খেলাধুলা
পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জয়ে বাংলাদেশ দলকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন
পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
এছাড়াও ভবিষ্যৎ প্রচেষ্টার জন্য বাংলাদেশ দলকে শুভকামনা জানান তিনি।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের মাটিতে ঐতিহাসিক জয় টাইগারদের
রবিবার (২৫ আগস্ট) রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে পাকিস্তানকে ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ক্রিকেট ইতিহাসে ঐতিহাসিক মুহূর্ত সৃষ্টি করলো বাংলাদেশ।
এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় এবং সব মিলিয়ে ২০তম জয়।
এর আগে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ জয় থেকে মাত্র এক উইকেটের দূরত্বে থেকে শেষ পর্যন্ত ইনজামাম-উল-হকের দুর্দান্ত ইনিংসে জয় থেকে বঞ্চিত হয়।
২১ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জিতল বাংলাদেশ।
এর আগে বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৩টি টেস্ট খেলে ১২টি হেরেছে আর একটি ড্র হয়েছে।
আরও পড়ুন: ম্যাচের লাগাম হাতে রেখেই দিন শেষ টাইগারদের
৬৪৮ দিন আগে
পাকিস্তানের মাটিতে ঐতিহাসিক জয় টাইগারদের
চতুর্থ দিনের খেলা যখন শেষ হলো, বাংলাদেশের হার এড়ানোর সম্ভাবনার কথা উঠলেও তখন কে ভেবেছিল যে, এই দলটিই শেষ দিনে ম্যাচের মোড় পুরোপুরি নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করবে? অথচ রাওয়ালপিন্ডিতে সেটিই করে দেখালেন শান্ত অ্যান্ড কোং।
পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে ১০ উইকেটের স্মরণীয় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম জয়।
এর আগে ক্রিকেটের তিন সংস্করণ মিলিয়ে ২০ ম্যাচ খেলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় অধরা ছিল টাইগারদের। শেষ পর্যন্ত তা এলো, তাও ক্রিকেটের সবচেয়ে কুলীন সংস্করণে, আবার স্বাগতিকদের মাটিতেই।
পাকিস্তানের বিপক্ষে, তাদের মাটিতে বাংলাদেশের এটি প্রথম টেস্ট জয় হলেও বিদেশের মাটিতে এটি সপ্তম জয়।
শনিবার দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেটে ২৩ রান করে ৯৪ রানে পিছিয়ে থেকে চতুর্থ দিন শেষ করে পাকিস্তান। এরপর পঞ্চম দিনে বাংলাদেশি স্পিনারদের তাণ্ডবে ১৪৬ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ফলে জয়ের জন্য ৩০ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। আর সেই কাজটা অনায়াসেই সেরেছেন দুই টাইগার ওপেনার।
আরও পড়ুন: ম্যাচের লাগাম হাতে রেখেই দিন শেষ টাইগারদের
চতুর্থ দিন পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে সিয়াম আইয়ুবের উইকেট তুলে নিলেও দিনের বাকি অংশটুকু সচ্ছন্দেই খেলে গেছেন অধিনায়ক শান মাসুদ (৯) ও আব্দুল্লাহ শফিক (১২)। তবে পঞ্চম দিনের দ্বিতীয় ওভারেই শান মাসুদকে সাজঘরে পাঠানোর মাধ্যমে সেই যে শুরু, তারপর থেকে নিয়মিত বিরতিতে উদযাপন করে গেছে বাংলাদেশ।
এদিন জীবন পেলেও বাংলাদেশকে ভোগাতে পারেননি বাবর আজম। মোহাম্মদ রিজওয়ান অবশ্য চেষ্টা করেছিলেন, তবে অন্যপ্রান্ত থেকে তাকে যোগ্য সমর্থন জোগাতে পারেননি তেমন কেউ। অবশেষে তিনি ৫১ রান করে ফিরে গেলে আর বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারেননি বাকি দুই ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ১৪৬ রানে স্বাগিতকদের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে গেলে ৩০ রানের লক্ষ্য পায় টাইগাররা।
এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে আর কাউকে ক্রিজে আসতে দেননি জাকির হাসান (১৫) ও সাদমান ইসলাম (৯)। ফলে ১০ উইকেটের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
টেস্টে এটিই বাংলাদেশের প্রথম ১০ উইকেটের জয়।
