খেলাধুলা
ম্যাচ ফিক্সিংয়ের দায়ে চীনে ৪৩ ফুটবলার-কর্মকর্তা আজীবন নিষিদ্ধ
ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে দুই বছর তদন্তের পর ৩৮ ফুটবলার ও পাঁচ ক্লাব কর্মকর্তাকে আজীবন নিষিদ্ধ করেছে চীনের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (সিএফএ)।
সিএফএ সভাপতির উপস্থিতিতে মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) চীনের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং ক্রীড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে দেশটির জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ঝাং শিয়াওপেং বলেন, তদন্তে ১২০টি ম্যাচ পাতানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় ৪১টি ফুটবল ক্লাব জড়িত ছিল।
তবে সবগুলো ম্যাচ চীনে হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
পাশাপাশি সাবেক চার ক্রিকেটারকেও আজীবন নিষিদ্ধ করেছে চীন। ওই চার ক্রিকেটার হলেন- চীনের জিন জিংদাও, গুও তিয়ানিউ ও গু চাও এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সন জুন-হো। ১০ মাস আটক থাকার পর গত মার্চে মুক্তি পেয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় ফিরে যান সন।
আরও পড়ুন: প্রেমিকাকে নির্যাতনের অভিযোগ: ব্রাজিল পুলিশের তদন্তে নির্দোষ আন্তোনি
অবশ্য শাস্তি পাওয়া খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে এখনও কেউ প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
সংবাদ সম্মেলনে ঝ্যাং বলেন, ৪৪ জনকে ঘুষ, জুয়া ও অবৈধভাবে ক্যাসিনো খোলার কারণে ফৌজদারি শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এছাড়া আরও ১৭ জন ঘুষ ও ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত বলে প্রমাণিত হয়েছে।
সিএফএ সভাপতি সং কাই জানান, ৪৪ জনের মধ্যে ৪৩ জনকে ফুটবল সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং আরও ১৭ জনকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে গত সপ্তাহে জাপানের কাছে ৭-০ গোলে হারের পর মঙ্গলবার দালিয়ানে সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচের আগে এই শাস্তি ঘোষণা করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতিতে জর্জরিত চীনের ফুটবল। স্থানীয় ভক্তরা জাতীয় দলের খারাপ পারফরম্যান্সের কারণেই খেলাটির এই অবস্থা বলে মনে করে থাকেন।
আরও পড়ুন: শাস্তি পেতে পারেন বেলিংহ্যাম
সম্প্রতি ফুটবল-সম্পর্কিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হয়েছে চীন। আগস্টে ঘুষ গ্রহণের জন্য দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এক সাবেক সহ-সভাপতিকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একইসঙ্গে প্রতিযোগিতা বিভাগের সাবেক পরিচালককে একই অপরাধের জন্য সে সময় সাত বছরের কারাদণ্ড দেয় দেশটি।
এর আগে, চলতি বছরের মার্চে সিএফএর সাবেক এক চেয়ারম্যানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় চীনের আদালত।
৬৩২ দিন আগে
বেলজিয়ামকে হারিয়ে প্রথম জয় পেল ফ্রান্স
দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়েও ইতালির কাছে প্রথম ম্যাচ হেরে নেশন্স লিগ শুরু করে ফ্রান্স। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই জয়ে ফিরেছে দিদিয়ের দেশমের দল।
নেশন্স লিগের ‘এ’ লিগের দ্বিতীয় গ্রুপের ম্যাচে সোমবার রাতে নিজেদের মাঠে বেলজিয়ামকে ২-০ গোলে হারিয়েছে ২০২০-২১ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স।
প্রথমার্ধে দলকে এগিয়ে নেন ফ্রান্সের পিএসজি স্ট্রাইকার রান্দাল কোলো মুয়ানি, এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ান কোলো মুয়ানির ক্লাব সতীর্থ উসমান দেম্বেলে।
প্রথম ম্যাচে বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও সুযোগ তৈরিতে নিষ্প্রভ ছিল ফ্রান্সের আক্রমণভাগ। তবে এদিন বলের দখল কম থাকলেও দাপুটে ফুটবল উপহার দিয়েছেন এমবাপ্পে-গ্রিজমানরা।
