খেলাধুলা
যেসব ভেন্যুতে আয়োজিত হচ্ছে ২০২৪ আইসিসি পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপ
১ জুন থেকে শুরু হয়েছে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসর। সর্বমোট ৫৫টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের এই টুর্নামেন্ট চলবে আগামী ২৯ জুন পর্যন্ত। যৌথভাবে টুর্নামেন্টটি আয়োজন করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নির্ধারিত ৯টি ভেন্যুর মধ্যে ৩টি ইউএসএর- টেক্সাস, নিউইয়র্ক, এবং ফ্লোরিডায়। আর ৬টি ক্যারিবিয়ান ভেন্যু- অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা, বার্বাডোস, গায়ানা, সেন্ট লুসিয়া, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এবং সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইন্স। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপভোগের পাশাপাশি শহরগুলোর দর্শনীয় স্থানগুলোও আকৃষ্ট করছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। চলুন, আইসিসি পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৪ আয়োজনকারী স্টেডিয়ামগুলোর অবস্থান ও এর আশেপাশের পর্যটন স্থানগুলোর ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক-
যে স্টেডিয়ামগুলোতে বসছে ২০২৪ আইসিসি পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপের আসর
গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়াম, টেক্সাস
২০০৮ সালে চালু হওয়া এই স্টেডিয়ামটি ২০১৯ সাল পর্যন্ত বেসবল খেলার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। এর মাঝে ২০১৭ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত সকার ইউনাইটেড সকার লিগ-২ এখানে তাদের ম্যাচগুলো মঞ্চস্থ করে। এরপর সংস্কারের পর ২০২৩ সালে মাঠটিতে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম ক্রিকেট ম্যাচ। টেক্সাসের ডালাস কাউন্টির গ্র্যান্ড প্রেইরি শহরের লোন স্টার পার্কওয়েতে অবস্থিত মাঠটির বর্তমান ধারণক্ষমতা ১৫ হাজার।
হলিউডের ওয়েস্টার্ন ছবির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পাওয়া ডালাস কাউবয়ের দেখা মিলবে ডাউনটাউন থেকে ১৩ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বের টেক্সাস হর্স পার্কে। অদ্ভূত এক ঐতিহাসিক দিগন্তের দেখা পাওয়া যাবে ডিলি প্লাজার ষষ্ঠ তলা জাদুঘর, জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি ও মিউজিয়ামে। এছাড়া রিইউনিয়ন টাওয়ার জিও-ডেকের ১৭০-মিটার-উচ্চতার ওয়াচ টাওয়ার থেকে সমগ্র ডালাসের দৃশ্য সত্যিই শ্বাসরুদ্ধকর!
পেরোট মিউজিয়াম অব ন্যাচার অ্যান্ড সায়েন্সের অসাধারণ রত্ন সংগ্রহ এবং ডাইনোসর একচেটিয়াভাবে আকৃষ্ট করে পর্যটকদের।
নাসাউ কাউন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, নিউ ইয়র্ক
৩৪ হাজার দর্শকের ধারণক্ষমতা সম্পন্ন সদ্যনির্মিত এই ক্রিকেট গ্রাউন্ড মূলত সর্বাঙ্গীনভাবে একটি মডুলার স্টেডিয়াম। ৩ জুন শ্রীলঙ্কা বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট লড়াইয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে এই ভেন্যুর প্রথম ম্যাচ। মডুলার অবকাঠামোর এই অতিকায় মাঠটির অবস্থান নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ডের ইস্ট মেডোতে আইজেনহাওয়ার পার্কের মাঠে।
এর আশেপাশে ভ্রমণের জন্য প্রথমেই যাত্রা শুরু করতে হবে লং বিচ থেকে। এই সৈকতে পাওয়া যাবে সার্ফিংসহ বিভিন্ন রোমাঞ্চকর কার্যকলাপের সুযোগ। ক্যাপট্রি স্টেট পার্কে নৌকা ভাড়া ফায়ার আইল্যান্ড ভ্রমণের সময় মাছ ধরা যায়। তবে রোমাঞ্চের ষোল আনা পূর্ণ হবে পায়ে হেঁটে ৩০০ বছরের পুরনো বন সানকেন পেরুনোর সময়।
সামার হোয়াইট হাউস, ওয়াশিংটন স্পাই ট্রেইল এবং গোল্ড কোস্ট ম্যানশনগুলোকে অনুসরণ করার সময় পশ্চিমের পুরো অতীতটা রীতিমতো লাফ দিয়ে চোখের সামনে এসে দাঁড়াবে। বলাবাহুল্য যে, স্ট্যাচু অব লিবার্টি এবং এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং দেখে না এলে এই ভ্রমণটা পুরো বৃথাই যাবে।
সেন্ট্রাল ব্রোওয়ার্ড পার্ক এবং ব্রোওয়ার্ড কাউন্টি স্টেডিয়াম, ফ্লোরিডা
এই লডারহিল ভেন্যু হলো সবচেয়ে প্রতিষ্ঠিত ইউএস ক্রিকেট ভেন্যু, যা উন্মুক্ত করা হয়েছিল ২০০৭ সালের ৯ নভেম্বর। এটি ফ্লোরিডার লডারহিলের একটি বৃহৎ কাউন্টি পার্ক এবং ইউএসএর প্রধান দুটি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মধ্যে একটি। স্টেডিয়ামটির ধারণক্ষমতা ২৫ হাজার।
গ্রেটার ফোর্ট লডারডেলের ৩৭ কিলোমিটার সোনালি তীরবর্তী অঞ্চল দিয়ে প্রবেশ করা যায় ৮টি উপকূলবর্তী শহরে। এখানকার আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ঘাসের নদী’ নামে খ্যাত জলাবদ্ধ তৃণভূমিতে কুমির দেখা, বাটারফ্লাই ওয়ার্ল্ডের বিশ্বের বৃহত্তম প্রজাপতি বাগান এবং হামিংবার্ড।
আরও পড়ুন: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারেন যারা
দক্ষিণে গেলে চোখে পড়বে প্রাণবন্ত মিয়ামি শহরের আদিম সমুদ্র সৈকত। এ পথে হাজির হবে আফ্রো-অ্যামেরিকান ইতিহাস সমৃদ্ধ ওভারটাউন, সাউথ ডেডের মিকোসুকি নেটিভ-আমেরিকান সংস্কৃতি এবং লিটল হাভানার কিউবান সম্প্রদায়।
স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়াম, অ্যান্টিগুয়া এবং বার্বুডা