দেশের রাজনৈতিক সংকটের মাঝে বাংলাদেশের এই টেস্ট সফর নিয়ে তেমন কারও মাথাব্যথা ছিল না। তার ওপর মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেশের মানুষের ওপর চেপেছে ভয়াবহ বন্যা। এরই মাঝে এক চিলতে হাসির উপলক্ষ্য এনে দিল টাইগাররা।
৬৪৮ দিন আগে
ভিলাকে হারিয়ে আর্সেনালের দুইয়ে দুই
গত মৌসুমে অল্পের জন্য লিগ শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার পর নতুন মৌসুমে আরও উজ্জীবীত ফুটবল উপহার দিয়ে চলেছে আর্সেনাল। তারই ধারাবাহিকতায় টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেয়েছে মিকেল আর্তেতার দল।
শনিবার (২৪ আগস্ট) ভিলা পার্কে অ্যাস্টন ভিলাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে আর্সেনাল। দ্বিতীয়ার্ধের দুই গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে আর্তেতার শিষ্যরা।
ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড লেয়ান্দ্রো ত্রোসা। এর দশ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ঘানার ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার তমাস পার্তি।
গত মৌসুমে আর্সেনালের ৫ হারের দুটিই ছিল অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে। নতুন মৌসুমে তাই আঁটঘাট বেঁধেই ভিলা পার্কে খেলতে নামে গানাররা। ম্যাচের শুরু থেকেই দেখা যায় তাদের প্রতাপ।
ম্যাচের ষোড়শ মিনিটে প্রথম সুযোগ তৈরি করে আর্সেনাল। তবে বুকায়ো সাকার শট ঝাপিয়ে ঠেকিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস।
তবে ৯ মিনিট পর আক্রমণে উঠে সুযোগ তৈরি করে ভিলা। মরগ্যান রজার্সের বাড়ানো পাস বক্সের মধ্যে ধরে শট নেন অলি ওয়াটকিন্স। তবে শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
৩২তম মিনিটে পার্তির শট পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়। ৭ মিনিট পর গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির বাড়ানো বল ধরে শট নিলে কাই হাভার্টসের শটটি বাঁ পাশের পোস্টঘেঁষে বেরিয়ে যায়।
এরপর বিরতির আগমুহূর্তে ওয়াটকিন্সের বাড়ানো পাস থেকে গোলে শট নেন ভিলার লিওন বেইলি। তবে লাফিয়ে উঠে বলটি তালুবন্দি করেন এমি মার্তিনেস।
আরও পড়ুন: হাভার্টস-সাকার গোলে জয় দিয়ে শুরু আর্সেনালের
ফলে স্কোরবোর্ড ফাঁকা রেখেই বিরতিতে যায় দুই দল। বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণে ধার বাড়ায় দুই দলই। ফলে বেশকিছু ফাউল হতে থাকে কিছুক্ষণ পরপর।
এরপর ৬৭তম মিনিটে লেয়ান্দ্রো ত্রোসার গোলে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। প্রতিপক্ষের বক্সের ডান পাশে সতীর্থের বাড়ানো বল একেবারে লাইনের ওপর থেকে ধরে বক্সের মধ্যে নিচু ক্রস দেন সাকা। সেখানে জটলার মধ্যে থেকে দূরের পোস্ট দিয়ে নেওয়া শটে বল জালে জড়ান ত্রোসা।
ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তমাস পার্তি। বক্সের ভেতর থেকে সুবিধা করতে না পেরে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা পার্তিকে ব্যাক পাস দেন সাকা। প্রথম ছোঁয়াতেই ডানপাশের পোস্টঘেঁষে জোরালো শট নেন পার্তি; বল মার্তিনেসকে ফাঁকি দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেয়।
দুই মিনিট পর আরও একটি ভালো সুযোগ তৈরি করে আর্সেনাল। বক্সের ভেতরে ফাঁকা দাঁড়িয়ে থাকার পরও মার্টিন ওডেগার্ড পোস্টের অনেক উপর দিয়ে উড়িয়ে মারলে হতাশ হয় সমর্থকরা।
৮৪তম মিনিটে আরও একবার গোলের চেষ্টা করে ভিলা। তবে বদলি নামা জ্যাকব র্যামসির শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন মার্তিনেস। এরপর যোগ করা সময়ে রস বার্কলির বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া জোরালো শট পোস্টের উপর দিয়ে চলে যায়। এরপর আর কোনো সুযোগ তৈরি না হলেও দুই গোলের ব্যবধান ধরে রেখেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্সেনাল।