আরও পড়ুন: দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়েও ইতালিতে বিধ্বস্ত ফ্রান্স
৫৫ শতাংশ সময় বলের দখল রেখে মোট ৯টি আক্রমণ শানায় বেলজিয়াম, যার চারটি ছিল লক্ষ্যে। সেখানে ৪৫ শতাংশ সময় বল নিয়ন্ত্রণে রেখেও ২৫টি আক্রমণ চালায় ফ্রান্স। এর মধ্যে ৯ শট লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা।
এই জয়ে বেলজিয়ামের সমান ৩ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে উঠেছে ফ্রান্স। আর পয়েন্ট (৩) ও গোল ব্যবধান একই (শূন্য) থাকার পরও ফ্রান্সের কাছে হেরে তিনে বেলজিয়াম। দিনের অন্য ম্যাচে ইসরায়েলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে ইতালি।
এর ফলে দ্বিতীয় গ্রুপের দুই রাউরন্ডের খেলা শেষ হয়েছে। আগামী ১০ অক্টোবর গ্রুপের অপর দল ইসরায়েলের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামকে আতিথ্য দেবে ইতালি। এর চার দিন পর ফিরতি লেগে ফ্রান্সকে আতিথ্য দেবে বেলজিয়াম এবং ঘরের মাঠে ইসরায়েলের মুখোমুখি হবে ইতালি।
পরের মাসে বাকি দুই রাউন্ডের ম্যাচের মাধ্যমে নেশন্স লিগের গ্রুপপর্বের খেলা শেষ হবে।
আরও পড়ুন: প্রায় পুরো ম্যাচ ১০ জনে খেলা স্পেনে বিধ্বস্ত সুইজারল্যান্ড
৬৩২ দিন আগে
ভারত সফরে বাংলাদেশের কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না সৌরভ
প্রায় দুই যুগ আগে অভিষেক টেস্ট থেকে শুরু করে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের সাফল্যের খাতা এখনও ফাঁকা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে ১৩ বারের দেখায় ১১ বারই হারের তেতো স্বাদ নিতে হয়েছে টাইগারদের; বাকি দুটি ম্যাচ বৃষ্টির সৌজন্যে হয়েছে ড্র। আসন্ন সিরিজেও স্পষ্টই এগিয়ে থাকবে ভারত।
তবে অতীত যাই হোক, সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেট বাংলাদেশের ভালো পারফরম্যান্স ভারত সিরিজ থেকে প্রাপ্তির খাতায় কিছুটা হলেও দাগ কাটার আশা জাগিয়েছে।
পাকিস্তানের মাটিতে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ জিতে ভারত সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তাই আত্মবিশ্বাসে ভরপুর দলটি ভারতের বিপক্ষেও এবার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়। অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের কণ্ঠেও সম্প্রতি ঝরেছে এমন আশা। তবে ভারত সফরে বাংলাদেশের তেমন কোনো আশা দেখছেন না দেশটির সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী।
আরও পড়ুন: টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা চারে উঠে এল বাংলাদেশ
সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে তিনি বলেছেন, ‘পাকিস্তানে গিয়ে তাদের হারিয়ে আসা চাট্টিখানি কথা নয়। সেজন্য বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের অভিনন্দন। কিন্তু ভারতীয় দল সম্পূর্ণ আলাদা। ভারত দেশে এবং বিদেশে, দুই জায়গাতেই ভালো খেলছে। এছাড়া ভারতের ব্যাটিং ইউনিটও বেশ শক্তিশালী। সে কারণেই আমার মনে হয় না যে বাংলাদেশ এখানে জিততে পারবে।’
ভারতই সিরিজ জিতবে বলে মনে করেন বিসিসিআইয়ের সাবেক প্রধান। তবে বাংলাদেশ যে স্বাগতিকদের ছেড়ে কথা বলবে না, সে কথাও উল্লেখ করতে ভোলেননি তিনি।
‘কিন্তু ভারতের মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলবে। কারণ, পাকিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর হয়ে এই সিরিজটি খেলতে আসছে তারা।’
এসময় বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের হোয়াইটওয়াশ হওয়ার বিষয়েও কথা বলেছেন সৌরভ। তার কথায়, ‘আমি দেশটিতে প্রতিভার অভাব দেখতে পাচ্ছি। পাকিস্তানকে নিয়ে যখনই ভাবি, আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস, সঈদ আনোয়ার, মোহাম্মদ ইউসুফ, ইউননুস খানরা। কিন্তু তেমন প্রতিভা বর্তমান পাকিস্তান দলে নেই।’
আরও পড়ুন: পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ
সৌরভ বলেন, ‘প্রত্যেক প্রজন্মেই ভালো ক্রিকেটার থাকা দরকার। তবে ভারতের মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও তারপর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ওদের যে পারফরম্যান্স দেখলাম, তা থেকেই বোঝা যায় যে দেশটি থেকে প্রতিভাবান ক্রিকেটার উঠে আসছে না।’
পাকিস্তানের খেলার জগতের মানুষদের এ অবস্থার দিকে নজর দিতে হবে বলে মনে করেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক এ অধিনায়ক।
প্রসঙ্গত, দুটি টেস্ট ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলতে ভারত সফর করবে বাংলাদেশ। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্ট ম্যাচ মাঠে গড়াবে। এরপর দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে কানপুরে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে।
৬৩২ দিন আগে
প্রায় পুরো ম্যাচ ১০ জনে খেলা স্পেনে বিধ্বস্ত সুইজারল্যান্ড
স্পেন কেন বর্তমানে ইউরোপের সেরা দল, আজ তার সবচেয়ে পরিষ্কার প্রমাণ দেখল বিশ্ব। ম্যাচের ৭০ মিনিটের বেশি সময় দশ খেলোয়াড় নিয়ে খেলে, রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে কোনোমতে প্রতিপক্ষকে ঠেকিয়ে, চকিতে পাওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা সুইজারল্যান্ডের ঘরের মাঠ থেকে ৪-১ ব্যবধানের জয় তুলে নিয়েছে তারা।
জেনেভায় নেশন্স লিগের ‘এ’ লিগের চতুর্থ গ্রুপের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে রবিবার রাতে স্বাগতিক সুইসদের বিপক্ষে বড় জয়ে নকআউটে যাওয়ার পথে ফিরেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
দলের হয়ে মাঝের দুটি গোল করেন মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইস এবং বাকি গোলদুটি থেকে ম্যাচের প্রথম গোলটি করেন রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড হোসেলু এবং শেষেরটি বার্সেলোনা স্ট্রাইকার ফেররান তোরেস। অপরদিকে, সুইসদের একমাত্র গোলটি করেন জেকি আমদুনি।
প্রথম ম্যাচে সার্বিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর এদিন পুরোনো ধ্বংসাত্মক চেহারায় ফেরে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের পর আক্রমণ চালাতে থাকে তারা।
এরই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় মিনিটে প্রথম আক্রমণে যায় স্পেন এবং দ্বিতীয় প্রচেষ্টাতেই গোল পেয়ে যায় তারা।
আরও পড়ুন: সার্বিয়ার ‘রক্ষণ দুর্গ’ ভাঙতে ব্যর্থ চ্যাম্পিয়নরা
পাল্টা আক্রমণে উঠে বক্সের ভেতর থেকে শট নিলে হোসেলুর সেই শট ঠেকিয়ে কর্নারে পরিণত করেন ইয়ান জমারের অবসরের কারণে সুইসদের গোলপোস্ট সামলানো গ্রেগর কোবেল। এরপর শর্ট কর্নারের পর ডান দিক থেকে প্রতিপেক্ষর একাধিক ডিফেন্ডারকে ড্রিবল করে ভেতরে ঢুকে গোলমুখে ক্রস দেন লামিন ইয়ামাল। সেখান থেকে হেডারে বল লক্ষ্যে পাঠান হোসেলু। শূন্যে ভাসা অবস্থায় কোবেল বল ক্লিয়ার করলেও ভিএআর রিভিউতে দেখা যায় ততক্ষণে গোললাইন অতিক্রম করেছে বল। ফলে গোল পেয়ে ম্যাচে এগিয়ে যায় স্পেন।
চার মিনিট পরই অবশ্য চমৎকার এক পাল্টা আক্রমণে উঠে সমতায় ফেরে সুইজারল্যান্ড। তবে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। বাঁ পাশ ধরে উঠে গিয়ে গোলমুখে ক্রস দেন ব্রাইল এম্বলো, কিন্তু বেসির ওমেরাজিক বল জালে পাঠালেও ভিএআর রিভিউতে দেখা যায়, অফসাইড ছিলেন তিনি।
ত্রয়োদশ মিনিটে লামিন ইয়ামালের নৈপুণ্যে ব্যবধান বাড়ায় স্পেন। নিজেদের অর্ধ থেকে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে চ্যালেঞ্জ করে বল কেড়ে নেন ১৭ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান তরুণ। এরপর দ্রুতগতিতে বল নিয়ে উঠে গিয়ে বক্সের কিছুটা বাইরে থেকে তারই সঙ্গে দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসা নিকো উইলিয়ামসকে পাস বাড়ান লামিন। নিকো সেখান থেকে এক ডিফেন্ডারকে ড্রিবল করে গোলে শট নিলেও তার প্রচেষ্টা ফিরিয়ে দেন কোবেল। কিন্তু ভাগ্য সহায় না থাকলে যা হয়; বল এসে পড়ে ছয় বক্সের বাইরে থাকা ফাবিয়ান রুইসের সামনে। সময় নষ্ট না করে সেখান থেকে জোরালো শটে ঠিকানা খুঁজে নেন এই মিডফিল্ডার।
