চলতি বছর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র প্রতিনিধিত্ব করছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তবে তাকেও ছেড়ে দিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।
বিসিসিআইয়ের এমন সিদ্ধান্তের পেছনে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর সহিংসতার খবর সামনে এসেছে। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গুয়াহাটিতে একটি ভারতীয় সংবাদ সংস্থার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক যেসব ঘটনা ঘটছে, তার প্রেক্ষিতে বিসিসিআই কেকেআরকে তাদের স্কোয়াড থেকে বাংলাদেশের খেলোয়াড় মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে বলেছে।’
তবে কেকেআর চাইলে তার বদলি হিসেবে বোর্ড অন্য খেলোয়াড় নেওয়ার অনুমতিও দেবে বলে জানান তিনি।
২০২৪ সালে জুলাই গণঅভুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত এসেছে বলে মত বিশ্লেষকদের। তাদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দুই দেশের দ্বিপক্ষীক সম্পর্কে প্রভাব ফেলেছে।
সর্বশেষ এ সিদ্ধান্তের পেছনে দুই দেশেই ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কও কাজ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের বিরুদ্ধে একাধিক হামলার খবর পাওয়া গেছে। একই ধরনের ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার ঘটনা বাংলাদেশেও ঘটেছে। বিশেষ করে গত মাসে ময়মনসিংহে দিপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনার পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও চাপে পড়ে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মুস্তাফিজকে দলে নেয়ার পর থেকেই কেকেআর ও দলের মালিক শাহরুখ খানের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়।
বিজেপি ও শিব সেনার একাধিক রাজনৈতিক নেতা জাতীয় অনুভূতি উপেক্ষা করার অভিযোগ তোলেন। তবে আসন্ন ভারত–বাংলাদেশ সিরিজ নিয়ে বিসিসিআই সচিব কোনো মন্তব্য করেননি।
কলকাতা মুস্তাফিজকে দলে নেয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে অনাপত্তিপত্র দিয়েছিল। এতে করে তিনি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজ মিস করে পুরো আইপিএলে খেলার সুযোগ পেতেন।
আইপিএলে মুস্তাফিজুর রহমানের অভিজ্ঞতাও কম নয়। তিনি এখন পর্যন্ত ৬০ ম্যাচে ৬৫টি উইকেট নেন। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, রাজস্থান রয়্যালস, দিল্লি ক্যাপিটালস ও চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা আছে এই বাঁহাতি পেসারের।