এর ফলে টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট অর্জন করেছে গানাররা। অন্যদিকে, প্রথম রাউন্ডে ওয়েস্ট হ্যামের কাছে জেতা অ্যাস্টন ভিলার পয়েন্ট তিন।
লিগের পরের রাউন্ডে আগামী শনিবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৫টায় ব্রাইটনের মুখোমুখি হবে আর্সেনাল। অন্যদিকে, ওইদিনই রাত ৮টায় লিস্টার সিটির বিপক্ষে খেলতে নামবে উনাই এমেরির শিষ্যরা।
প্রথম ম্যাচে টটেনহ্যামের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ফুলহ্যামের কাছে হেরেছে তারা।
৬৪৯ দিন আগে
বিলবাওয়ের বিপক্ষে ঘাম ঝরানো জয় বার্সেলোনার
চরম আর্থিক সংকটে ভুগতে থাকায় চাহিদামতো নতুন খেলোয়াড় কিনতে পারছে না বার্সেলোনা। দানি অলমোকে দলে টানলেও লা লিগায় এখনও তাকে নিবন্ধন করাতে পারেনি ক্লাবটি। এদিকে একপ্রকার বাধ্য হয়েই গত মৌসুমে দলের সবচেয় গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ইলকাই গুন্ডোগানকে বিনামূলে ছেড়ে দিতে হয়েছে তাদের। এমতাবস্থায় লা মাসিয়ার তারুণ্যনির্ভর দল নিয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল।
শনিবার (২৪ আগস্ট) রাতে বার্সেলোনার অলিম্পিক স্টেডিয়ামে আথলেতিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের কষ্টের জয় পেয়েছে কাতালুনিয়ার ক্লাবটি। প্রথম ম্যাচেও একই ব্যবধানে ভালেন্সিয়ার মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফিরেছিল তারা।
শুরুতে চমৎকার এক গোল করে দলকে এগিয়ে নেন লামিন ইয়ামাল। তবে বিরতির আগেই পেনাল্টি থেকে গোল করে বিলবাওকে সমতায় ফেরান ওইয়ান সানচেত। এরপর ম্যাচের ৭৫ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন গত ম্যাচে জোড়া গোল করা রবের্ট লেভানডোভস্কি।
আরও পড়ুন: ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতে বার্সার ‘ফ্লিক অধ্যায়’ শুরু
এদিন মুহূর্মুহূ আক্রমণের মাধ্যমে শুরু থেকেই ম্যাচ জমিয়ে তোলে দুই দল। তবে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছিল না কেউই। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের মধ্য দিয়ে ম্যাচের ২৪তম মিনিটে লামিনের গোলে ম্যাচে প্রথম এগিয়ে যায় বার্সেলোনা।
বাঁ পাশে বিলবাওয়ের বক্সের বেশ বাইরে ফ্রি কিক পায় বার্সেলোনা। সেখান থেকে পেদ্রি বক্সের মধ্যে ক্রস দিলে এগিয়ে এসে গ্লাভস দিয়ে ঠেলে বল ক্লিয়ার করার চেষ্টা করেন চোটের কারণে উনাই সিমোনের পরিবর্তে মাঠে নামা বিলবাও গোলরক্ষক আলেক্স পাদিয়া। তবে বল বক্সের বাইরে থাকা লামিনের কাছে পৌঁছালে তিনি মাঝামাঝি স্থানে এগিয়ে এসে বক্সের সামান্য বাইরে থেকে বাঁকানো শট নেন। ছয় গজ বক্সের মধ্যে থেকে বিলবাও ডিফেন্ডার ইয়ারাই আলভারেস হেড দিয়ে শটটি ক্লিয়ার করতে গেলে বল তার মাথায় লেগে পাদিয়ার নাগালের বাইরে দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়।
৬৪৯ দিন আগে
শেষ মুহূর্তের গোলে ব্রাইটনের কাছে হারল ইউনাইটেড
ম্যাচজুড়ে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে না পারলেও একেবারে শেষ মুহূর্তের গোলে জয় পেয়েছে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়ন। ফলে জয় দিয়ে শুরু করলেও লিগের দ্বিতীয় ম্যাচেই হতাশ হয়েছেন এরিক টেন হাগ।
শনিবার (২৪ আগস্ট) ঘরের মাঠে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে আতিথ্য দিয়ে ২-১ গোলের ব্যবধানে সফরকারীদের হারিয়েছে সিগালস।
এদিন ম্যাচের ৩২তম মিনিটে স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন ড্যানি ওয়েলবেক। এরপর ম্যাচের ৬০তম মিনিটে ইউনাইটেডকে সমতায় ফেরান আমাদ দিয়ালো। তবে যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোলটি করেন ব্রাইটনের ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ড জোইয়াও পেদ্রো।