৬৩৪ দিন আগে
শেষ মুহূর্তের গোলে ভুটানের বিপক্ষে হারল বাংলাদেশ
ভুটান সফরের আগে ‘দুই ম্যাচই জিততে চাই’ বলে কোচ থেকে শুরু করে খেলোয়াড়দের কণ্ঠে প্রত্যয় ঝরলেও সেই লক্ষ্যপূরণে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ দল। স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জেতার পর দ্বিতীয় ম্যাচটি হেরে দেশে ফিরতে হচ্ছে হাভিয়ের কাবরেরার দলকে।
থিম্পুর চ্যাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে রবিবার দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথম প্রীতি ম্যাচটি একই ব্যবধানে জিতেছিল সফরকারীরা।
এদিন দুটি পরিবর্তন এনে দ্বিতীয় ম্যাচের একাদশ সাজান বাংলাদেশ কোচ। প্রথম ম্যাচে চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়া রাকিব হোসেনের জায়গায় আক্রমণভাগে শাহরিয়ার ইমন এবং অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষের জায়গায় ইসা ফয়সালকে মাঠে নামান কাবরেরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশকে চেপে ধরে ভুটান, তবে রক্ষণে তপু বর্মন ও ইসা সক্রিয় থাকায় গোলরক্ষক মিতুল মারমাকে তেমন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি ভুটানের আক্রমণভাগ।
আরও পড়ুন: গোলশূন্য ড্র করে ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন সুয়ারেস
ছন্দহীন মাঝমাঠ এবং ভোঁতা আক্রমণ নিয়েও এদিন নির্ধারিত ৯০ মিনিট ম্যাচটি গোলশূন্য রাখতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ। তবে অতিরিক্ত যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটেই দলকে এগিয়ে নেন ভুটানের কিংমা ওয়াংচুক। এরপর আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়নি সফরকারীরা।
এর ফলে ২০১৬ সালের পর ভুটানের মাঠে প্রথম হারের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। হেড-টু-হেডে ১৬ ম্যাচে এখন বাংলাদেশের জয় ১২টি, ভুটানের ২টি, আর বাকি দুই ম্যাচ ড্র হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী বছরের এশিয়ান কাপের তৃতীয় রাউন্ডের বাছাইয়ের ড্রয়ে তিন নম্বর প্লটে থাকার লক্ষ্যে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করতে ভুটান সফরে যায় বাংলাদেশ। সফরকালে দুটি প্রীতি ম্যাচই জিততে চেয়েছিল তারা, কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে সেই লক্ষ্যের শতভাগ পূরণ করা হলো না।
আরও পড়ুন: ভিনিসিউসের মন্তব্যে ‘চটেছে’ রিয়াল মাদ্রিদ
৬৩৪ দিন আগে
রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার গুঞ্জনে জল ঢাললেন মুসিয়ালা
শিরোপাহীন গত মৌসুম কাটনোর পর চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে গড়িমসি করায় জামাল মুসিয়ালার রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার গুঞ্জন চাউর হয়। তবে সব গুঞ্জনে জল ঢেলে তিনি জানিয়েছেন, এখনই বায়ার্ন ছাড়ার পরিকল্পনা নেই তার।
অসাধারণ খেলায় বয়সভিত্তিক ফুটবল থেকেই মুসিয়ালাকে নিয়ে টানাহেঁচড়া শুরু হয়ে যায়। শুরুতে ইংল্যান্ডের জার্সিতে খেললেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে জার্মানির হয়ে নাম লেখান ২১ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান উইঙ্গার।
পেশাদার ফুটবলে মাত্র ১৭ বছর ১১৫ দিন বয়সে অভিষিক্ত হয়ে বুন্দেসলিগায় বায়ার্নের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। তারপর থেকে নিজের পারফরম্যান্সের গ্রাফ ক্রমেই উপরের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন এই তরুণ। তাই দলবদলের মৌসুম এলেই তাকে ঘিরে গুঞ্জন ডালপালা মেলতে শুরু করে।
আরও পড়ুন: মৌসুমের শুরুতেই বেলিংহ্যামকে হারাল রিয়াল মাদ্রিদ
বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ রয়েছে মুসিয়ালার। তাকে আলিয়ান্স আরেনায় থিতু করতে এখন থেকেই তোড়জোড় শুরু করেছে বাভারিয়ান ক্লাবটি। চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে জামালের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান ক্লাবটির কর্তারা। তবে আলোচনায় বসতে দেরি করছেন এই অ্যাটাকার।