ওয়েস্ট ইন্ডিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ নাম স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডসের নামানুসারে নামকরণ হয়েছে এই স্টেডিয়ামটির। এর গোড়াপত্তন হয়েছিল ২০০৭ সালে তৎকালীন ৫০ ওভারের ক্রিকেট বিশ্বকাপকে উদ্দেশ্য করে। সেন্ট জর্জের নর্থ সাউন্ডে অবস্থিত স্টেডিয়ামটিতে ১০ হাজার লোকের জায়গা দিতে পারে।
এর আশেপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে পর্যটকদের প্রথম আকর্ষণ হচ্ছে সেন্ট জর্জ প্যারিস চার্চ। এই অ্যাংলিকান চার্চটি স্থাপিত হয়েছিল ১৭৮৪ সালে। এরপরেই দেখা যেতে পারে ২০ হাজারেরও বেশি প্রজাতির অর্কিডসমৃদ্ধ অর্কিড ওয়ার্ল্ড। প্রশান্তিদায়ক বাগানগুলো প্রদর্শন করতে প্রায় এক ঘণ্টা লেগে যায়। পুরনো আমলে ঘরবাড়ি দেখার জন্য সেরা জায়গা হচ্ছে ফ্রান্সিয়া প্ল্যান্টেশন হাউস। এটি প্রাচীনতম মানচিত্র সংগ্রহের জন্য বিখ্যাত।
কেন্সিংটন ওভাল, বার্বাডোস
১৮৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর কেন্সিংটন ওভালে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ১৮৯৫ সালে। বার্বাডোসের ব্রিজটাউনের পশ্চিম অংশে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামে ২৮ হাজার লোকের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। এই ধারণক্ষমতা ওভালকে ক্যারিবীয় অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ভেন্যুতে পরিণত করেছে।
এই দ্বীপাঞ্চলটির পশ্চিম দিকে রয়েছে কার্লাইল বে, যেটি সূর্যাস্ত দেখার জন্য জনপ্রিয় স্থান। তুষার-শুভ্র বালি ও ঢেউ খেলানো তালগাছের এই সৈকত ইউনেস্কো মনোনীত মেরিন পার্কের অংশ।
বার্বাডোসের এই অঞ্চলটাতে পাওয়া যাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেরা সব খাবারগুলো। এগুলোর মধ্যে অধিকাংশতেই রয়েছে মাছের আধিক্য। বিশেষ করে বাজান এবং গ্রিলড মাহি মাহি এখানকার ঐতিহ্যবাহী খাবার।
বার্বাডোস মিউজিয়াম ও হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি ভ্রমণের সময় দেখা মিলবে ৫ লক্ষেরও বেশি পুরনো স্থাপত্যের নিদর্শন।
আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৪ আসরের সমাপনী খেলাটি অনুষ্ঠিত হবে এই স্টেডিয়ামে।
প্রোভিডেন্স স্টেডিয়াম, গায়ানা
২০০৭ সালে বোর্ডা বা জর্জটাউন ক্রিকেট ক্লাব গ্রাউন্ডটি পুনর্স্থাপন করে বানানো হয় প্রোভিডেন্স স্টেডিয়াম। এটি নির্মিত হয়েছিল তৎকালীন ক্রিকেট বিশ্বকাপের সুপার এইট ম্যাচ আয়োজনের জন্য। গায়ানার ডেমিরারা-মাহাইকা অঞ্চলের প্রোভিডেন্সে অবস্থিত এই ভেন্যুতে ২০ হাজার আসনের ব্যবস্থা রয়েছে।
গায়ানার অত্যাশ্চর্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে সেন্ট জর্জ ক্যাথেড্রাল, যেটি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু কাঠের বিল্ডিংগুলোর একটি। এর গথিক-শৈলী, সূক্ষ্ম নকশার কাঁচের জানালা, অদ্ভুত বেদী এবং কাঠের খিলানযুক্ত সিলিং দর্শনার্থীদের বিস্ময়ের খোরাক জোগায়।
জর্জটাউন বোটানিক্যাল গার্ডেনে স্বাগত জানাবে বিচিত্র ধরনের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় উদ্ভিদ। শাপলা পুকুর, পাম এবং অর্কিড দেখতে দেখতে হেঁটে যাওয়ার সময় চমকে দিতে পারে নাম না জানা পাখিরা।
গায়ানার স্থানীয় সঙ্গীতের সুধা নিতে যেতে হবে রয় গেডেস স্টিল প্যান মিউজিয়ামে। এখানকার স্টিলের প্যানের সংগ্রহে মিশে রয়েছে গায়ানার বিবর্তনের ইতিহাস।
ড্যারেন স্যামি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, সেন্ট লুসিয়া
এই মাঠটির সঙ্গে মিশে রয়েছে ২০১২ এবং ২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরপর ২ বার আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস। প্রথমে ২০০২ সালে উদ্বোধনের সময় পার্শ্ববর্তী পাহাড়গুলোর নামানুসারে এর নাম রাখা হয়েছিল বিউসজোর ক্রিকেট গ্রাউন্ড। কিন্তু পরবর্তীতে সেই দুটি বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক অলরাউন্ডার ড্যারেন স্যামির সম্মানে ২০১৬ সালে মাঠটির নাম পরিবর্তন করা হয়।
আরও পড়ুন: ঝড়ে ক্ষতবিক্ষত টি-২০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের স্টেডিয়াম
সেন্ট লুসিয়ার গ্রস আইলেটের কাছে অবস্থিত এই মাঠটির ধারণক্ষমতা ১৫ হাজার। স্টেডিয়ামটি রডনি বে-এর পর্যটন রিসোর্টের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত। বিলাসবহুল ইয়ট এবং পালতোলা জাহাজে সব সময়ই ব্যস্ত থাকে রডনি বে মেরিনা। এখানে রয়েছে স্থানীয় রন্ধনশিল্পের দর্শনধারী বাহারি সব রেস্তোরাঁ।
পিজিয়ন আইল্যান্ড ন্যাশনাল পার্কে ঢোকার পর থেকে সামনে পড়বে ফোর্ট রডনিসহ ঐতিহাসিক সব সামরিক ধ্বংসাবশেষ। এর সঙ্গে উপকূলের নজরকাড়া দৃশ্যে চোখ রেখে নৈসর্গিক ট্রেইল ধরে চলে যাওয়া যাবে সিগন্যাল পিক পর্যন্ত।
ব্রায়ান লারা ক্রিকেট একাডেমি, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো
২০১৭ সালে চালু হওয়া এই স্টেডিয়ামটির নামকরণ করা হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাক্তন অধিনায়ক ব্রায়ান লারার নামে। লারা ২০০৮ সালের ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে সর্বকালের শীর্ষস্থানীয় রান সংগ্রহকারী ছিলেন। দক্ষিণ ত্রিনিদাদের সান ফার্নান্দোর উপকণ্ঠের তারৌবাতে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামে আসন রয়েছে মোট ১৫ হাজার।