গত মৌসুমে হতাশায় লিগ শেষ করার পর চলতি মৌসুমে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল রেড ডেভিলস। দলবদলের বাজারেও দেখা যায় তাদের সক্রিয়তা। এরপর প্রথম ম্যাচে ফুলহ্যামকে হারিয়ে লিগে শুভসূচনা করে টেন হাগের শিষ্যরা। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই পুরনো চেহারা দেখা গেল দলটির।
আরও পড়ুন: প্রেমিকাকে নির্যাতনের অভিযোগ: ব্রাজিল পুলিশের তদন্তে নির্দোষ আন্তোনি
এদিন, ম্যাচের শুরুটা হয় একেবারেই ধরিগতির। এর মধ্যেই একাদশ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার ভালো সুযোগ পায় ইউনাইটেড। তবে দিয়োগো দালোর ক্রসে বক্সে মধ্যে থেকে হেড দিয়েও লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন দিয়ালো।
এরপর ম্যাচের আধঘণ্টা পেরোলেই প্রথম গোলে শট নেয় ব্রাইটন, আর তা থেকেই গোল আদায় করে নেয় দলটি। জাপানি অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার কাউরু মিতোমার বাড়ানো দুরুহ পাসে স্লাইড করে কোনোমতে পা ছোঁয়ান ওয়েলবেক, তাতেই ঠিকানা খুঁজে নেয় বল।
অবশ্য এর মিনিট দুয়েক পর ইউনেইটেডকে সমতায় ফেরান মার্কাস র্যাশফোর্ড। তবে অফসাইডে গোলটি বাতিল হয়ে গেলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ব্রাইটন।
বিরতির পর ব্যবধান দ্বিগুণ করতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালায় স্বাগতিকরা। তবে কাছাকাছি গিয়েও সফলতা পায়নি তারা। ৫৮তম মিনিটে ওয়েলবেকের হেডার ইউনেইটেডের ক্রসবারে লেগে বাধা পায়।
তবে এর দুই মিনিট পর ভাগ্যের জোরে দলকে সমতায় ফেরান দিয়ালো। প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে একজনকে কাটিয়েই দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে শট নেন আইভরি কোস্টের এই উইঙ্গার। বল প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের হাঁটুতে লেগে জালে জড়িয়ে যায়।
৬৫তম মিনিটে র্যাশফোর্ডকে তুলে আলেহান্দ্রো গারনাচোকে মাঠে নামান কোচ টেন হাগ। এর পাঁচ মিনিট পর গোল করে দলকে এগিয়ে নেন এই আর্জেন্টাইন, তবে তার গোলটিও অফসাইডে কাটা পড়ে।
আরও পড়ুন: নবাগত ইপসউইচকে হারিয়ে লিভারপুলে ‘স্লট অধ্যায়’ শুরু
এরপর ম্যাচের শেষদিকে আক্রমণে জোর বাড়ায় ব্রাইটন। নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সাত মিনিটের পঞ্চম মিনিটে রেড ডেভিলসদের স্তব্ধ করে দেন পেদ্রো। বক্সের মধ্যে আসা ক্রসে কোনাকুনি হেডারে জয়সূচক গোলটি করেন তিনি।
এর ফলে টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠেছে ব্রাইটন। তাছাড়া রবের্ত দি সার্বি দায়িত্ব ছাড়ার পর চলতি মৌসুমে ক্লাবটির দায়িত্ব নিয়েই দারুণ শুরু করেছেন ৩১ বছর বয়সী জার্মান কোচ ফাবিয়ান হুয়ের্সেলের।
আগামী মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) ইএফএল কাপের ম্যাচে ক্রলি টাউনের বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্রাইটন। এরপর শনিবার প্রিমিয়ার লিগে এমিরেটস স্টেডিয়ামে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে দলটি।
অন্যদিকে, আগামী রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) লিগে ইউনাইটেডের পরবর্তী ম্যাচ লিভারপুলের বিপক্ষে। তবে ম্যাচটি ঘরের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ডে হওয়ায় কিছুটা স্বস্তিতে থাকবেন এরিক টেন হাগ।
৬৪৯ দিন আগে
ম্যাচের লাগাম হাতে রেখেই দিন শেষ টাইগারদের
প্রথম ইনিংসে বড় পুঁজি গড়েই ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান। তবে যোগ্য জবাব দিয়েছে বাংলাদেশও। ১১৭ রানের লিড নিয়ে প্রথম ইনিংস শেষ করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের প্রথম উইকেট ভেঙে দিন শেষ করেছে টাইগাররা। ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ খানিকটা বাংলাদেশের পক্ষেই রয়েছে।