আসলে নতুন মৌসুমে ক্লাবের প্রজেক্ট, বুন্দেসলিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্নের পারফরম্যান্স- এসব বিবেচনায় নিয়েই মূলত ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান তিনি।
এরই মধ্যে গুঞ্জন ওঠে, তার ওপর নজর পড়েছে নতুন দিনের গ্যালাক্টিকো তৈরির চেষ্টায় থাকা রিয়াল মাদ্রিদের। আর এই কাজে সহায়তা করছে ইংলিশ ফুটবল খেলার সময় জামালের তৎকালীন সতীর্থ জুড বেলিংহ্যাম।
তবে সাংবাদিকের এমন প্রশ্ন আসতেই ডালপালাসহ গুঞ্জনটি উপড়ে ফেলেছেন মুসিয়ালা।
আরও পড়ুন: ভিনিসিউসের মন্তব্যে ‘চটেছে’ রিয়াল মাদ্রিদ
জার্মান দৈনিক ভেল্ট আম জনটাগকে তিনি বলেছেন, ‘বায়ার্নে আমি খুবই সুখে আছি। এখানে আমার পরবর্তী লক্ষ্যগুলো পূরণেই আপাতত কাজ করছি। বেলিংহ্যামের মতো বিদেশের ক্লাবে খেলব কি না, তা নিয়ে এখন ভাবছি না।’
‘আগামী পাঁচ বছরে আমি কোথায় থাকব, তা নিয়ে ভাবার সময় এখন নয়। ফুটবলে যে কোনোকিছুই দ্রুত বদলে যেতে পারে।’
উয়েফা নেশন্স লিগের গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচেই আলো ছড়িয়েছেন মুসিয়ালা। শনিবার রাতে হাঙ্গেরির বিপক্ষে ৫-০ গোলে জয়ের ম্যাচে একটি গোল ও অ্যাসিস্টের হ্যাটট্রিক করে আরও একবার নিজের প্রতিভা ও সামর্থ্যের সাক্ষর রেখেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: প্রতিশোধের ম্যাচে হাঙ্গেরির জালে জার্মানির গোল উৎসব
৬৩৪ দিন আগে
মৌসুমের সর্বকনিষ্ঠ স্কোয়াড বার্সেলোনার
আর্থিক সংকটে জর্জরিত হওয়ায় গত কয়েক মৌসুম ধরেই দলবদলের মৌসুমে ভুগছে বার্সেলোনা। নতুন কোনো তারকা ফুটবলার তো কিনতে পারছেই না, বরং অভিজ্ঞদের অনেককেই ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে ক্লাবটি।
সবশেষ দলবদলের মৌসুমে গত মৌসুমে দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ইলকাই গুন্ডোগানকে ফ্রিতে ছেড়ে দিয়েছে বার্সেলোনা। ফাইনান্সিয়াল ফেয়ার প্লে আইনে আয় ও খরচ ১:১ অনুপাতে ফেরাতেই সেরা খেলোয়াড় হলেও সর্বাধিক বেতন পাওয়া গুন্ডোগানকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে ক্লাবটি। এমনকি আসন্ন শীতকালীন দলবদলের মৌসুমে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের মতো ফুটবলারের জন্যেও তারা প্রস্তাব শুনতে চায় বলে গুঞ্জন রয়েছে। দলের এমন দুর্দশায় আরও একবার তাদের নির্ভর করতে হচ্ছে লা মাসিয়ার ওপর।
নিজেদের এই অ্যাকাডেমির তরুণ সব ফুটবলারদের মূল দলে খেলার সুযোগ দিয়েই গত কয়েক মৌসুম ধরে ঘরোয়া ও ইউরোপীয় অঙ্গনে প্রতিযোগিতা করে চলেছে দলটি। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
আরও পড়ুন: বার্সেলোনা থেকে আবারও সিটিতে গুন্ডোগান
বেশ কয়েকজন ফুটবলারকে চুক্তি শেষ করে, ধারে বা ফ্রিতে ছেড়ে দিয়ে মাত্র একজন খেলোয়াড় দলে ভিড়িয়েছে তারা। ৬০ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে লাইপসিগ থেকে দানি অলমোকে দলে ভেড়ালেও লা লিগায় নিবন্ধন করাতে ঘাম ছুটে গেছে তাদের। এই পরিস্থিতিতে মার্ক বের্নাল, পাউ ভিক্তর, আলেক্স ভায়ের মতো তরুণদের লা মাসিয়া থেকে মূল দলে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে ক্লাবটির স্পোর্টিং বিভাগের কর্তারা।
আর এসব কারণে চলতি মৌসুমে লা লিগার ক্লাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী স্কোয়াড এখন কাতালুনিয়ার এই ক্লাবটির।
৩৬ বছর বয়সী রবের্ট লেভানডোভস্কি থাকলেও বার্সেলোনার স্কোয়াডের গড় বয়স ২৪.১ বছর। সর্বকনিষ্ঠ স্কোয়াডের দিক থেকে লা লিগায় তাদের পরেই রয়েছে রিয়াল সোসিয়েদাদ ও ভালেন্সিয়া, উভয় ক্লাবেরই স্কোয়াডের গড় বয়স ২৫ বছর। ২৬.৫ বছর গড় বয়স নিয়ে তালিকার অষ্টম স্থানে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ।