ত্রিনিদাদের নান্দনিক সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে ওয়েস্টার্ন মেইন রোড ধরে গেলে। এখানে রাস্তার পাশের খাবারের দোকানসহ রয়েছে রঙিন বাজার। স্থানীয় খাবারের পাশাপাশি এই দোকানগুলো স্যুভেনির কেনার জন্যও বেশ উপযুক্ত।
কুইন্স পার্ক সাভানার চারপাশ জুড়ে গাছ-গাছালি এবং নানা ঐতিহাসিক নিদর্শনের বেষ্টনী। এছাড়াও রয়েছে ঔপনিবেশিক যুগের প্রাসাদ এবং রাজকীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন।
আর্নোস ভ্যালে স্টেডিয়াম, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইন্স
১৯৮১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম ইংল্যান্ডের একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করা হয় স্টেডিয়ামটি। সেন্ট ভিনসেন্টের কিংসটাউনের কাছেই অবস্থিত আর্নোস ভ্যালের ধারণক্ষমতা ১৮ হাজার।
এখানকার কাছাকাছি পর্যটন স্থানের মধ্যে রয়েছে কিংসটাউন বোটানিক্যাল গার্ডেন। বেশ পুরনো আমলের হলেও এখানে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় গাছপালা এবং ফুলগুলো সুবিন্যস্ত করে সাজানো। এগুলোর মাঝে শোভা পায় বিখ্যাত ব্রেডফ্রুট গাছ।
১৮ শতকের একটি সুসংরক্ষিত ঐতিহাসিক দুর্গ কিংসটাউনের ফোর্ট শার্লট। অদূরে উপকূলরেখার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য হাতছানি দিয়ে ডাকে। অন্যদিকে প্রাচীর এবং কামানগুলো মনে করিয়ে দেয় দ্বীপের ঔপনিবেশিক অতীতের কথা। সেই আবহ হৃদয়ে ধারণ করেই প্রবেশ করা যেতে পারে সামরিক যাদুঘরে।
শেষাংশ
২০২৪ আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজনকারী এই স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে সর্বাধিক প্রাচীন কেন্সিংটন ওভাল। আশির দশকে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের তীর্থস্থান হিসেবে স্থানীয় সংস্কৃতিকে বহন করে চলেছে আর্নোস ভ্যালে। সেন্ট লুসিয়ার ড্যারেন স্যামির ধূলোতে লেগে রয়েছে বিংশ শতকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঐতিহাসিক অর্জনের পরশ। ২০০৭ সাল স্মরণীয় হয়ে আছে একই সঙ্গে সাথে প্রোভিডেন্স, স্যার ভিভ রিচার্ডস, এবং সেন্ট্রাল ব্রোওয়ার্ড পার্কের উদ্বোধনের বর্ষ হিসেবে। আর পরের বছরেই চালু হওয়া গ্র্যান্ড প্রেইরি সবচেয়ে দর্শনীয় জায়গাগুলোর সান্নিধ্যে রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর আমেরিকান দেশটির ল্যান্ডমার্কে পরিণত হয়েছে ব্রায়ান লারা ক্রিকেট একাডেমি। অতঃপর আদ্যোপান্ত মডুলার স্টেডিয়াম হিসেবে সর্বপ্রথম ক্রিকেট গ্রাউন্ডের বিশ্ব রেকর্ড অর্জন করল নিউ ইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি।
আরও পড়ুন: ২০২৪ সালের আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ
৬৪১ দিন আগে
ডর্টমুন্ডের হারের ৫ কারণ
২০১২-১৩ মৌসুমে উইম্বলি স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলে হেরেছিল মার্কো রয়েসের বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। ১১ বছর পর সেই উইম্বলিতেই ফাইনাল হেরে শৈশবের ক্লাব ডর্টমুন্ড থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে তাকে। তবে ফাইনাল ম্যাচে যথেষ্ট সুযোগ পেয়েও সতীর্থদের তা কাজে লাগাতে না পারার আক্ষেপ তাকে পোড়াবে সারাজীবন। এই আক্ষেপে পুড়বে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ডর্টমুন্ডের লাখো সমর্থকও।
এমন একটি ম্যাচ ডর্টমুন্ড খেলেছে যেখানে তারা দোষারোপ করতে পারে শুধুই নিজেদেরই। নিজেদের কারণেই ভাগ্যের এমন নির্মম পরিহাসে পরিণত হয়েছে এদিন তেজরিচের ডর্টমুন্ড।
চলুন দেখে নিই কীভাবে সহজে জেতা ম্যাচটি কঠিন করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা হাতছাড়া করল ডর্টমুন্ড।
ফিনিশিংয়ে ব্যর্থ
রিয়াল মাদ্রিদের মতো দলের দারুণ পেশাদার খেলোয়াড়রা ফাইনাল ম্যাচের প্রথমার্ধেই তিনবার গোলমুখ উন্মুক্ত করে দিলেন। সুযোগ বুঝে লম্বা লম্বা অসাধারণ সব পাসে ফরওয়ার্ডদের কাউন্টারে ওঠার সুযোগও করে দিলেন ডর্টমুন্ডের মিডফিল্ডাররা। তবে গোলরক্ষককে একা পেয়ে, এমনকি উন্মুক্ত গোল পেয়েও বল গন্তব্যে পাঠাতে ব্যর্থ হলেন করিম আদেয়েমি-নিকোলাস ফুলক্রুগরা।
ফাইনাল বা যেকোনো হ্যাভিওয়েট ম্যাচে একটি দলের কৌশলের অংশই থাকে- প্রতিপক্ষ দুয়েকটি ভুল করলেও সেটিই কাজে লাগিয়ে ম্যাচে এগিয়ে থাকা এবং পরবর্তীতে তাদের সামনে রক্ষণের দেওয়াল তোলা।
আরও পড়ুন: ‘অপরাজিত’ থেকে ইউরোপের রাজত্ব পুনরুদ্ধার করল রিয়াল মাদ্রিদ
এই কাজের কাজটি করার সুযোগ ডর্টমুন্ডের খেলোয়াড়রা পেয়েছিলেন তিন তিনবার। প্রথমবার হুতাশে ভুল করে ফেললেও পরের দুইবার তাদের সামনে সুযোগ ছিল তা শোধরানোর। কিন্তু না! সেরকম কোনো লক্ষণই দেখা গেল না হলুদ জার্সিধারীদের। ফলে প্রথমার্ধের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে চেনা রূপে হাজির হলো রিয়াল মাদ্রিদ, আর পরাক্রম দেখিয়ে জিত নিল ম্যাচটি।
সুযোগ তৈরিতে অনীহা
এই বিষয়টি রিয়াল মাদ্রিদের ক্ষেত্রেও বলা চলে। শেষের ২০ মিনিট বাদ দিলে একেবারেই ফাইনালোচিত পারফরম্যান্স করেনি দলটি। তবে জয়ে তাদের সেসব ত্রুটি ছাপিয়ে গেছে।