শনিবার (২৪ আগস্ট) রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে ৯৪ রানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে এক উইকেট হারিয়ে ২৩ রান তুলে দিন শেষ করেছে পাকিস্তান।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ার পর অন্তত ২০ ওভার বাকি থাকলেও দিনের শেষভাগে আলোকস্বল্পতার কারণে ১০ ওভার পরই দিন শেষ করা হয়।
অবশ্য আগেভাগে শেষ হওয়ায় সুবিধা পেয়েছে বাংলাদেশই। শুরুতে উইকেট পড়লেও ক্রিজে নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে রানের চাকা সচল করেছিলেন পাকিস্তানের দুই ব্যাটার শান মাসুদ (৯) ও আব্দুল্লাহ শফিক (১২)।
দ্বিতীয় ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই সফলতা পায় বাংলাদেশ। ২.২ ওভারে শরিফুলের বলে লিটন দাসের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন সিয়াম আইয়ুব (১)।
এর আগে, ম্যাচের দ্বিতীয় দিন মোহাম্মদ রিজওয়ানের অপরাজিত ১৭১ এবং সৌদ শাকিলের ১৪১ রানে ভর করে ৬ উইকেটে ৪৪৮ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান। জবাবে খেলতে নেমে প্রথম ইনিংসে ৫৬৫ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: রেকর্ড জুটির পর ১১৭ রানের লিড নিয়ে থামল বাংলাদেশ
টাইগারদের বিশাল এই সংগ্রহে মুশফিক ছাড়াও অবদান আছে আরও চার ব্যাটারের। এদের মধ্যে ওপেনার সাদমান ইসলাম করেন ৯৩ রান। এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ৭৭, লিটন দাস ৫৬ ও মুমিনুল হক ৫০ রান করেন।
৫ উইকেট হারিয়ে ৯২ রানে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করলেও শনিবার চতুর্থ দিনে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে থাকেন মুশফিকুর রহিম। এরপর দলীয় ৩৩২ রানে নাসিম শাহ লিটনকে ফেরালে ১১৪ রানের জুটি ভাঙে বাংলাদেশের।
এরপর সপ্তম উইকেটে মিরাজকে নিয়ে উইকেটের সামনে দেওয়াল তোলেন মুশফিক। এই জুটি থেকে স্কোরবোর্ডে টাইগারদের সপ্তম উইকেটের রেকর্ড ১৯৬ রান যোগ করেন মুশফিক ও মিরাজ। এর মাঝে অর্ধশতক পূরণ করেন মিরাজ আর দেড়শ পেরিয়ে ডবল সেঞ্চুরির দিকে এগাতে থাকেন মুশফিক।
তবে দলীয় ৫২৮ রানে মোহাম্মদ আলীর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে মুশফিক ফিরে গেলে পরে ইনিংস আর বেশি বড় করতে পারেননি পরবর্তী ব্যাটাররা। ফেরার আগে ১৯১ রানের ইনিংস খেলেন মুশফিক, যেটি ২২টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো ছিল।
আরও পড়ুন: প্রথম ইনিংসেই মুশফিকের একগাদা রেকর্ড
তিনি প্যাভিলিয়নে ফেরার পর শূন্য রানে ফেরেন হাসান মাহমুদ। এরপর ব্যক্তিগত ৭৭ রানে মিরাজ ফিরে গেলে লিড আরেকটু বড় করার চেষ্টা করেন শরিফুল ইসলাম। তবে ১৪ বলে দুটি করে চার ও ছক্কায় ২২ রান করে শরিফুল আউট হলে ৫৬৫ রানে শেষ হয় বাংলোদেশের প্রথম ইনিংস।
প্রথম ইনিংস থেকে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নিয়েছেন নাসিম শাহ। এছাড়া দুটি করে উইকেট গিয়েছে শাহীন আফ্রিদি, খুররাম শাহজাদ ও মোহাম্মদ আলীর ঝুলিতে। বাকি উইকেটটি নিয়েছেন সিয়াম আইয়ুব।
৬৪৯ দিন আগে
সব ধরনের ক্রিকেট থেকে শিখর ধাওয়ানের বিদায়
দুই বছর ধরে থেমে ছিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। ঘরোয়া ক্রিকেট, এমনকি আইপিএলেও হাসছিল না ব্যাট, আর সঙ্গে চোটের ছোবল তো ছিলই। সব মিলিয়ে এবার সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে দিলেন ভারতীয় ব্যাটার শিখর ধাওয়ান।
শনিবার (২৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় বিদায়ের কথা জানান ধাওয়ান।
এসময় আবেগ জড়ানো কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার সবসময়ই একটিই লক্ষ্য ছিল, ভারতের হয়ে খেলা; সেটি হয়েছেও। এজন্য অনেকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। প্রথমত আমার পরিবার ও বাল্যকালের কোচ, যাদের কাছ থেকে ক্রিকেট শিখেছি; তারপর ধন্যবাদ জানাই বিসিসিআই ও ডিডিসিএকে (দিল্লি অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন) যারা আমাকে খেলার সুযোগ করে দিয়েছিল। এছাড়া আমার সব সতীর্থদের, যাদের সঙ্গে আমি অনেক বছর খেলেছি।’