আরও পড়ুন: রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিক, ৭-০ ব্যবধানে জিতল বার্সেলোনা
তবে সবচেয়ে বেশি বয়সী স্কোয়াডের কাতারে রয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। ক্লাবটির স্কোয়াডের গড় বয়স ২৮.১ বছর। তাদের চেয়ে বেশি বয়সী স্কোয়াড আছে শুধু একটি ক্লাবের। চলতি মৌসুমে ২৯.৩ বছর গড় বয়স নিয়ে সবচেয়ে অভিজ্ঞ স্কোয়াড রায়ো ভায়েকানোর।
তবে অবাক করার বিষয় হচ্ছে, এত এত ছোট ছোট ফুটবলার দিয়ে খেলিয়েও চলতি মৌসুমের শুরুটা সবচেয়ে ভালোভাবে করেছেন বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক। তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার এক দারুণ মিশ্রণে মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচেই জয় পাওয়া একমাত্র দল তারই।
৬৩৪ দিন আগে
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন মঈন আলী
সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে ‘বিদায়’ বলে দিয়েছেন ইংল্যান্ডের বোলিং অলরাউন্ডার মঈন আলী। ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৩৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
এর ফলে চলতি বছর অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলা ম্যাচটিই তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হয়ে থাকল। ম্যাচটিতে হেরে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়।
তরুণদের নিয়ে ইংলিশ ক্রিকেটে পালাবদল শুরু হয়ে গেছে। অভিজ্ঞ মঈনকে দলের পক্ষ থেকে তা বুঝিয়েও দেওয়া হয়েছে। তাই সময় বুঝে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন ইংল্যান্ডের হয়ে দুটি বিশ্বকাপ জেতা এই অলরাউন্ডার।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বয়স ৩৭ হয়ে গেছে। যথেষ্ট ক্রিকেট খেলেছি। এখন পরবর্তী প্রজন্মকে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার সময় এসেছে।’
‘(আসন্ন) অস্ট্রেলিয়া সিরিজে আমাকে দলে রাখা হয়নি। এ বিষয়ে আমাকে ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই মনে হচ্ছে, এখনই (বিদায় বলে দেওয়ার) সঠিক সময়। আমি (দলের জন্য) আমার কাজ সেরেছি।’
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরে মালান
২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাদা বলে অভিষেক হয় মঈনের। এরপর ক্যারিয়ারজুড়ে তিনি খেলেছেন ১৩৮টি ওয়ানডে ও ৯২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। পরের বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লর্ডসে ইংল্যান্ডের জার্সিতে টেস্টে অভিষিক্ত হন তিনি। দশ বছরের ক্যারিয়ারে ৬৮টি টেস্ট খেলার সুযোগ হয়েছে তার।
ক্রিকেটের তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৬ হাজার ৬৭৮ রান করেছেন মঈন, যার মধ্যে শতক আছে আটটি এবং অর্ধশতক ২৮টি। এছাড়া বল হাতে সব মিলিয়ে ৩৬৬ উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন এই অলরাউন্ডার।
বিদায় বেলায় নিজের এমন ক্যারিয়ার নিয়ে গর্বিত মঈন। তিনি বলেন, ‘আপনি যখন ইংল্যান্ডের হয়ে প্রথমবার খেলেন, তখন ঠিক জানেন না যে আরও কতগুলো ম্যাচ আপনি খেলার সুযোগ পাবেন। সেখানে আমি প্রায় তিনশ ম্যাচ খেলেছি।’
এখন সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবতাকেই মেনে নিচ্ছেন তিনি।
‘দেখুন, চাইলে আরও কিছুদিন (ইংল্যান্ডের হয়ে) খেলার চেষ্টা করতে পারতাম, কিন্তু আমি জানি যে বাস্তবে তা প্রায় অসম্ভব। অবসর নিচ্ছি যদিও, কিন্তু আমার মনে হয় এখনই (অবসর নেওয়ার) সময় আসেনি। আরও কিছুদিন আমি খেলতে পারি বলেই আমার মনে করি।’
‘তবে আমি বাস্তবতা বুঝি। দল এখন নতুন চক্রে প্রবেশ করছে। তাই নিজের কাছে সৎ থাকার চেষ্টা করছি।’
আরও পড়ুন: সব ধরনের ক্রিকেট থেকে শিখর ধাওয়ানের বিদায়
নিয়তি মেনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়াতে হলেও এখন তাই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে মনোনিবেশ করতে চান তিনি। এরপর কোচিংয়ে ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায় শুরু করার ইচ্ছা এই ক্রিকেটারের।