তাই বলে ‘ইউরোপের কিং’ খ্যাত রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ফাইনাল খেলতে গিয়ে গা ছেড়ে খেলা ডর্টমুন্ডের শোভা পায় না। তার খেসারতও তাদের দিতে হয়েছে দিনশেষে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে রিয়াল মাদ্রিদ যখন ছন্নছাড়া ছিল, তখনই তাদের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করে একে একে গোল তুলে নিয়ে আসতে পারত জার্মানির দলটি। খুব বেশি চাপ না দেওয়ার পরও রিয়াল তিনবার তাদের সামনে গোলমুখ ফাঁকা করে দিয়েছে।
জর্মান ফুটবল দর্শন কাজে লাগিয়ে ম্যাচটি প্রথমার্ধেই কার্যত একপেশে করে ফেলতে পারত ডর্টমুন্ড। কিন্তু তা করার পরিবর্তে ভিনিসিউস-বেলিংহ্যামদের ঠেকাতে ব্যস্ত ছিল তারা। ফলে বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে বেশ কয়েকবার আর রক্ষণাত্মক খেলতে গিয়ে সুযোগও তৈরি করা হয়ে ওঠেনি।
তেজরিচ জানতেন, বিরতির সময় কার্লো আনচেলত্তি তার শিষ্যদের পুনরুজ্জীবিত করে মাঠে পাঠাবেন। কিন্তু তা বুঝে শিষ্যদের আরও আক্রমণাত্মক হওয়ার নির্দেশনা দিতে দেখা যায়নি তাকে।
গেম ডেভেলপমেন্টে ঘাটতি
স্যানচো-আদেয়েমিকে দ্বৈত ভূমিকায় রেখে মাঝমাঠে পাঁচজন খেলোয়াড় খেলালেও বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ রেখে প্রতিপক্ষের বক্সের সামনে বা ভেতরে বল নড়াচড়া করে গোলের সুযোগ তৈরির মতো কাজ করতে দেখা যায়নি ডর্টমুন্ডকে। প্রতিপক্ষেকে প্রেস করে বল দখলে নিলেও উচ্চাভিলাসী লং পাস আর ভুল পাসে বারবার বল হারিয়েছে তারা। ফলে মাঝমাঠ ছেড়ে রক্ষণে মনোযোগী হতে হয়েছে মিডফিল্ডারদের।
আবার তেজরিচের সতীর্থদের মধ্যে সংযোগেরও অভাব ছিল স্পষ্ট। একে অপরের সঙ্গে বলের আদান-প্রদান, একজনের পায়ে বল গেলে পরবর্তী পাসের জন্য অন্যজন সুবিধামতো পজিশনে যাওয়া- ফুটবলের এই বেসিক বিষয়গুলোতেও ঘাটতি ছিল ডর্টমুন্ডের। তাই রিয়াল ঢিলেঢালা রক্ষণকেও ভাঙতে ব্যর্থ হয়েছেন ব্ল্যাক-ইয়েলোদের ফরওয়ার্ডরা।
কৌশলে ব্যর্থ তেজরিচ
শুরুর একাদশ নির্বাচনে ভুল করেননি ডর্টমুন্ড কোচ এদিন তেজরিচ। রিয়াল মাদ্রিদের শক্তি, সামর্থ্য আর কৌশল বিবেচনায় নিয়েই উপযুক্ত একাদশ সাজান তিনি। কিন্তু ম্যাচ চলাকালে প্রতিপক্ষের কৌশলে পরিবর্তন এলে বা তারা কোনো বিষয়ে দুর্বলতা প্রকাশ করলে সেগুলো থেকে ফায়দা তুলতে নিজের দলের খেলায় অসংখ্যবার পরিবর্তন আনা যেতে পারে। রিয়াল মাদ্রিদ বারবার এমন সুযোগ দিলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি ডর্টমুন্ড কোচ। অন্তত মাঠের খেলায় তা-ই দেখা গেছে।
প্রথমার্ধের বিষয়ে তো আলোচনা হলোই, দ্বিতীয়ার্ধেও বেশ কিছু সময়ের জন্য এমন সুযোগ দিয়েছিল রিয়াল। ম্যাচের এক ঘণ্টা পার হলে হঠাৎ করে ঝিমিয়ে যায় লস ব্লাঙ্কোসরা। সেসময় তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করে ফায়দা তুলে নেওয়া যেত, কিন্তু তা করেননি তেজরিচ। অথচ প্রথম গোলের পর ঠিক এই কৌশল কাজে লাগিয়েই দ্বিতীয় গোল পেয়ে যান আনচেলত্তি।
ফুটবলে শক্তির চেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল অনেক বেশি কার্যকর হলেও একরকম ‘গোঁড়া’ ফুটবল খেলে হেরেছে তেজরিচের ডর্টমুন্ড।
ব্যক্তিগত ভুলের ছড়াছড়ি
পুরো ম্যাচজুড়ে ব্যক্তিগত ভুলের মেলা বসিয়েছিল ডর্টমুন্ড। এ কারণে যেমন গোল করতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি, তেমনই গোল খেয়ে ম্যাচ হাতছাড়া করেছে তারা।
রিয়ালের বক্সের সামনে বারবার এ বিষয়টি দেখা গেছে। দলবদ্ধভাবে বল নিয়ে প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে যেমন বিপদ তৈরি করতে পারেনি জার্মান দলটি, আবার ব্যক্তিগত দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে নিজেই গোল আদায় করে নিয়ে আসবে, এমন কিছুও করে দেখাতে পারেনি দলটির ফরওয়ার্ডরা। তাছাড়া একজন বল নিয়ে এগিয়ে গেলেও বাকিদের তাকে সাপোর্ট দেওয়ার বেলায় দেখা গেছে অনীহা। ফলে বেশ কয়েকটি আক্রমণ শানালেও তা মূলত অকার্যকর হয়ে গেছে।
আবার রক্ষণে অসাধারণ পারফর্ম করলেও মাঝে মাঝেই ভুল পাস দিয়ে বা বলের দখল হারিয়ে দলকে বেশ কয়েকবার বিপদে ফেলেছেন ডর্টমুন্ডের তরুণ ডিফেন্ডাররা। অভিজ্ঞ হুমেলস ও গোলরক্ষক কোবেলের কল্যাণে বেশ কয়েকবার গোল খাওয়ার হাত থেকে বেঁচে গেলেও শেষ পর্যন্ত নিজেদের ভুলের খেসারত দিতে হয়েছে ডর্টমুন্ডকে।
পুরো ম্যাচে জেডন স্যানচো, ইউলিয়ান ব্রান্ডট, মার্সেল জাবিৎসারকে নিজেদের ছায়া হয়ে থাকতে দেখা গেছে। ফলে জয়ের বন্দর তাদের কাছ থেকে ক্রমে শুধু দূরেই সরে গেছে।
পরিশেষ
প্রথমার্ধে রেফারি রিয়ালের পক্ষে দুয়েকটি সিদ্ধান্ত দিলেও ডর্টমুন্ডের গোল আটকানো বা রিয়ালকে গোলের সুযোগ করে দেওয়ার মতো পক্ষপাতিত্ব এদিন করতে দেখা যায়নি। রিয়ালের যে পারফর্ম্যান্স ছিল ম্যাচজুড়ে, তাতে কিংবদন্তি মার্কো রয়েসকে শিরোপা জয়ের মাধ্যমে দুর্দান্ত এক বিদায় জানাতে পারতেন তার সতীর্থরা। তবে কৌশলের ভুল আর পারফরম্যান্সের ঘাটতিতে চোখের জলে বিদায় নিতে হয়েছে তার।
৬৪২ দিন আগে
‘অপরাজিত’ থেকে ইউরোপের রাজত্ব পুনরুদ্ধার করল রিয়াল মাদ্রিদ
১৯৯২ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নামকরণের পর ৬ বার ফাইনালে উঠল রিয়াল মাদ্রিদ; জিতল ছয়বারই। এ যেন এলাম, দেখলাম আর জয় করলাম! ডর্টমুন্ডের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে ১৫তম বারের মতো ইউরোপসেরার মুকুট মাথায় পরল ‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাজা’ খ্যাত মাদ্রিদের দলটি।