হাসিমাখা মুখে এই ক্রিকেটার বলেন, ‘ক্যারিয়ারে আমি সবার ভালোবাসা আর সমর্থন পেয়েছি। গল্পের বই পড়তে পড়তে যেভাবে পাতা ওল্টাতে হয়, আমিও সেটাই করছি। আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছি।’
‘নিজেকে আমি বুঝিয়েছি যে, ভারতের হয়ে আর খেলতে পারব না বলে দুঃখ পাওয়া যাবে না। বরং দেশের হয়ে খেলেছি, এটা ভেবেই সুখী হতে হবে।’
আরও পড়ুন: প্রথম ইনিংসেই মুশফিকের একগাদা রেকর্ড
প্রায় ১৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মোট ৩৪টি টেস্ট, ১৬৭টি ওয়ানডে এবং ৬৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ধাওয়ান। সব সংস্করণ মিলিয়ে তিনি করেছেন ১০ হাজার ৮৬৭ রান, সেঞ্চুরি করেছেন মোট ২৪টি।
২০১০ সালে বিশাখাপাটনামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় ধাওয়ানের। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচটিও খেলেছেন এই সংস্করণেই। ২০২২ সালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা ম্যাচটিই ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়ে থাকল তার।
তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে তার পথচলা শুরু হয় ২০০৪ সালে। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ৫০৫ রান করে ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হয়ে সবার নজরে আসেন তিনি। এরপর রঞ্জি ট্রফিতে দিল্লির হয়ে অভিষেক হয় এই ব্যাটারের।
২০১৯ বিশ্বকাপে পাওয়া চোটই তার ক্যারিয়ারে বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দেয়। সেবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওভালে ১০৯ বলে ১১৭ রানের ইনিংসের পর চোট পান তিনি। এরপর মাঠে ফিরলেও সেভাবে আর ধারাবাহিক হতে পারেননি ৩৮ বছর বয়সী এই ওপেনার। তাছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওই সেঞ্চুরিটিই ওয়ানডে ক্রিকেটে তার শেষ সেঞ্চুরি। পরে আরও ৩৫টি ম্যাচ খেলেছেন, এর মধ্যে তিনটি ইনিংসে ৯৬, ৯৭ ও ৯৮ রানে আউট হলেও মাইলফলক স্পর্শ করা হয়নি আর।
সবশেষ ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সফরে তিন ওয়ানডেতে ৭, ৮ ও ৩ রানে আউট হওয়ার পর আর সুযোগ পাননি দলে।
আরও পড়ুন: সাকিবকে ক্রিকেট থেকে সরাতে আইনি নোটিশ
অবশ্য জাতীয় দলে অনিয়িমিত হলেও আইপিএলে নিয়মিত মুখ ছিলেন তিনি। তবে আইপিএলের গত আসরে মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেলে ফের চোটের কারণে ছিটকে যান। এরপর সবকিছুর সমাপ্তি।
দারুণ খেলোয়াড় ছাড়াও ব্যক্তি হিসেবে অসাধারণ ছিলেন শিখর ধাওয়ান। সেঞ্চুরির পর তার রাজস্থানি গোঁফে মোচড় দেওয়া কিংবা ক্যাচ ধরে পালোয়ানের ভঙ্গিমায় এক হাত শূন্যে তুলে অপর হাতে উরুতে থাপ্পড় দেওয়া উদযাপন ক্রিকেটভক্তদের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে।
৬৪৯ দিন আগে
রেকর্ড জুটির পর ১১৭ রানের লিড নিয়ে থামল বাংলাদেশ
চতুর্থ ডবল সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে আউট হলেও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে ভর করেই পাকিস্তানের বড় সংগ্রহ পেরিয়ে ১১৭ রানের লিড নিয়ে প্রথম ইনিংস শেষ করেছে বাংলাদেশ।
ম্যাচের দ্বিতীয় দিন মোহাম্মদ রিজওয়ানের অপরাজিত ১৭১ এবং সৌদ শাকিলের ১৪১ রানে ভর করে ৬ উইকেটে ৪৪৮ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান। জবাবে খেলতে নেমে প্রথম ইনিংসে ৫৬৫ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ।
বিশাল এই সংগ্রহে মুশফিক ছাড়াও অবদান আছে আরও চার ব্যাটারের। এদের মধ্যে ওপেনার সাদমান ইসলাম করেন ৯৩ রান। এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ৭৭, লিটন দাস ৫৬ ও মুমিনুল হক ৫০ রান করেন।