‘আরও কিছুদিন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলব, কারণ আমি এখনও খেলতে উপভোগ করি। তবে একটা পর্যায়ে গিয়ে যে কোচিং করাব, তা আমার আগে থেকেই ঠিক করে রাখা। আমি সেরাদের (কোচ) একজন হতে চাই। বাজের (ব্রেন্ডন ম্যাককালাম) কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।’
শেষ বেলায় ক্রিকেটভক্তদের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়ার ইচ্ছাও ঝরল তার কণ্ঠে।
‘আশা করি মুক্ত চেতনার মানুষ হিসেবে সবাই আমাকে মনে রাখবে। ক্যারিয়ারে কিছু ভালো শট খেলেছি, কিছু বাজে শটও খেলেছি; সর্বোপরি আশা করছি, সবাই আমার খেলা উপভোগ করেছে।’
৬৩৪ দিন আগে
বড় জয়ে ডাচদের নেশন্স লিগ অভিযান শুরু
আসর শুরুর আগে খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়লেও বড় জয়ে নেশন্স লিগে নিজেদের অভিযান শুরু করেছে রোনাল্ড কুমানের নেদারল্যান্ডস।
আইন্দহোভেনের ফিলিপস স্তাদিয়নে শনিবার রাতে নেশন্স লিগের ‘এ’ লিগের তৃতীয় গ্রুপের ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ৫-২ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ডাচরা।
এদিন মেমফিস ডিপাইয়ের অনুপস্থিতিতে দলে ডাক পাওয়া জশুয়া জির্কজির গোলে প্রথমবার এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। এরপর তিজানি রেইনডার্স, কোডি গাকপো, ভাউট ভেগহোর্স্ট ও জাভি সিমোনস একটি করে গোল করেন।
অপরদিকে, বসনিয়ার গোলদুটি করেন এমেরদিন দেমিরোভিচ ও এদিন জেকো।
আরও পড়ুন: জয়ে ইংল্যান্ডের সাউথগেট-পরবর্তী অধ্যায় শুরু
এদিন ম্যাচজুড়ে দাপুটে ফুটবল উপহার দেয় নেদারল্যান্ডস। ৭১ শতাংশ সময় নিজেদের পায়ে বলের দখল রাখে তারা। মোট ২৬ শটের ৮টি লক্ষ্যে রেখে তার পাঁচটিতে সাফল্য পায় ডাচরা। অন্যদিকে, চারটি শটের তিনটি লক্ষ্যে রেখে দুটিতে সফল হয় বসনিয়া।
ম্যাচের ত্রয়োদশ মিনিটে জাভি সিমোন্সের ক্রস পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে হেডারে ডাচদের এগিয়ে নেন জির্কজি। এর ফলে জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক ম্যাচেই গোল পেয়ে যান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই তরুণ ফরোয়ার্ড।
গোল খাওয়ার পর উজ্জীবীত ফুটবল খেলা শুরু করে বসনিয়া। এর ফলও তারা পেয়ে যায় ১৪ মিনিট পর। ২৭তম মিনিটে মিডফিল্ডার ডেনিস হুসেনবেশিচের বাড়ানো পাস ধরে নিচু শটে জাল খুঁজে নেন দেমিরোভিচ।
বসনিয়া সমতায় ফেরার পর ফের এগিয়ে যেতে মরিয়া হয়ে ওঠে নেদারল্যান্ডস। তবে কিছুতেই কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মিলছিল না। ৪২তম মিনিটে রেইনডার্সের শট পোস্টে বাধা পায়। তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে জালের দেখা পান এই এসি মিলান মিডফিল্ডার।
জির্কজির বাড়ানো পাস ধরে তিনি নিখুঁত শটে ফের ব্যবধান বাড়ালে ২-১ এ এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় নেদারল্যান্ডস।
৬৩৫ দিন আগে
প্রতিশোধের ম্যাচে হাঙ্গেরির জালে জার্মানির গোল উৎসব
নেশন্স লিগের গত আসরে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে নিজেদের মাঠে হাঙ্গেরির বিপক্ষে হেরে নকআউট পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয় জার্মানি। এবারের আসরেও সেই দলটিকে পেয়ে বড় ব্যবধানে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিয়েছে ইউলিয়ান নাগেলসমানের দল।
ডুসেলডর্ফের মেরকুর-শ্পিল আরেনায় শনিবার রাতে নেশন্স লিগের ‘এ’ লিগের তৃতীয় গ্রুপের ম্যাচে হাঙ্গেরিকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়েছে জার্মানি।
এদিন পাঁচটি গোলের প্রত্যেকটি পেয়েছে নতুন দিনের জার্মান দলের প্রতিভাবান পাঁচ খেলোয়াড়। ম্যাচের ২৭তম মিনিটে জার্মানির গোলের খাতা খোলেন নিকলাস ফুলক্রুগ। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮, ৬৬, ৭৭ ও ৮১তম মিনিটে আরও চারটি গোল করেন যথাক্রমে জামাল মুসিয়ালা, ফ্লোরিয়ান ভিয়ার্টস, আলেক্সান্ডার পাবলোভিচ ও কাই হাভার্টস।