শনিবার রাতে ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী উইম্বলি স্টেডিয়ামে জার্মান ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইউরোপের রাজত্ব পুনর্দখল করেছে কার্লো আনচেলত্তির রিয়াল মাদ্রিদ।
মূলত প্রথমার্ধে তিনটি নিশ্চিত গোলের যে সুযোগগুলো নষ্ট করেছে ডর্টমুন্ড, তারই খেসারত দিতে হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে। ফলে এই হারে নিজেদের দোষারোপ করা ছাড়া উপায় নেই দলটির।
ফাইনাল ম্যাচ জিতে শিরোপা উঁচিয়ে ধরার জন্য যে চকিতে আসা দুয়েকটি সুযোগ নির্ভুলভাবে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে হয়, জয় নিশ্চিত করতে হয়- তা বোধহয় জানেই না জর্মানির এই ক্লাবটি। অন্তত ম্যাচটি সরাসরি দেখা যে কেউ এই মন্তব্যের সঙ্গে একমত হবেন।
আর ঠিক সেই কাজটিই ঠিকঠাক করে ট্রফিটি নিয়ে উল্লাসে মাতল রয়্যাল হোয়াইট জার্সিধারীরা।
৬৪৩ দিন আগে
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারেন যারা
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দোরগোড়ায়। শিরোপার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠে লড়াই চলবে ২০টি দেশের। ক্রিকেটের এই ফরম্যাটে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারলেও নিজেদের যোগ্যতার ছাপ রাখতে বদ্ধপরিকর টাইগাররা। বাংলাদেশ দলে এমন কয়েকজন তারকা খেলোয়াড় আছেন যারা যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে নিজেদের পক্ষে নিতে পারেন।
এদিকে মূল আসরের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে ২-১ ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দিতে যাওয়া অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও দলের জন্য বিশ্বকাপের আগে এই হার এক প্রকার সতর্কবার্তাই বলা যায়।
যদিও তরুণ প্রতিভা এবং অভিজ্ঞ সঙ্গীদের নিয়ে গড়া শান্তর এই দল, যে খেলোয়াড়রা এরইমধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের দক্ষতা প্রমাণ করেছে।
ব্যাটিংয়ে চোখ রাখলে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে পারেন তানজিদ হাসান তামিম, যিনি ইনিংসের শক্ত ও গতিময় শুরু দেওয়ার দায়িত্বে রয়েছেন।
আরও পড়ুন: শনিবার শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ
৭টি টি-টোয়েন্টিতে ১২০-এর বেশি স্ট্রাইক রেটে ৩টি হাফ সেঞ্চুরি তার। এই অল্প সময় হয়তো তার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি মূল্যায়ন করার জন্য যথেষ্ট নয়, কিন্তু বিশ্বমঞ্চে মূল্যবান সম্পদ হয়ে ওঠার প্রতিশ্রুতি দেখিয়েছেন তানজিদ। ২০২০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী বাংলাদেশ দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।
টপ অর্ডারে তানজিদের পর লিটন দাসও হয়ে উঠতে পারেন বিধ্বংসী শক্তি। বিগত কিছু খেলায় ফর্মের অবনতি দেখা গেলেও এই ডানহাতি ব্যাটার আত্মবিশ্বাসী যে একটি ভালো ইনিংস তাকে তার ছন্দে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সিরিজের পাশাপাশি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ হোম সিরিজেও ফর্মে ফিরতে লড়াই করেছেন লিটন। ছন্দে ফিরতে লড়াইয়ের পরও মনে রাখতে হবে, ৮২টি টি-টোয়েন্টিতে ১২৫ ওভার স্ট্রাইক রেটে ১৮০০-র বেশি রান করেছেন লিটন। শুরুটা ভালো করতে পারলে নিজের দিনটিতে যেকোনো বোলিং রক্ষণভাগ গুঁড়িয়ে দিতে পারেন তিনি।
ব্যাটিং অর্ডারে আরেক সম্ভাবনাময় তারকা তৌহিদ হৃদয়। ডানহাতি এই ব্যাটার এরই মধ্যে তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে কিছু দুর্দান্ত খেলেছেন এবং সুযোগ পেলেই এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় দেখিয়েছেন।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে সাকিব-মাহমুদউল্লাহকে ‘উপহার’ দেওয়ার আশা শান্তর
টপ অর্ডার ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের পরবর্তী ভরসা হয়ে উঠতে পারেন তৌহিদ। তিনি ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে আগামীতে অনেকবারই সুদিনের দেখা মিলতে পারে বাংলাদেশ দলের। ২২টি টি-টোয়েন্টিতে ১৩০-এর বেশি স্ট্রাইক রেট তৌহিদের, নামের পাশে রয়েছে দুটি হাফসেঞ্চুরি।
লোয়ার অর্ডারে ব্যাট ও বল দুই হাতেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন রিশাদ হোসেন। জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করা অল্প কয়েকজন লেগ স্পিনারের মধ্যে তিনি একজন এবং তার ভালো খেলার প্রমাণ অনেকবারই দিয়েছেন তিনি। তার সবচেয়ে বড় সম্পদ ক্লিন শট মারার ক্ষমতা।
১৭ ম্যাচে ৭ ইনিংসে ১৩৫-এর বেশি স্ট্রাইক রেটের ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলার হিসেবে ১৫ উইকেটও নিয়েছেন রিশাদ। লেট অর্ডারে প্রতিপক্ষ বোলারদের দুঃস্বপ্ন হতে পারেন তিনি। আবার বল হাতে যেকোনো সময় উইকেটে ধস নামাতে পারেন। কিছু খরুচে হলেও অনন্য প্রতিভা বলা যায় তাকে।
এবারের বিশ্বকাপে মুস্তাফিজুর রহমানের ওপরও চোখ থাকবে সবার। কেন না সম্প্রতি চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) ফিজ প্রমাণ করে দিয়েছেন যে এখনো ফুরিয়ে যাননি তিনি, এখনো দেওয়ার আছে অনেক কিছু। আইপিএলে প্রথমবারের মতো নিয়েছেন চার উইকেট।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সিরিজে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সেরা বোলিং ফিগারের নতুন রেকর্ড গড়েন। এই সফল পারফরম্যান্স বিশ্বকাপে তাকে অনুপ্রাণিত করবে।
