস্যার সমাধান হবে: কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগস্টের প্রথম সপ্তাহে দেশের সুপ্রিম কোর্টে চূড়ান্ত শুনানির মাধ্যমে কোটা সমস্যার সমাধান করা হবে।
তিনি আদালতের আদেশ মেনে চলা এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী সড়কে আন্দোলন বন্ধ করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।বুধবার (১০ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই বিষয়ে স্থিতাবস্থা জারি করেছে এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের তাদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলা ব্লকেড: ঢাকাসহ সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ
মন্ত্রী বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং আশা করি এটি একটি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হবে।
প্রত্যয় পেনশন প্রকল্প নিয়ে শিক্ষকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই বিষয়টিও শিগগিরই সমাধান করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন, আফজাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: কোটা সংস্কারে ‘বাংলা ব্লকেড’, সারাদেশে পরিবহন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত
৬৯৪ দিন আগে
সরকারের দুঃশাসন দেশকে ধ্বংস করছে: ফখরুল
সরকার দুঃশাসনের মাধ্যমে দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (৯ জুলাই) এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।
আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ একদলীয় বাকশাল শাসন কায়েম করে। তারা এখন ভিন্নভাবে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে।’
ক্ষমতাসীনরা নির্বাচনি ব্যবস্থা, দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছে এবং প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনীতিকরণ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘দেশ এখন ধ্বংসের পথে। এই আওয়ামী লীগ সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন বাংলাদেশ আরও দ্রুত অতল গহ্বরে যাবে।’
দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে এবং অর্থনীতি, শিক্ষাসহ সব খাত পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমাদের এখন প্রয়োজন হলো সবার মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা। সেই ঐক্যকে কাজে লাগিয়ে আমরা রাজপথের আন্দোলনকে বেগবান করে তাদের (আওয়ামী লীগ) পরাজিত করব।’
এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি কামনা করে রাজধানীর নয়াপল্টনের মওলানা ভাসানী মিলনায়তনে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি।
আরও পড়ুন: অসুস্থ খালেদা জিয়ার জীবন ঝুঁকিতে: ফখরুল
ফখরুল বলেন, বিদেশে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তাকে কোনো শর্ত ছাড়াই কারাগার থেকে মুক্ত করতে কঠোর আন্দোলন অপরিহার্য।
তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রীর (খালেদা জিয়া) মুক্তি ও গণতন্ত্রকে পৃথক ইস্যু হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই। আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করলে গণতন্ত্র ফিরে আসবে এবং দেশ সুরক্ষিত হবে।’
ফখরুল আরও বলেন, দেশের সমস্যা সমাধান ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্য অর্জনে আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি। আমরা সবাই মিলে কাজ করলে কেউ আমাদের পরাজিত করতে পারবে না।
বিএনপি উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের নবগঠিত কমিটির নেতাদের অভিনন্দন জানান বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটিগুলোর নেতৃত্বে সংগঠনগুলো আরও শক্তিশালী হবে এবং এই সরকারকে পরাজিত করতে ভূমিকা রাখবে।’
আরও পড়ুন: চলমান আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছে বিএনপি, সরকারের এ অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন ফখরুল
৬৯৫ দিন আগে
মুন্নাকে সভাপতি ও নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা
দল ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানোর চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিএনপি তাদের যুব শাখা জাতীয়তাবাদী যুবদলের ছয় সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন করেছে।
আগের কমিটি বিলুপ্তির ২৫ দিনের মাথায় মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
যুবদলের নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছে আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নুরুল ইসলাম নয়ন।
আগের কমিটিতে মুন্না সাধারণ সম্পাদক এবং নয়ন সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
নতুন আংশিক কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করিম পল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল ও দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম সোহেল।
পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি পরে ঘোষণা করা হবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
গত ১৪ জুন সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোনায়েম মুন্নার নেতৃত্বাধীন যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দেয় বিএনপি।
এর আগে ২০২২ সালের ২২ মে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সভাপতি ও আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের আট সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন করেছিল দলটি।
এর ৯ মাস পর ২০২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি দলের পক্ষ থেকে ২৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় যুব কমিটি ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুন: ৪ মহানগর ও কেন্দ্রীয় যুবদল কমিটি ভেঙে দিয়েছে বিএনপি
৬৯৫ দিন আগে
চলমান আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছে বিএনপি, সরকারের এ অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন ফখরুল
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে বিএনপি উসকানি দিচ্ছে- সরকারের এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপির এ ধরনের আন্দোলনে জড়ানোর কোনো কারণ নেই।
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের এ ধরনের আন্দোলনে ইন্ধন দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। এই সব আন্দোলন তাদের (শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের) নিজস্ব।’
সোমবার (৮ জুলাই) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে এসব আন্দোলন পরিচালনা করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফখরুল বলেন, ‘আমরা কেন এই আন্দোলনে উসকানি দেব? আমাদের এটা করার কোনো কারণ নেই।’
তবে বিএনপির এই নেতা জানান, তাদের দল মনে করে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে শিক্ষকদের আন্দোলন এবং সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি পুনর্বহালের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যৌক্তিক।
তিনি বলেন, 'আমরা যা যৌক্তিক তা নিয়ে এবং তার পক্ষে কথা বলব। আমরা সবসময়ই এটা করে আসছি।’
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন বিএনপিকে অনুপ্রাণিত করেছে বলেও স্বীকার করেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ যখন নিজেদের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন তা আমাদের অনেক আশা জাগায়।’
তবে দেশের অন্যান্য সমস্যাগুলো থেকে জনগণের মনোযোগ সরাতে সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে দুটি আন্দোলন তৈরি করেছে কি না তা নিয়ে বিএনপি সন্দিহান বলে জানান মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘যৌক্তিক দাবির প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের কোটাবিরোধী আন্দোলনকে আমরা সমর্থন করি। আমরা এটাকে অযৌক্তিক মনে করার কোনো কারণ দেখছি না।’
দেশ প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পরও সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা বজায় রাখা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, এটি মেধার বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। এভাবে যোগ্য ব্যক্তিদের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে নিয়োগ থেকে বিরত রাখা হয়। এতে দেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার নিজ অবস্থান থেকে সরে এসে শিক্ষকদের জন্য পেনশন স্কিম চালু করতে চাচ্ছে তাই তাদের আন্দোলন একটি যৌক্তিক দাবির ওপর ভিত্তি করে হচ্ছে বলে মনে করে বিএনপি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা (সরকার) আগেই বলেছিলেন, যারা এরইমধ্যে পেনশন পাচ্ছেন, তাদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করার দরকার নেই। যারা পাচ্ছেন না শুধু তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। এখন এটা ঐচ্ছিক না রেখে শিক্ষকদের জন্য বাধ্যতামূলক করেছেন।’
৬৯৬ দিন আগে