এদিন একটি গোল ও তিনটি অ্যাসিস্ট করে ম্যাচসেরা হয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখ ২১ বছর বয়সী প্রতিভাবান অ্যাটাকার মুসিয়ালা। পেনাল্টিতে একটি গোল ছাড়া ওপেন প্লে থেকে হওয়া চার গোলেই অবদান রাখেন এই তরুণ।
ইউরোর পর অবসরে যাওয়ায় থমাস মুলার, টনি ক্রুস, মানুয়েল নয়ার ও অধিনায়ক ইলকাই গুনডোগানকে ছাড়া এদিন কার্যত তরুণ এক দল নিয়ে নবযাত্রা শুরু হয় জার্মানির।
এছাড়া নয়ারের অবসরে অভিষেকের ১২ বছর পর ১ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামার সুযোগ পান বার্সেলোনা গোলরক্ষক মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেন। তবে মাঠের খেলায় গোলের সামনে আস্থার পরিচয়ই দিয়েছেন তিনি। হাঙ্গেরির অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে জাল অক্ষত রাখেন ৩২ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক।
আরও পড়ুন: জয়ে ইংল্যান্ডের সাউথগেট-পরবর্তী অধ্যায় শুরু
ম্যাচের শুরুতে থেকেই স্বাগতিক জার্মানিকে সমানে টক্কর দিতে থাকে ইউরোপের ‘ব্ল্যাক হর্স’ খ্যাত হাঙ্গেরি। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে প্রথম সুযোগটিও তৈরি করে তারা। তবে ফিনিশিংয়ের অভাবে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
অষ্টম মিনিটে প্রথম প্রচেষ্টাতেই গোলের দারুণ সুযোগ তৈরি করে জার্মানি। ডান পাশ থেকে আসা কর্নার হেডারে দূরের পোস্টের দিকে পাঠান জার্মান ডিফেন্ডার ইয়োনাথন টাহ, হাঙ্গেরির গোলরক্ষক পিটার গুলাশি তখন অন্যপ্রান্ত থেকে চেয়ে চেয়ে দেখছেন, কিন্তু গোললাইন থেকে আরেক হেডারে বল ক্লিয়ার করে দলকে বিপদমুক্ত করেন হাঙ্গেরির লিভারপুল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ডমিনিক সোবসলাই।
ত্রয়োদশ মিনিটে হাঙ্গেরি মিডফিল্ডার মিলোস কারকেসের দূর থেকে নেওয়া বুলেট শট পোস্টের উপর দিয়ে চলে যায়। পরের মিনিটে জার্মানি আক্রমণে উঠলেও শেষ মুহূর্তে সঠিক সময়ে এগিয়ে এসে বল তালুবন্দি করেন গুলাশি।
এরপর ২০তম মিনিটে গুলাশির একক নৈপুণ্যে গোল খাওয়া থেকে বেঁচে যায় হাঙ্গেরি। হঠাৎ ক্ষিপ্র গতিতে পাল্টা আক্রমণে উঠে হাঙ্গেরির ডিফেন্ডারদের হকচকিয়ে দেয় জার্মানি। প্রতিপক্ষের বক্সের সামনে তাদের দুই ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জের সামনে বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করে জার্মানির তিন ফুটবলার। তবে ডান পাশে বক্সের ভেতরে ঢুকে নিকলাস ফুলক্রুগের নেওয়া জোরালো শট প্রতিহত করেন গুলাশি।
তবে ম্যাচের ২৭তম ম্যাচে জার্মানির সম্মিলিত প্রচেষ্টার কাছে হার মানতে বাধ্য হন হাঙ্গেরির গোলরক্ষক।
প্রতিপক্ষের বক্সের বাইরে বেশ কিছুক্ষণ ধরে বল নড়াচড়া করতে করতে হঠাৎ ডানপাশে বক্সের ভেতরে ঢুকে বিপরীত পাশে ফাঁকায় থাকা ডেভিড রাউমকে উড়িয়ে পাস দেন ফ্লোরিয়ান ভিয়ার্টস। রাউম গোলমুখে মাটি কামড়ানো জোরালো ক্রস দিলে তা ধরে শট না নিয়ে ডান পাশে থাকা ফুলক্রুগকে বাড়ান জামাল মুসিয়ালা। আর প্রথম টোকাতেই বল জালে জড়িয়ে দেন ৩১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
৩২তম মিনিটে হাঙ্গেরির একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। সতীর্থের ক্রস পেয়ে বক্সের মাঝামাঝি জায়গা থেকে প্রথম ছোঁয়াতেই ভলি করেন রোনাল্ড সালাই, কিন্তু শটটি লক্ষ্যে রাখতে ব্যর্থ হন তিনি।
পরের অন্তত ১৫ মিনিট আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ চালালেও তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি দুই দলের কেউ। এরপর বিরতির আগে নির্ধারিত সময়ের কয়েক মুহূর্ত আগে পাল্টা আক্রমণে গিয়ে ডান পাশ থেকে দূরের পোস্টে জোরালো শট দিলেও কাই হাভার্টসের শটটি পোস্টের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়। ফলে ফুলক্রুগের গড়ে দেওয়া ব্যবধানেই বিরতিতে যায় জার্মানি।
৬৩৫ দিন আগে