বিশ্বকাপের ময়দানে পা রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল ও কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে দুজনই সতর্ক অবস্থানে থেকে নিজেদের নিয়ে আশা জানিয়েছিলেন। তবে এই তারকারা যদি তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশের জন্য এবারের বিশ্বকাপ দারুণ একটি টুর্নামেন্ট হতে পারে।
আরও পড়ুন: সীমিত প্রত্যাশা নিয়ে দেশ ছেড়েছে টাইগাররা
৬৪৩ দিন আগে
শনিবার শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ
আইসিসি বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
শনিবার (১ জুন) নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় ম্যাচটি শুরু হবে।
নবনির্মিত নাসাউ কাউন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এই প্রস্তুতি ম্যাচ হতে যাচ্ছে। এই মাঠে এর আগে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ গড়ায়নি। সপ্তাহখানেক আগেও নির্মাণাধীন ছিল এই ভেন্যু।
বিশ্বকাপের ম্যাচের জন্য ‘ড্রপ-ইন পিচ’ ব্যবহার করছে নাসাউ কাউন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এ ধরনের পিচগুলো অন্য জায়গায় তৈরি করে মাঠে এনে স্থাপন করা হয়।
আরও পড়ুন: টাইগাররা প্রস্তুত: টি২০ বিশ্বকাপের পিচ পৌঁছেছে নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি স্টেডিয়ামে
বাংলাদেশের মাঠগুলোতে ড্রপ-ইন পিচের ব্যবহার নেই বললেই চলে, তবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে প্রায়ই ড্রপ-ইন পিচে খেলা হয়। এই পিচগুলো রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধা বেশি, সহজে সরিয়ে নেওয়া যায় এবং অন্য কোনো মাঠে ব্যবহার করা যায়।
পুরোপুরি নতুন এক মাঠ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা।
নিউইয়র্কের স্টেডিয়াম নিয়ে আইসিসির এক ভিডিওতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বাংলাদেশের অধিনায়ক শান্ত বলেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য। আমি মনে করি এটা আকর্ষণীয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলতে চাচ্ছি, আমরা সবাই ইন্টারনেটে দেখেছি যে কিছুই ছিল না (তিন মাস আগে)। এখন এটি একটি উপযুক্ত স্টেডিয়ামের মতো দেখাচ্ছে এবং দুর্দান্ত লাগছে। এটা খুব ভালো লাগছে এবং আমার কাছে আকর্ষণীয় লাগছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেন্যুটির নির্মাণকাজ দেখে শান্ত বেশ মুগ্ধ হয়েছিলেন।
একই ভেন্যু সম্পর্কে ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা বলেন, ‘খুব সুন্দর লাগছে। বেশ খোলামেলা মাঠ। আমরা এখানে এসে প্রথম ম্যাচ খেলব। স্টেডিয়ামটির পরিবেশ উপভোগ করার জন্য অপেক্ষা করতে পারছি না।’
আরও পড়ুন: সীমিত প্রত্যাশা নিয়ে দেশ ছেড়েছে টাইগাররা
মূল পর্বে নামার আগে এই ম্যাচে নিজেদের পারফরম্যান্স আরও ভালো করার দিকে নজর দেবে বাংলাদেশ। দলের মূল লক্ষ্য থাকবে ধুঁকতে থাকা টপ অর্ডারকে গুছিয়ে নেওয়া।
খারাপ আবহাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ।
আগামী ৭ জুন ডালাসে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে এশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে টাইগাররা। আর আগামী ১০ জুন নিউইয়র্কে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।
আরও পড়ুন: ঝড়ে ক্ষতবিক্ষত টি-২০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের স্টেডিয়াম
৬৪৩ দিন আগে
রোনালদোর অর্জনের মুকুটে আরও একটি পালক
ফুটবলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্মই যেন হয়েছে রেকর্ড ভাঙতে আর গড়তে। ইউরোপীয় ফুটবল ছেড়ে সৌদি প্রো লিগে খেলছেন তিনি। সেখানেও গড়ে চলেছেন একের পর এক রেকর্ড। মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড ভেঙে প্রো লিগের গোল্ডেন বুট জিতেছেন তিনি।
এ অর্জনের ফলে ৭টি ভিন্ন লিগ ও টুর্নামেন্টে গোল্ডেন বুট জয়ের বিরল রেকর্ড গড়লেন তিনি। অর্থাৎ, এ পর্যন্ত খেলা সবকটি লিগেই সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পেয়েছেন রোনালদো।
এর মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে লা লিগায় তিনটি, ইউভেন্তুসের হয়ে সেরি-আয় একটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে একটি, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৭টি, ইউরোতে একটি এবং সর্বশেষ সৌদি প্রো লিগের গোল্ডেন বুট অর্জন করলেন ৩৮ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ মহাতারকা।
আরও পড়ুন: শেষ লগ্নেও মায়া ছড়িয়ে চলেছেন মেসি রোনালদো
প্রো লিগে এর আগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল ছিল আল-নাসরেরই ফুটবলার আবদেররাজাক হামাদাল্লাহর (৩৪টি)। তার রেকর্ডটি ভাঙতে হলে চলতি মৌসুমের শেষ ম্যাচে দুই গোল করতে হতো রোনালদো। আপাতঃদৃষ্টিতে সেটি যথেষ্ট কষ্টসাধ্য মনে হলেও নামটি যখন রোনালদো, তখন উল্লাসে মাতার আশায় বুক বাঁধে ভক্তরা। আল ইত্তিহাদের বিপক্ষে সেদিন ৪-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে জোড়া গোল করে ভক্তদের তার ওপর রাখা আস্থার প্রতিদান দেন ক্রিশ্চিয়ানো।
রেকর্ড ভাঙার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। লেখেন, ‘আমি রেকর্ডের পেছনে ছুটি না, রেকর্ডই আমার পেছনে ছোটে।’