এর আগে, ৫ উইকেট হারিয়ে ৯২ রানে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করলেও চতুর্থ দিনে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে থাকেন মুশফিকুর রহিম। এরপর দলীয় ৩৩২ রানে নাসিম শাহ লিটনকে ফেরালে ১১৪ রানের জুটি ভাঙে বাংলাদেশের।
এরপর সপ্তম উইকেটে মিরাজকে নিয়ে উইকেটের সামনে দেওয়াল তোলেন মুশফিক। এই জুটি থেকে স্কোরবোর্ডে টাইগারদের সপ্তম উইকেটের রেকর্ড ১৯৬ রান যোগ করেন মুশফিক ও মিরাজ। এর মাঝে অর্ধশতক পূরণ করেন মিরাজ আর দেড়শ পেরিয়ে ডবল সেঞ্চুরির দিকে এগাতে থাকেন মুশফিক।
তবে দলীয় ৫২৮ রানে মোহাম্মদ আলীর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে মুশফিক ফিরে গেলে পরে ইনিংস আর বেশি বড় করতে পারেননি পরবর্তী ব্যাটাররা। ফেরার আগে ১৯১ রানের ইনিংস খেলেন মুশফিক, যেটি ২২টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো ছিল।
আরও পড়ুন: প্রথম ইনিংসেই মুশফিকের একগাদা রেকর্ড
তিনি প্যাভিলিয়নে ফেরার পর শূন্য রানে ফেরেন হাসান মাহমুদ। এরপর ব্যক্তিগত ৭৭ রানে মিরাজ ফিরে গেলে লিড আরেকটু বড় করার চেষ্টা করেন শরিফুল ইসলাম। তবে ১৪ বলে দুটি করে চার ও ছক্কায় ২২ রান করে শরিফুল আউট হলে ৫৬৫ রানে শেষ হয় বাংলোদেশের প্রথম ইনিংস।
প্রথম ইনিংস থেকে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নিয়েছেন নাসিম শাহ। এছাড়া দুটি করে উইকেট গিয়েছে শাহীন আফ্রিদি, খুররাম শাহজাদ ও মোহাম্মদ আলীর ঝুলিতে। বাকি উইকেটটি নিয়েছেন সিয়াম আইয়ুব।
টাইগারদের প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ার পর চতুর্থ দিনের আরও প্রায় ২০ ওভারের খেলা বাকি ছিল। ইতোমধ্যে দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং শুরু করেছে পাকিস্তান।
৬ ওভার শেষে ১০ রানে এক উইকেট হারিয়েছে তারা। ২.২ ওভারে শরিফুলের বলে লিটন দাসের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন সিয়াম আইয়ুব।
৫ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ক্রিজে থিতু হওয়ার চেষ্টা করছেন আব্দুল্লাহ শফিক (৫) ও শান মাসুদ (২)।
আরও পড়ুন: সাকিবকে ক্রিকেট থেকে সরাতে আইনি নোটিশ
৬৪৯ দিন আগে
প্রথম ইনিংসেই মুশফিকের একগাদা রেকর্ড
ব্যাট হাতে পাকিস্তানের ব্যাটাররা যা করে দেখালেন, সেই ধারাই অব্যাহত রেখে ব্যাট চালাল বাংলাদেশ। শুরুর দিকে নিয়মিত উইকেট পড়লেও চারটি পঞ্চাশ পার করা ইনিংসের সঙ্গে মুশফিকুর রহিমের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের দেওয়া বড় লক্ষ্য টপকে গেছে বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের ৪৪৮ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করার পর চতুর্থ দিনের তৃতীয় সেশনে আট উইকেট হারিয়ে ৫৪১ রান তুলেছে বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজ ৭১ রানে এবং শরিফুল ইসলাম ৬ রানে অপরাজিত রয়েছেন।
প্রথম ইনিংসে মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে সপ্তম উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ উপহার দিয়েছেন মুশফিক। এই জুটিতে ভর করেই পাকিস্তানের দেওয়া লক্ষ্য পার করে এখন প্রায় একশ রানের লিড নিয়েছে বাংলাদেশ।
তবে নিজের দুইশ রান আর ছোঁয়া হয়নি মুশফিকের। ৩৪১ বল মোকাবিলা করে ২২টি চার ও একটি ছক্কায় ১৯১ রান করে ফিরতে হয় তাকে।
আরও পড়ুন: সাকিবকে ক্রিকেট থেকে সরাতে আইনি নোটিশ
দলীয় ৫২৮ রানের মাথায় মোহাম্মদ আলীর অফ স্ট্যাম্পের কিছুটা বাইরের ডেলিভারিতে স্কয়ার কাট করতে চেয়েছিলেন মুশফিক। তবে বলে বাড়তি বাউন্স থাকায় ঠিকমতো তা করতে পারেননি তিনি। ফলে ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটের পেছনে মোহাম্মদ রিজওয়ানের গ্লাভসে বল চলে গেলে ১৯৬ রানের জুটি ভাঙে বাংলাদেশের।