৬৪৫ দিন আগে
ইতালির স্কোয়াডে জায়গা হারিয়ে বুটজোড়া তুলে রাখলেন বনুচ্চি
‘স্পেশাল ওয়ান’ হোসে মরিনিয়ো বলেছিলেন, ‘মি. কিয়েল্লিনি ও মি. বনুচ্চি কীভাবে ডিফেন্ড করতে হয়, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ওপর ক্লাস নিতে পারেন।’ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ২৩ বছরের ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টানেন জর্জিও কিয়েল্লিনি। এবার নিজের বুটজোড়া তুলে রাখছেন লিওনার্দো বনুচ্চিও।
২০২৩-২৪ মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে উনিয়ন বার্লিন ছেড়ে তুরস্কের ক্লাব ফেনেরবাচেয় যোগ দেন বনুচ্চি। আসন্ন ইউরোয় ইতালির স্কোয়াডে নিজেকে রাখতে মাঠের পারফরম্যান্সে মনোযোগ দেন তিনি। তবে লুসিয়ানো স্পালেত্তির বাছাই করা স্কোয়াডে জায়গা হয়নি তার। ফলে পেশাদার ফুটবল আর চালিয়ে যেতে চান না ৩৭ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি।
এক্সে একটি ভিডিও পোস্ট করে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি। ওই ভিডিওতে বনুচ্চি বলেন, ‘ছোটবেলায় আমি এমন একটি গল্প বলার স্বপ্ন দেখেছিলাম। নিজের ওপর আস্থা রেখে সমস্ত বাধা-বিপত্তি সহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করে বড় বড় অর্জন আলিঙ্গন করতে নিজেকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম।’
আরও পড়ুন: পর্তুগালের ইউরো স্কোয়াডে ৪১ বছর বয়সী পেপে
ইন্টার মিলানে খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করলেও ইউভেন্তুসেই ক্যারিয়ারের শীর্ষে চড়েন বনুচ্চি। মাঝে এক মৌসুম এসি মিলানে খেলা এই ডিফেন্ডার ওল্ড লেডিদের সাদাকালো জার্সিতে খেলেছেন ১৩টি মৌসুম। ২০১২ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ইতালিয়ান ফুটবলে রীতিমতো শাসন করেন তিনি। এর মধ্যে পাঁচটি বছর রক্ষণভাগে বারজায়লি ও কিয়েল্লিনির সঙ্গে ঐতিহাসিক ‘বিবিসি’ ত্রয়ী সৃষ্টি করেন। ওই সময়ে খেলা ১৯০ ম্যাচে মাত্র ১১১ বার তাদের পরাস্ত করতে সক্ষম হয় প্রতিপক্ষ।
ইউভেন্তুসের হয়ে ৫ শতাধিক ম্যাচ খেলা বনুচ্চি জেতেন ৯টি সেরি-আ, ৪টি কোপা ইতালিয়া ও ৫টি ইতালিয়ান সুপারকাপ।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রেখেছেন সফলতার সাক্ষর। ইতালির জার্সি গায়ে ১২১ ম্যাচে মাঠে নেমেছেন তিনি। এরে মধ্যে ২০২০ সালের ইউরো ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করে ইতালিয়ান ফুটবলে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তিনি।
আরও পড়ুন: শেষ লগ্নেও মায়া ছড়িয়ে চলেছেন মেসি রোনালদো
বনুচ্চির বিদায়ী বার্তার পর ওল্ড লেডি এক বার্তায় বলেছে, ‘ইউভেন্তুসের আধুনিক ইতিহাস গড়ার অন্যতম কারিগর ফুটবল বিশ্বকে বিদায় জানিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্ত আমাদের হৃদয়ের গভীরে স্পর্শ করেছে। কারণ সেখানে লিওর নাম খোদাই করা রয়েছে।
‘সম্পর্কের যে সুঁতোয় তার সঙ্গে আমরা বাঁধা পড়েছি, তা ছেড়ার নয়। লিও তার জীবনের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা সেই সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান রেখে তাকে শুভকামনা জানাই।’
৬৪৫ দিন আগে
মেসি গোল পেলেও হারল মায়ামি
টানা ১০ ম্যাচ জেতার পর অবেশেষে হারল লিওনেল মেসির ইন্টার মায়ামি। হারল তাও এমন প্রতিপক্ষের কাছে যারা সবশেষ ৯ ম্যাচ জিততে পারেনি। সমীকরণ এমন হলেও মাঠের খেলায় তার প্রভাব দেখা গেল না একটুও। সমানে লড়াই চালিয়ে জয় তুলে নিল আটালান্টা ইউনাইটেড।
বৃহস্পতিবার ভোরে মায়ামির মাঠেই তাদের ৩-১ গোলে হারিয়েছে আটালান্টা। ম্যাচের দুই অর্ধে দুই গোল করেন সাবা লবসানিদসে। মাঝে একটি গোল করে ম্যাচে ফেরার আভাস দেন মেসি। তবে ৭৩ মিনিটে জামাল থিয়ারের গোলের পর আর তা করে উঠতে পারেননি মায়ামির খেলোয়াড়রা।
বিশ্রাম শেষে এদিন সের্হিও বুসকেতস ও লুইস সুয়ারেজও ফেরেন মায়ামির একাদশে। তবে কাজের কাজটি করতে পারেননি তারা।
আরও পড়ুন: জয়ের ধারায় ছেদ পড়ল ‘মেসিবিহীন’ ইন্টার মায়ামির
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই গোল পেয়ে যেতে পারতেন মেসি, কিন্তু তার হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করে আটালান্টাও। প্রধমার্ধের শেষের দিকে গোল করে দলকে এগিয়ে রেখে বিরতিতে যান লবসানিদসে। ফিরে ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে আবারও পান জালের দেখা। এর ৩ মিনিট পর চিরচেনা বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটে ব্যবধান কমান মেসি। তবে মিনিট দশেক পর থিয়ারে গোল পাওয়ার পর জয় একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে যায় আটালান্টার।
এদিন পুরো ম্যাচজুড়ে আলো ছড়িয়েছেন মেসির আর্জেন্টাইন সতীর্থ থিয়াগো আলমাদা। অসাধারণ ড্রিবলিং আর ক্ষিপ্রতায় মায়ামির ডিফেন্ডারদের তটস্থ করে রাখেন আটালান্টার এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।
দল জিততে না পারলেও ব্যক্তিগত হিসাব সমৃদ্ধ হয়েছে মেসির। এ নিয়ে লিগের সর্বোচ্চ ১১টি গোল করলেন তিনি। সুয়ারেজও অবশ্যই একই সংখ্যক গোল করেছেন। তবে মেসির নামের পাশে রয়েছে আরও ১২টি অ্যাসিস্ট।
আরও পড়ুন: মেসি-বার্সা চুক্তির সেই বিখ্যাত টিস্যু বিক্রি হলো ১১ কোটি টাকায়
গোল পেয়েও মেসির এই হার ২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে পরাজয়ের পর এই প্রথম। তবে ক্লাব ফুটবলে সেটি আরও দীর্ঘ। বার্সেলোনায় থাকাকালে ২০২১ সালের মে মাসে সেল্তা ভিগোর বিপক্ষে গোল পেয়েও হেরে গিয়েছিল তার দল। তারপর প্যারিস ঘুরে মেজর সকার লিগের (এমএলএস) দ্বিতীয় মৌসুমে এমন হার দেখলেন তিনি।
হেরে গেলেও এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্স পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে মায়ামি। ১৭ ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট ৩৪। এক ম্যাচ কম খেলা সিনসিনাটির পয়েন্ট ১৬ ম্যাচে ৩৩।
৬৪৫ দিন আগে
বার্সার দায়িত্ব নিয়ে শিরোপা জিততে বদ্ধপরিকর ফ্লিক
খবরটা জানা গিয়েছেল আগেই। শাভিকে বরখাস্ত করার দিনই ট্রান্সফার গুরু ফাব্রিৎসিও রোমানো জানিয়েছিলেন, ফ্লিকই হচ্ছেন বার্সেলোনার পরবর্তী কোচ। এমনকি চুক্তির বিষয়গুলোও বলে দিয়েছিলেন সেসময়। সবকিছু তার কথামতো ঘটে বুধবার কাতালুনিয়ার ক্লাবটির দায়িত্ব নিয়েছেন হান্সি ফ্লিক।
আর্থিক বিপর্যয়ে থাকা ক্লাবটির জন্য শুরুতেই সাফল্য পেতে তাকে বেগ পেতে হবে- বিদায়বেলায় সেকথা বলে গিয়েছেন বার্সার কিংবদন্তি ফুটবলার শাভি এর্নান্দেস। তবে দলকে জয়ের ধারায় ফিরিয়ে শিরোপা সফলতাও এনে দেওয়ার প্রত্যয় ঝরল ফ্লিকের কণ্ঠে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর বার্সা টিভিকে ৫৯ বছর বয়সী এই জার্মান বলেন, ‘এই ক্লাবটির কোচ হওয়া আমার কাছে স্বপ্নের মতো, সম্মানেরও। অসাধারণ এই ক্লাবটিতে কাজ করার জন্য আমার তর সইছে না।
‘এখানে আসার পর থেকে দেখছি, ক্লাবটিকে সবাই খুব ভালোবাসে। ক্লাবের সাফল্যের জন্য সবাই নিজের সেরাটা দেয়।’
আরও পড়ুন: শাভি বরখাস্ত, বার্সার নতুন কোচ হচ্ছেন ফ্লিক
নিজের খেলোয়াড়ি দর্শন বার্সেলোনার সঙ্গে মিলে যায় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বল দখলে রেখে খেলা, আক্রমণাত্মক ফুটবল- এর সবই আমার দর্শনের সঙ্গে যায়। এগুলো নিয়েই আমি কাজ করব।’
লা মাসিয়ার অসাধারণ বৈশিষ্ট্যের কথা বলতেও ভুললেন না তিনি। বললেন, ‘লা মাসিয়া বিশ্বের সেরা মেধা বের করা অ্যাকাডেমিগুলোর একটি। অর্থাৎ, এখানে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে দারুণ একটি স্কোয়াড রয়েছে। এই স্কোয়াডের উন্নতি কীভাবে করা যায়, সেটিই দেখব আমি।
‘বায়ার্ন মিউনিখের দায়িত্বে থাকাকালে আমি বেশ কয়েকটি শিরোপা জিতি। শিরোপা জেতার সেই ক্ষুধা আরও বেড়েছে। আশা করছি, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এখানেও অনেক শিরোপা জিতব।’
সমর্থকদের উদ্দেশে ফ্লিক বলেন, ‘কুলের্স, আমার এই যাত্রায় আপনারাই সবচেয়ে বড় প্রেরণা। ক্লাবে আমার যত সফলতা আসবে, তা আপনাদের প্রচেষ্টার কারণেই আসবে। তাই আপনাদের সঙ্গে নিয়েই আমি সফলতার পথে অনেক দূর হাঁটতে চাই।
‘ভিসকা এল বার্সা!’
আরও পড়ুন: মেসি-বার্সা চুক্তির সেই বিখ্যাত টিস্যু বিক্রি হলো ১১ কোটি টাকায়
উল্লেখ্য, ফ্লিকের তত্ত্বাবধায়নে ২০১৯-২০ মৌসুমে ট্রেবল জেতে বায়ার্ন মিউনিখ। সেবার জার্মানির বর্ষসেরা কোচও হন তিনি। এরপর সেভিয়ার বিপক্ষে উয়েফা সুপার কাপ ও পরবর্তীতে ক্লাব বিশ্বকাপ জিতে বায়ার্নকে প্রথমবারের মতো সেক্সট্রাপল জেতান তিনি।
দুই মৌসুম বায়ার্নের দায়িত্বে থাকাকালে ক্লাবটিকে ৭টি শিরোপা (দুটি বুন্দেসলিগা, একটি করে ডিএফবি পোকাল, সুপার কাপ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, উয়েফা সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ) জেতান তিনি। ফ্লিকের আমলে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মাত্র ৭ ম্যাচে হার দেখে বায়ার্ন মিউনিখ।
৬৪৫ দিন আগে
কোম্পানিকেই কোচ বানাল বায়ার্ন
কোচ নিয়ে অবশেষে দুশ্চিন্তা কাটল বায়ার্ন মিউনিখের। একজন যোগ্য কোচের অনুসন্ধানে অসংখ্য দুয়ারে টোকা দিয়ে অবশেষে ভিনসেন্ট কোম্পানির দরজা খুলতে পেরেছে জার্মানির ক্লাবটি।
বুধবার (২৯ মে) বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে তিন বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির এই সাবেক মিডফিল্ডার।
ক্লাবের ওয়েবসাইটে কোম্পানির নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বায়ার্নের প্রধান নির্বাহী (সিইও) ইয়ান-ক্রিস্টিয়ান ড্রিজেন বলেন, ‘ক্লাবের সবাই একমত যে, ভিনসেন্ট কোম্পানিই আমাদের কোচ হিসেবে সঠিক ব্যক্তি। তার সঙ্গে আমরা কাজ করতে চাই।’
এদিকে বায়ার্নের মতো বড় ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে নিজেও উচ্ছ্বসিত কোম্পানি। ৩৮ বছর বয়সী এ বেলজিয়ান বলেন, ‘বায়ার্নের চ্যালেঞ্জ নিতে আমি মুখিয়ে আছি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে বায়ার্ন একটি প্রতিষ্ঠান। তাই এই ক্লাবটির সঙ্গে কাজ করা হবে সম্মানের।
আরও পড়ুন: কোম্পানিকে কোচ হিসেবে চায় বায়ার্ন
‘একজন কোচ হিসেবে আগে বুঝতে হবে ব্যক্তি হিসেবে আপনি কেমন। আমি বল দখলের খেলা পছন্দ করি, আমাদের সৃজনশীল ও একইসঙ্গে আক্রমণাত্মক হয়ে মাঠে সাহসিকতার সঙ্গে খেলতে হবে।
‘ফুটবলের গোড়ার দিকটাতেই আমি শুরুতে নজর দেব। সেটি হচ্ছে- খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করা, একটি দল গঠন করা। ভিত্তি তৈরি হয়ে গেলে সাফল্য এমনিতেই আসবে।’
৬৪৬ দিন আগে