সপ্তম উইকেটে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। এর আগে ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যামিল্টনে ১৪৫ রানের জুটি গড়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব আল হাসান।
আউট হওয়ার আগে বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত রেকর্ডও গড়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের লিটল মাস্টার।
এই ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে প্রথম সেঞ্চুরি করেছেন মুশফিক। পাকিস্তানের মাঠে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেই সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছেন তিনি।
এছাড়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫ হাজার রান পূর্ণ করেছেন মুশফিক। তার আগে এই তালিকায় নাম লেখাতে পেরেছেন কেবল সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ৩৯১ ম্যাচ খেলে ১৫ হাজার ২৪৯ রান করেছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫ হাজার রান করতে মুশফিকের লাগল ৪৬১ ম্যাচ।
দিনের প্রথম সেশনে সেঞ্চুরি করেন মুশফিক। এতে তামিমের আরেকটি রেকর্ড ছাড়িয়ে যান তিনি। দেশের বাইরে এখন সর্বোচ্চ (৫) সেঞ্চুরির মালিক তিনি। চারটি করে সেঞ্চুরি নিয়ে এতদিন তামিমের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন তিনি।
এছাড়া দেশের বাইরে টাইগারদের হয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট রানের রেকর্ডও এখন মুশফিকের। এখানেও তিনি ছাড়িয়েছেন বন্ধু তামিমকে। ৫৯ ইনিংসে ২ হাজার ৩২৯ রান করে রেকর্ডটি এতদিন ছিল তামিমের। তবে আজ ১৯১ রানে আউট হওয়ার পর ৬৭ ইনিংসে মুশফিকের রান ২ হাজার ৩৮১।
উল্লেখ্য, দেশের বাইরে বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটারের দুই হাজার রান নেই। ৫৫ ইনিংসে ১ হাজার ৬৩৭ রান নিয়ে এই দুজনের পরেই আছেন সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। ৪৩ ইনিংসে ১ হাজার ৫২৬ রান করে সাকিব চারে এবং ৬৫ ইনিংসে ১ হাজার ৫১৮ রান করে পঞ্চম স্থানে মোহাম্মদ আশরাফুল।
৬৪৯ দিন আগে
সাকিবকে ক্রিকেট থেকে সরাতে আইনি নোটিশ
দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে বর্তমানে পাকিস্তানে রয়েছেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এরইমধ্যে তাকে ক্রিকেট থেকে সরিয়ে দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনতে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন এক আইনজীবী।
পোশাকশ্রমিক রুবেল হত্যা মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ১৫৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। ওই মামলায় আসামি হয়েছেন সাকিব আল হাসানও।
গত ২২ অগাস্ট ঢাকা মহানগর পুলিশের আদাবর থানায় করা মামলায় আরও ৪০০-৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মামলার আইনি কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে সাকিবকে দেশে ফেরাতে শনিবার (২৪ আগস্ট) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সজীব মাহমুদ আলম।
আরও পড়ুন: সংস্কার ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি দিলেন নতুন বিসিবি সভাপতি
নোটিশে বলা হয়েছে, যেহেতু সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে, তাই আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী তিনি জাতীয় ক্রিকেট দলে থাকতে পারবেন না। তাকে অবিলম্বে ক্রিকেট দল থেকে সরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
এ বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাকিব। এরপর জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ক্রিকেটও খেলে চলেছেন তিনি।
তবে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। এর ফলে সংসদ সদস্য পদ হারান সাকিব।
৬৪৯ দিন আগে